সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি-সংকট, পরিবর্তন ও উত্তরণের পথ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি-সংকট, পরিবর্তন ও উত্তরণের পথ

সচ্চিদানন্দ দে সদয়
একটি জাতির আত্মপরিচয় নির্মাণে ভাষা, ইতিহাস ও সংস্কৃতি একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। এই তিনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে জাতিসত্তা, আর সেই সত্তার সবচেয়ে জীবন্ত প্রকাশ ঘটে সংস্কৃতির মাধ্যমে। বাংলাদেশ-একটি নদীমাতৃক, কৃষিনির্ভর, গ্রামীণ সমাজের ঐতিহ্যে গড়ে ওঠা দেশ-তার সংস্কৃতির দিক থেকে এক অসামান্য বৈচিতত্র্য ও ঐশ্বর্য্যরে অধিকারী। হাজার বছরের বিবর্তনে এখানে সৃষ্টি হয়েছে লোকজ ঐতিহ্যের এক বিস্তৃত ভা-ার, যা শুধু বিনোদনের উপাদান নয়, বরং মানুষের জীবনবোধ, সামাজিক সম্পর্ক, মূল্যবোধ ও চেতনার প্রতিফলন। কিন্তু বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন জাগে-এই ঐতিহ্য কি আগের মতো জীবন্ত আছে? নাকি আধুনিকতার প্রবল গ্রোতে ধীরে ধীরে তা বিলীন হয়ে যাচ্ছে? বাস্তবতা বলছে, বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি আজ এক জটিল সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে, যেখানে একদিকে রয়েছে প্রযুক্তি ও বিশ্বায়নের অগ্রযাত্রা, অন্যদিকে রয়েছে নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষার চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের সংস্কৃতির মূল শিকড় গ্রামবাংলায় প্রোথিত। দীর্ঘকাল ধরে এ দেশের মানুষের জীবন ছিল কৃষিকেন্দ্রিক, প্রকৃতিনির্ভর এবং সামষ্টিক। সেই জীবনধারার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল নানান উৎসব, আচার ও বিনোদনের মাধ্যম। নবান্ন উৎসব ছিল নতুন ফসল ঘরে তোলার আনন্দঘন মুহূর্ত, যা শুধু কৃষকের নয়, পুরো সমাজের জন্য ছিল এক উৎসব। একইভাবে বর্ষাকালে নদীভিত্তিক জীবনের প্রতিচ্ছবি হিসেবে নৌকাবাইচ ছিল এক অনন্য ঐতিহ্য। শীতকালে যাত্রাপালা, পুঁথিপাঠ, পালাগান-এসব ছিল বিনোদনের পাশাপাশি শিক্ষার মাধ্যম। এসবের মাধ্যমে সমাজের নৈতিকতা, ইতিহাস, ধর্মীয় কাহিনি ও সামাজিক বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে যেত। বৈশাখী মেলা ছিল অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে গ্রামীণ উৎপাদন, কারুশিল্প ও লোকজ শিল্পের বিকাশ ঘটত। এই সংস্কৃতিগুলো শুধু উৎসব নয়; এগুলো ছিল মানুষের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যম। প্রতিবেশী, আত্মীয়, বন্ধু-সবাই একত্রিত হয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করত। ফলে সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হতো, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতা বাড়ত। বিশ্বায়ন, নগরায়ণ ও প্রযুক্তির বিকাশ বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। বিশেষ করে গত দুই দশকে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্যাটেলাইট টেলিভিশনের বিস্তার মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন এনেছে। এই পরিবর্তন একদিকে যেমন মানুষের জীবনকে সহজ ও গতিশীল করেছে, অন্যদিকে তা সংস্কৃতির ওপরও গভীর প্রভাব ফেলেছে। এখন মানুষ বিনোদনের জন্য আর গ্রামীণ উৎসব বা লোকজ আয়োজনের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং তারা ঘরে বসেই বিশ্বব্যাপী নানা ধরনের বিনোদন উপভোগ করতে পারছে। ফলে ধীরে ধীরে লোকজ সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে। তরুণ প্রজন্ম, যারা ভবিষ্যতের ধারক-বাহক, তারা দেশীয় ঐতিহ্যের চেয়ে বিদেশি সংস্কৃতির প্রতি বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও, নিয়ন্ত্রণহীন হলে তা সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতার দিকে নিয়ে যেতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যাচ্ছে, একসময় জনপ্রিয় ছিল এমন অনেক লোকজ সংস্কৃতি প্রায় হারিয়ে গেছে। নবান্ন উৎসব এখন অনেক জায়গায় শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ। নৌকাবাইচ আয়োজন কমে গেছে নদীর নাব্যতা সংকট ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে। যাত্রাপালা, যা একসময় গ্রামীণ বিনোদনের প্রাণ ছিল, এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। পুঁথিপাঠ, বায়োস্কোপ, সাপ খেলা, লাঠিখেলা-এসব ঐতিহ্য এখন কেবল ইতিহাসের অংশ। বৈশাখী মেলাগুলোও তাদের আগের রূপ হারিয়ে ফেলেছে; অনেক ক্ষেত্রে তা বাণিজ্যিকতার কারণে স্বকীয়তা হারাচ্ছে। গ্রামীণ খেলাধুলা-যেমন দাড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট, কানামাছি-এসবও এখন শিশুদের কাছে অপরিচিত হয়ে যাচ্ছে। তার জায়গা দখল করেছে মোবাইল গেম ও ভার্চুয়াল বিনোদন। সংস্কৃতির পরিবর্তন শুধু বিনোদনের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের চিন্তা-চেতনা, মূল্যবোধ ও সামাজিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলছে। আগে যেখানে একটি উৎসব মানেই ছিল সম্মিলিত অংশগ্রহণ, এখন সেখানে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা বেড়েছে। মানুষ এখন নিজ নিজ জগতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। পারস্পরিক যোগাযোগ কমে যাচ্ছে, ফলে সামাজিক বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়ছে। সহমর্মিতা, সহযোগিতা ও সম্প্রীতির যে ঐতিহ্য ছিল, তা ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে। সংস্কৃতির পরিবর্তনের পেছনে পরিবেশগত কারণও গুরুত্বপূর্ণ। নদীর নাব্যতা হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ-এসব কারণে অনেক ঐতিহ্যবাহী আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না। যেমন, নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় নৌকাবাইচ আয়োজন কঠিন হয়ে পড়েছে। অর্থনৈতিক কারণও একটি বড় ভূমিকা রাখছে। গ্রামীণ মানুষ এখন জীবিকার চাপে আগের মতো সময় দিতে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রেই ঐতিহ্যবাহী পেশাগুলো টিকে থাকতে পারছে না, ফলে সংশ্লিষ্ট সংস্কৃতিও হারিয়ে যাচ্ছে। অতীতে জমিদার বা স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সাংস্কৃতিক আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। বর্তমানে সেই পৃষ্ঠপোষকতা কমে গেছে। সরকারি উদ্যোগ থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয় এবং অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবায়নে দুর্বলতা রয়েছে। একটি সমন্বিত সাংস্কৃতিক নীতির অভাবও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। লোকজ সংস্কৃতি সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে। এতসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আশার আলো রয়েছে। বাংলাদেশে এখনও লোকজ সংস্কৃতির প্রতি মানুষের একটি আবেগ রয়েছে। পহেলা বৈশাখ উদযাপন, লোকসংগীতের জনপ্রিয়তা, গ্রামীণ মেলা-এসবই প্রমাণ করে যে সংস্কৃতি এখনও পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন-স্কুল-কলেজের পাঠ্যক্রমে লোকজ সংস্কৃতি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় নিয়মিত লোকজ উৎসব আয়োজন করতে হবে, যাতে মানুষ সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। লোকশিল্পী ও কারুশিল্পীদের আর্থিক সহায়তা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে তারা তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। টেলিভিশন, রেডিও ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে লোকজ সংস্কৃতি ভিত্তিক অনুষ্ঠান বাড়াতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তরুণদের আকৃষ্ট করতে হবে। আধুনিক উপস্থাপনার মাধ্যমে ঐতিহ্যকে নতুনভাবে তুলে ধরতে হবে। সংস্কৃতি একটি জাতির আত্মা। এটি হারিয়ে গেলে জাতির পরিচয়ও সংকটে পড়ে। বাংলাদেশ তার হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির জন্য বিশ্বে পরিচিত। এই ঐতিহ্য রক্ষা করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে, কিন্তু সেই পথে যেন আমরা আমাদের শিকড় ভুলে না যাই। আমাদের প্রয়োজন একটি ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি-যেখানে আধুনিকতা ও ঐতিহ্য পাশাপাশি চলবে। আজ যদি আমরা সচেতন না হই, তাহলে আগামী প্রজন্ম শুধু বইয়ের পাতায় পড়বে নবান্ন, নৌকাবাইচ বা যাত্রাপালার গল্প। কিন্তু যদি আমরা এখনই উদ্যোগ নিই, তাহলে হয়তো আবারও ফিরে আসবে সেই হারানো দিন-যেখানে গ্রামবাংলা ভরে উঠবে উৎসবের আনন্দে, আর বাংলাদেশ তার নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়ে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। লেখক: সংবাদ কর্মী

Ads small one

গাবুরা-বুড়িগোয়ালিনী সংযোগ খেয়াঘাট ভাঙনের মুখে, উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
গাবুরা-বুড়িগোয়ালিনী সংযোগ খেয়াঘাট ভাঙনের মুখে, উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম ডুমুরিয়া খেয়াঘাট বর্তমানে ভাঙনের কবলে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘাটের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দেওয়ায় প্রতিদিন যাতায়াতকারী হাজারো মানুষ চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, ২০০৯ সালে বুড়িগোয়ালিনী অংশের খেয়াঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

 

দীর্ঘদিন পার হলেও সেই ঘাটটি এখনো স্থায়ীভাবে পুননির্মাণ করা হয়নি। ফলে দুই ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতে নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্তমানে ডুমুরিয়া ঘাটেও একই ধরনের ভাঙন শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গাবুরা ইউনিয়ন যুব বিভাগের সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত বলেন, “ডুমুরিয়া খেয়াঘাটটি গাবুরা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৯ সালে বুড়িগোয়ালিনী পাশের ঘাট ভেঙে যাওয়ার পরও সেটির স্থায়ী সমাধান হয়নি।

এখন ডুমুরিয়া ঘাটটিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে দুই পাড়ের মানুষের যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।” স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইয়ুথ প্লান বাংলাদেশ এর বিভাগীয় সমন্বয়কারী ইমাম হোসেন বলেন, “প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই ঘাট ব্যবহার করেন। ভাঙনের কারণে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সংস্কার ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”

এলাকাবাসীর দাবি, ঘাটটি দ্রুত সংস্কার ও নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। তাই জনদুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

 

 

শ্যামনগরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালিত

মুন্সিগঞ্জ (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: “জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা” প্রতিপাদ্য বিশেষ সামনে রেখে নকিপুর সরকারি হরিচরণ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৮ জুন সকাল ১০ টা থেকে দিনব্যাপী বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখে মানুষসহ সকল প্রাণী ও উদ্ভিদের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপিত হয়। এ উপলক্ষে নকিপুর সরকারি হরিচরণ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে পরিবেশ ও জলবায়ু সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান শিক্ষক গোবিন্দ প্রসাদ দেবনাথ।
বিশেষ অতিথি ও উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে ছিলেন সহকারী প্রধান শিক্ষক কামরুজ্জামান, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং সিএরআরএন-বিফোআরএল প্রকল্পের সরোয়ার হোসেন। এছাড়াও বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

 

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে শিক্ষার্থীদের পরিবেশ আন্দোলনের সহায়ক হিসেবে ১৩ জন ছাত্রী ও ১২ জন ছাত্রের সমন্বয়ে ২৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি পরিবেশ ক্লাব গঠন করা হয়। শিক্ষার্থীরা দলভিত্তিকভাবে বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছের বৈশিষ্ট্য, উপকারিতা এবং লবণাক্ত মাটিতে এসব গাছের অভিযোজন কৌশল নিয়ে আলোচনা ও উপস্থাপনা করে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। রোপিত গাছ ও বিদ্যালয়ের নার্সারির নিয়মিত পরিচর্যার দায়িত্ব পরিবেশ ক্লাবের সদস্যদের প্রদান করা হয়।

 

 

 

তালায় প্রান্তিক পেশাজীবীদের ১০ দিনব্যাপী সফট স্কিল প্রশিক্ষণ শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
তালায় প্রান্তিক পেশাজীবীদের ১০ দিনব্যাপী সফট স্কিল প্রশিক্ষণ শুরু

তালা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় প্রান্তিক পেশাজীবীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ১০ দিনব্যাপী পেশাভিত্তিক সফট স্কিল প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে ও অর্থায়নে সমাজসেবা অধিদপ্তরের “বাংলাদেশের প্রান্তিক পেশাজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন (২য় ফেইজ)” প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক এস এম রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন খুলনা বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক রতন কুমার হালদার।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুজ্জামানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাহাত খান।

প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান, জয়পুরহাট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক হারুন উর রশিদ, খুলনা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাসুদুর রহমান, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. মফিদুল হক লিটু এবং ইসলামকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক গোলাম ফারুক।

এ সময় বক্তব্য দেন তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. সেলিম হায়দার, সাংবাদিক বি.এম. জুলফিকার রায়হান, কামরুজ্জামান মিঠু, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সমন্বয়কারী তৌফিক ইমরান, সহকারী অসিত রায় ও ইমদাদুল ইসলামসহ অন্যান্যরা।

প্রশিক্ষণে তালা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রান্তিক পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করছেন। দক্ষতা বৃদ্ধি ও জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বলে আয়োজকরা জানান।