বেনাপোল বন্দরে ক্রেনের তার ছিঁড়ে শ্রমিকের মৃত্যু
এমএ রহিম, বেনাপোল (যশোর): দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে পণ্য খালাসের সময় ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সাহেব আলী (৩৫) নামে এক বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক। মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে বন্দরের একটি গোডাউনে আমদানিকৃত লোহার খাঁচা ক্রেন দিয়ে নামানোর সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় সোহেল হোসেন (৩২) নামে আরও এক শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত সাহেব আলী বেনাপোলের শাহজালাল আলীর ছেলে। আহত সোহেল একই এলাকার সাদিপুর গ্রামের মোস্তবার আলীর ছেলে।
বন্দর ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাতে বন্দরের গোডাউনে ক্রেন দিয়ে পণ্য খালাসের কাজ চলছিল। আকস্মিকভাবে ক্রেনের সিলিং (ভারী লোহার তার) ছিঁড়ে নিচে থাকা দুই শ্রমিকের ওপর পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করে শার্শার নাভারন হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাহেব আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সোহেলের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামিম হোসেন এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “বন্দরে পণ্য লোড-আনলোডের সময় এমন দুর্ঘটনা কাম্য নয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কেন এমন ঘটল তা তদন্ত করা হবে।”
দুর্ঘটনার পর বন্দরে শ্রমিকদের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বেনাপোল বন্দর ৮৯১ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সহিদ আলী বলেন, বন্দর প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা বা কোনো পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল না থাকায় সামান্য আঘাতেই অনেক শ্রমিকের প্রাণ ঝরে যায়। তিনি আরও বলেন, “নিরাপত্তার অভাব ও অবহেলার কারণে আমাদের ভাইদের প্রাণ যাচ্ছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।” নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না হওয়ায় বন্দরের সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে এখন চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।









