পুড়ছে বেনাপোল: একদিকে তপ্ত রোদ, অন্যদিকে বিদ্যুতের লুকোচুরি
এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): তপ্ত দুপুরে বেনাপোল বন্দরের পিচঢালা পথ থেকে যেন আগুনের হল্কা বের হচ্ছে। মাথার ওপর তামাটে আকাশ আর নিচে গুমোট গরমÑএই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দরের জনজীবন। গত কয়েকদিন ধরে চলা টানা তাপদাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লাগামহীন লোডশেডিং। প্রকৃতি আর যান্ত্রিক বিভ্রাটের এই দ্বিমুখী লড়াইয়ে বেনাপোলের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
অন্যান্য সময়ে যে বন্দর এলাকা ট্রাকের হর্ন আর শ্রমিকের হাঁকডাকে মুখর থাকে, প্রচ- গরমে তা এখন অনেকটাই জনশূন্য। প্রখর রোদে খোলা আকাশের নিচে পণ্য খালাস করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে বন্দরে পণ্য লোড-আনলোডের গতি ধীর হয়ে পড়েছে। অনেক শ্রমিককে দেখা গেছে শেডের নিচে বা গাছের ছায়ায় জিরিয়ে নিতে।
শ্রমিকেরা জানান, “রোদের তাপে শরীর পুড়ে যাচ্ছে, তার ওপর ঘরে ফিরলে বিদ্যুৎ নেই। রাতেও ঘুমানো যাচ্ছে না। এমন অবস্থায় কাজ করা জীবন বাজি রাখার মতো।” জরুরি কাজ ছাড়া সাধারণ মানুষও ঘরের বাইরে বেরোচ্ছেন না।
তীব্র গরমে সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসা এখন আখের রস আর ডাব। তৃষ্ণা মেটাতে রাস্তার ধারের দোকানগুলোতে ভিড় করছেন পথচারী ও শ্রমিকেরা। বিক্রেতারা জানালেন, আগে সাধারণত সকাল বা সন্ধ্যায় বিক্রি বেশি হতো, কিন্তু এখন দিনভর ক্রেতাদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। গরমের তীব্রতায় ডাব ও আখের রসের চাহিদা বাড়ায় কিছুটা লাভের মুখ দেখছেন এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
বেনাপোল ও শার্শা এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনে তো বটেই, রাতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। ভ্যাপসা গরমে শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। একদিকে কর্মহীন অলস সময়, অন্যদিকে অসহ্য গরম—সব মিলিয়ে এক দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বেনাপোল সীমান্ত জনপদ।
প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ আর বিদ্যুতের সংকট কবে কাটবে, সেই অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।








