শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

প্রাক্তন প্রেমিকার সাথে ফোনালাপের পর তরুনের আত্মহত্যা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ৪:১৮ অপরাহ্ণ
প্রাক্তন প্রেমিকার সাথে ফোনালাপের পর তরুনের আত্মহত্যা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সৈকত মুখার্জী (১৮) নামের এক কলেজ ছাত্র গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। শুক্রবার রাতের খাবার খেয়ে নিজের শয়ণকক্ষে ঢোকার পর শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তার মৃতদেহ উদ্ধার করে। শ্যামনগর সরকারি মহসীন কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সৈকত উপজেলার বংশীপুর গ্রামের অদিত্য মুখার্জীর ছেলে। খবর পেয়ে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহতের পিতা অদিত্য মুখার্জীর ভাষ্য কয়েকদিন পুর্বে পারিবারিক সিদ্ধান্তে তিনি বোনের মেয়ের সাথে একমাত্র ছেলের বিয়ে ঠিক করেছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় হবু বধুকে নিয়ে বাজার-সদয় শেষে তাকে (হবু বধু) বাড়িতে পৌছে দিয়ে আসে সৈকত। একপর্যায়ে রাতের খাবার খেয়ে নিজের শয়নকক্ষে গুমাতে যেয়ে সহপাঠী সীমা বৈরাগীর সাথে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে শনিবার সকালে সীমা তাদেরকে মোবাইলে কল দিয়ে সৈকতের খোঁজ-খবর নিতে বললে তারা ঘরের দরজা ভেঙে ফ্যানের সাথে গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে চিকিৎসকের কাছে নিলেও তাকে মৃত ঘোষনা করা হয়।

সৈকতের পিতার দাবি সীমার সাথে তার ছেলের প্রেম ছিল। প্রায় পাঁচ মাস আগে সীমাকে পরিবারের সদস্যরা অন্যত্র বিয়ে দেয়। সম্প্রতি সৈকতকে বিয়ে দেয়ার দিনক্ষন নির্ধারিত হওয়ার কারনে সীমা বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। যে কারনে শুক্রবার কেনাকাটার পর হবুবধুকে বাড়িতে পৌছে দেয়ার খবর জানতে পেরে সীমা মোবাইল করে তার ছেলের উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করায় সে আত্মহত্যা করেছে। মৃতদেহ ময়না তদন্ত না করার দাবি অগ্রাহ্য হওয়ায় এখন তিনি এঘটনায় তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

সীমা কিংবা তার পিতার নম্বরে বার বার যোগাযোর চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ খালেদুর রহমান জানান সৈকতের মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিকভাবে ইউডি মামলা হয়েছে। মৃতদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, নিহতের পরিবার মামলা করতে চাইলে ৩০৬ ধারায় মামলা রুজু হবে।

 

 

 

 

 

Ads small one

লবণাক্ততার সঙ্গে লড়াই: সাতক্ষীরার নারীদের হাতে বদলাচ্ছে উপকূলের কৃষি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ণ
লবণাক্ততার সঙ্গে লড়াই: সাতক্ষীরার নারীদের হাতে বদলাচ্ছে উপকূলের কৃষি

তারিক ইসলাম

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে সাতক্ষীরার উপকূলীয় জীবনযাত্রা দিন দিন আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনের পাশাপাশি মাটির অতিরিক্ত লবণাক্ততা এ অঞ্চলের প্রচলিত কৃষিকে একসময় প্রায় অনিশ্চিত করে তুলেছিল। বছরের পর বছর লোনাপানির প্রভাবে উর্বর জমিগুলো হারিয়েছে উৎপাদনক্ষমতা। তবে জীবিকার তাগিদ এবং প্রকৃতির প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকার অদম্য প্রচেষ্টা অনেক পরিবর্তন এনেছে। এই পরিবর্তনের অগ্রভাগে রয়েছেন সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকার প্রান্তিক নারীরা।

একসময় উপকূলীয় এলাকার বসতভিটার চারপাশে লবণাক্ততার কারণে চারাগাছ বাঁচিয়ে রাখাই ছিল কঠিন। শাকসবজি তো দূরের কথা, লোনাপানির প্রভাবে অনেক গাছপালাও টিকতে পারত না। তবে সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থার প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে নারীরা এখন বাড়ির আঙিনায় বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করছেন।

এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে জলবায়ুসহিষ্ণু কৃষিপদ্ধতির প্রয়োগ। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, উঁচু বেড তৈরি করে চাষাবাদ, মাচা পদ্ধতি ও মালচিং প্রযুক্তির ব্যবহার লবণাক্ততার প্রভাব মোকাবিলায় সহায়ক হচ্ছে। এসব পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে উৎপাদিত হচ্ছে বেগুন, ঢ্যাঁড়স, লাউ, মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর সবজি।

এই উদ্যোগের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। যে নারীরা একসময় পরিবারের খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগতেন, তাঁদের অনেকেই এখন বসতভিটার সামান্য জায়গায় সবজি উৎপাদন করে পরিবারের চাহিদা মেটাচ্ছেন। কোনো কোনো পরিবার উদ্বৃত্ত সবজি স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয়ও করছে। এতে একদিকে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হচ্ছে, অন্যদিকে নারীদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও আত্মনির্ভরশীলতার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তাঁদের এই উদ্যোগ প্রমাণ করছে, সঠিক জ্ঞান, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে প্রতিকূল পরিবেশেও কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করা সম্ভব।

সাতক্ষীরার উপকূলীয় নারীদের এই উদ্যোগ শুধু ব্যক্তিগত বা পারিবারিক স্বাবলম্বিতার উদাহরণ নয়; এটি জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার (অভিযোজন) একটি কার্যকর দৃষ্টান্ত। উপকূলীয় কৃষিকে টেকসই করতে হলে তাঁদের এ উদ্যোগের পরিধি আরও বাড়াতে হবে। এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সহজ শর্তে ঋণ, মানসম্মত কৃষি উপকরণ, বীজ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা এবং হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি উৎপাদিত সবজি বাজারজাতকরণেও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রকৃতির বৈরিতা ও লবণাক্ত মাটির সঙ্গে লড়াই করে সাতক্ষীরার নারীরা যে সবুজ সম্ভাবনার সূচনা করেছেন, তা উপকূলীয় কৃষির জন্য আশাব্যঞ্জক। যথাযথ নীতিগত সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তাঁদের এই উদ্যোগ উপকূলীয় অর্থনীতি, পারিবারিক পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

লেখক: তারিক ইসলাম, সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

(এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। পত্রদূত অনলাইন এবং পত্রদূত- এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

সাতক্ষীরায় ১৭ বিজিবির অভিযানে হেরোইন ও কাঁচামাল জব্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:২৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ১৭ বিজিবির অভিযানে হেরোইন ও কাঁচামাল জব্দ

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরায় ১৭ বিজিবির পৃথক দুটি অভিযানে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৮২ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় হেরোইন ও হেরোইন তৈরির রাসায়নিক কাঁচামাল জব্দ করা হয়েছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে জব্দ করা পদার্থগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত ৩ নভেম্বর সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাখরা বিওপির একটি টহল দল সীমান্ত এলাকার শাখরা ব্রিজসংলগ্ন বাঁশবাগানে অভিযান চালায়। এ সময় হেরোইন তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত ভারতীয় ‘মার্টিনি ড্রাগস’ লেখা ২০০ মিলিলিটারের পাঁচটি বোতল জব্দ করা হয়। এসব কাঁচামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এর দুই দিন পর, ৫ নভেম্বর শাখরা বিওপির কুলিয়া রোডের ঋষিপাড়া বড় বাগান এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ২ কেজি ৬৬ গ্রাম ভারতীয় হেরোইন জব্দ করা হয়। জব্দ করা হেরোইনের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪১ লাখ ৩২ হাজার টাকা।

নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবু সহল আব্দুল্লাহ জানান, পৃথক দুটি অভিযানে সর্বমোট ১ কোটি ৩৮ লাখ ৮২ হাজার টাকা মূল্যের হেরোইন ও মাদক তৈরির কাঁচামাল জব্দ করা হয়েছে। পরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে জব্দ করা পদার্থগুলো মাদক ও মাদক তৈরির নিষিদ্ধ উপাদান হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

জেমসসহ সাত ব্যান্ডের ৭ ঘণ্টার কনসার্ট, কখন ও কোথায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:২৪ অপরাহ্ণ
জেমসসহ সাত ব্যান্ডের ৭ ঘণ্টার কনসার্ট, কখন ও কোথায়

শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হবে সংগীতানুষ্ঠান ‘কনসার্ট ফর সলিডারিটি’।

এখানে নগরবাউল জেমসসহ দেশের সাতটি ব্যান্ড ৭ ঘণ্টা সংগীত পরিবেশন করবেন।

দর্শকদের জন্য কনসার্টে প্রবেশ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ গান শুনতে কোনো টিকিট লাগবে না।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে এই কনসার্ট। এতে জেমসের ‘ছাড়াও অংশ নেবে ‘মাইলস’, ‘ওয়ারফেজ’, ‘শিরোনামহীন’, ‘আর্টসেল’, ‘মেকানিক্স’, ও ‘ফিডব্যাক’।

আয়োজকদের সূচি অনুযায়ী, বিকাল ৩টায় দর্শকদের জন্য ভেন্যুর গেট খুলে দেওয়া হবে। সংগীত পরিবেশনা শুরু হবে বিকেল ৪টায়।

একই মঞ্চে দেশের সাতটি জনপ্রিয় ব্যান্ডের পরিবেশনা ঘিরে সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে ইতিমধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জেমস, ওয়ারফেজ, মাইলস ও আর্টসেলের পরিবেশনা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন তাদের ভক্তরা।

কনসার্টে অংশ নেওয়ার খবর জানিয়ে শ্রোতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে ব্যান্ড ওয়ারফেজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যান্ডটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘একটি শহর, একটি মঞ্চ, সাতটি আইকনিক সংগীত পরিবেশনা। ঐক্য ও সংহতির এক অনন্য চেতনা। প্রস্তুত হোন এক অবিস্মরণীয় সংগীত আয়োজনের জন্য।’