রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

বজ্রপাতে মৃত্যুর মিছিল থামে না: আশাশুনির আকাশে শঙ্কা, উদ্যোগে ঘাটতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৩:৪৪ অপরাহ্ণ
বজ্রপাতে মৃত্যুর মিছিল থামে না: আশাশুনির আকাশে শঙ্কা, উদ্যোগে ঘাটতি

সচ্চিদানন্দ দে সদয়, আশাশুনি: আশাশুনির আকাশে কালো মেঘ জমলেই এখন এক ধরনের অদৃশ্য আতঙ্ক নেমে আসে। মাঠে কাজ করা কৃষক, খালে মাছ ধরা জেলে, কিংবা স্কুল ফেরত শিশু-সবার চোখে-মুখে এক অজানা শঙ্কা। বিদ্যুতের ঝলকানি আর বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে চারপাশ। এই বজ্রধ্বনি যেন শুধু প্রকৃতির শব্দ নয়, অনেক পরিবারের জন্য তা হয়ে উঠছে মৃত্যুর পূর্বাভাস।

 

বাংলাদেশে বজ্রপাত এখন এক নীরব ঘাতক। প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩০০ মানুষ প্রাণ হারায় এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে। চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই অর্ধশতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যুর বড় অংশই গ্রামাঞ্চলে-যেখানে মানুষ খোলা আকাশের নিচে জীবিকা নির্বাহ করে। সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলাও এর বাইরে নয়; বরং উপকূলীয় ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এখানে ঝুঁকি আরও বেশি।

 

আশাশুনির বুধহাটা, শ্রীউলা বা প্রতাপনগরের বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত-এই অঞ্চলগুলোর মানুষ মূলত কৃষিনির্ভর। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে যখন ধান কাটার মৌসুম, তখনই বজ্রপাতের প্রকোপ বাড়ে। কৃষকরা জানান, “মেঘ দেখলেই এখন কাজ বন্ধ করে বাড়ি ফিরতে হয়। কিন্তু সবসময় তা সম্ভব হয় না।” বেসরকারি এক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বজ্রপাতে নিহতদের প্রায় ৭০ শতাংশই কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। অর্থাৎ জীবিকার প্রয়োজনে যারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি নেন, তারাই সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারান।

 

এই আশঙ্কারই বাস্তব রূপ দেখা গেল গত ২৯ এপ্রিল রাতে। উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ একসরা গ্রামে বজ্রপাতে মারা যান ২৮ বছর বয়সী মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী মো. সুমন হোসেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সেদিন রাতেও তিনি নিজের মৎস্য ঘেরে ছিলেন। হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে ঘেরের পাশের একটি ছোট ঘরে আশ্রয় নেন। কিন্তু মুহূর্তেই ভয়াবহ বজ্রপাত আঘাত হানে।

 

নিহতের বাবা আব্দুল মান্নান মোল্লা বলেন, “ছেলেটা আমার সংসারের একমাত্র ভরসা ছিল। সারাদিন ঘেরে কাজ করত, রাতে পাহারা দিত। বজ্রপাত এভাবে কেড়ে নেবে, কখনো ভাবিনি।” স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার জানান, “বজ্রপাতের সময় আমরা ঘরেই ছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ হলো। পরে শুনি সুমন মারা গেছে। প্রতি বছরই এমন ঘটনা ঘটছে, কিন্তু প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেই।”

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই বজ্রপাতের তীব্রতা ও ঘনত্ব বাড়ছে। আগে যেখানে বর্ষাকালকে বজ্রপাতের মৌসুম ধরা হতো, এখন তা বছরের বিভিন্ন সময়েই ঘটছে। তবে মার্চ, এপ্রিল ও মে-এই তিন মাসে দেশের প্রায় ৩৮ শতাংশ বজ্রসহ ঝড় হয়, যা আশাশুনির মতো উপকূলীয় অঞ্চলে পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। উপকূলীয় এলাকায় জলীয় বাষ্পের আধিক্য এবং বায়ুর সংঘর্ষ বজ্রপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। ফলে সাতক্ষীরা, যশোর, খুলনা অঞ্চলেও বজ্রপাতের হার বাড়ছে।

 

বজ্রপাতকে সরকার ২০১৬ সালে দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। আশাশুনিসহ বিভিন্ন এলাকায় বজ্র নিরোধক দ- স্থাপন, মাল্টিপারপাস শেড নির্মাণ, এমনকি তালগাছ রোপণের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। আশাশুনির অনেক এলাকায় এখনো বজ্র নিরোধক দ- চোখে পড়ে না। তালগাছ রোপণের প্রকল্পও স্থায়ী ফল দেয়নি-অনেক গাছই হারিয়ে গেছে অবহেলায়।

 

আনুলিয়া ইউনিয়নের এক জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রকল্প কাগজে-কলমে থাকে, বাস্তবে তার সুফল মানুষ পায় না। বজ্রপাতের মতো ঝুঁকিতে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।” দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে সচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও, আশাশুনির গ্রামগুলোতে এর বাস্তব প্রয়োগ খুব কম। স্থানীয় শিক্ষক মাষ্টার লিয়াকত আলী বলেন, “স্কুলে বা গ্রামে নিয়মিত সচেতনতা কার্যক্রম নেই।

 

অনেকেই জানেন না, বজ্রপাতের সময় কোথায় আশ্রয় নেওয়া নিরাপদ।” অনেকেই এখনো গাছের নিচে দাঁড়ান বা খোলা মাঠে অবস্থান করেন, যা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু প্রকল্প নিলেই হবে না, তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। আশাশুনির মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়-পর্যাপ্ত বজ্র নিরোধক দ- স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ, মাঠের পাশে আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, স্কুল-কলেজে সচেতনতা শিক্ষা, কৃষকদের জন্য মোবাইল সতর্কবার্তা ব্যবস্থা তালগাছসহ উপযোগী বৃক্ষরোপণ-এসব কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন জরুরি। আশাশুনির মানুষ এখনো সেই অপেক্ষায়-যেদিন আকাশে মেঘ জমলেও আতঙ্ক নয়, বরং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা অনুভব করবে তারা।

 

Ads small one

সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় সাত লক্ষ টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় সাত লক্ষ টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: রবিবার (২৬ জুলাই ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ মাদরা ও তলুইগাছা বিওপি এর টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করেছে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন জানায়, মাদরা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার চান্দা হতে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে।

এছাড়াও, তলুইগাছা বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার তলুইগাছা হতে ৩ লাখ ৮১ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। আটক পন্যের সর্বমোট মূল্য ৬ লাখ ৭১ হাজার টাকা।

বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।

সাতক্ষীরায় নবনির্মিত কবরস্থানের উদ্বোধন করলেন সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ২:০২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় নবনির্মিত কবরস্থানের উদ্বোধন করলেন সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদরের মাছখোলায় ফাতেমা দারুস সালাম কবরস্থানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) বিকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কবরস্থানটির উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা-২ (সদর -দেবহাটা) আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা শহরের মেয়র প্রার্থী প্রভাষক ওমর ফারুক, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী শহিদ হাসান, ৯নং ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল ওয়ারেছ এবং সদর উপজেলা মিডিয়া বিভাগের সভাপতি আনিছুর রহমান।

আরো উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফজলুর রহমান, জাকির হোসেন লস্কর শেলী, শোকর আলী, ব্রক্ষরাজপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য ডাঃ মিজানুর রহমান, নবজান, ঝুটিতলা বাজার কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক মুসল্লি এবং এলাকাবাসী।

অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও মৃত মুসলমানদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, ফাতেমা দারুস সালাম কবরস্থান ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্থানীয় মুসল্লিদের দীর্ঘদিনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে কবরস্থানটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা কবরস্থানের সার্বিক উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সকলের সম্মিলিত সহযোগিতার আহ্বান জানান।

একসময় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাকির হোসেন লস্কর শেলী সংসদ সদস্যদের দৃষ্টি করে বলেন অত্রালাকার জনচলাচলল অনুপযোগী রাস্তা যাহাতে সংস্কার করা হয় তাহার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে।
সংসদ সদস্য রাস্তা সংস্কারের আস্বাস দেন।

 

 

 

মোহনপুর আনসার ভিডিপি ক্লাবের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও গ্রাহক মেলা-২০২৬

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৭ অপরাহ্ণ
মোহনপুর আনসার ভিডিপি ক্লাবের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও গ্রাহক মেলা-২০২৬

সংবাদদাতা: ঝাউডাঙ্গার মোহনপুর আনসার ভিডিপি ক্লাবের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও গ্রাহক মেলা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে, মোহনপুর আনছার ও ভিডিপি ক্লাব প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

“সঞ্চয় মানুষের ভবিষ্যৎ জীবনকে সুরক্ষিত এবং ঋণমুক্ত রাখে” এই প্রতিপদ্দকে সামনে রেখে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝাউডাঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ খলিলুর রহমান।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও সদর উপজেলার সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুর্শিদ আলম। এছাড়াও সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আখতারুজ্জামান বাপ্পি, ইউপি সদস্য সিদ্দিকুল ইসলাম প্রমুখ।

উক্ত অনুষ্ঠানে মোহনপুর আনসার ভিডিপি ক্লাবের নতুন কমিটির সকল সদস্যদের উপস্থিতিতে সংবর্ধনা প্রদান করা হয় ও ক্লাবের সদস্যদের মাঝে বিভিন্ন বিষয়ে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মোহনপুর আনসার ভিডিপি ক্লাবের মোঃ কবিরুল ইসলাম।