সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

বেকারত্ব: একটি মানসিক ব্যাধি ও উত্তরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
বেকারত্ব: একটি মানসিক ব্যাধি ও উত্তরণ

শিরিন সিদ্দিকী

চাকরি সোনার হরিণ! আর আমাদের দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে তো কোনো বিশেষণেই বিশেষায়িত করার প্রশ্নই আসে না।

চাকরি মানে চাকরি। সরকারি চাকরিই আসল কথা।তা আপনি মাধ্যমিক পাস হোন আর মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনকারী হোন। একটা সরকারি চাকরিই যেন মানবজীবনের আরাধ্য চাওয়া। আর সোনার হরিণ সম এই অতীব মূল্যবান চাকরি জুটাতে গড় আয়ুর প্রায় অর্ধেক অংশ পার করে ফেলি আমরা। এখানে কোনো ভাবেই বিবেচ্য নয় যে আপনি কোন বিষয়ে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করেছেন। সার্টিফিকেট অর্জনের আসল মাকসাদ চাকরি!

সরকারি চাকরি। সম্প্রতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিয়াগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাস্ত অনেক মেধাবী চাকরিপ্রার্থী। উচ্চ মাধ্যমিক পাসের পর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি যুদ্ধ আর অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে বেকার ট্যাগ ঘুচাতে চাকরি যুদ্ধ সমান গুরুত্ব বহন করে। একমাত্র তারাই বুঝতে পারবেন যারা এই যুদ্ধে পারিবারিকতা ও সামাজিকতা, বন্ধুমহল ও প্রিয়জন ভুলে এই পথের যোদ্ধা হিসেবে সময়,শ্রম ও মেধা দিয়ে যারপরনাই চেষ্টা করে দিনরাত এক করে ফেলে জীবনের পঁচিশ-তিরিশ বসন্ত নির্বাসিত তপস্বীর জীবন যাপন করেছেন।

সমস্যা নেই ফার্মেসি বিভাগের টপার হয়েও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেলেন নাকি ইসলামী ইতিহাসের ছাত্র হয়ে ব্যাংক এর ক্যাশ ইন চার্জ হিসেবে নিয়োগ পেলেন।
ট্যাগ দরকার শুধু আপনি আর বেকার যুবকের তালিকায় নেই। আপনি এখন সরকারি চাকুরীজীবী।

ব্যস্! আপনার যোগ্যতা অনুযায়ী উপযুক্ত সম্মান, মর্যাদা ও ঠিকঠাক গ্রেডিং এর চেয়ারটাতে সমাসীন হয়েছেন কিনা এতো ব্যক্তি সচেতনতা দেখানোর মতো আদিখ্যেতা বাতুলতা মাত্র। দূর্লভ এ চাকরির বাজারে আপনিও সরকারি অনুদানভুক্ত চাকর! এই সংবাদটি নিশ্চিত করতে পারলেই পেটে ভাতে আপনি ছাপোষা কেরানি। একটা মানুষ জীবন আর কী চাই!
হায় আমার সোনার বাংলাদেশ!

আহা! আমরা সোনার দামাল বঙ্গসন্তান!
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, শরীরের রক্ত পানি করে, মগজের কোষে চাপাচাপি করে চাকরির রেসে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও এনএসআই ভেরিফিকেশনের নামে কী ভয়ংকর ছলনাই না করলো! আমি সমব্যথী একজন মানুষ হিসেবে সত্যিই বুকে পাঁজরভাঙা কষ্ট অনুভব করছি।কারণ আমি নিজেও পাবলিকিয়ান হয়েও চাকরির প্রথম জীবন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবেই শুরু করেছিলাম। সে-ই অভিজ্ঞতার আলোকেই হৃদয়ের রক্তক্ষরণে হৃদক্রিয়া বন্ধের শ্বাসকষ্ট অনুভব করছি। অবশ্যই কোমলমতি শিশুদের সাথে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান স্বর্গীয় আনন্দ অনুভব হতো তবে তা বেশিদিনের সুখ অনুভুতি নয়। যখন বুঝতে পারছিলাম আমার অর্জিত জ্ঞান নয় বরং ওদের খোরাকি মেটানোর প্রয়োজন মতো আমাকেই ওদের মতো হয়ে পড়াতে হচ্ছে। দারুন একটা মর্মপীড়ার আহত হতাম নিজের ভবিষ্যৎ বিবেচনায়। তখন আমার অর্জিত সার্টিফিকেটগুলোকে নিষ্প্রয়োজন বলেই বোধ করেছি। বলতে গেলে এতো এতো মেধাবী চাকরিপ্রার্থী নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক সনদের যোগ্য পদ ও পদবির জন্যে নয়; বরং অপেক্ষাকৃত অনেক অনেক নি¤œস্তরের (অবশ্যই ছোট করছি না) বলতে গ্রেড হীন (সদ্য গ্রেডিং ভুক্ত) কিছু অর্থের বিপরীতে লাখ লাখ মেধাবীর সাথে প্রতিযোগিতা করে লিখিত, মৌখিক পরীক্ষা ফেইস করে সুপারিশপ্রাপ্ত হচ্ছেন।

তারপর আবার নিয়োগপত্র বেহাত হয়ে যাচ্ছে। আঙুল তুলছে রাষ্ট্রের দিকে।রাষ্ট্র সে অভিমান বুঝতে পারছে কি? না, পারছে না।আর পারবেও না।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের যোগ্য শিক্ষক ততদিন পর্যন্তই ঠিকঠাক ছিল যতদিন পর্যন্ত ম্যাট্রিক পাস করেই কাক্সিক্ষত মেধাবী চাকরিপ্রার্থী রাষ্ট্র নিয়োগদান করতে পেরেছে। কারণ ম্যাট্রিকুলেশন পাশ দিয়ে তাঁরা মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবেই সেবাদানের মাধ্যমে এ মহান পেশায় নিয়োজিত থেকেছেন। তখন এক সময় ছিল বটে। কিন্তু যেদিন থেকে একজন অনার্স-মাস্টার্স শেষ করা একজন চাকরিপ্রার্থী প্রাথমিক স্তরে নিয়োগপত্র হাতে নিয়ে বিদ্যালয়ে আসেন তিনি ঠিক কতটুকু ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করতে পারেন অ আ ক খ বর্ণ পরিচয় কিংবা গণিতের ধারাপাত আত্মস্থ করাতে। এসব উচ্চ ডিগ্রিধারী সহকারী শিক্ষক মূলত চাকরিই করতে আসেন মানুষ গড়ার ব্রত নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার মতো সৎ মানসিকতার আদর্শ শিক্ষক হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারেন না।

 

প্রচুর উদাহরণ আছে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে প্রবেশের ছয় মাস এক বছর না পেরোতেই বীতশ্রদ্ধ হয়ে নামেমাত্র মাসিক বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করে মরছে। আর বড় একটা অংশ আছেন যারা রীতিমতো আফসোস করে হাপিত্যেশ করছেন। ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত হিসেবে চাকরি করে যাচ্ছেন মাত্র। তবে অবশ্যই হাতেগোনা দু’চারজন যাঁরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন না সে ধৃষ্টতা দেখানোর স্পর্ধা আমার নেই। তাঁদের জন্য আমার শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।

 

আর সেই সাথে প্রশ্ন রাখছি রাষ্ট্রের কাছে একজন ফার্মেসি বিভাগের টপার শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে তাঁর ছয় সাত বছরের মগজ গলানো অর্জিত জ্ঞান প্রাক প্রাথমিক শ্রেণি থেকে শুরু করে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া কোমলমতি শিশুদের ঠিক কোন বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জনের পাথেয় হবে? আর ছোট্ট পরামর্শ হলো, যেসব মেধাবী চাকরিপ্রার্থীগণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যালেঞ্জিং সাবজেক্টসমূহে সার্টিফিকেট অর্জনের পর নিজেদের যোগ্যতা বিচারের ভার রাষ্ট্রের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে সিমপ্যাথি কুড়ানোর মতো হালকা ব্যঙ্গর মোচড়ে খবরের শিরোনামে ভাইরাস ছড়াচ্ছেন তাদের ঘিলুটাকে ভাঙরির দোকানে ওজনে তুলে দিয়ে ঝুড়ি ভাজা খেতে পারেন। তবে, ইদানিং একটা আশার আলো দেখতে পাই, যখন দেখি প্রচুর সংখ্যক প্রতিষ্ঠিত চাকরিজীবী লাখ টাকার চাকরি ছেড়ে ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান ফেরি করে আত্মনির্ভরশীল হচ্ছেন। শুধুমাত্র অন্যের অধীনে চাকরি করবেন না বলে।

 

বেকার থাকবেন না বলে তাঁরা বেকারত্ব “শব্দটিকে কেটে ছিঁড়ে একেবারে যাচ্ছেতাই কান্ড করে বসে আছেন। সরকারি বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা থেকে শুরু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পর্যন্তও আজকাল স্ট্রিট ফুড উদ্যোক্তা! আপনি হতাশবাদী সার্টিফিকেটধারী একজন উচ্চ শিক্ষিত বেকার। আপনার কাছে যদি সাবজেক্ট ম্যাটার না করে এবং চাকরি পাওয়াই শিক্ষাজীবনের আরাধ্য হয় তবে নিজের নামের আগে বেকার ‘বিশেষণটাকে আগে ঝেড়ে ফেলুন।

 

আমার তো মনে হয় বেকার ‘শব্দটাকেই অভিধান থেকে আগে তুলে দেয়া দরকার। বে কার অর্থ্যাৎ নেই কাজ যার।কাজ নেই এমন মানুষ হয় না কি আবার? প্রচুর সংখ্যক শিক্ষার্থী প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করে চাকরি পাচ্ছি না বেকার ইত্যাদি সেøাগানে নিষ্কর্ম অলসভাবে মূল্যবান সময় নষ্ট করে যাচ্ছে। যদি আপনার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জনের সাথে কর্মসংস্থানের খুব বেশি সাজুয্য না থেকে মানে চাকরি পাওয়াই আপনার একমাত্র লক্ষ্য হয় তবে আপনি আপনার বেকারত্বের অভিশপ্ত ট্যাগ থেকে নিজের উত্তরণ ঘটাতে পারেন। নিঃসন্দেহে বেকার ‘শব্দটি একটি মানসিক ব্যাধি। বাস্তবিক পক্ষে এ শব্দটির অস্তিত্ব মেটার করে না।

 

আজকাল শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েও বহু শিক্ষিত ছেলেমেয়ে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে গেছে। আপনার মেধা-শ্রম-অধ্যবসায় দিয়ে নিজের যোগ্যতা নিজেই বুঝে নিন।রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আঙুল তুলে ধৃষ্টতা প্রদর্শন কিংবা অভিমান দেখানোর মিনিমাম সময়টুকুও আত্মোন্নয়নে ও স্বাবলম্বী হওয়ার দক্ষতা অর্জনে কাজে লাগিয়ে নিজের প্রতি রহম করুন।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক (বাংলা), নাংলা পি এস জে ফাযিল ডিগ্রি মাদ্রাসা, সুজনসাহা, তালা, সাতক্ষীরা

Ads small one

উত্তর প্রদেশে ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮১

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ণ
উত্তর প্রদেশে ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮১

ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য উত্তর প্রদেশে টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮১ জনে পৌঁছেছে। রাজ্য সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।

২৪ কোটিরও বেশি জনসংখ্যা অধ্যুষিত ভারতের সবচেয়ে জনবহুল এই রাজ্যে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মৌসুমী বায়ু চলাকালীন সময়ে নিয়মিতই বৃষ্টি ও বজ্রপাত হয়ে থাকে। তবে রাজ্য ত্রাণ কমিশনারের কার্যালয় থেকে রবিবার রাতে প্রকাশিত পরিস্থিতি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অতি সম্প্রতি হওয়া ব্যতিক্রমী মাত্রার ভারী বর্ষণের ফলেই এই বিপুল প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

ত্রাণ কমিশনারের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃষ্টি ও বন্যাজনিত নানা দুর্ঘটনায় রাজ্যের ২ হাজার ২০০টিরও বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১৫৪টি গবাদিপশু মারা গেছে। এর পাশাপাশি প্রায় ৮১ হেক্টর আবাদি জমির ফসল নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দুর্যোগ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার উত্তর প্রদেশের ৭৫টি জেলার মধ্যে ৭৪টি জেলাতেই অস্বাভাবিক ও মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সূত্র: এএফপি

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৬ অপরাহ্ণ
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের নিয়মিত ও সময়মতো ভাতার অর্থ পৌঁছানো নিশ্চিত করতে প্রতি মাসের ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে শতভাগ নির্ভুল পে-রোল পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে সমাজসেবা অধিদফতর।

সমাজসেবা অধিদফতর ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর জারি করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় ভাতাভোগীদের নিজ নিজ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব, টাকাপে (TakaPay) ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে জিটুপি (G2P) পদ্ধতিতে সরাসরি ভাতার অর্থ পাঠানো হচ্ছে।

সঠিক ও প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সময়মতো ভাতার অর্থ পৌঁছানোর লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রতি মাসের কিস্তির অর্থ পাঠাতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/শহর সমাজসেবা কর্মকর্তাদের নির্ভুল পে-রোল পাঠানো আবশ্যক।

নির্দেশনায় বলা হয়, প্রতি মাসের নির্ধারিত ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে পে-রোল পাঠানোর আগে উপকারভোগীদের মোবাইল ও ব্যাংক হিসাব নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধন করে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস)-এ হালনাগাদ করতে হবে।

এ ছাড়া বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী কোনও উপকারভোগীর মৃত্যু বা অন্য কোনও কারণে প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

চিঠিতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির ভাতার অর্থ নিয়মিতভাবে পাঠানোর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/ সমাজসেবা কার্যালয় থেকে প্রতি মাসের ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে উপকারভোগীদের নিজস্ব এমএফএস, টাকাপে ও ব্যাংক হিসাবের অনুকূলে শতভাগ নির্ভুল পে-রোল পাঠানো নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সমাজসেবা অধিদফতরের পরিচালক (সামাজিক নিরাপত্তা) মো. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সূত্র: বাসস

‘২ কোটির নিচে নেবো না’ বলা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সেই প্রকৌশলী বরখাস্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
‘২ কোটির নিচে নেবো না’ বলা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সেই প্রকৌশলী বরখাস্ত

আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি ভিডিও গণমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর লক্ষ্মীপুরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিডিবির তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. কাউসার আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পর লক্ষ্মীপুরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিডিবির তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের সহকারী পরিচালক-৩ মো. কাউসার আহমেদ অপু স্বাক্ষরিত এক দপ্তরাদেশের মাধ্যমে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘মো. নুরুল আমিন, নির্বাহী প্রকৌশলী, বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ, বিউবো, লক্ষ্মীপুর-এর বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা ১৯৮২-এর ১৪১ (১) বিধির অধীনে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিধি অনুসারে নুরুল আমিনকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।’

পিডিবির কুমিল্লা বিতরণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী শেখ ফিরোজ কবির সাময়িকভাবে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনটি বলেন, ‘তাকে সাময়িক বহিষ্কারের অফিস আদেশের চিঠিটি আমি বিকালে পেয়েছি। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গত রবিবার রাতে নুরুল আমিনের প্রায় ৮ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ভিডিওতে সামনে থাকা এক ব্যক্তিকে নুরুল আমিনকে বলতে শোনা যায়, ‘৫ কোটি টাকা থেকে আমাকে ২ কোটি টাকা দেন, আমি সব সই করে দেবো।’

ভিডিওতে তিনি একটি কাজের ব্যয় ও মালামালের হিসাব নিয়েও কথা বলেন। তাকে বলতে শোনা যায়, ‘সোজা হিসাব, ৩ লাখ টাকার ওয়ার্কে মালামাল লাগে ৩০ লাখ টাকা। তাহলে কত কোটি টাকার মাল সে আত্মসাৎ করছে। হিসাব করে দেখা যাবে ৫ কোটি টাকার মাল সে আত্মসাৎ করেছে। ৫ কোটি টাকা থেকে আমাকে ২ কোটি টাকা দেন, আমি সব সই করে দেবো।’

ভিডিওর একটি অংশে নুরুল আমিনকে বলতে শোনা যায়, ‘এসি স্যার রাজি হয়ে গেছে কোনও একটা কারণে, আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়বো না। ছয় কোটি টাকা তিন গুণ না, আমি দুই কোটি টাকার কমে নড়বো না। চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাবো। দেখি চেয়ারম্যান কী কয়।’

এরপর তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘একটা বিলের জন্য যদি দুই কোটি টাকা নিই, তাহলে চেয়ারম্যান কি আমার বিরুদ্ধে যাবে? আমাকে জায়গামতো পোস্টিং দেবে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে লক্ষ্মীপুর পিডিবির দুই ঠিকাদার অভিযোগ করেন, নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিন বিভিন্ন কাজের বিল অনুমোদন ও অর্থ ছাড় করাতে ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ না দিলে বিল আটকে রাখা, কাজের অনুমোদন না দেওয়া কিংবা নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতায় ফেলার কারণে ঠিকাদারদের কেউই তার সঙ্গে বিরোধে যেতে চান না।

অভিযোগ ও ভিডিওর বিষয়ে জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করলেও রিসিভ করেননি। আজ দুপুর ১২টার দিকে তার কার্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। এ সময় কার্যালয়ে থাকা পিডিবির সহকারী প্রকৌশলী জানান, নুরুল আমিন সকাল থেকেই কার্যালয়ে আসেননি।

এ ছাড়া নির্বাহী প্রকৌশলীর নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে মিটার সংযোগ ও লাইন নির্মাণ এবং মেরামতকাজে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন একাধিক গ্রাহক।