সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিশ্ব স্টিলপ্যান দিবস: প্রতিবাদ, সৃজনশীলতা ও সুরের অনন্য ঐতিহ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
বিশ্ব স্টিলপ্যান দিবস: প্রতিবাদ, সৃজনশীলতা ও সুরের অনন্য ঐতিহ্য

সাকিবুর রহমান বাবলা
প্রতি বছর ১১ আগস্ট বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব স্টিলপ্যান দিবস। ২০২৩ সালের ২৪ জুলাই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত এ/আরইএস/৭৭/৩১৬ প্রস্তাবের মাধ্যমে দিবসটির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করে। এর মাধ্যমে শুধু একটি বাদ্যযন্ত্রকে সম্মান জানানো হয়নি; বরং স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে একটি জাতির ইতিহাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সৃজনশীলতা এবং মানবিক সংগ্রামের এক অনন্য অধ্যায়কে।
স্টিলপ্যানের জন্ম ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে। এটি ব্যাপকভাবে বিংশ শতাব্দীতে আবিষ্কৃত একমাত্র নতুন অ্যাকোস্টিক বাদ্যযন্ত্র হিসেবে স্বীকৃত। সাধারণত পরিত্যক্ত তেলের ড্রামকে বিশেষ কারিগরি প্রক্রিয়ায় রূপান্তর করে এই বাদ্যযন্ত্র তৈরি করা হয়। রাবার-আবৃত মাথাযুক্ত কাঠি দিয়ে এটি বাজানো হয় এবং ধাতব তলের বিভিন্ন অংশ থেকে ভিন্ন ভিন্ন সুর সৃষ্টি করা হয়। মানব উদ্ভাবনী শক্তি, কারিগরি দক্ষতা এবং সঙ্গীতচর্চার এক অনন্য সমন্বয় হিসেবে স্টিলপ্যান আজ বিশ্ব সংস্কৃতির মূল্যবান সম্পদ।
স্টিলপ্যানের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর ঔপনিবেশিক অতীত। আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মানুষদের ঐতিহ্যবাহী ড্রাম একসময় নিষিদ্ধ করা হলে তারা বিকল্প উপায়ে নিজেদের সঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রাখার চেষ্টা করেন। প্রথমে বাঁশের তৈরি ‘টাম্বু-বাঁশ’, পরে বিভিন্ন ধাতব পাত্র এবং শেষ পর্যন্ত পরিত্যক্ত তেলের ড্রাম ব্যবহার করে নতুন সুরের জগৎ নির্মাণ করেন। বিংশ শতাব্দীর ত্রিশ ও চল্লিশের দশকে উইনস্টন ‘স্প্রি’ সাইমন, এলি ম্যানেটসহ একদল অগ্রগামী শিল্পীর হাতে আধুনিক স্টিলপ্যানের বিকাশ ঘটে। সেই থেকে এটি ধীরে ধীরে ক্যারিবীয় সংস্কৃতির অন্যতম শক্তিশালী পরিচয়ে পরিণত হয়।
একটি সাধারণ তেলের ড্রামকে সুরেলা বাদ্যযন্ত্রে রূপান্তরের প্রক্রিয়া অত্যন্ত নিখুঁত। ড্রামের তলাকে বিশেষভাবে পিটিয়ে অবতল আকৃতি দেওয়া হয়, বিভিন্ন নোটের জন্য নির্দিষ্ট অংশ চিহ্নিত করা হয় এবং তাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ধাতুর গুণগত মান উন্নত করা হয়। পরে দক্ষ কারিগররা প্রতিটি অংশকে নির্দিষ্ট সুরে টিউন করেন। এই কারণে স্টিলপ্যানকে কেবল একটি বাদ্যযন্ত্র নয়, বরং শিল্প, বিজ্ঞান এবং কারুশিল্পের এক অসাধারণ সম্মিলন হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।
স্টিলপ্যানের রয়েছে নানা ধরন। টেনর প্যান সাধারণত মূল সুর পরিবেশন করে, ডাবল সেকেন্ড প্যান কর্ড ও হারমনি তৈরি করে, গিটার ও সেলো প্যান ছন্দকে সমৃদ্ধ করে এবং বেস প্যান গভীর সুরের ভিত্তি গড়ে তোলে। একাধিক প্যান একত্রে বাজিয়ে গড়ে ওঠে স্টিল অর্কেস্ট্রা, যা একটি পূর্ণাঙ্গ সিম্ফনি অর্কেস্ট্রার মতো বহুমাত্রিক সুর সৃষ্টি করতে সক্ষম।
ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর কার্নিভাল সংস্কৃতির সঙ্গে স্টিলপ্যানের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে ওঠা ‘প্যান ইয়ার্ড’ শুধু অনুশীলনের স্থান নয়; বরং এটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনকেন্দ্র। এখানে শিশু, তরুণ, নারী ও প্রবীণ সবাই একসঙ্গে সঙ্গীতচর্চায় অংশগ্রহণ করেন। প্রতি বছর অনুষ্ঠিত বিশ্বখ্যাত ‘প্যানোরামা’ প্রতিযোগিতায় শতাধিক শিল্পী নিয়ে গঠিত স্টিল অর্কেস্ট্রাগুলো অংশগ্রহণ করে এবং সুরের অনন্য পরিবেশনা উপহার দেয়। এই ঐতিহ্য স্টিলপ্যানকে একটি বাদ্যযন্ত্রের সীমা ছাড়িয়ে সামাজিক সংহতি ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রতীকে পরিণত করেছে।
একসময় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বাদ্যযন্ত্র হিসেবে পরিচিত স্টিলপ্যান আজ আন্তর্জাতিক মর্যাদা অর্জন করেছে। ক্যালিপসো ও সোকা সঙ্গীতের পাশাপাশি এটি জ্যাজ, পপ, ধ্রুপদী এবং সমকালীন নানা ধারার সংগীতে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশ্বের বহু স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে স্টিলপ্যান শেখানো হয়। তরুণদের সৃজনশীলতা বিকাশ, শৃঙ্খলা, দলগত চেতনা এবং সাংস্কৃতিক অংশগ্রহণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
স্টিলপ্যানের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলোÑএর পরিবেশবান্ধব দর্শন। পরিত্যক্ত তেলের ড্রামকে পুনর্ব্যবহার করে একটি আন্তর্জাতিক মানের বাদ্যযন্ত্রে রূপান্তর করা টেকসই উন্নয়নের এক অনন্য উদাহরণ। এ কারণে জাতিসংঘ মনে করে, স্টিলপ্যান সংস্কৃতি, পর্যটন, শিক্ষা এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি মানসিক সুস্থতা, লিঙ্গসমতা, যুবসমাজের ক্ষমতায়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
বিশ্বব্যাপী সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সৃজনশীল প্রকাশের বিকাশ আজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সংস্কৃতি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, সম্প্রীতি ও সম্মানের ভিত্তি গড়ে তোলে। স্টিলপ্যান সেই বার্তাই বহন করে—সৃজনশীলতা মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি, যা সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে।
বিশ্ব স্টিলপ্যান দিবস তাই কেবল ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর কোনো বাদ্যযন্ত্রের উদযাপন নয়; এটি মানবজাতির অবদমিত আত্মার চিরন্তন মুক্তির প্রতীক। যেভাবে আমাদের বাংলার বাউল গান, একতারা কিংবা দক্ষিণ এশিয়ার লোকশিল্প প্রান্তিক মানুষের না বলা বেদনাকে সুরে রূপ দেয়, ঠিক তেমনি পরিত্যক্ত ইস্পাতের ড্রামের এই সুরের ঝংকারও সমস্ত ভৌগোলিক সীমানার প্রাচীর ভেঙে বিশ্বজুড়ে ঐক্য, সম্প্রীতি ও আশার অবিনশ্বর বার্তা পৌঁছে দেয়। সৃজনশীলতা প্রমাণ করেÑমানুষের হাত দিয়েই একদিন রচিত হবে এক সুন্দরতর, বৈষম্যহীন পৃথিবী।

Ads small one

শ্যামনগরে দুস্থদের আর্থিক সহায়তা দিল উপজেলা পরিষদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে দুস্থদের আর্থিক সহায়তা দিল উপজেলা পরিষদ

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে হতদরিদ্র ও দুস্থ জনগোষ্ঠীর মধ্যে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সোমবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) পক্ষে সহায়তার এই অর্থ হস্তান্তর করেন কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন।
উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, সহায়তার অংশ হিসেবে প্রতিজন দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তিকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। ১০ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৫৫ জন দুস্থ ব্যক্তির মধ্যে এই অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার বাদঘাটা গ্রামের পঙ্গুত্ববরণকারী আব্দুল হামিদ ও মানিকপুর গ্রামের বৃদ্ধা সুফিয়া বেগমসহ কয়েকজনের হাতে এই অর্থ তুলে দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে আরও কয়েকজন অসচ্ছল ব্যক্তিকে এই সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

শ্যামনগরে গুড নেবারসের দুর্যোগ সহনশীলতা প্রকল্পের সূচনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে গুড নেবারসের দুর্যোগ সহনশীলতা প্রকল্পের সূচনা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে জাপানভিত্তিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা গুড নেবারসের তিন বছর মেয়াদি একটি প্রজেক্ট ইনসেপশন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে গুড নেইবারস বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড বার্টিন গোমেজের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় বাঁধে এক লাখ গাছ লাগানোর মাধ্যমে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক প্রকল্পের সফলতা কামনায় সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গুড নেইবারস জাপানের এশিয়া সেকশন ম্যানেজার মিয়ুকি সুজিই। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, কর্মকর্তা ও বিভিন্ন অংশীজনের উপস্থিতিতে ফিতা কেটে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনা করা হয়।

জেলায় ৮৩ হাজার হেক্টরে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
জেলায় ৮৩ হাজার হেক্টরে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা

 

এম শফিকুল ইসলাম: অনুকূল আবহাওয়ায় সাতক্ষীরা জেলাজুড়ে পুরোদমে শুরু হয়েছে রোপা আমন ধানের আবাদ। আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসজুড়ে বীজতলা থেকে চারা তুলে মাঠে লাগাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলায় ৮৩ হাজার ১৫৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এতে সম্ভাব্য চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার ৬৭০ মেট্রিক টন। ইতিমধ্যে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার হেক্টর জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।
কৃষকেরা জানান, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার উৎপাদন খরচ কিছুটা বেশি হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, কীটপতঙ্গের আক্রমণ ও রোগবালাই রোধে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করছেন এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। এ ছাড়া সারের কৃত্রিম সংকট এড়াতে বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে।