বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাংলাদেশ ২০২৬: উন্নয়নের পথে এক নবযাত্রার সম্ভাবনা-তিন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫০ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ ২০২৬: উন্নয়নের পথে এক নবযাত্রার সম্ভাবনা-তিন

পরিবর্তন-পর্ব ৩৮

আশরাফ রহিম
পরিবর্তন-পর্ব ৩৭ (জানুয়ারী ৩, ২০২৬)-এ লিখেছিলাম “পরিবর্তন শুরু করতে হবে আমাদের নিজেদের মধ্য থেকেই-চিন্তা, চেতনা ও আচরণে।” আর এর জন্য চাই আলোকিত মানুষ।

আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ তাঁর বই “বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও আমি”-তে লিখেছেন-
“মানুষ অপরিসীম ক্ষমতাশালী। যাত্রা শুরুর সামান্য পাথেয় পেলে সে বিশ্ব জয় করতে পারে।”
বাংলাদেশের মানুষ ১৯৭১-এ তার প্রমাণ রেখেছে। তবুও আমরা কীভাবে যেন বারবার পথ হারিয়েছি। আমাদের সঠিক পথে ফিরে আসতেই হবে-এর কোনো বিকল্প নেই।

এখন সময় নিজেকে প্রশ্ন করার-
⦁ আর কতবার রক্ত দিলে আমরা সঠিক পথে চলতে শুরু করবো?
⦁ আর কতবার অসৎ রাজনীতি বা বৈশ্বিক পরিস্থিতি আমাদের অর্থনীতিকে সংকটে ফেলবে-আর আমরা হাহাকার করবো?
⦁ অসহায় হয়ে অন্যের সাহায্যের অপেক্ষায় হাত বাড়িয়ে থাকবো?

এই সঠিক পথে এগোতে আমাদের প্রয়োজন অগণিত “আলোকিত মানুষ”-যাদের সততা, কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও ত্যাগ অন্যদের অনুপ্রাণিত করবে। আমাদের দরকার আত্মবিশ্বাসী, উদ্যমী মানুষ-যারা বিশ্বাস করে, আমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আমরাই তৈরি করবো।

বিশ্বের সমসাময়িক দুর্যোগ আমাদের দেশের অর্থনীতির উপর কীভাবে প্রভাব বিস্তার করে চলেছে এবং তার উত্তরণের পথ খোঁজার আগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর আলোকপাত করতে চাই। যা আমাদের সবার সফলতায় (একই ভাবে ব্যর্থতায়) ভূমিকা রাখে বলে আমার একান্ত বিশ্বাস।

Reactive বনাম Responsive
চিন্তা-ভাবনা ছাড়া তাৎক্ষণিক আবেগ বা পরিস্থিতির চাপে প্রতিক্রিয়া দেওয়া-Reactive।
আর পরিস্থিতি বুঝে, ভেবে, নিজের লক্ষ্য ও মূল্যবোধ অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া দেওয়া-Responsive।
এই একটি পার্থক্যই সাফল্যের বড় নির্ধারক।

বাস্তবে দেখা যায়-প্রকৃত সফল মানুষ, বিশেষ করে ব্যক্তিগত উন্নয়ন, নেতৃত্ব ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে-তারা Responsive। Stephen Covey তাঁর “The 7 Habits of Highly Effective People” বইয়ে Habit-1-এ বলেন: Proactive (Responsive)  মানুষ “Circle of Influence”-এ ফোকাস করে। অর্থাৎ-

⦁ যা নিয়ন্ত্রণ করা যায় → সেখানে কাজ করা
⦁ যা যায় না → সেখানে আবেগ নষ্ট না করা

“Responsibility” শব্দটির অর্থই হলো-response-ability; অর্থাৎ প্রতিক্রিয়া বেছে নেওয়ার সক্ষমতা।
Responsive মানসিকতার প্রভাব

সংক্ষেপে: Proactive (বা Responsive) মানুষ পরিস্থিতির দাস নয়-তারা চিন্তা, মূল্যবোধ ও লক্ষ্য অনুযায়ী কাজ করে। এই একটি পার্থক্যই ব্যক্তিগত জীবন, ব্যবসা এবং রাজনীতিতে তাদের এগিয়ে দেয়।

ব্যক্তিগত জীবনে: তারা আবেগের তাড়নায় তর্কে জড়ায় না; বরং শুনে, বোঝে, তারপর উত্তর দেয়। ফলে সম্পর্ক স্থিতিশীল থাকে, আস্থা বাড়ে, এবং সংকটও শান্তভাবে সামলানো যায়-যা দীর্ঘমেয়াদে সুখী ও স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলে।

ব্যবসায়: তারা সমস্যায় আটকে না থেকে সমাধানে ফোকাস করে, feedback নেয়, দ্রুত শিখে এবং কৌশল ঠিক করে। ক্লায়েন্ট, টিম ও পার্টনারদের সাথে তাদের আচরণ বিশ্বাসযোগ্য হয়-ফলে সুযোগ বাড়ে, সিদ্ধান্তের মান উন্নত হয়, এবং ধারাবাহিকভাবে গ্রোথ আসে।

রাজনীতিতে: Proactive নেতা আবেগে উস্কানি না দিয়ে বাস্তবতা বিশ্লেষণ করে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয় এবং সংকটে স্থির থাকে। এতে জনগণের আস্থা তৈরি হয়, নীতিনির্ধারণে স্থিতিশীলতা আসে, এবং নেতৃত্ব টেকসই হয়।

মূল কথা: Reactive মানুষ পরিস্থিতি দ্বারা চালিত হয়; Proactive মানুষ পরিস্থিতিকে নিজের লক্ষ্য অনুযায়ী পরিচালনা করে—আর সাফল্য সাধারণত দ্বিতীয়দের দিকেই যায়।

বৈশ্বিক সংকট ও বাংলাদেশের অর্থনীতি
যুক্তরাষ্ট্র/ইসরায়েল-ইরান কেন্দ্রিক মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আমাদের জন্য অশনি সংকেত।
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা এবং আমদানির খরচ বৃদ্ধি-সব মিলিয়ে এর প্রভাব পড়বে পরিবহন, কৃষি ও নিত্যপণ্যের বাজারে। অর্থাৎ-চাপ পড়বে সাধারণ মানুষের জীবনে।

সম্ভাব্য প্রভাব
⦁ বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি
⦁ পরিবহন খরচ বৃদ্ধি
⦁ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি
⦁ মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি
রেমিট্যান্স ঝুঁকি
মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত লাখো বাংলাদেশি শ্রমিক এই পরিস্থিতিতে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন। এর ফলে-
⦁ কর্মসংস্থান হ্রাস
⦁ শ্রমিক প্রত্যাবর্তন
⦁ রেমিট্যান্স কমে যাওয়া
এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

চ্যালেঞ্জেই সুযোগ: নতুন শ্রমবাজার
মধ্যপ্রাচ্যের উপর নির্ভরতা কমিয়ে শ্রমবাজার বৈচিত্র্য আনা সত্যিই একটি কৌশলগত প্রয়োজন-বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো শ্রম-রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা গেলে কয়েকটি উন্নত ও মধ্যম আয়ের দেশে নতুন ও স্থিতিশীল শ্রমবাজার দ্রুত সম্প্রসারিত করা সম্ভব।
নিচে সম্ভাবনাময় কিছু দেশ ও তাদের সুযোগের ধরন দেওয়া হলো:
জাপান: কেয়ারগিভার, নির্মাণ, শিল্পখাত
দক্ষিণ কোরিয়া: EPS* প্রোগ্রামের মাধ্যমে উৎপাদন, কৃষি, মৎস্য
জার্মানি: স্বাস্থ্যসেবা, আইটি, কারিগরি দক্ষতা
কানাডা: হেলথকেয়ার, আইটি, নির্মাণ
অস্ট্রেলিয়া: কৃষি, নির্মাণ, সেবা
সিঙ্গাপুর: আইটি, নির্মাণ, সার্ভিস
মালয়েশিয়া: প্লান্টেশন, ম্যানুফ্যাকচারিং
যুক্তরাজ্য: নার্সিং, কেয়ার, আইটি (NHS* খাত)

⦁ *Employment Permit System (EPS) হলো এমন একটি সিস্টেম, যেখানে কোরিয়ার নিয়োগকর্তারা বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ করতে পারেন যখন স্থানীয়ভাবে শ্রমিক পাওয়া যায় না। বাংলাদেশসহ প্রায় ১৫-১৬টি দেশ এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করে।

⦁ *NHS বলতে সাধারণত বোঝানো হয় National Health Service (NHS)-এটি যুক্তরাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা

কৌশলগত করণীয়
⦁ আন্তর্জাতিক মানের ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ
⦁ ভাষা দক্ষতা (ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষা)
⦁ সার্টিফিকেশনভিত্তিক স্কিল ডেভেলপমেন্ট
⦁ সরকারি-বেসরকারি যৌথ নিয়োগ উদ্যোগ

উপসংহার
বাংলাদেশ আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে অমিত সম্ভাবনা। এই দুইয়ের মাঝে আমাদের পথ নির্ধারণ করবে আমাদের মানসিকতা-আমরা কি Reactive হয়ে পরিস্থিতির শিকার হবো, নাকি Responsive হয়ে পরিস্থিতিকে নিজের লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত করবো?

ইতিহাস বলে-এই দেশের মানুষ অসম্ভবকে সম্ভব করতে জানে। ১৯৭১ তার প্রমাণ। এখন প্রয়োজন সেই আত্মবিশ্বাস, সেই ঐক্য, সেই আলোকিত নেতৃত্ব-যা আমাদের আবারও সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারে।
রাষ্ট্র, নেতৃত্ব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা সাধারণ মানুষ-সবাইকে একসাথে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে: আমরা আর অপেক্ষা করবো না; আমরা প্রস্তুত হবো, আমরা কাজ করবো, আমরা এগিয়ে যাবো।

কারণ ভবিষ্যৎ কোনো দূরের বিষয় নয়-
এটি তৈরি হয় আজকের চিন্তা, আজকের সিদ্ধান্ত এবং আজকের কাজ দিয়ে।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তাই কারও দয়ার উপর নির্ভরশীল নয়-
এটি নির্ভর করছে আমরা আজ কতটা সচেতন, কতটা দায়িত্বশীল এবং কতটা Responsive হতে পারছি তার উপর। চলবে

আশরাফ রহিম: আমেরিকা প্রবাসি

Ads small one

সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় দশ লক্ষ টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় দশ লক্ষ টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ হিজলদী ও তলুইগাছা বিওপি এর টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন জানায়, হিজলদী বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার বড়ালী হতে ৩ লাখ ৪২ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে।

এছাড়াও, তলুইগাছা বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার চারাবাড়ি হতে ৬ লাখ টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। আটক পন্যের সর্বমোট মূল্য ৯ লাখ ৪২ হাজার টাকা।

বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।

 

 

 

 

 

সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলের বনজীবীদের কষ্ট, পরিশ্রম আর অভাব নিত্য সঙ্গী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৭ অপরাহ্ণ
সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলের বনজীবীদের কষ্ট, পরিশ্রম আর অভাব নিত্য সঙ্গী

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলবর্তী অঞ্চলের বনজীবী, জেলে ও বাওয়ালিদের জীবন সত্যিই চরম অনিশ্চয়তা, ঝুঁকি এবং কষ্টের প্রতীক। সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার দাকোপ, কয়রা, শ্যামনগরসহ বিভিন্ন এলাকার লাখ লাখ মানুষ জীবিকার জন্য এই বন ও নদীর ওপর নির্ভরশীল।

রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে গভীর বনে মাছ, কাঁকড়া, গোলপাতা ও মধু সংগ্রহ করতে হয়। এ সময় তাদের প্রতিনিয়ত সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, কুমির ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর আক্রমণের আতঙ্কে থাকতে হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং লবণাক্ততার প্রকোপে তাদের জীবন ও জীবিকা বারবার বিপর্যস্ত হয়। লবণাক্ত পানি ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে সুপেয় পানির তীব্র সংকট ও চাষাবাদের জমি নষ্ট হওয়া তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী।

মাছ ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন মৌসুম এবং বনজ সম্পদ আহরণে নিষেধাজ্ঞার সময়গুলোতে বনজীবীদের বনে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ থাকে। ওই দীর্ঘ সময়টাতে কাজ না থাকায় অনেকেই চরম মানবিক সংকটে ও অনাহারে দিন কাটান। বনে যাওয়ার জন্য দাদন ব্যবসায়ী বা মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়। এরপর বন থেকে আহরিত সম্পদ বিক্রি করে ন্যায্য মূল্য পাওয়া সবসময় সম্ভব হয় না, ফলে সারা বছর অভাব পিছু ছাড়ে না। বনদস্যুদের চাঁদাবাজি ও অপহরণের ভয় তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। বর্তমানে বনের পরিস্থিতি অনেক অশান্ত এবং বন বিভাগের অনুমতি ও পাস-পারমিট সংগ্রহ করে বনে টিকে থাকা এখনো একটি অত্যন্ত শ্রমসাধ্য প্রক্রিয়া।

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রার অন্যতম প্রধান নদী শাকবাড়িয়ার তীরে সুন্দরবন সংলগ্ন ১৫টি গ্রাম মঠবাড়ি, কাশিয়াবাদ, কয়রা ৪ নম্বর, ৫ নম্বর, ৬ নম্বর, পাথরখালী, মাটিকাটা, গাববুনিয়া, শাকবাড়িয়া, হরিহরনগর, গাতিঘেরি, বীনাপানি, জোড়শিং, আংটিহারা ও গোলখালী। এই ১৫টি গ্রামের মানুষের বেঁচে থাকার জন্য এখনও বনের সম্পদের ওপরই ভরসা করতে হচ্ছে। বনজীবীরা মাছ ও কাঁকড়া ধরা, গোলপাতা কাটা ও মধু সংগ্রহ করা। বনের ভেতর ও আশপাশের নদী-খালে এরা চিংড়ি পোনাও ধরে থাকেন। জীবিকা নির্বাহে এটাও তাদের অন্যতম কাজ।

ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৭ লাখ পরিবারের জীবন ও জীবিকা এভাবেই কষ্টে কাটছে। খুলনা জেলার দাকোপ, কয়রা ও সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর, মুন্সিগঞ্জ সহ বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল বনজীবী। উপকূলের সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ২০ লাখ দরিদ্র মানুষ তাদের জীবিকার জন্য পুরোপুরি অথবা আংশিকভাবে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে এসব মানুষের বসবাস, যারা জীবিকার জন্য বছরের বিভিন্ন সময়ে মাছ, কাঁকড়া, গোলপাতা, মধু সংগ্রহের জন্য সুন্দরবনের গভীরে যান। তবে গত এক দশকে এসব অঞ্চলের মানুষের আয় কমছে সুন্দরবন থেকে।

বন বিভাগ তথ্য অনুযায়ী, ১০ হাজার বর্গ কিলোমিটারের ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশে। সুন্দরবন রক্ষার স্বার্থে ২০১৭ সালে ২৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ৫২ শতাংশ করা হয়েছে। তাই সম্পদ আহরণ সংকীর্ণ হয়ে আসার পাশাপাশি আয় কমেছে সুন্দরবন নির্ভর জনগোষ্ঠীর। বাধ্য হয়ে পেশা বদল করেছেন, নতুন কর্মসংস্থানের খোঁজে বাস্তুচ্যুতও হয়েছেন অনেকে। অনেকে অবৈধভাবে বনে প্রবেশ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শাস্তির শিকার হয়েছেন। বন থেকে মাছ, মধু কিংবা অন্য কোনো সম্পদ বৈধভাবে আহরণ করে আগে যেখানে সচ্ছলভাবে চলত প্রতিটি পরিবার, সেখানে এখন ঋণের বোঝা নিয়ে চলতে হয় তাদের।

সুন্দরবন ঘেঁষা এলাকার অধিকাংশ পুরুষেরা মৎস্য আহরণ, গোলপাতা কাটা, কাঁকড়া ধরা আর মধু আহরণে আর নারীরা ব্যস্ত থাকেন চিংড়ির পোনা ধরায়। পরিবারের সবাই মিলে কঠিন সংগ্রাম করেও তিনবেলা ভাত জোটাতে না পেরে বনজীবীদের অনেকে আবার ফিরছে অন্য কাজে। কেউ এলাকায়, আবার কেউ দূরের শহরে। ঋণ বা দাদনের জালে অনেকটাই বন্দি হয়ে পড়েছেন উপকূলের এসকল জেলেরা। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় আয়-রোজগার থাকে না। এ কারণে সংসার চালাতে কিংবা পরিবারের সদস্যদের মুখে দু-মুঠো ভাত তুলে দিতে জেলেরা হাত পাতছেন বিভিন্ন এনজিও ও দাদন ব্যবসায়ী কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কাছে। ঋণ নিয়ে তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধান করলেও পরবর্তী সময়ে যা আয় করছেন তা দিয়ে চালাচ্ছেন দীর্ঘমেয়াদি কিস্তির টাকা দিতে গিয়ে বাড়তি কোনো টাকা আর সঞ্চয় রাখতে পারছেন না।

কয়রার মঠবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা রমেন মন্ডল, তিনি প্রায় এক যুগ ধরে সুন্দরবনের ওপর ভর করে জীবনযাপন করছেন। পাসের টাকা, অন্যান্য খরচের টাকা, বনদস্যুর টাকা, ঘুষের টাকা দিয়ে গভীরে গিয়ে যে মাছ পাওয়া যায় তা দিয়ে আসলেই কিছু হয় না। তাই এ বছর আর জঙ্গলে যাইনি। মহাজনের কাছে টাকা ধার করে সংসার চালাচ্ছি।

পাইকগাছার গড়ইখালী গ্রামের জেলে রহমত সরদার বলেন, গত বছরও মাছ ধরতে গিয়ে আমার অনেক টাকা লোকসান হয়েছে। বছরের বিভিন্ন সময়ে বনে যাওয়া নিষেধ থাকে। আগের মতো নদীতে মাছ পাওয়া যায় না। আর প্রতিদিন মাছ নিয়ে আড়তে না গেলে আড়তদারদের লোকজন জেলেদের কটু কথা বলে। আড়তদার ও কোম্পানিদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী মাছ ও টাকা কেটে নিয়ে নেয়। কোন সঞ্চয় তো হয় না ঝণ করতে হয়। দাদন ব্যবসা ও মহাজনের কবলে পড়ে জেলেরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, সুন্দরবন যেমন আমাদের রক্ষা করা প্রয়োজন তেমনি এত গুলো মানুষের জিবীকা নির্বাহের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। আমরা চেষ্টা করছি বনজীবীদের বিকল্প আয়ের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা করতে। বেশ কয়েকটি প্রকল্প আমরা হাতে নিয়েছি। বনজীবীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকল্প আয়ের জন্য যোগ্য করে তোলা হবে।

সরকারের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও বনজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে উপকূলীয় উন্নয়ন সংস্থাগুলো নানা পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

 

 

 

কপিলমুনিতে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৫ অপরাহ্ণ
কপিলমুনিতে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ২

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কপিলমুনি থেকে ১০ পিস ইয়াবাসহ ২ ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ১১ টায় কপিলমুনি ফাঁড়ী পুলিশ তাদের আটক করে।

পুলিশ জানায়, কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইনপেক্টর মোঃ মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে কাশিমনগর মৎস্য আড়ৎ এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে স্থানীয় সাধারণ মানুষও পুলিশকে সহায়তা করেন। এ সময় সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তির দেহে তল্লাশি করে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন, কপিলমুনির নাছিরপুরের খালেক বিশ্বাসের ছেলে মোঃ জয়নাল বিশ্বাস (২৬) ও আফসার বিশ্বাসের ছেলে মোঃ আলমগীর বিশ্বাস (৪০)। তাদের পাইকগাছা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইনপেক্টর মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের এমন নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদার থাকবে বলে জানান তিনি।