বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রসঙ্গ: বুধহাটা বাজার ও বেতনা নদী ভাঙন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২৬ অপরাহ্ণ
প্রসঙ্গ: বুধহাটা বাজার ও বেতনা নদী ভাঙন

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বাংলাদেশের নদীভাঙন শুধু ভৌগোলিক সমস্যা নয়, এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয়ের এক বাস্তব চিত্র। দেশের নদীগুলো যেমন যমুনা, পদ্মা, মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র এবং তিস্তা, তেমনি ছোট নদী যেমন বেতনা, কপোতাক্ষ, মরিচচাপ-সবই মানুষের জীবনযাত্রাকে সরাসরি প্রভাবিত করে। বুধহাটা বাজার সংলগ্ন বেতনা নদীর ভাঙন সেই বাস্তবতার একটি স্পষ্ট উদাহরণ। এটি শুধু একটি বাজারের সমস্যা নয়, বরং আশাশুনি উপজেলার একাধিক গ্রামের জীবন, অর্থনীতি এবং সামাজিক কাঠামোর উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে।

 

বুধহাটা বাজার আশাশুনি উপজেলার এক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র। এটি শুধু গ্রামীণ অর্থনীতি চালায় না, বরং আশেপাশের গ্রামের মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের কেন্দ্রও। বাজারের মূল পেশাদারদের মধ্যে রয়েছেন: স্থানীয় কৃষকরা ফসল উৎপাদন করে বাজারে বিক্রি করেন। মুদি, দোকানদার ও হাটবাজারের ব্যবসায়ীরা বাজারের অর্থনীতি চালায়। স্থানীয় পরিবহন ও শ্রমিকরা বাজারের কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

 

বাজারের অর্থনৈতিক চেইন নদীভাঙনের আগে স্থিতিশীল ছিল। দোকানপাট, কৃষি ব্যবসা ও পরিবহন-সবই একে অপরের সাথে সম্পর্কিত। নদীভাঙনের ফলে এই চেইন ভেঙে যাচ্ছে। বাজার কেবল অর্থনৈতিক কেন্দ্র নয়; এটি গ্রামের মানুষদের সামাজিক কাঠামোও সংরক্ষণ করে। বন্ধুত্ব, প্রতিবেশিতা ও সামাজিক সমন্বয়, পারিবারিক অনুষ্ঠান ও মেলামেশা, শিক্ষা ও স্থানীয় সংস্কৃতির বিকাশ, নদীভাঙনের ফলে সামাজিক কাঠামোও বিপন্ন হচ্ছে। পরিবার ছিন্নভিন্ন হচ্ছে, প্রতিবেশী ও বন্ধু হারাচ্ছে।

 

বেতনা নদী, কপোতাক্ষ নদী ও মরিচচাপ নদী-এই নদীগুলো আশাশুনি উপজেলার মানুষের জীবিকা, পানি সরবরাহ এবং কৃষিকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বেতনা নদী এবং আশেপাশের নদীসমূহের ভাঙন দীর্ঘদিন ধরে চলমান। ভাঙনের ফলে দেখা যায়:গ্রামের পর গ্রাম নদীতে বিলীন,লক্ষাধিক মানুষ অভিবাসী হয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো ধ্বংস হচ্ছে। নদী খননের দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কার্যক্রমে মানবসৃষ্ট সমস্যার দেখা মিলেছে।

 

ম্যাপ অনুযায়ী নদীকে বাহাদুরের দিকে খনন করতে হতো। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে খনন করা হয়েছে বুধহাটা বাজার সংলগ্ন অংশে, যেখানে মূল লক্ষ্য ছিল শুধুমাত্র একটি ইটভাটাকে বাঁচানো। ফলে, নদীর ¯্রােত বিপর্যস্ত হয়েছে এবং বাজার ও আশেপাশের গ্রামের মানুষদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। পাউবোর দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও দেখা গেছে স্পষ্ট গাফলিতি: পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ব্যর্থতা: ম্যাপ অনুযায়ী নদী খনন হয়নি বাঁধ, জিওব্যাগ বা ড্রেজিং কার্যকরভাবে করা হয়নি। নদীভাঙনের শিকার মানুষদের পুনর্বাসন হয়নি।

 

নদীভাঙন ও বাঁধের অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ হয়নি। ফলে, শুধু একটি ইটভাটা বাঁচানো হয়েছে, কিন্তু শত শত মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে। নদীভাঙনের প্রভাব গভীর এবং বহুমাত্রিক। পরিবার অস্থায়ীভাবে ছিন্নভিন্ন, বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশী হারানো, স্থানান্তরের ফলে শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত, অর্থনৈতিক প্রভাব, বসতবাড়ি ও দোকানপাট ধ্বংস কৃষি জমি হারানো, স্থানীয় ব্যবসা ও কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত টিনের ঘরে বা অন্যের জমিতে অস্থায়ীভাবে বসবাস, প্রিয়জনের কবর রক্ষা করতে না পারার মানসিক চাপ, দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা ও মানসিক বাংলাদেশে নদীভাঙনের শিকার মানুষদের পুনর্বাসন দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত।

 

বুধহাটা বাজার এবং আশাশুনি উপজেলার মানুষদের জন্য এটি স্পষ্টভাবে প্রযোজ্য। নদীভাঙনের শিকার মানুষরা বারবার ন্যূনতম রাষ্ট্রীয় সহায়তার অধিকার চেয়েও পাননি। এতে বোঝা যায়, রাষ্ট্র নদীভাঙনের শিকার মানুষদের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করছে না। বুধহাটা বাজার সংলগ্ন নদীখাননের বাস্তবতা এবং বেতনা নদীর ভাঙনের চিত্র আমাদের শেখাচ্ছে যে: স্বার্থান্বেষণমূলক প্রকল্প মানুষের জীবন বিপন্ন করে। নদীখনন কেবল একটি ইটভাটাকে বাঁচানোর জন্য করা হলে আশেপাশের হাজার হাজার মানুষের জীবন বিপন্ন হয়।

 

প্রকৌশলগত ভুল নদীর প্রবাহ ও পরিবেশ বিপর্যস্ত করে। প্রকৃত ম্যাপ অনুযায়ী নদী খনন না হলে ¯্রােত এবং তীর সংরক্ষণ ব্যাহত হয়। মানবিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বের অবহেলা। সরকার নদীভাঙার শিকার মানুষদের পুনর্বাসন ও সহায়তা নিশ্চিত করেনি। পুনর্বাসন ও পরিকল্পিত নদী ব্যবস্থাপনা ছাড়া নদীভাঙন সামাজিক দুর্যোগে রূপ নেয়। পরিবার, বন্ধু, জীবনযাত্রা-সবই প্রভাবিত হয়। নদীভাঙনের ক্ষতি কমানোর জন্য রাষ্ট্র ও প্রশাসনকে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নদী খনন হবে ম্যাপ অনুযায়ী এবং মানবিকভাবে।

 

তীর সংরক্ষণ ও বাঁধের মান নিয়ন্ত্রণ। দীর্ঘমেয়াদি মনিটরিং ও সতর্কতা ব্যবস্থা নদীভাঙার শিকার পরিবারকে স্থায়ী আশ্রয় প্রদান।খাদ্য, চিকিৎসা এবং শিক্ষা সুবিধা নিশ্চিত করা। স্থানান্তরিত মানুষদের জন্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা।নদীভাঙা মানুষের তালিকা তৈরি। পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন। স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে সমন্বয়।বুধহাটা বাজার এবং বেতনা নদীর ঘটনা শুধু স্থানিক সমস্যা নয়; এটি রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও মানবিক দ্বন্দ্বের এক পরীক্ষা ক্ষেত্র।

 

নদী খনন হবে পরিকল্পিত ও মানবিকভাবে। বুধহাটা বাজারের মানুষদের জীবন ও জীবিকা নিরাপদ হবে। নদীভাঙনের ক্ষতি সীমিত করা সম্ভব। নদীভাঙন থামানো কঠিন, কিন্তু মানবিক ক্ষতি কমানো অসম্ভব নয়-যদি থাকে সদিচ্ছা, পরিকল্পনা এবং দায়বদ্ধতা।

লেখক: সংবাদ কর্মী

Ads small one

শিশুর প্রতি যৌন শোষণ প্রতিরোধে সচেতনতমিূলক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১০ অপরাহ্ণ
শিশুর প্রতি যৌন শোষণ প্রতিরোধে সচেতনতমিূলক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১০ টার সময় সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের শহীদ মিনারের সামনে শিশুর প্রতি যৌন শোষণ (অনলাইন অফলাইন), বাল্যবিবাহ জন্মনিবন্ধন, শিশুদের যৌন শোষণ. নারী শিক্ষা, পাচার, শিশু বাজেট, বিবাহ নিবন্ধন ইত্যাদি বিষয়ে ইয়ুথ গার্লস গ্রুপ সদস্যদের অংশ গ্রহণে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

ক্যাম্পেইন এর অংশ হিসেবে শুরুতেই শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন, র‌্যালী ও পরবর্তী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা শেষে ইযুথ গার্লস গ্রুপ সদস্যদের উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকাতে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও স্টিকার লাগানো হয়। উক্ত ক্যাম্পেইন অনুষ্টানে স্বদেশ সংস্থার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রোগ্রম অফিসার মো: আজাহারুল ইসলাম, প্যারালিগ্যাল মো: শরিফুল ইসলাম প্রমুখ। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

সাতক্ষীরায় দিনদুপুরে গৃহবধূর ওপর সন্ত্রাসী তাণ্ডব: চাঁদা না পেয়ে বাড়ি ভাঙচুর, স্বর্ণালঙ্কার লুট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় দিনদুপুরে গৃহবধূর ওপর সন্ত্রাসী তাণ্ডব: চাঁদা না পেয়ে বাড়ি ভাঙচুর, স্বর্ণালঙ্কার লুট
নিজস্ব প্রতিনিধি: ​সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় জমি জবরদখল ও পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এক গৃহবধূর নির্মাণাধীন বাড়িতে তাণ্ডব চালিয়েছে চিহ্নিত একদল সন্ত্রাসী। সন্ত্রাসীরা কেবল বাড়ি ভাঙচুর ও টাকা-স্বর্ণালঙ্কার লুট করেই ক্ষান্ত হয়নি, ওই নারী ও তাঁর ভাইকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা এবং প্রকাশ্যে শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে সাতক্ষীরা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কামালনগর বউ বাজারের পাশে এ ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে।
​এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ মোছাঃ আরিফা খাতুন (৩৯) বাদী হয়ে সাতক্ষীরা বিজ্ঞ আমলী ১ নম্বর আদালতে একটি সি.আর. মামলা দায়ের করেছেন (আরজি তারিখ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬)। মামলাটিতে দণ্ডবিধির ১৪৭, ১৪৮, ৩২৩, ৩৭৯, ৩০৭, ৩২৫, ৩৫৪, ৩৮৫, ৩৮৬, ৫০৬ (২য় অনুচ্ছেদ), ৩৪ ও ১১৪ ধারায় আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
​অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—কামালনগর এলাকার মোঃ রফিকুল ইসলাম (মন্টু) (৪২), মহাসিন আলী (৪০), মুজিবর রহমান (৪৫), আক্তার হোসেন (চঞ্চল) (৪০) এবং আব্দুস সবুর (৪৫)। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী এ হামলায় অংশ নেয় বলে জানা গেছে।
​ভুক্তভোগী আরিফা খাতুন জানান, তিনি ও তাঁর বোন ২০১৩ এবং ২০২২ সালে কামালনগর এলাকায় ৮.২৫ শতক জমি খরিদ করেন (কোবলা নং-১০৪৪ ও ৩০১৬)। স্বামী ব্যাংকে চাকরির সুবাদে অধিকাংশ সময় বাইরে থাকায় উক্ত আসামীরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের জমি জবরদখলের চেষ্টা করে আসছিল এবং পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছিল। চাঁদা না দিলে জমিতে ঘর তুলতে বা বসবাস করতে দেবে না বলে ক্রমাগত ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিল তারা।
​ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে আরিফা খাতুন তাঁর নির্মাণাধীন বাড়িতে অবস্থানকালে আসামীরা মারাত্মক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা ছাদের সেন্টারিংয়ের বাঁশ, খুঁটি ও কাঠ ভাঙচুর শুরু করে। ভুক্তভোগী বাধা দিলে রফিকুল ইসলাম, মহাসিন আলী ও আক্তার হোসেন সরাসরি পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
​উগ্রমূর্তি দেখে আতঙ্কিত হয়ে আরিফা খাতুন ছাদের রড কেনার জন্য ব্যাগে থাকা ৮০,০০০ টাকা রফিকুল ইসলামের হাতে দিয়ে মিনতি জানান। তবে এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামীরা তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। রফিকুল ইসলামের নির্দেশে তাঁকে পিচের রাস্তার ওপর ফেলে অমানুষিক মারধর করা হয়। রফিকুল ইসলাম লোহার রড দিয়ে আরিফা খাতুনের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তবে রডের আঘাত তাঁর পিঠের মেরুদণ্ডে লাগে। এরপর মহাসিন আলী বাঁশ দিয়ে মাথার পেছনে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
​এ সময় বোনকে বাঁচাতে ভাই মনিরুজ্জামান এগিয়ে এলে আক্তার হোসেন ও আব্দুস সবুর তাঁকে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত ও ফোলা জখম করে। আহত আরিফা খাতুন কোনোমতে উঠে দাঁড়ালে আসামীরা তাঁকে আবার ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। একপর্যায়ে মহাসিন আলী তাঁর বুকের ওপর উঠে দাঁড়ায় এবং আব্দুস সবুর হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর গলার ওপর পা দিয়ে চেপে ধরে।
​তাণ্ডব চলাকালে আসামীরা আরিফা খাতুনের গলা থেকে ১ ভরি ওজনের সোনার চেইন (আনুমানিক মূল্য ২,০০,০০০ টাকা) এবং কানের ৮ আনার সোনার দুল (আনুমানিক মূল্য ৯০,০০০ টাকা) জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া মহাসিন আলী তাঁর পরনের পোশাক ছিঁড়ে ফেলে শ্লীলতাহানি করে এবং আসামীরা দড়ি দিয়ে তাঁর হাত-পা বেঁধে মুখ চেপে ধরে চরম নির্যাতন চালায়।
​পরে মনিরুজ্জামানের আর্তচিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে সন্ত্রাসীরা হুমকি দেয় যে—‘এক সপ্তাহের মধ্যে বাকি ৪,২০,০০০ টাকা চাঁদা না দিলে আরিফা খাতুন ও তাঁর সন্তানকে প্রকাশ্য দিবালোকে খুন করে লাশ গুম করে ফেলা হবে’।
​ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরিফা খাতুন ও তাঁর ভাইকে রাত আনুমানিক ৭টার দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, গৃহবধূর মেরুদণ্ডের হাড়ে আঘাত লাগায় এক্স-রে এবং মাথায় মারাত্মক আঘাত থাকায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর ব্রেনের সিটি স্ক্যান করানো হয়। মনিরুজ্জামান ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং আরিফা খাতুন ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
​হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর ভুক্তভোগী পরিবার সাতক্ষীরা থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেয়। সুস্থ হয়ে আরিফা খাতুন আদালতে সি.আর. মামলা দায়ের করেন।
​বর্তমানে এ ঘটনায় গভীর আতঙ্ক ও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পরিবারটি। আসামীরা প্রকাশ্য দিবালোকে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আরিফা খাতুন ও তাঁর পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। পরিবারটির জীবনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা।

সাতক্ষীরায় মানবাধিকার সাংবাদিক নেটওয়ার্কের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় মানবাধিকার সাংবাদিক নেটওয়ার্কের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি: ​সাতক্ষীরায় মানবাধিকার সুরক্ষা ও নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে ‘সাতক্ষীরা জেলা হিউম্যান রাইটস জার্নালিস্ট নেটওয়ার্ক’-এর সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) শহরের ম্যানগ্রোভ সভাঘরে ‘ডিফেন্ডিং হিউম্যান রাইটস থ্রু নেটওয়ার্ক স্ট্রেনদেনিং (ডিএইচআরএনএস)’ প্রকল্পের আওতায় এই সভার আয়োজন করা হয়।

​ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস নেটওয়ার্ক, সাতক্ষীরা-এর আয়োজনে এবং উত্তরণ ও মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)-এর সহযোগিতায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া এতে জাতীয় এনডোমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি-এর সহায়তা রয়েছে।

​সভায় বক্তারা স্থানীয় পর্যায়ে মানবাধিকার সুরক্ষায় সাংবাদিকদের ভূমিকা এবং তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)-এর প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

সাতক্ষীরা জেলা হিউম্যান রাইটস জার্নালিস্ট নেটওয়ার্ক’-এর সভাপতি এম কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এমএসএফ সমন্বয়কারী সেলিনা হাসিন, এমএসএফ-এর সিনিয়র স্টাফ ল’ইয়ার অ্যাডভোকেট নাহিদ সামস, সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, সাংবাদিক মিজানুর রহমান, মমতাজ আহমেদ বাপী, আসাদুজ্জামান, ড. দিলীপ কুমার দেব, অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী, এসএম শহীদুল ইসলাম, এসএম বিপ্লব হোসেন, আহসানুর রহমান রাজিব, শহিদুল হক রাজু, আসাদুজ্জামান সরদার, গোলাম সরোয়ার, মো. হোসেন আলী, প্রমুখ।

​​অনুষ্ঠানে আয়োজক সংস্থাসমূহের কর্মকর্তা, স্থানীয় সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।