ভেনেজুয়েলায় ৮ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের আট দিন পর লা গুয়াইরা শহরের একটি শপিং সেন্টারের ধ্বংসস্তূপ থেকে এক ব্যক্তিকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ৪৩ বছর বয়সী এই ব্যক্তির নাম হার্নান আলবার্তো গিল ফ্লোরেস, যিনি ওই ভবনে রাতের শিফটের নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করতেন। গত ২৪ জুন ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে শপিং সেন্টারটি ধসে পড়ার পর থেকেই তিনি এর বেইসমেন্টে আটকে ছিলেন।
দীর্ঘ ৮ দিনের এই রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান সফল হওয়ার পর ঘটনাস্থলে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উদ্ধারকর্মীরা যখন বৃহস্পতিবার ভোরে তাকে স্ট্রেচারে করে অক্সিজেন মাস্ক পরা অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে তুলছিলেন, তখন উপস্থিত বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা হাততালি ও উল্লাসের মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ করেন। সাধারণত যেকোনো দুর্যোগে প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টাকে জীবিত উদ্ধারের জন্য গোল্ডেন আওয়ার বা গুরুত্বপূর্ণ সময় ধরা হলেও, আট দিন পর গিল ফ্লোরেসের বেঁচে ফেরাটাকে একটি বিরল ও অলৌকিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন সবাই।
রেড ক্রসের উদ্ধারকর্মীরা জানান, ভূমিকম্পের সময় গিল ফ্লোরেস তার ছোট নিরাপত্তাকক্ষে ছিলেন। পুরো ভবন ধসে পড়লেও সৌভাগ্যবশত তার কক্ষটি সম্পূর্ণ ভেঙে যায়নি, যার ফলে তিনি প্রাণে বেঁচে যান এবং সেখানে পর্যাপ্ত বাতাসও ছিল। আটকে থাকা অবস্থায় দূরনিয়ন্ত্রিত লম্বা ক্যামেরার সাহায্যে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। অভিযানের শেষ তিন দিন একটি সরু ছিদ্র দিয়ে তাকে নিয়মিত পানি ও তরল পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হয়েছিল, যা তাকে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করে। চিলির অভিজ্ঞ দমকলকর্মী মারিয়া পাস কাম্পোস পুরো সময় তার সাথে কথা বলে মানসিক সাহস জুগিয়েছেন। এমনকি উদ্ধারের ঠিক আগমুহূর্তে গিল ফ্লোরেসকে সময় কাটানোর জন্য ছবি আঁকতেও দেখা গেছে।
কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রথম যখন তার সন্ধান মেলে, তখন গিল ফ্লোরেস উদ্ধারকর্মীদের অনুরোধ করেছিলেন যেন তার জীবিত থাকার খবরটি তার স্ত্রীকে না জানানো হয়। কারণ, উদ্ধার অভিযান ব্যর্থ হলে তার পরিবার যেন নতুন করে আর কষ্ট না পায়। তবে চিলি, যুক্তরাষ্ট্র, কোস্টারিকা ও মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশের যৌথ উদ্ধারকারী দল তাকে যেকোনো মূল্যে বের করে আনার দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেয়। স্বামীর বেঁচে থাকার খবরে দুই সন্তানের জননী গুসবিমার গনসালেসের পরিবারে এখন আনন্দের বন্যা বইছে।
ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেস এই সফল অভিযানের প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, “একটি মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য সবাই একসঙ্গে কাজ করলে মানবতার সবচেয়ে সুন্দর দৃষ্টান্ত তৈরি হয়।” উল্লেখ্য, ২৪ জুনের এই জোড়া ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় এ পর্যন্ত ২,২৯০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১১,২০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। দেশটির অর্থনৈতিক ও দুর্বল স্বাস্থ্য কাঠামোর কারণে যখন উদ্ধারকাজ চরম সংকটের মুখে, তখন গিল ফ্লোরেসের এই বেঁচে ফেরা পুরো জাতির কাছে এক নতুন আশার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।












