সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রাক্তন প্রেমিকার সাথে ফোনালাপের পর তরুনের আত্মহত্যা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ৪:১৮ অপরাহ্ণ
প্রাক্তন প্রেমিকার সাথে ফোনালাপের পর তরুনের আত্মহত্যা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সৈকত মুখার্জী (১৮) নামের এক কলেজ ছাত্র গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। শুক্রবার রাতের খাবার খেয়ে নিজের শয়ণকক্ষে ঢোকার পর শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তার মৃতদেহ উদ্ধার করে। শ্যামনগর সরকারি মহসীন কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সৈকত উপজেলার বংশীপুর গ্রামের অদিত্য মুখার্জীর ছেলে। খবর পেয়ে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহতের পিতা অদিত্য মুখার্জীর ভাষ্য কয়েকদিন পুর্বে পারিবারিক সিদ্ধান্তে তিনি বোনের মেয়ের সাথে একমাত্র ছেলের বিয়ে ঠিক করেছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় হবু বধুকে নিয়ে বাজার-সদয় শেষে তাকে (হবু বধু) বাড়িতে পৌছে দিয়ে আসে সৈকত। একপর্যায়ে রাতের খাবার খেয়ে নিজের শয়নকক্ষে গুমাতে যেয়ে সহপাঠী সীমা বৈরাগীর সাথে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে শনিবার সকালে সীমা তাদেরকে মোবাইলে কল দিয়ে সৈকতের খোঁজ-খবর নিতে বললে তারা ঘরের দরজা ভেঙে ফ্যানের সাথে গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে চিকিৎসকের কাছে নিলেও তাকে মৃত ঘোষনা করা হয়।

সৈকতের পিতার দাবি সীমার সাথে তার ছেলের প্রেম ছিল। প্রায় পাঁচ মাস আগে সীমাকে পরিবারের সদস্যরা অন্যত্র বিয়ে দেয়। সম্প্রতি সৈকতকে বিয়ে দেয়ার দিনক্ষন নির্ধারিত হওয়ার কারনে সীমা বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। যে কারনে শুক্রবার কেনাকাটার পর হবুবধুকে বাড়িতে পৌছে দেয়ার খবর জানতে পেরে সীমা মোবাইল করে তার ছেলের উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করায় সে আত্মহত্যা করেছে। মৃতদেহ ময়না তদন্ত না করার দাবি অগ্রাহ্য হওয়ায় এখন তিনি এঘটনায় তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

সীমা কিংবা তার পিতার নম্বরে বার বার যোগাযোর চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ খালেদুর রহমান জানান সৈকতের মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিকভাবে ইউডি মামলা হয়েছে। মৃতদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, নিহতের পরিবার মামলা করতে চাইলে ৩০৬ ধারায় মামলা রুজু হবে।

 

 

 

 

 

Ads small one

দেবহাটা ইউসিসিএর নির্বাচনে চেয়ারম্যান মন্টু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৯ অপরাহ্ণ
দেবহাটা ইউসিসিএর নির্বাচনে চেয়ারম্যান মন্টু

Oplus_131072

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিমিটেডের (ইউসিসিএ) ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছেন মিজানুর রহমান মন্টু। সোমবার অনুষ্ঠিত ভোটে তিনি পেয়েছেন ৩৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হাফিজুর রহমান পেয়েছেন ২৪ ভোট।

সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলে ভোট গ্রহণ। নির্বাচনে ৬৪ জন ভোটারের মধ্যে ৬২ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, অনুপস্থিত ছিলেন ২ জন। কঠোর নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশে সমবায়ীরা ভোট দেন।

নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন তালা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। সহকারী নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আশাশুনি উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আশরাফ আলী ও জেলা সমবায় কার্যালয়ের কর্মকর্তা জাফর ইকবাল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ মাস আগে দেবহাটা ইউসিসিএর কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে ভোট গ্রহণের মাত্র দুই দিন আগে এক প্রার্থী আদালতে মামলা করলে স্থগিত হয়ে যায় নির্বাচন। আইনি জটিলতা নিরসন শেষে সোমবার পুনর্র্নিবাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিজয়ী মিজানুর রহমান মন্টুর আগেও দেবহাটা ইউসিসিএর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মন্টু তাঁকে নির্বাচিত করায় সমবায়ী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

কেশবপুরে দেয়াল ভাঙচুর ও নির্মাণসামগ্রী লুটের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৫ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে দেয়াল ভাঙচুর ও নির্মাণসামগ্রী লুটের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গভীর রাতে নির্মাণাধীন বাড়িতে হামলা, পাকা দেয়াল ভাঙচুর ও নির্মাণসামগ্রী লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মাহমুদা বেগম (৩২) সাতজনের বিরুদ্ধে কেশবপুর থানায় এজাহার দিয়েছেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভোগতী নরেন্দ্রপুর মৌজার আরএস ১৮৫০ নম্বর দাগে ১২ দশমিক ৫৭ শতক জমি ২০২৫ সালের ১০ জুলাই মাহমুদা বেগমের স্বামী মনিরুল ইসলামের নামে কেনা হয়। সেখানে পাকা বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছিল।

মাহমুদা বেগমের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে মফিজুর রহমান, হাবিবুর রহমানসহ সাতজন দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম নিয়ে জমিতে প্রবেশ করে চারপাশের পাকা দেয়াল ভেঙে ফেলে। এতে প্রায় ৩৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়। এ ছাড়া বাড়িতে রাখা ৪৫ ব্যাগ সিমেন্ট ও ১ হাজার ১০০ কেজি রড নিয়ে যাওয়া হয়, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৫০ টাকা। প্রতিবাদ করায় পরদিন সকালে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়।

মামলার আসামিরা হলেন মো. মফিজুর রহমান, মো. হাবিবুর রহমান, মো. আরিয়ুল ইসলাম, মো. শহিদুল ইসলাম, মো. আছহারুল ইসলাম, মো. জিন্নু সানা ও অপর এক হাবিবুর রহমান।
কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

শরতের বেতনায় আনন্দ-উৎসব: ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচে দুই কূলে দর্শকের ঢল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ণ
শরতের বেতনায় আনন্দ-উৎসব: ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচে দুই কূলে দর্শকের ঢল

জিএম আমিনুল হক: শরতের সোনাঝরা রোদ আর নীল আকাশের নিচে নতুন রূপ পেয়েছিল বেতনা নদী। ভাদ্র-আশ্বিনের এই আলো-ছায়ার খেলায় নদীর শান্ত বুকে বইছিল উৎসবের চঞ্চল হাওয়া। জলতরঙ্গে বৈঠার ঝংকার আর কূলঘেঁষা মানুষের উল্লাসে বেতনার দুই পাড় জনারণ্যে পরিণত হয়। গ্রামবাংলার এই চিরায়ত রূপ ও ঐতিহ্যকে বুকে ধারণ করে সোমবার বেলা দুইটায় অনুষ্ঠিত হয় এক বর্ণাঢ্য নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা।

৮ নম্বর ধূলিহর ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রতিযোগিতার সূচনা হয় হাজীখালী গেট থেকে; আর রোমাঞ্চকর সমাপ্তি ঘটে সুপারিঘাটা ব্রিজে এসে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মোট ৬টি সেরা দূরন্ত দল এই বাইচে অংশ নেয়। প্রতিযোগীদের মধ্যে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে জলপথ কাঁপাতে নেমেছিল আশাশুনির দাঁদপুর, মহিষাডাঙ্গার ২টি, বামনডাঙ্গা, তেঁতুলডাঙ্গা ও টেংরাখালি দল। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার চঞ্চল জলতরঙ্গে নদীর দুই কূলে হাজারো উৎসুক দর্শকের সমাগম ঘটে।

প্রতিযোগিতায় পয়েন্টের ভিত্তিতে যৌথভাবে দুটি দল প্রথম ও দুটি দল দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে। পরবর্তীতে সন্ধ্যা নেমে আসায় ও আলো স্বল্পতার কারণে প্রথম ও রানার্সআপ হওয়া চারটি দলের মাঝেই যৌথভাবে নগদ অর্থ পুরস্কার হিসেবে ভাগ করে দেওয়া হয়। আয়োজনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন দিদারুল ইসলাম খোকা ও আবদুল্লাহ সানা। ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় ছিলেন আশরাফ আলী।

গ্রামবাংলার এই প্রাণের উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হাবিবুল ইসলাম হাবিব। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমতুল্লাহ পলাশ, সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলু, সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল আলম বাবু (কমিশনার শফিকুল আলম বাবু), জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য ও সাতক্ষীরা পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ শাহীন, দেবহাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পারুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক বাবু, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু রায়হান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল ইসলাম চন্দন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি সোহেল আহমেদ মানিক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্রীড়াদল সাতক্ষীরা জেলা শাখার সদস্যসচিব মীর তাজুল ইসলাম রিপন, সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জে. এম. মাসুদ খান অর্ঘ্য, সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান শাহিন, আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ সাতক্ষীরার আহ্বায়ক কাজী কামরুজ্জামান, সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক খুরশিদ আলম, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব জাকির হোসেন আফিল, ধূলিহর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক হোসেন মিঠু, সাবেক সভাপতি কবির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ারুল ইসলাম, ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এমএ হাসান এবং ছাত্রনেতা সাইফুল ইসলামসহ ধূলিহর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ৮ নম্বর ধূলিহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. তাকদীর আহসান (রুবেল)-এর সভাপতিত্বে এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন সম্পন্ন হয়।
শরতের এই মনোরম বিকেলে ধূলিহর ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ ও সংস্কৃতিপ্রেমী সুধীজনকে বেতনা নদীর তীরে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি ঐতিহ্যের এ উৎসব উপভোগ করার আহ্বান জানানো হয়।