বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস: নীরবতা ভেঙে সহমর্মিতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫০ অপরাহ্ণ
বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস: নীরবতা ভেঙে সহমর্মিতা

সাকিবুর রহমান বাবলা

আত্মহত্যা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ। প্রতি বছর ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস। ২০০৩ সালে আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ সংস্থা ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যৌথ উদ্যোগে দিবসটির সূচনা হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো আত্মহত্যা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক কুসংস্কার দূর করা এবং এই বার্তা পৌঁছে দেয়া যে আত্মহত্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব। ২০২৪-২০২৬ সালের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘আত্মহত্যা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণার পরিবর্তন’।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ৭ লাখ ২৭ হাজার মানুষ আত্মহত্যার মাধ্যমে প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ ছিল আত্মহত্যা। জনসংখ্যার অনুপাতে আত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডে প্রতি লাখে প্রায় ৭৫ জন। তবে স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশগুলোর মধ্যে এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে লেসোথো, সুরিনাম প্রতি লাখে ২৮ জন, দক্ষিণ কোরিয়া প্রতি লাখে ২৮ জন এবং গায়ানা প্রতি লাখে ২৫ জন। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বিশ্বের মোট আত্মহত্যার প্রায় ৭৩ শতাংশই ঘটে নি¤œ ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এই সংকটকে আরও বেশি ঘনীভূত ও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বে আত্মহত্যার প্রবণতা একেবারে শূন্য এমন কোনো দেশ না থাকলেও বার্বাডোস ও অ্যান্টিগুয়া এবং বারবুডার মতো ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলোতে এই হার সবচেয়ে কম, প্রতি লাখে ১ জনেরও কম। মূলত জোরালো ধর্মীয় ও পারিবারিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক বন্ধন এই হার কম রাখতে সাহায্য করে, যদিও সামাজিক কুসংস্কার বা আইনি জটিলতার কারণে অনেক দেশের প্রকৃত তথ্য প্রকাশ না পাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।

আত্মহত্যা কেবল মানসিক রোগের ফল নয়; এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক, পারিবারিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত নানা কারণের সম্মিলিত প্রভাব। বিষণ্নতা, মানসিক চাপ, সম্পর্কের টানাপোড়েন, আর্থিক সংকট, দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা, সহিংসতা, বৈষম্য, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং হঠাৎ সৃষ্ট সংকটময় পরিস্থিতি অনেক মানুষকে আত্মঘাতী আচরণের দিকে ঠেলে দিতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অনেক আত্মহত্যা তাৎক্ষণিক আবেগ ও সংকটময় মুহূর্তের ফল, যখন ব্যক্তি জীবনের চাপ মোকাবিলার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন।

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় আত্মহত্যার হার হ্রাসকে মানসিক স্বাস্থ্য ও কল্যাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। একই সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘কমপ্রিহেনসিভ মেন্টাল হেলথ অ্যাকশন প্ল্যান ২০১৩–২০৩০’ এবং ‘লাইভ লাইফ’ উদ্যোগ আত্মহত্যা প্রতিরোধে সমন্বিত ও প্রমাণভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। তাদের কৌশলে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়Ñআত্মহত্যার উপায়ের সহজলভ্যতা সীমিত করা, দায়িত্বশীল গণমাধ্যম চর্চা নিশ্চিত করা, তরুণদের জীবনদক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে সহায়তা প্রদান করা। পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি, বহুখাতভিত্তিক সহযোগিতা, গবেষণা, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নকে আত্মহত্যা প্রতিরোধের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ১৩,৪৯১ জন মানুষ আত্মহত্যা করেছেন, যা গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৪১ জন। এ তথ্য আত্মহত্যা বিষয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের বিষয়। মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে অজ্ঞতা, সামাজিক কুসংস্কার, পারিবারিক বিরোধ, শিক্ষাগত চাপ, বেকারত্ব, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, পরীক্ষা ও প্রেমে ব্যর্থতা, অপরাধী মন এবং সহজলভ্য ক্ষতিকর উপকরণ আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের মধ্যে মানসিক চাপ, বুলিং, সাইবার ও যৌন হয়রানি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় ২০২৬ সালের মে থেকে জুলাইÑমাত্র তিন মাসে ৬৫ জনের আত্মহত্যা অন্যান্য অপমৃত্যু ছাড়া এক বড় আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানের দেখা যায়, মানসিক স্বাস্থ্যসেবার অভাব, পারিবারিক অশান্তি ও চাহিদা পূরণে ব্যর্থ, বাল্যবিবাহ, সামাজিক অপমান, বুলিং, পরীক্ষা ও প্রেমে ব্যর্থতা, জুয়ায় অর্থ হারানো ও কীটনাশকের সহজলভ্যতার পাশাপাশি জলবায়ু সংকট এর মূল কারণ। বিশেষ করে বারবার ঘূর্ণিঝড়, নদীর বাঁধ ভাঙ্গন, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং কৃষি বা অন্য খাতে ক্ষতির ফলে সৃষ্ট ঋণের চাপ উপকূলীয় পরিবারগুলোকে দীর্ঘস্থায়ী হতাশায় ফেলছে, যেখানে অর্থনৈতিক দুর্দশা ও মানসিক স্বাস্থ্য সংকট একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছে।

আত্মহত্যা প্রতিরোধে কেবল বর্তমান উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; শিক্ষা, পরিবার, স্থানীয় সরকার, গণমাধ্যম, আইন ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত ভূমিকা অপরিহার্য। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাউন্সেলিং সেবা চালু করা, মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান, বুলিং ও সাইবার হয়রানি প্রতিরোধ এবং সংকটাপন্ন ব্যক্তিদের জন্য সহজলভ্য সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সময়ের দাবি। বাংলাদেশে সরকারি পর্যায়ে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট সেবা দেওয়ার পাশাপাশি ‘কান পেতে রই’-এর মতো বেসরকারি সংগঠনগুলো মানসিক সহায়তায় কাজ করছে। এ ছাড়া যেকোনো সংকটে জাতীয় হেল্পলাইন ৯৯৯, নারী ও শিশু সহায়তায় ১০৯ এবং শিশু সুরক্ষায় ১০৯৮ নম্বর যুক্ত রয়েছে।

পৃথিবীর প্রধান ধর্মসমূহ এবং বিশিষ্ট দার্শনিক চিন্তাধারা একযোগে জীবনকে পরম পবিত্র, উদ্দেশ্যপূর্ণ ও অমূল্য আমানত হিসেবে তুলে ধরে আত্মহত্যার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আত্মহনন হলো ঐশ্বরিক নিয়ম, কর্মফল ও আমানতের চরম লঙ্ঘন; অন্যদিকে দার্শনিক বিচারে এটি নৈতিক দায়িত্ব থেকে বিচ্যুতি, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি অন্যায় এবং জীবনের বাস্তবতার সামনে এক ধরনের আত্মসমর্পণ। সব মতবাদই আত্মঘাতী সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে ধৈর্য, সাহসিকতা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে জীবনের সংকট মোকাবিলা করে জীবনকে রক্ষা করাকেই মানব অস্তিত্বের মূল সার্থকতা ও পরম কর্তব্য বলে সাব্যস্ত করে।

বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আত্মহত্যা কোনো ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়; এটি একটি জটিল জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সমস্যা, যার সমাধানও হতে হবে সমন্বিত ও মানবিক। সহমর্মিতা, সচেতনতা, প্রমাণভিত্তিক নীতি এবং সময়োপযোগী সহায়তার মাধ্যমে অসংখ্য জীবন রক্ষা করা সম্ভব। তাই আসুন, নীরবতা ভেঙে সংলাপ শুরু করি, মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিই এবং এমন একটি সমাজ গড়ে তুলি যেখানে সংকটের মুহূর্তে প্রত্যেক মানুষ প্রয়োজনীয় সহায়তা ও আশার আলো খুঁজে পায়।

Ads small one

র‌্যাব বিলুপ্তি করে এসআরবি বিল সংসদে, বিরোধী দলের ৭ আপত্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ণ
র‌্যাব বিলুপ্তি করে এসআরবি বিল সংসদে, বিরোধী দলের ৭ আপত্তি

স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬ দ্রুত পাস করা, র‍্যাবের জনবল-সম্পদ ও রেকর্ড সরাসরি এসআরবিতে হস্তান্তর, অভিযোগ তদন্তের কাঠামো এবং সদস্যদের আটক ও শাস্তির ক্ষমতা নিয়ে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ আপত্তি তুলেছেন বিরোধী দলের সদস্যরা। বিলের ওপর দেওয়া নোট অব ডিসেন্টে তারা বলেছেন, র‍্যাব বিলুপ্ত করে নতুন বাহিনী গঠনের আগে যথাযথ জাতীয় পরামর্শ ও শক্তিশালী জবাবদিহির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে উত্থপিত বিলে এই আপত্তি জানানো হয়।

গত ৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে উত্থপিত বিলটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয় যাচাই-বাছাইয়ের জন্য। বিলটি যাচাই-বাছাই শেষে কমিটির প্রতিবেদনসহ জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য বিলটি সংসদে উপস্থাপন করেন।

কমিটির প্রতিবেদনে বিরোধী দলের সাতটি আপত্তির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। বিরোধী দলের সাতটি আপত্তি হলো-

বিরোধী দলের সাত আপত্তি

১. পরামর্শ ছাড়াই দ্রুত বিল পাস ঝুঁকিপূর্ণ

নোট অব ডিসেন্টে বলা হয়েছে, র‍্যাব বিলুপ্ত করা বিএনপির দীর্ঘদিনের অবস্থান। ২০১৪ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া র‍্যাব বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেও পুলিশ সংস্কার কমিশনের কাছে দলটি র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করে। ২০২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে তোলার সময়ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম র‍্যাব বিলুপ্তির আগের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেন। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও নতুন বাহিনী গঠনের আগে বিস্তৃত আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

বিরোধী সদস্যরা উল্লেখ করেন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতর এবং গুম কমিশনও র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশও সতর্ক করেছে, যথাযথ নজরদারি ছাড়া এসআরবি র‍্যাবের নতুন নাম হয়ে উঠতে পারে।

বিলের ধারা ২৭(৩) অনুযায়ী র‍্যাবের জনবল, স্থাপনা, ক্ষমতা, রেকর্ড, সম্পত্তি, চুক্তি ও দায় সরাসরি এসআরবিতে যাবে। ফলে নাম পরিবর্তনের বাইরে বাহিনীর কাঠামো ও কার্যক্রমে কী পরিবর্তন আসছে, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। তা না হলে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নতুন বাহিনীকে র‍্যাবের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হতে পারে।

তাদের প্রস্তাব, বিলের ওপর কমিটির প্রতিবেদন দেওয়ার সময় বাড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট, প্রসিকিউটর, আইনজীবী, রাজনৈতিক দল, ভুক্তভোগী পরিবার ও মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে একাধিক পরামর্শ সভা করা।

২. র‍্যাবের রেকর্ড কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে

ধারা ২৭(৩) অনুযায়ী র‍্যাবের হিসাববই, রেজিস্টার, রেকর্ডপত্র ও দলিল এসআরবিতে যাবে। কিন্তু হস্তান্তরের আগে এসব নথি কীভাবে সংরক্ষণ, তালিকাভুক্ত ও নিরাপদ করা হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট বিধান নেই।

বিরোধী সদস্যরা বলেন, গুমসহ গুরুতর অপরাধের বহু মামলায় র‍্যাবের পদায়ন ও বদলির আদেশ, ডিউটি রোস্টার, অভিযান ও গ্রেফতার রেকর্ড, হেফাজত রেজিস্টার, গাড়ি চলাচলের তথ্য, ওয়্যারলেস লগ, ইলেকট্রনিক রেকর্ড, সিসিটিভি ফুটেজ ও অস্ত্র ইস্যু রেজিস্টার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হতে পারে। রেকর্ড হস্তান্তরের সময় এসব নষ্ট, পরিবর্তন বা হারিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকলে চলমান মামলা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তাদের প্রস্তাব, ধারা ২৭-এ রেকর্ড সুরক্ষার পৃথক বিধান যুক্ত করতে হবে। হস্তান্তরের সময় প্রতিটি নথি ও আলামতের তালিকা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর নিতে হবে। কোনো রেকর্ড গোপন, পরিবর্তন, সরানো বা নষ্ট করা অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে। আদালতের আদেশ ছাড়া সাবেক আটকস্থলের কোনো পরিবর্তন করা যাবে না। আদালত, ট্রাইব্যুনাল, প্রসিকিউটর ও আইনসম্মত তদন্ত দলকে প্রয়োজনীয় রেকর্ড দেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

৩. এসআরবির বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে স্বাধীনতা দরকার

বিলের ধারা ২৪-এ অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু এর সভাপতি হবেন এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক এবং সদস্য-সচিব হবেন এসআরবির পরিচালক (লিগ্যাল ও মিডিয়া)। বিরোধী সদস্যদের মতে, যে বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই বাহিনীর কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে অভিযোগ তদন্ত হলে স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

তাদের আরও আপত্তি, কমিটির পূর্বঘোষণা ছাড়া ক্যাম্পে প্রবেশ, হাজতখানা পরিদর্শন, রেকর্ড সিলগালা বা আটক ব্যক্তি ও সদস্যদের সঙ্গে একান্তে কথা বলার ক্ষমতা স্পষ্ট নয়। অপরাধের আলামত পাওয়া গেলে তা ফৌজদারি তদন্ত কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর বাধ্যবাধকতাও নেই। অভিযোগকারীকে ফল জানানো এবং তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়েও স্পষ্ট বিধান নেই।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্ট বিচারপতির নেতৃত্বে স্বাধীন কমিটি গঠন করতে হবে। এতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল, মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিকদের প্রতিনিধি রাখার কথা বলা হয়েছে। কমিটির সচিবালয় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে রাখার পাশাপাশি এসআরবির স্থাপনায় পূর্বঘোষণা ছাড়া প্রবেশ, নথি পরীক্ষা ও আটক ব্যক্তির সঙ্গে একান্তে কথা বলার ক্ষমতা দিতে হবে।

৪. মামলা আদালতে যাওয়ার আগে এসআরবির কাজ কে দেখবে

ধারা ১২ থেকে ১৫-তে এসআরবিকে প্রবেশ, তল্লাশি, জব্দ, গ্রেফতার ও ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তি ও জব্দ আলামত নিকটবর্তী থানায় হস্তান্তরের কথা থাকলেও এসআরবির অভিযান সম্পর্কে জেলা পুলিশ, পুলিশ সুপার বা আদালতের কাছে নিয়মিত প্রতিবেদন দেওয়ার বিধান নেই।

বিরোধী সদস্যরা বলেন, এসআরবিকে পুলিশের মতো ক্ষমতা দেওয়া হলে পুলিশের মতো নিয়মিত জবাবদিহির ব্যবস্থাও থাকতে হবে। তাদের প্রস্তাব, এসআরবির প্রতিটি জেলায় মাসিক বিবরণী দিতে হবে। এতে গ্রেফতার ব্যক্তির নাম, সময়, স্থান, কারণ, থানায় হস্তান্তরের সময়, তল্লাশি ও জব্দের তথ্য এবং পরোয়ানার বিষয় উল্লেখ থাকবে। বিবরণীর অনুলিপি পুলিশ সুপার বা পুলিশ কমিশনার এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠাতে হবে।

৫. এসআরবি কোথায় এবং কতক্ষণ কাউকে আটক রাখতে পারবে

বিলের ধারা ১৩-তে বেসামরিক ব্যক্তির ক্ষেত্রে ‘আটক’ শব্দ ব্যবহার করা হলেও এর স্পষ্ট সংজ্ঞা নেই। ধারা ১৫(৪)-এ এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বেসামরিক ব্যক্তিকে কোথায় এবং কতক্ষণ রাখা যাবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট সময়সীমা নেই। ধারা ১৪-তে ‘অনতিবিলম্বে’ থানায় হস্তান্তরের কথা বলা হলেও এর নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।

বিরোধী সদস্যরা বলেন, অতীতে র‍্যাবের অঘোষিত স্থাপনায় মানুষকে আটকে রাখার অভিযোগ ও হেফাজত রেজিস্টার না রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এসআরবির প্রতিটি দফতর, ক্যাম্প, হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ সরকারি গেজেটে প্রকাশ করতে হবে।

প্রতিটি হেফাজতের জন্য ক্রমিক নম্বরযুক্ত রেজিস্টার রাখতে হবে। সেখানে ব্যক্তির নাম, সময়, স্থান, আইনগত কারণ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসার তথ্য এবং থানায় হস্তান্তরের সময় উল্লেখ করতে হবে। থানায় হস্তান্তরের সর্বোচ্চ সময়সীমাও আইনে নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

৬. প্রশিক্ষণ ছাড়া পুলিশি ক্ষমতা প্রয়োগ নয়

ধারা ২৫-এ সদস্যদের প্রশিক্ষণের কথা বলা হলেও প্রশিক্ষণের মেয়াদ, পাঠ্যক্রম ও পাসের মানদণ্ড পরে বিধিতে নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে ধারা ১৩-তে সাব-ইন্সপেক্টর বা তার ওপরের কর্মকর্তাকে ফৌজদারি তদন্ত কর্মকর্তার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

বিরোধী সদস্যদের মতে, বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনী থেকে প্রেষণে আসা কর্মকর্তাদের ফৌজদারি কার্যবিধি, সাক্ষ্য আইন, গ্রেফতার, তল্লাশি, জব্দ, কেস ডায়েরি ও আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

তাদের প্রস্তাব, প্রশিক্ষণ শেষ করে সনদ না পাওয়া পর্যন্ত কোনো সদস্যকে এই ক্ষমতা দেওয়া যাবে না। পুলিশ ছাড়া অন্য বাহিনী থেকে আসা সদস্যদের জন্য কমপক্ষে দুই মাসের কনভার্সন কোর্স, ব্যবহারিক পরীক্ষা ও পরবর্তী রিফ্রেশার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

৭. বেআইনি আদেশ মানতে অস্বীকার করলে সদস্যের সুরক্ষা

ধারা ১৮ অনুযায়ী শৃঙ্খলাভঙ্গ বা পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সদস্যকে আটক করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সর্বোচ্চ কতদিন আটক রাখা যাবে, তা স্পষ্ট নয়। আবার ধারা ২২-এ কোয়ার্টার গার্ডে আটক, অতিরিক্ত ড্রিল, গার্ড ও ফ্যাটিগ ডিউটির মতো শাস্তির বিধান রয়েছে।

বিরোধী সদস্যদের আশঙ্কা, বেআইনি আদেশ মানতে অস্বীকারকারী বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের তথ্য দেওয়া কোনো জুনিয়র সদস্যও কমান্ডের প্রতিকূলতার শিকার হতে পারেন। তাই আইনসম্মত আদেশ অমান্য এবং বেআইনি কাজে অংশ নিতে অস্বীকার করার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করা জরুরি।

তাদের প্রস্তাব, ছয় মাসের মধ্যে অভিন্ন আচরণ ও শৃঙ্খলা বিধি প্রণয়ন করতে হবে। বেআইনি কাজের তথ্য দেওয়া বা তাতে অংশ নিতে অস্বীকারকারী সদস্যকে আইনি সুরক্ষা দিতে হবে। এই সুরক্ষা পদোন্নতি, বদলি, প্রশিক্ষণ, কর্মদক্ষতার প্রতিবেদন ও বিদেশে দায়িত্ব পালনের সুযোগের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

নোট অব ডিসেন্টে এসব প্রস্তাবের পাশাপাশি এসআরবি গঠনের আগে আরও বিস্তৃত জাতীয় পরামর্শ এবং শক্তিশালী স্বাধীন নজরদারি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যু হাজার ছাড়ালো

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যু হাজার ছাড়ালো

সারা দেশে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ১১৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে এবং ৬৯ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯০২ জনের।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হামবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে একজন ঢাকা বিভাগের এবং দুজন ময়মনসিংহ বিভাগের।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩৪ জন এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৯৬৯ জন।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৮০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৯০৪ জনের শরীরে।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৯৩ জন রোগী। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৮১৯ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৭২ হাজার ৩৮ জনের এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১২ হাজার ১৯৫ জনের শরীরে। সন্দেহজনক হামে এ বিভাগে মোট ৪০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আক্রান্তের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। এ বিভাগে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৩২ হাজার ৯৩৬ জনের এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৭১১ জনের শরীরে। বরিশাল, সিলেট, খুলনা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগেও হাম ও হামের উপসর্গের রোগী শনাক্ত হয়েছে।

সন্দেহজনক হাম রোগীর মৃত্যুর ক্ষেত্রে ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগে আধিক্য দেখা গেছে। ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলায় এবং ঢাকা জেলায় সন্দেহজনক হামে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি।

এদিকে জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে মোট লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জন। এর বিপরীতে টিকা পেয়েছেন ১ কোটি ৯৭ লাখ ৪৬ হাজার ৭৭৩ জন। জাতীয় পর্যায়ে টিকাদানের কাভারেজ ১০৯ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিভাগগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহে টিকাদানের কাভারেজ সবচেয়ে বেশি, ১১৫ শতাংশ। সিলেটে সবচেয়ে কম ১০৪ দশমিক ৩ শতাংশ হলেও সেখানেও কাভারেজ ১০০ শতাংশ ছাড়িয়েছে।

সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ লাখ ৫ হাজার ৯৫০ জন। এর বিপরীতে টিকা পেয়েছেন ২০ লাখ ৬৯ হাজার ৯১১ জন। সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকাদানের কাভারেজ ১০৮ দশমিক ৬ শতাংশ। এর মধ্যে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে কাভারেজ সর্বোচ্চ ১১৫ দশমিক ৭ শতাংশ এবং রংপুর সিটি করপোরেশনে সর্বনিম্ন ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ।

 

সম্পাদকীয়/ জরাজীর্ণ বুধহাটা-পাইথালী সড়ক: দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ জরাজীর্ণ বুধহাটা-পাইথালী সড়ক: দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন

একটি আধুনিক ও সচল সমাজব্যবস্থার অন্যতম পূর্বশর্ত হলো উন্নত যোগাযোগ অবকাঠামো। কিন্তু সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা-পাইথালী সড়কের বর্তমান চিত্র সেই প্রত্যাশার ঠিক বিপরীত। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। পিচ ও সুরকি উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। ফলে প্রতিদিন এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী হাজার হাজার পথচারী, শিক্ষার্থী ও যানবাহনের চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পরিণত হয় ছোট ছোট জলাশয়ে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায় বহু গুণ।

যোগাযোগ ব্যবস্থার এই বেহাল দশায় স্থানীয় আর্থসামাজিক জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কৃষিপণ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনে সময় ও ব্যয় দুটোই বেড়ে গেছে। প্রধান সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় বাধ্য হয়ে হালকা যানবাহনগুলোকে গ্রামের সরু ভেতরের পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে গ্রামীণ রাস্তাগুলোও দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সেখানেও দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে চলেছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সড়কটি সংস্কারের সিদ্ধান্ত হওয়া সত্ত্বেও এখনো মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান কোনো কাজ শুরু হয়নি, যা হতাশাজনক।

উপজেলা প্রশাসন ও প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সড়কের একাংশের প্রাক্কলন তৈরি করে অনুমোদনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং অন্য কিছু উন্নয়নমূলক কাজ শেষ হলেই এই সড়কের কাজে হাত দেওয়া হবে। কর্তৃপক্ষের এই আশ্বাস ইতিবাচক হলেও বাস্তবতার নিরিখে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আর দীর্ঘায়িত করা সমীচীন নয়। বাজেট অনুমোদন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বুধহাটা-পাইথালী সড়কের সংস্কারকাজ অবিলম্বে শুরু করা প্রয়োজন। জনভোগান্তি নিরসন ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবেÑএটাই প্রত্যাশা।