শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিজেপিতে ভাঙনের সুর, মোদির সঙ্গ ছাড়লেন প্রভাবশালী নেতা আন্নামালাইয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
বিজেপিতে ভাঙনের সুর, মোদির সঙ্গ ছাড়লেন প্রভাবশালী নেতা আন্নামালাইয়

ভারতের তামিলনাড়ু রাজনীতিতে বিজেপির সবচেয়ে পরিচিত মুখ কে আন্নামালাই অবশেষে দল ছেড়ে দিয়েছেন। গত কয়েক দিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (৫ জুন) বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ইতিমধ্যে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে।

 

দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিজেপির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন আন্নামালাইয়ের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে দেওয়া পদত্যাগ গ্রহণ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনগণের সঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনার ঠিক আগেই এই ঘোষণা আসে।

সাবেক আইপিএস কর্মকর্তা আন্নামালাই গত মঙ্গলবার দিল্লিতে গিয়ে নীতিন নবীনের সঙ্গে দেখা করেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনায় তিনি দল ছাড়ার ইচ্ছা জানান। পরে অমিত শাহ ও বি এল সন্তোষের সঙ্গেও তার বৈঠক হয়। দল তাকে কিছুটা সময় নিতে বললেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি।

পদত্যাগের পর তামিলনাড়ু বিজেপির বর্তমান সভাপতি নয়নর নাগেন্দ্রন বলেছেন, আন্নামালাইয়ের চলে যাওয়ায় দলের কোনো ক্ষতি হবে না। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, বিজেপি বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর একটি। তবে অন্ধ্রপ্রদেশ বিজেপির সভাপতি পিভিএন মাধব আশা প্রকাশ করেছেন যে আন্নামালাই ভবিষ্যতে আবার দলে ফিরতে পারেন।

পদত্যাগপত্রে আন্নামালাই লিখেছেন, তামিলনাড়ুর ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে জাতীয় দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে তার মতের মিল নেই। গত ১৮ মাস ধরে তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে এই অসন্তোষ জানিয়ে আসছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি বুঝতে পেরেছেন যে তামিলনাড়ুর ভবিষ্যৎ নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে মেলে না। তাই আর দলকে বিব্রত না করে তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

একইসঙ্গে তিনি নতুন রাজনৈতিক আন্দোলন শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন। তার নতুন দল আগামী তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে লড়বে বলেও জানিয়েছেন।

২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সরকারি চাকরি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন আন্নামালাই। মাত্র এক বছরের মাথায় ৩৭ বছর বয়সে তিনি তামিলনাড়ু বিজেপির সভাপতি হয়ে যান। তার নেতৃত্বে রাজ্যে দলের ভোট ও দৃশ্যমানতা বাড়লেও বড় নির্বাচনী সাফল্য পাননি।

সূত্রের খবর, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এআইএডিএমকের সঙ্গে জোট নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তার মতবিরোধ তীব্র হয়। আন্নামালাই চেয়েছিলেন বিজেপি একাই লড়ুক, কিন্তু শীর্ষ নেতৃত্ব জোটের পক্ষে ছিল। এআইএডিএমকে প্রধান ইদাপ্পাদি পালানিস্বামী জোটের শর্ত হিসেবে আন্নামালাইকে সভাপতির পদ থেকে সরানোর দাবি তুলেছিলেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

আন্নামালাইয়ের এই পদত্যাগ তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: এনডিটিভি

Ads small one

সাতক্ষীরায় সীমানা পিলারসহ আটক ৪

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় সীমানা পিলারসহ আটক ৪

খেশরা (তালা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় তালার কলাগাছি গ্রামের ভোলানাথ সানার (৫০) বসতবাড়ি থেকে সীমানা পিলারসহ এক্সপার্ট চক্রের ৩ সদস্যকে আটক করেছে থানা পুলিশ। শুক্রবার (৫ জুন) রাত ১০ টার পরে তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের কলাগাছি গ্রামের ভোলানাথ সানার বাড়ি থেকে এই পিলার উদ্ধার করা হয়।
আটক ভোলানাথ সানা কলাগাছি গ্রামের মৃত চতুর চন্দ্র সানার ছেলে এবং অন্য তিন জনের একজন খুলনার বটিয়াঘাটার বাসিন্দা ও অন্য ২ জন পাইকগাছা গ্রামের বাসিন্দা তুষার ও ভোলানাথ সানার কুটুম সুশান্ত বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোলানাথ সানার বসতবাড়ির পাশে একটি মাটির ঘরে এই পিলার মাটির নিচে বসানো ছিলো। আজকে এক্সপার্টরা এই পিলার সঠিক কি-না যাচাইয়ের জন্য আসবে বলে মাঠি খুড়ে বের করে ঘরের ভিতর রাখা হয়। তখনই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের টিম সেখানে অভিযান চালায়। রাত সাড়ে ১০ টায় পিলারসহ তাদের বসতবাড়ি থেকে আটক করে পুলিশের চৌকস টিম।

 


তালা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, রাত সাড়ে ১০ টায় আমরা খবর পাই কলাগাছিতে সীমানা পিলার বেচাকেনা চলছে। এই খবর পেয়ে আমারা অভিযান চালাই। অভিযান চালিয়ে আমরা তাদের পিলারসহ আটক করি। তবে আমরা তাদের থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাচ্ছি। যারা এর সাথে জড়িত রয়েছে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। যারা জড়িত না তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।

 

 

সম্পাদকীয়/ নির্বিচারে বৃক্ষনিধন রোধে চাই কার্যকর জাতীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১:০৬ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ নির্বিচারে বৃক্ষনিধন রোধে চাই কার্যকর জাতীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা

উন্নয়ন প্রকল্প, নগরায়ণ, শিল্পায়ন ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদার অজুহাতে দেশে আশঙ্কাজনক হারে গাছ কাটা ও বন উজাড়ের যে চিত্র উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সম্প্রতি পরিবেশ অধিদপ্তর মিলনায়তনে পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পরিবেশবিদেরা দেশের সবুজ আচ্ছাদন ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পাওয়ার যে তথ্য প্রকাশ করেছেন, তা আমাদের পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার ওপর এক মারাত্মক নেতিবাচক বার্তা দেয়। এই বাস্তবতায় দেশে নির্বিচারে গাছ কাটা রোধে একটি ‘জাতীয় বন ও বৃক্ষনিধন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার যে দাবি তাঁরা জানিয়েছেন, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং এর দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি।
উত্থাপিত গবেষণা প্রবন্ধ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র এক বছরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৫২ হাজার ৩৭৫টি বৃক্ষনিধনের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। যদিও এই সংখ্যাটি আগের বছরের তুলনায় ৭১ দশমিক ২ শতাংশ কম এবং এটি সচেতনতা বৃদ্ধির ইতিবাচক দিক নির্দেশ করে, তবুও প্রতিবছর হাজার হাজার পরিপক্ব গাছ এভাবে কেটে ফেলা কোনোভাবেই হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ করে জেলাভিত্তিক হিসাবে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ২৩ হাজার এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় জেলা কক্সবাজারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১ হাজার বৃক্ষনিধনের তথ্য পরিবেশগত সুরক্ষাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। কক্সবাজারের মতো সংবেদনশীল ও পর্যটন এলাকায় এত বিপুলসংখ্যক গাছ কাটার খেসারত আগামী দিনে ওই অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও পাহাড় সুরক্ষায় মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
আমরা প্রায়ই দেখি, রাস্তা সম্প্রসারণ কিংবা অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের জন্য কোনো বিকল্প ভাবনা ছাড়াই শতবর্ষী ও ছায়াসুনিবিড় গাছগুলো সবার আগে কেটে ফেলা হয়। আইন ও নীতিমালা থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ এবং জবাবদিহিতার অভাবে এই অপরাধ পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন যে, মাঠপর্যায়ে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। বৃক্ষনিধনের এই ধারা অব্যাহত থাকলে মাটিক্ষয়, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস এবং সামগ্রিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে, যা ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তীব্র তাপপ্রবাহের মাধ্যমে আমরা টের পাচ্ছি।
সরকার পরিবেশ সুরক্ষায় ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে নতুন গাছ লাগানোর চেয়ে বিদ্যমান বড় ও পরিণত গাছগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অনেক বেশি কার্যকর। বন আইনের কঠোর বাস্তবায়ন, টেকসই কৃষিবনায়ন সম্প্রসারণ এবং নগর পরিকল্পনায় সবুজ অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে পরিবেশগত অপরাধ দমনে ইউনিয়ন বা স্থানীয় পর্যায়ে শক্তিশালী তদারকি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন।
জলবায়ু সংকটের এই বর্তমান বাস্তবতায় শুধু উৎসব করে গাছ লাগালেই চলবে না, বরং দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সবুজ আচ্ছাদন ও বনাঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। আমরা আশা করি, পরিবেশবাদীদের দীর্ঘদিনের দাবি আমলে নিয়ে সরকার অনতিবিলম্বে একটি কার্যকর জাতীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে এবং বনের ওপর স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার ও তদারকি নিশ্চিত করে পরিবেশ রক্ষায় কঠোর ভূমিকা পালন করবে।

বুধহাটা বাজারে জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন পরিষ্কারের উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ণ
বুধহাটা বাজারে জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন পরিষ্কারের উদ্যোগ

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা বাজার এলাকায় ড্রেনেজ সমস্যার কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ লাঘবে ড্রেন পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগের বিষয়টি নজরে আসার পর সাতক্ষীরা জজকোর্টের এপিপি ও আশাশুনি উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম নিজস্ব লোকবল নিয়ে ভেঙে পড়া ড্রেন পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন। তাৎক্ষণিকভাবে পানি চলাচলের সাময়িক ব্যবস্থা করায় বাজারের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও ভোগান্তি কিছুটা কমেছে।

স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম জানান, বুধহাটা বাজারের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে নতুন ড্রেন নির্মাণ ও রাস্তা সংস্কার করা প্রয়োজন। এই বিষয়ে সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। হঠাৎ করে নেওয়া এই কার্যকর উদ্যোগের জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।