বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: যশোর ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলায় কর্মসূচি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ণ
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: যশোর ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলায় কর্মসূচি

পত্রদূত ডেস্ক: ৪৮ বছরের সংগ্রাম, ঐতিহ্য ও গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, বৃক্ষরোপণ, মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরা ও যশোরের বিভিন্ন উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর সকালে ও বিকেলে পৃথকভাবে এসব কর্মসূচির আয়োজন করে স্থানীয় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো।

আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর:

সাতক্ষীরায় বিএনপির শোভাযাত্রা ও গাছের চারা বিতরণ:

সাতক্ষীরায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, গাছের চারা বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে কলারোয়া উপজেলা বিএনপির আয়োজনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা পরিষদ প্রশাসকের বাসভবনের সামনে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। কলারোয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আব্দুর রশিদ মিয়ার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব।

সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি অধ্যক্ষ রইচ উদ্দীন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মোল্লা, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসেন, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি শেখ আব্দুল কাদের বাচ্চু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ তামিম আজাদ মেরিন, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ শরিফুজ্জামান তুহিন ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল ইসলাম চন্দন।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করেন এবং দলের প্রতিষ্ঠাকালীন লক্ষ্য বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। সভা শেষে সেখানে চারা বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

কলারোয়ায় শোভাযাত্রা ও সমাবেশ:

টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীর অংশগ্রহণে কলারোয়ায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। সকাল সাড়ে ১১টায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শেষে কলারোয়া উপজেলা ও পৌর বিএনপির যৌথ উদ্যোগে সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের বাসভবন চত্বরে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুর রশিদ মিয়ার সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক ও সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মোল্লা ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ তামিম আজাদ মেরিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি অধ্যক্ষ রইচ উদ্দীন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আরশাফ হোসেন, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ আব্দুল কাদের বাচ্চু, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ শরিফুজ্জামান তুহিন প্রমুখ। সভা শেষে চারা বিতরণ করা হয়।

Oplus_131072

দেবহাটায় বিশাল শোভাযাত্রা:

দেবহাটায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশের মধ্য দিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। বিকেল ৪টায় দেবহাটা উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে পারুলিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে বিশাল শোভাযাত্রাটি বের হয়ে পারুলিয়া ও সখিপুর বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পারুলিয়া বাসস্ট্যান্ড চত্বরে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম, দেবহাটা উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাবিব মন্টু, কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম এবং পারুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম। পরে কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীমের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আহম্মদ আলীর সঞ্চালনায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

শ্যামনগরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় ঐক্যের আহ্বান:

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিকেলে পৌর সদরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে উপজেলা বিএনপির আয়োজনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সোলাইমান কবীরের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব আশেক-ই এলাহী মুন্নার সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. মো. মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, সমাজে নানা সময়ে সুযোগ সন্ধানীদের অপচেষ্টা থাকে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং দলীয় প্রধান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে একযোগে কাজ করতে হবে।

সভায় আরও বক্তব্য দেন শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক আবু সাঈদ, গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, কেন্দ্রীয় কৃষকদল নেতা আইনজীবী খান আব্দুস সালাম, পদ্মপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম, আব্দুস শহীদ, আবুল কালাম মোড়ল ও সাবেক চেয়ারম্যান সাদেকুর রহমান সাদেম।

পাটকেলঘাটায় শোভাযাত্রা ও কেক কাটা:

তালার পাটকেলঘাটায় আলোচনা সভা, কেক কাটা ও শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। পাটকেলঘাটার বাবলু মার্কেট থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বাবলু মার্কেটে এসে শেষ হয়।

এর আগে তালা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়ের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সাবেক এমপি ও সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব। সভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা, বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এস এম লিয়াকত হোসেন, যুবদল নেতা সাইদুর রহমান সাঈদ ও মন্টু। সভা শেষে অতিথিরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন।

সাতক্ষীরা জেলা জাসাসের সংস্কৃতি অনুষ্ঠান ও আনন্দ মিছিল:

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) সাতক্ষীরা জেলা শাখার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। বিকেলে শহরের এবি খান পেট্রোল পাম্পের সামনে সংগঠনের কার্যালয়ে আলোচনা সভা শেষে শহীদ আবদুর রাজ্জাক পার্ক থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়।

জেলা জাসাসের সভাপতি শেখ জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন আশাশুনি উপজেলা জাসাসের আহ্বায়ক ও ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চু, পৌর জাসাসের আহ্বায়ক সিরাজ আনোয়ার রাজ, সদস্যসচিব মো. রাজু আহম্মেদ রাজু, সদর উপজেলা জাসাসের আহ্বায়ক আব্দুল কাদের, সদস্যসচিব মো. শাহাদাত হোসেন ও পাটকেলঘাটা জাসাসের আহ্বায়ক শেখ সামিউল ইসলাম রুবেল। সন্ধ্যায় মাওয়া চাইনিজ রেস্তোরাঁর সামনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের শুভেচ্ছা মিছিল:

সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির শহীদ মিনার চত্বরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংগঠনের জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আকবর আলীর সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিউকিটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান পিন্টু।

সাতক্ষীরা সদরে আনন্দ শোভাযাত্রা:

জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আব্দুর রউফের নেতৃত্বে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকেলে শহরের প্রাণিসম্পদ মোড় থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ আবদুর রাজ্জাক পার্কে জেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে মিলিত হয়।

কেশবপুরে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা:

যশোরের কেশবপুরে উপজেলা ও পৌর বিএনপির যৌথ উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কেশবপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ। পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুজ্জামান চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম শহীদ, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি প্রভাষক আলাউদ্দীন আলা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসেন মুকুল প্রমুখ। পরে জেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। বিকেলে ঘোড়ার গাড়ি ও ব্যান্ড পার্টিসহ এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা মণিরামপুর শহরের সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।

Ads small one

সম্পাদকীয়/নিম্ন মানের সামগ্রী দিয়ে সড়ক সংস্কার ও নাগরিক প্রতিবাদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/নিম্ন মানের সামগ্রী দিয়ে সড়ক সংস্কার ও নাগরিক প্রতিবাদ

সাতক্ষীরা শহরের অত্যন্ত ব্যস্ততম পাকাপোল থেকে কেষ্টময়রা মোড় পর্যন্ত সড়ক পুনর্র্নিমাণ কাজে নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহারের যে অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও অনাকাক্সিক্ষত। শিডিউলবহির্ভূত অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংস্কারকাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। নাগরিকদের এই ক্ষোভ ও প্রতিবাদ সম্পূর্ণ যৌক্তিক এবং জনস্বার্থ সুরক্ষায় একটি সচেতন পদক্ষেপ।
খবরে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, প্রাক্কলন তোয়াক্কা না করে ৩ নম্বর ইট ও ঝামাযুক্ত মাটি মিশ্রিত খোয়া দিয়ে তড়িঘড়ি রাস্তা ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। যেখানে মানসম্মত ১ নম্বর ইট ব্যবহারের কথা, সেখানে গুঁড়ো ইট ও ধূলো-মাটির প্রলেপ দিয়ে সরকারি বরাদ্দের অপচয় ঘটানো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এমন নি¤œমানের কাজের স্থায়িত্ব অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী, যা প্রথম পশলা বৃষ্টিতেই ধুয়েমুছে গিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে তুলবে।
শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কে পৌর প্রশাসনের সরাসরি নজরদারির সময় কীভাবে এমন অনিয়ম ঘটতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের গাফিলতি কিংবা নীরবতা এই দুর্নীতির সুযোগ করে দিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এমন বেপরোয়া আচরণ প্রমাণ করে যে, জবাবদিহিতার ঘাটতি কোথায় যেন থেকে যাচ্ছে।
সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। অবিলম্বে এই নি¤œমানের খোয়া অপসারণ করে শিডিউল অনুযায়ী গুণগত মান বজায় রেখে সড়কটির সংস্কারকাজ সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে কাজের তদারকিতে গাফিলতি থাকা কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সময়ের দাবি। জনগণের করের টাকার অপচয় রোধে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেনÑএটাই প্রত্যাশিত।

সাতক্ষীরায় শিল্প বিকাশে সকল বাধা দূর করার আশ্বাস জেলা প্রশাসকের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় শিল্প বিকাশে সকল বাধা দূর করার আশ্বাস জেলা প্রশাসকের

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা বিসিক শিল্পনগরীর সার্বিক কর্মকা- পরিদর্শন, শিল্প উদ্যোক্তাদের সাথে মতবিনিময় এবং শিল্পনগরী প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেছেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিসিক শিল্পনগরী পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসককে বিসিক শিল্প মালিক সমিতির পক্ষ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক শিল্পনগরীর বিভিন্ন উৎপাদনমুখী কারখানা ঘুরে দেখেন। বিশেষ করে ‘সুন্দরবন এগ্রো’-এর মধু প্রসেসিং সেন্টার এবং ‘এক্সিমকো ভেট ফার্মা’সহ বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিল্প ইউনিট পরিদর্শন করে তিনি উৎপাদিত পণ্যের মান ও সামগ্রিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন। পরিদর্শন শেষে শিল্পনগরী চত্বরে পরিবেশ সুরক্ষায় ফলজ ও বনজ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। পরবর্তীতে বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি ও সাংবাদিক মো. মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিসিক সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ের ডেপুটি ম্যানেজার গৌরব দাসসহ স্থানীয় উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় বিসিকের বিদ্যুৎ সংযোগের নিরবচ্ছিন্নতা নিশ্চিত করা, শিল্পনগরীতে একটি ড্যাডিকেটেড ‘শিল্প পুলিশ ফাঁড়ি’ স্থাপন এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানান শিল্প মালিকেরা।
ব্যবসায়ীদের বক্তব্য শুনে সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের আশ্বাস দিয়ে জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ বলেন, শিল্পই হচ্ছে অর্থনীতির প্রধান চাকা। শিল্প কারখানা সচল থাকলে অঞ্চলে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতির গতি সঞ্চার হবে। বিসিকের সার্বিক নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নে জেলা প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

 

বিশ্ব গগনচুম্বী অট্টালিকা দিবস: আকাশছোঁয়া স্বপ্ন, প্রকৌশলের বিস্ময় এবং নগর সভ্যতার নতুন দিগন্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
বিশ্ব গগনচুম্বী অট্টালিকা দিবস: আকাশছোঁয়া স্বপ্ন, প্রকৌশলের বিস্ময় এবং নগর সভ্যতার নতুন দিগন্ত

সাকিবুর রহমান বাবলা
৩ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব গগনচুম্বী অট্টালিকা দিবস। আধুনিক স্থাপত্য, প্রকৌশল, নগর পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের অসাধারণ সাফল্যকে সম্মান জানাতেই এই দিনটি উদযাপিত হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের আকাশরেখা আজ যেসব সুউচ্চ ভবনের মাধ্যমে নতুন পরিচয় লাভ করেছে, সেসব স্থাপনার পেছনে রয়েছে মানুষের সৃজনশীলতা, বৈজ্ঞানিক চিন্তা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং দীর্ঘ গবেষণার ইতিহাস। এই দিবস সেই অর্জনগুলোকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।
৩ সেপ্টেম্বর তারিখটি বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে স্থাপত্য ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৮৫৬ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন মার্কিন স্থপতি লুই এইচ. সুলিভান, যিনি আধুনিক গগনচুম্বী অট্টালিকার পথিকৃৎ হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। তার বিখ্যাত নীতি ‘কাজের প্রয়োজনই নকশার রূপ নির্ধারণ করবে’Ñআজও আধুনিক স্থাপত্যচর্চার অন্যতম মৌলিক দর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়। বহুতল ভবনের নকশা ও কাঠামোগত পরিকল্পনায় তার অবদান এতটাই গভীর যে তাকে ‘গগনচুম্বী অট্টালিকার জনক’ নামে অভিহিত করা হয়।
গগনচুম্বী অট্টালিকা বলতে সাধারণত এমন ভবনকে বোঝায়, যা আশপাশের স্থাপনাগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে উঁচু এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্মিত। বর্তমানে কাউন্সিল অন টল বিল্ডিংস অ্যান্ড আরবান হ্যাবিট্যাট-এর মানদ- অনুযায়ী ১৫০ মিটার বা তার বেশি উচ্চতার ভবনকে গগনচুম্বী অট্টালিকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অধিকাংশ আধুনিক স্কাইস্ক্র্যাপারে ৪০টিরও বেশি তলা থাকে এবং এগুলো শক্তিশালী ইস্পাত কাঠামো, উন্নত কংক্রিট প্রযুক্তি ও উচ্চগতির এলিভেটরের ওপর নির্ভর করে নির্মিত হয়।
আজকের পৃথিবীতে গগনচুম্বী অট্টালিকা শুধু স্থাপত্যের সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বরং অর্থনৈতিক শক্তি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং নগর উন্নয়নের পরিচায়ক। বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন বুর্জ খলিফা, যা সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে অবস্থিত, ৮২৮ মিটার উচ্চতা নিয়ে আধুনিক প্রকৌশলের এক অনন্য নিদর্শন। এর পরেই রয়েছে মালয়েশিয়ার মেরদেকা ১১৮, চীনের সাংহাই টাওয়ার, সৌদি আরবের মক্কা রয়্যাল ক্লক টাওয়ার, এবং চীনের পিং অ্যান ফাইন্যান্স সেন্টার। এসব ভবন শুধু উচ্চতার রেকর্ডই গড়েনি, বরং শক্তি সাশ্রয়, বায়ুপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, ভূমিকম্প প্রতিরোধ এবং টেকসই নির্মাণ প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও নতুন মানদ- স্থাপন করেছে।
ঢাকার শীর্ষস্থানীয় বহুতল ভবনগুলোর মধ্যে শান্তা পিনাকলের মূল স্থপতি এহসান খান (ইকে আর্কিটেক্টস) এবং প্রকৌশল সহায়তা দিয়েছে মাইনহার্ট সিঙ্গাপুর। মতিঝিলের সিটি সেন্টারের নকশায় যৌথভাবে স্থপতি টিআইএম নুরুন্নবী চৌধুরী ও বায়েজিদ মাহবুব খন্দকার (সাইট ফোর্স ও আরবান কন্টেক্সট)। তেজগাঁওয়ের ইনস্টার ট্রেড ইন্টারকন্টিনেন্টাল ভবনের প্রধান স্থপতি মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ (ভলিউমজিরো)। আর গুলশানের হিলটন ঢাকা ভবনের আন্তর্জাতিক স্থাপত্য নকশায় এইচবি ডিজাইন ও প্রকৌশল সেবা দিয়েছে ইইসি লিনকন স্কট।
গগনচুম্বী অট্টালিকার ইতিহাসে দুটি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছে। প্রথমটি হলো ইস্পাতের কঙ্কাল কাঠামো। প্রচলিত ইট বা পাথরের ভারী দেয়ালের পরিবর্তে ইস্পাতের শক্তিশালী ফ্রেম ব্যবহারের ফলে ভবনের উচ্চতা বহুগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো নিরাপদ যাত্রীবাহী এলিভেটর। দ্রুত ও নিরাপদ ওঠানামার সুবিধা না থাকলে শততলা ভবনের ধারণা কখনো বাস্তবে রূপ নিত না। এই দুটি প্রযুক্তির সমন্বয়ই আধুনিক নগর সভ্যতার আকাশছোঁয়া রূপ গঠনে সহায়ক হয়েছে।
আধুনিক গগনচুম্বী অট্টালিকা নির্মাণের নেপথ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রকৌশলী ড. ফজলুর রহমান খানের আবিষ্কৃত ‘টিউব স্ট্রাকচারাল সিস্টেম’ এক বৈপ্লবিক ভিত্তি তৈরি করে, যা ছাড়া উইলিস টাওয়ার বা বুর্জ খলিফার মতো বহুতল ভবন তৈরি অসম্ভব ছিল। পরবর্তীতে আমেরিকান কাঠামো প্রকৌশলী উইলিয়াম এফ. বেকার এই টিউবুলার পদ্ধতিকে আরও উন্নত করে ‘বাট্রেসড কোর’ সিস্টেম উদ্ভাবন করেন, যার মাধ্যমে বুর্জ খলিফার মতো বিশ্বের সর্বোচ্চ কাঠামোর স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ও দৃষ্টিনন্দিত গগনচুম্বী ভবনগুলোর নেপথ্যে রয়েছেন আদ্রিয়ান স্মিথ, নরম্যান ফস্টার, মার্শাল স্ট্র্যাবালা, সিজার পেলি এবং জাহা হাদিদের মতো প্রখ্যাত স্থপতিরাÑযাঁরা বুর্জ খলিফা, দ্য ঘেরকিন, পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার ও সাংহাই টাওয়ারের মতো আইকনিক স্থাপত্যের নকশা করেছেন। পাশাপাশি এসওএম, কেপিএফ এবং জেন্সলার-এর মতো শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক ডিজাইন ও ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মগুলো যৌথ স্থাপত্য ও প্রকৌশলগত দক্ষতার মাধ্যমে ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, পিং অ্যান ফাইন্যান্স সেন্টার ও পরিবেশবান্ধব সাংহাই টাওয়ারসহ বিশ্বের সর্বোচ্চ ১০০টি ভবনের বেশিরভাগের নির্মাণ ও কাঠামোগত বাস্তব রূপদান সম্পন্ন করেছে।
বিশ্ব গগনচুম্বী অট্টালিকা দিবস মূলত মানব মেধা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, স্থাপত্য এবং প্রকৌশলের সম্মিলিত সাফল্যকে উদযাপনের দিন। এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে মানুষের উদ্ভাবনী শক্তি সীমাবদ্ধ নয়; সৃজনশীল চিন্তা, গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতি একসময় অসম্ভব মনে হওয়া স্বপ্নকেও বাস্তবে রূপ দিতে পারে। আকাশ ছুঁয়ে থাকা এসব স্থাপনা কেবল কংক্রিট, ইস্পাত ও কাচের সমষ্টি নয়; এগুলো মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রা, আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রতীক।