পাটকেলঘাটায় সোনালি আঁশে সাজানো দুর্গা প্রতিমা দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়
মুজিবর রহমান: বাংলাদেশের একসময়ের প্রধান রপ্তানি পণ্য ‘সোনালি আঁশ’ পাট। সেই পাট দিয়েই এবার দুর্গা প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায়। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিমাটি দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন। পূজা শুরু হতে আর মাত্র একদিন বাকি থাকলেও দর্শনার্থীদের কৌতূহল থামছেই না।
সরেজমিনে দেখা যায়, মোট ১২টি প্রতিমা সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে। দুর্গা, কার্তিক, গণেশ, সরস্বতী, লক্ষ্মী, অসুর ও মহিষাসুরসহ সব কটি প্রতিমা মোড়ানো হয়েছে পাটের আঁশে। প্রতিটি প্রতিমার গায়ে সোনালি ঝলক আলোয় যেন ঝলমল করছে পুরো ম-প। পাটের আঁশ ছোট ছোট টুকরা করে চিরুনি দিয়ে মসৃণ করার পর মাটির প্রতিমার গায়ে একে একে বসানো হয়েছে। রং প্রায় ব্যবহার করা হয়নি বললেই চলে, পাটের প্রাকৃতিক আভাই দিয়েছে সোনালি ঝলক।
প্রতিমাশিল্পী নিরঞ্জন দাস জানান, প্রায় এক মাস ধরে তাঁরা এ কাজ শুরু করেছিলেন। কাঠ, বাঁশ, মাটি ও পাট দিয়ে কাঠামো তৈরি করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে আঁশ বসানো হয়েছে। শুধু আঁশ বসাতেই সময় লেগেছে পাঁচ দিন। মাঝে কিছু অংশে হালকা সোনালি রং ছিটানো হয়েছে ঝলক বাড়াতে। তাঁর দাবি, তালা উপজেলায় পাট দিয়ে প্রতিমা তৈরির ঘটনা এটিই প্রথম। পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি গোবিন্দ সাধু জানান, ভক্ত-দর্শনার্থীরা যেন আনন্দ পান, সে উদ্দেশ্যেই শ্মশান মন্দিরে নতুন আঙ্গিকে এই প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। এ বছর প্রতিমা তৈরিতে ৫০ কেজি পাটের আঁশ ব্যবহার করা হয়েছে এবং এতে খরচ হয়েছে দেড় লাখ টাকা। এ ছাড়া অত্যাধুনিক প্যান্ডেল করতে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং পূজার পাঁচ দিনে আরও দেড় থেকে দুই লাখ টাকা খরচ হবে। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও প্রবাসীরা এই ব্যয় বহন করছেন। সরকারি সহায়তায় ৬০০ কেজি চাল পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আশুতোষ বিশ্বাস বলেন, পাট দিয়ে প্রতিমা এত সুন্দর হতে পারে, না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। সোনালি ঝলকে চোখ জুড়িয়ে যায়। ১৬ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। তার আগে ম-পজুড়ে চলছে আলোঝলমলে সাজসজ্জা।












