শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

মহালয়া, শুভশক্তির আগমনী ধ্বনি/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৮ অপরাহ্ণ
মহালয়া, শুভশক্তির আগমনী ধ্বনি/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

শনিবার ভোরে মহালয়া। অমাবস্যার অন্ধকার পেরিয়ে শুরু হবে দেবীপক্ষ। পিতৃপক্ষের অবসানে মহালয়ার ভোরে শঙ্খধ্বনি, চ-ীপাঠ ও আগমনী সুরে বাঙালির মনে জেগে ওঠে দেবীর আগমনের প্রত্যাশা। মহালয়া তাই নিছক একটি ধর্মীয় তিথি নয়; এটি স্মৃতি, বিশ্বাস ও শুভশক্তির প্রত্যাবর্তনের এক তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত। ‘মহ’ অর্থ পূজা বা উৎসব, ‘আলয়’ অর্থ আশ্রয়। আবার সনাতন বিশ্বাসে মহালয় পিতৃলোকের প্রতীক-যেখানে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের অবস্থান। ফলে মহালয়ার সঙ্গে জড়িয়ে আছে দুটি গভীর অনুষঙ্গ: পূর্বপুরুষের স্মরণ এবং দেবীপক্ষের সূচনা।

 

পিতৃপক্ষের শেষ দিনে প্রয়াত পিতা-মাতা ও পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ ও অঞ্জলি নিবেদনের রীতি রয়েছে। এর ধর্মীয় তাৎপর্যের পাশাপাশি রয়েছে গভীর মানবিক মূল্যবোধ। মানুষ যত আধুনিকই হোক, তার অস্তিত্বের পেছনে থাকে পূর্বসূরিদের শ্রম, ত্যাগ ও উত্তরাধিকার। মহালয়া সেই ঋণের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। দুর্গাপূজার সূচনালগ্ন হিসেবেও মহালয়ার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। পুরাণকথা অনুযায়ী, রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার আগে শ্রী রামচন্দ্র শরৎকালে দেবী দুর্গার আরাধনা করেন। প্রচলিত পূজার সময়ের বাইরে এই আরাধনাই ‘অকালবোধন’ নামে পরিচিত।

 

সেই ঐতিহ্যই আজকের শারদীয় দুর্গোৎসবের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। চ-ীপাঠের মন্ত্রে মহালয়ার ভোরে যে দেবীকে আহ্বান করা হয়, তিনি শুধু পৌরাণিক অসুরবিনাশিনী ননÑতিনি শুভবোধের প্রতীক। মহিষাসুরের বিরুদ্ধে দেবীর সংগ্রাম তাই আজও প্রতীকী অর্থে প্রাসঙ্গিক। অন্যায়, অহংকার, হিংসা, লোভ ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে ন্যায়, সংযম ও মানবিকতার লড়াই কখনো শেষ হয় না। এ কারণেই মহালয়ার আলোকবার্তা আজও সমান জরুরি। সমাজে বিভাজন বাড়লে, সহনশীলতা কমলে, স্বার্থ যখন বিবেককে ঢেকে ফেলেÑতখন দেবীর আগমন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, অশুভকে মেনে নেওয়া নয়, তার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোই মানুষের ধর্ম।

 

শরতের প্রকৃতিও যেন এই আবাহনের সঙ্গে একাত্ম হয়ে ওঠে। নীল আকাশ, সাদা মেঘ, কাশফুল ও শিউলির সুবাসের সঙ্গে ম-পে ম-পে চলে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমাশিল্পী, কারিগর, ঢাকি, আলোক সজ্জা কর্মী ও আয়োজকদের শ্রমে পূর্ণতা পায় উৎসবের আয়োজন। এই সম্মিলিত শ্রমই দুর্গোৎসবকে কেবল পূজার আনুষ্ঠানিকতা থেকে বৃহত্তর সামাজিক উৎসবে পরিণত করেছে। বাংলার দুর্গোৎসবের সবচেয়ে বড় শক্তি তার মিলনের চরিত্র। ধর্মীয় আচার এক সম্প্রদায়ের হলেও উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে সমাজের সর্বস্তরে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহাবস্থান ও সম্প্রীতির যে ঐতিহ্য বাংলাকে সমৃদ্ধ করেছে, মহালয়া সেই মূল্যবোধকেও নতুন করে স্মরণ করার সুযোগ দেয়।

 

মহালয়ার প্রকৃত তাৎপর্য তাই কেবল ‘মা আসছেন’-এই আনন্দে সীমাবদ্ধ নয়। এর গভীরে রয়েছে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে উত্তরণের দর্শন। পূর্বপুরুষের স্মৃতি আমাদের শিকড়ের কাছে ফিরিয়ে নেয়, আর দেবীর আবাহন সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগায়। অমাবস্যার রাত শেষে যেমন সূর্য ওঠে, তেমনি অশুভের দীর্ঘ ছায়ার পরও শুভবোধের সম্ভাবনা কখনো নিঃশেষ হয় না। মহালয়া সেই সম্ভাবনারই নাম। মহালয়ার এই ভোরে তাই প্রার্থনা একটাইÑঅশুভের বিনাশ হোক, বিবেক জাগুক, মানবিকতা শক্তিশালী হোক। দেবীর আগমন হোক মানুষের অন্তরে। শুভ মহালয়া।

সচ্চিদানন্দ দে সদয়, সাংবাদিক, আশাশুনি, সাতক্ষীরা

Ads small one

বাংলাদেশের দেওয়ানি বিচারব্যবস্থায় পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচারের প্রয়োগ: বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাবনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের দেওয়ানি বিচারব্যবস্থায় পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচারের প্রয়োগ: বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাবনা

ড. মো. আতিকুস সামাদ

বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা মামলাজট, দীর্ঘসূত্রতা এবং সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও সময়োপযোগী ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্রমবর্ধমান চাহিদার মুখোমুখি। এ প্রেক্ষাপটে পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচার (Restorative JusticeÍRJ) সম্পূর্ণ বিরোধকেন্দ্রিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক বিচারপ্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ পদ্ধতির মূল লক্ষ্য হলো ক্ষতি নিরসন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ, দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠা, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং পুনর্মিলন নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশের প্রচলিত আনুষ্ঠানিক ও সামাজিক বিচারব্যবস্থায় ইতোমধ্যে পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচারের বেশ কিছু উপাদান বিদ্যমান রয়েছে। বিশেষত, মধ্যস্থতা, আপস-মীমাংসা, আইনগত সহায়তার আওতায় মধ্যস্থতা এবং কমিউনিটিভিত্তিক বিরোধ নিষ্পত্তি এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। এই প্রবন্ধে বাংলাদেশের আইনগত কাঠামোতে বিদ্যমান এসব উপাদান বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচারের কার্যকর প্রয়োগের পথে বিদ্যমান প্রধান আইনগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি, এ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য একটি সংস্কার কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে।

গবেষণাটি গুণগত ও মতবাদভিত্তিক আইনগত গবেষণাপদ্ধতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এতে প্রধানত আইন, আইনগত উপকরণ, প্রাতিষ্ঠানিক প্রকাশনা এবং প্রাসঙ্গিক পান্ডিত্যপূর্ণ সাহিত্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রবন্ধটির উপসংহারে বলা হয়েছে যে, সুসংগত আইন প্রণয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, জবরদস্তি প্রতিরোধে কার্যকর সুরক্ষাব্যবস্থা এবং যথাযথ পরিবীক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচার আদালতের মামলাজট কমাতে এবং ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

১. ভূমিকা
বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের একটি প্রধান অঙ্গ। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রতিকার প্রদান, অসহায় ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা এবং সামাজিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা বিচার বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সহজলভ্য, সাশ্রয়ী, দ্রুত ও নিরপেক্ষ ন্যায়বিচার একটি সভ্য সমাজের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য।

কিন্তু বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান মামলা, বিপুল মামলাজট এবং বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা আনুষ্ঠানিক বিচারব্যবস্থার সামনে গুরুতর চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। এ ব্যবস্থার অনেক প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি ঔপনিবেশিক আইনগত ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার বহন করে।

পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচার বিচার সম্পর্কে একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে। এ পদ্ধতিতে কোনো বিরোধকে কেবল আইন বা অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হয় না; বরং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, তাঁদের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং তাঁদের ওপর সৃষ্ট ক্ষতির বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অংশগ্রহণ, দায়বদ্ধতা ও ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে গঠনমূলক সমাধান প্রতিষ্ঠাই এর মূল উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশ ধীরে ধীরে তার আইনগত কাঠামোতে পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচারের বিভিন্ন উপাদান অন্তর্ভুক্ত করেছে। আদালত, আইনজীবী, জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা এবং যোগ্য মধ্যস্থতাকারীরা মধ্যস্থতা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারেন। এ ধরনের কার্যক্রম সাধারণত নমনীয়, অনানুষ্ঠানিক, গোপনীয়, বিরোধের পরিবর্তে সহযোগিতামূলক এবং পক্ষসমূহের সম্মতিনির্ভর হওয়ার কথা।

তবে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচার এখনো একটি সমন্বিত ও সুসংহত দর্শন হিসেবে বিকশিত হয়নি। ফলে এর সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানোর জন্য আইনগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত পর্যায়ে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

২. গবেষণাপদ্ধতি
এই গবেষণায় গুণগত ও মতবাদভিত্তিক আইনগত গবেষণাপদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচার সম্পর্কিত আইন, আইনগত নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা এবং প্রাসঙ্গিক একাডেমিক সাহিত্য এ গবেষণার আওতায় পর্যালোচনা করা হয়েছে।

গবেষণার প্রধান উপকরণ হিসেবে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন, বিচারিক ও আইনগত উপকরণ, সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রকাশনা, আন্তর্জাতিক মানদন্ড এবং পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচারবিষয়ক পান্ডিত্যপূর্ণ রচনাবলি ব্যবহার করা হয়েছে।
এই পদ্ধতির মাধ্যমে বাংলাদেশের দেওয়ানি বিচারব্যবস্থায় পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচারের বর্তমান অবস্থান, আইনগত ভিত্তি, প্রয়োগগত সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

৩. পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচারের ধারণা
পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচার এমন একটি ন্যায়বিচারতত্ত্ব ও বাস্তব প্রয়োগপদ্ধতি, যার প্রধান লক্ষ্য হলো অন্যায় বা অপরাধের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি যথাসম্ভব নিরসন করা (Johnstone & Van Ness, 2007)।

হাওয়ার্ড জেহর পুনরুদ্ধারমূলক দৃষ্টিভঙ্গিকে এমন একটি পরিবর্তিত দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, যেখানে অন্যায়কে কেবল আইন বা রাষ্ট্রের বিধি লঙ্ঘন হিসেবে না দেখে ব্যক্তি ও পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর সৃষ্ট ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করা হয় (Zehr, 2015)।

মার্শাল (Marshall, 1996) একইভাবে এমন একটি প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যেখানে সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা সম্মিলিতভাবে অন্যায়ের পরিণতি এবং ভবিষ্যতে এর প্রভাব কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নির্ধারণ করেন।

পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচারের প্রধান উপাদানগুলো হলো:
* সংঘটিত ক্ষতির স্বীকৃতি প্রদান;
* ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির সক্রিয় অংশগ্রহণ;
* দায়ী ব্যক্তির জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা;
* ক্ষতিপূরণ ও ক্ষতি পূরণের ব্যবস্থা গ্রহণ;
* প্রয়োজনে কমিউনিটি বা সামাজিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ;
* দায়ী ব্যক্তির পুনর্বাসন ও সমাজে পুনঃএকীভূতকরণ;
* অংশগ্রহণের স্বেচ্ছাসম্মতি নিশ্চিত করা; এবং
* সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষিত রাখা (Braithwaite, 2002)।

সুতরাং, পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্য কেবল বিরোধের অবসান ঘটানো নয়; বরং ক্ষতি নিরসন, দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠা, পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ বিরোধের পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধ করা।

৪. বাংলাদেশের দেওয়ানি বিচারব্যবস্থায় পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচার
বাংলাদেশের দেওয়ানি বিচারব্যবস্থা প্রধানত দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ (Code of Civil Procedure, 1908) এবং সম্পত্তি, চুক্তি, পারিবারিক বিষয় ও বাণিজ্যিক লেনদেন-সংক্রান্ত বিভিন্ন মৌলিক আইনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এসব আইনের কয়েকটি বিধানে পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচার এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির নীতির প্রতিফলন দেখা যায়।

৪.১ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ৮৯ক ও ৮৯খ ধারা
২০০২ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত ৮৯ক ধারা মধ্যস্থতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত ভিত্তি প্রদান করে। লিখিত জবাব দাখিলের পর আদালত বিরোধের আপস-মীমাংসার উদ্দেশ্যে মামলাটি আদালতের বাইরে মধ্যস্থতার জন্য প্রেরণ করতে পারেন।

মধ্যস্থতা কার্যক্রম পরিচালিত হতে পারে সংশ্লিষ্ট বিচারক, নিযুক্ত আইনজীবী অথবা যোগ্য মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে। এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো, পক্ষসমূহকে কেবল প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক বিচারপ্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর না করে নিজেদের বিরোধ নিষ্পত্তিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদান করা।

অন্যদিকে, ৮৯খ ধারায় সালিশের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে। প্রযোজ্য আইনগত শর্ত সাপেক্ষে এ ধরনের ব্যবস্থা দেওয়ানি বিরোধ নিষ্পত্তির বিকল্প পথ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এসব বিধান পক্ষসমূহের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠা, বিচারিক সময় ও ব্যয় হ্রাস এবং বিরোধের কার্যকর নিষ্পত্তিতে সহায়তা করতে পারে।

৪.২ অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩
অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ মূলত ঋণখেলাপি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য প্রণীত হয়েছে। এ আইনের ২২–২৫ ধারায় মামলা নিষ্পত্তির বিভিন্ন পর্যায়ে আপস-মীমাংসা ও মধ্যস্থতাসংক্রান্ত ব্যবস্থা রয়েছে।

এসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আর্থিক বিরোধের আলোচনাভিত্তিক সমাধানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। ফলে অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া এড়ানো, পক্ষসমূহের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠা এবং আদালতের ওপর মামলার চাপ কমানো সম্ভব হতে পারে।

তবে অর্থঋণসংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচারের প্রয়োগ অবশ্যই সংশ্লিষ্ট আইন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অধিকার এবং ঋণগ্রহীতা ও ঋণদাতার বৈধ স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

৪.৩ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩
বিবাহবিচ্ছেদ, দেনমোহর, ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব এবং দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার-সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধে পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচারের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে।

পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ১০ ধারায় প্রাক্-বিচার পর্যায়ে আপস-মীমাংসার ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে বিচারক পক্ষসমূহের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
এ ধরনের প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য হলো বিরোধের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক চরিত্র হ্রাস করা এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে পারিবারিক সম্পর্ক রক্ষা করা। একই সঙ্গে নারী ও শিশুর স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে পারিবারিক বিরোধে আপস-মীমাংসা সব সময় উপযুক্ত সমাধান নয়। বিশেষত, পারিবারিক সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন বা ক্ষমতার গুরুতর অসমতা থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির নিরাপত্তা, স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার এবং আইনগত প্রতিকার নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

৫. পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচারের অন্যান্য আইনগত কাঠামো
৫.১ গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬
গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে নির্দিষ্ট ধরনের ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি কমিউনিটিভিত্তিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে।
এ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো, জনগণকে স্থানীয় পর্যায়ে সহজলভ্য বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ প্রদান করা এবং প্রতিটি বিরোধের জন্য আনুষ্ঠানিক আদালতের দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস করা।

গ্রাম আদালত স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি, পারস্পরিক সমঝোতা এবং সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখতে পারে। এ কারণে এর মধ্যে পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়।

তবে গ্রাম আদালতের এখতিয়ার, কার্যপদ্ধতি ও সিদ্ধান্তের আইনগত প্রভাব সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।

৫.২ পৌর এলাকায় বিরোধ নিষ্পত্তি (পৌর এলাকা) আইন, ২০০৪
পৌর এলাকায় বিরোধ নিষ্পত্তি (পৌর এলাকা) আইন, ২০০৪ পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ নির্ধারিত পৌর এলাকায় নির্দিষ্ট ধরনের ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আপস-মীমাংসা বোর্ড গঠনের ব্যবস্থা করেছে।

এ ধরনের বোর্ডের মাধ্যমে আপস ও সমঝোতার ভিত্তিতে নির্ধারিত বিরোধ নিষ্পত্তি করা যায়। ফলে আনুষ্ঠানিক বিচারব্যবস্থার ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের জন্য সহজতর বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

৫.৩ শিশু আইন, ২০১৩
শিশু আইন, ২০১৩ শিশুদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা ও শিশুবান্ধব বিচারব্যবস্থার ভিত্তি প্রদান করে। শিশুদের অধিকার, কল্যাণ, সুরক্ষা এবং পুনর্বাসনের ওপর এ আইনের গুরুত্বারোপ আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার মানদন্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

শিশুদের ক্ষেত্রে কেবল শাস্তি প্রদানের পরিবর্তে সংশোধন, পুনর্বাসন এবং সমাজে পুনঃএকীভূতকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচারের গুরুত্বপূর্ণ নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত।

অতএব, শিশুদের বিচারপ্রক্রিয়ায় উপযুক্ত ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা, পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রম এবং শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিত করা পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচারের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

৫.৪ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০
আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা প্রতিষ্ঠার আইনগত ভিত্তি তৈরি করেছে।

২০১২ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তাদের দেওয়ানি এবং আপসযোগ্য ফৌজদারি বিষয়ে প্রাক্-মামলা ও মামলা-পরবর্তী মধ্যস্থতা পরিচালনার ক্ষমতা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়। জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তারা বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং আইনগত সহায়তা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দরিদ্র, আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তিরা তুলনামূলকভাবে সহজে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পেতে পারেন। বিশেষত, আদালতে মামলা দায়েরের আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা সম্ভব হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সময়, অর্থ ও শ্রম সাশ্রয় হতে পারে।

সুতরাং, আইনগত সহায়তার আওতায় মধ্যস্থতা বাংলাদেশের পুনরুদ্ধারমূলক বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি।

৬. বাংলাদেশে পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচার প্রয়োগের চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের আইনগত কাঠামোতে পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচারের বিভিন্ন উপাদান বিদ্যমান থাকলেও এর ব্যাপক ও কার্যকর প্রয়োগের ক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।

৬.১ আইনগত ও বিধিবদ্ধ সীমাবদ্ধতা
আইনগত কঠোরতা ও বিধিবদ্ধ সীমাবদ্ধতা পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচার প্রয়োগের অন্যতম প্রধান বাধা। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪৫ ধারায় নির্দিষ্ট কিছু অপরাধ আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে। ফলে আইন দ্বারা অনুমোদিত নয়-এমন অপরাধের ক্ষেত্রে পক্ষসমূহ স্বেচ্ছায় পুনর্মিলনে পৌঁছালেও সেই সমঝোতা সব সময় ফৌজদারি কার্যক্রমের আইনগত বিকল্প হিসেবে স্বীকৃতি পায় না।

অন্যদিকে, পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচার-সংশ্লিষ্ট বিধান বিভিন্ন আইনে বিচ্ছিন্নভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ বিষয়ে একটি সুসংহত জাতীয় আইনগত ও নীতিগত কাঠামোর অভাব কার্যকর সমন্বয় ও বাস্তবায়নকে কঠিন করে তোলে।

৬.২ সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অসমতা
বাংলাদেশের স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতার অসমতা পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচারের কার্যকারিতা ব্যাহত করতে পারে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, গ্রাম আদালত এবং প্রচলিত সালিশব্যবস্থা কখনো কখনো রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, বিত্তশালী ভূমিমালিক বা স্থানীয় ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর প্রভাবের মুখোমুখি হতে পারে।

যদি বিরোধের একটি পক্ষ দুর্বল, দরিদ্র বা সামাজিকভাবে অসহায় হয় এবং অপর পক্ষ প্রভাবশালী হয়, তাহলে আপস-মীমাংসা ন্যায়সংগত সমাধানের পরিবর্তে চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তে পরিণত হতে পারে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি প্রকৃত অর্থে সম্মতি প্রদান না করেও সামাজিক চাপ, ভীতি বা আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে আপসে বাধ্য হতে পারেন। ফলে পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতি-স্বেচ্ছাসম্মতি, সমতা, নিরাপত্তা ও ন্যায্যতা-ক্ষুণœ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

৬.৩ আইনজীবী পেশার কাঠামো ও অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা
আইনজীবীদের পেশাগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থও কখনো কখনো মধ্যস্থতাভিত্তিক বিরোধ নিষ্পত্তির পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।

যেসব ক্ষেত্রে আইনজীবীদের পারিশ্রমিক আদালতে উপস্থিতি, শুনানির সংখ্যা অথবা মামলার দীর্ঘস্থায়ী কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত, সেখানে দ্রুত মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তিকে কিছু আইনজীবী আর্থিকভাবে কম লাভজনক বলে বিবেচনা করতে পারেন।

এর ফলে কিছু ক্ষেত্রে মধ্যস্থতা সম্পর্কে ইতিবাচক পরামর্শ প্রদানে অনীহা সৃষ্টি হতে পারে। তবে এ ধরনের প্রবণতা সব আইনজীবীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বরং আইনজীবীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, পেশাগত স্বীকৃতি এবং মধ্যস্থতাভিত্তিক সেবা প্রদানের উপযুক্ত কাঠামো তৈরি করা গেলে তাঁরা পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারেন।

৬.৪ প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও প্রশিক্ষণের ঘাটতি
পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচার কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য দক্ষ মধ্যস্থতাকারী, প্রশিক্ষিত বিচারক, আইনজীবী ও সহায়তাকারী কর্মী প্রয়োজন।

কিন্তু পর্যাপ্ত বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, জনবল এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের অভাব এ ব্যবস্থার কার্যকারিতা সীমিত করতে পারে।

৬.৫ জনসচেতনতার অভাব ও সুরক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা
পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচার সম্পর্কে সাধারণ জনগণের সীমিত ধারণা একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিবন্ধকতা। অনেকেই মধ্যস্থতাকে আনুষ্ঠানিক বিচারপ্রক্রিয়ার তুলনায় কম কার্যকর বলে মনে করতে পারেন।

একই সঙ্গে, পক্ষসমূহের স্বাধীন সম্মতি নিশ্চিত করা, গোপনীয়তা রক্ষা করা, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের সুরক্ষা প্রদান এবং সমঝোতার শর্ত বাস্তবসম্মত ও ন্যায্য কি না তা যাচাই করার জন্য শক্তিশালী সুরক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজন।

এসব ব্যবস্থা দুর্বল হলে মধ্যস্থতা ও আপস-মীমাংসা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে ক্ষমতাবান পক্ষের স্বার্থ রক্ষার মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।

৭. ভবিষ্যৎ করণীয় ও কার্যকর বাস্তবায়নের কৌশল
বাংলাদেশে পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচারের একটি টেকসই কাঠামো প্রতিষ্ঠার জন্য দেশের আইনগত, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংস্কার গ্রহণ করা প্রয়োজন।

৭.১ জাতীয় পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচার নীতি প্রণয়ন
বাংলাদেশের জন্য একটি জাতীয় পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচার নীতি প্রণয়ন করা যেতে পারে। এ নীতিতে পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতি, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব, অংশগ্রহণকারীদের অধিকার, সুরক্ষাব্যবস্থা এবং বাস্তবায়নের পরিমাপযোগ্য লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিত।

এ ধরনের নীতি বিভিন্ন আইন ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা এবং একটি সুসংহত জাতীয় কাঠামো গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

৭.২ আদালতভিত্তিক পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচার ইউনিট প্রতিষ্ঠা
বিভিন্ন আদালতে বিশেষায়িত পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচার ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। এসব ইউনিটের দায়িত্বের মধ্যে থাকবে মধ্যস্থতা কার্যক্রম সমন্বয়, উপযুক্ত মামলা শনাক্তকরণ, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তা, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে মামলা প্রেরণ এবং সমঝোতার বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ।

এ ধরনের ইউনিট বিচারকদের ওপর প্রশাসনিক চাপ কমানোর পাশাপাশি উপযুক্ত বিরোধের দ্রুত ও কার্যকর নিষ্পত্তিতে সহায়তা করতে পারে।

৭.৩ শিশুদের জন্য বিকল্প বিচার ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ
শিশুদের ক্ষেত্রে উপযুক্ত পরিস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রবেশের পরিবর্তে পুনর্বাসনমূলক ও বিকল্প ব্যবস্থা শক্তিশালী করা উচিত।
শিশুর বয়স, অপরাধের প্রকৃতি, তার সর্বোত্তম স্বার্থ এবং আইনগত বিধান বিবেচনায় নিয়ে পুনর্বাসন, কাউন্সেলিং, শিক্ষা এবং সমাজে পুনঃএকীভূতকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে।
তবে এ ধরনের উদ্যোগ অবশ্যই শিশু আইন, ২০১৩ এবং প্রযোজ্য আন্তর্জাতিক মানদন্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

৭.৪ আইনগত সহায়তার আওতায় মধ্যস্থতা সম্প্রসারণ
দরিদ্র ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তিদের জন্য আইনগত সহায়তাভিত্তিক মধ্যস্থতা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের সক্ষমতা বৃদ্ধি, মধ্যস্থতাকারীদের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত জনবল এবং কার্যক্রমের মান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
এর ফলে সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তিদের ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি পাবে এবং অপ্রয়োজনীয় মামলা দায়েরের প্রবণতা কমতে পারে।

৭.৫ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও দায়ী ব্যক্তির মধ্যে মধ্যস্থতা
উপযুক্ত দেওয়ানি বিরোধ এবং আইনগতভাবে অনুমোদিত অন্যান্য ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও দায়ী ব্যক্তির মধ্যে সরাসরি বা মধ্যস্থতাকারীর সহায়তায় সংলাপভিত্তিক সমাধানের ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে।

এ ধরনের ব্যবস্থায় প্রশিক্ষিত মধ্যস্থতাকারী, অবহিত সম্মতি, গোপনীয়তা, নিরাপত্তা এবং ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

কোনো পক্ষকে সমঝোতায় বাধ্য করা যাবে না। একইভাবে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে এমন ক্ষেত্রে সরাসরি মুখোমুখি আলোচনার পরিবর্তে বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে।

৭.৬ প্রবেশন ও পুনর্বাসন কর্মসূচিতে পুনরুদ্ধারমূলক নীতির অন্তর্ভুক্তি
প্রবেশন, সংশোধনমূলক কার্যক্রম এবং পুনর্বাসন কর্মসূচিতে পুনরুদ্ধারমূলক নীতির প্রয়োগ সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।

এর মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তির মধ্যে নিজের কর্মকান্ডের পরিণতি সম্পর্কে উপলব্ধি সৃষ্টি, দায়িত্বশীল আচরণে উৎসাহ প্রদান এবং সমাজে পুনঃএকীভূত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হতে পারে।
তবে এ ধরনের উদ্যোগের প্রয়োগ সংশ্লিষ্ট আইনের সীমার মধ্যে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির অধিকার ও নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রেখে করতে হবে।

৭.৭ পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ
পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচার কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি শক্তিশালী পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

এ ব্যবস্থায় নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বিবেচনা করা যেতে পারে:
* মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া বিরোধের হার;
* সমঝোতার শর্ত বাস্তবায়নের হার;
* অংশগ্রহণকারীদের সন্তুষ্টি;
* পুনরায় বিরোধ সৃষ্টি হওয়ার প্রবণতা;
* নারী, শিশু ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষার কার্যকারিতা;
* বিরোধ নিষ্পত্তিতে সময় ও ব্যয়ের পরিবর্তন; এবং
* বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও জবাবদিহির মান।

নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং মূল্যায়নের মাধ্যমে বিদ্যমান দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নীতি ও কার্যপদ্ধতির উন্নয়ন করা সম্ভব হবে।

৮. উপসংহার
বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আইনগত ভিত্তি ইতোমধ্যে বিদ্যমান। দেওয়ানি কার্যবিধির মধ্যস্থতাসংক্রান্ত বিধান, গ্রাম আদালত আইন, শিশু আইন, আইনগত সহায়তা প্রদান আইন এবং পারিবারিক বিরোধে আপস-মীমাংসার ব্যবস্থা এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

এসব ব্যবস্থা প্রমাণ করে যে, পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচার বাংলাদেশের জন্য সম্পূর্ণ নতুন কোনো ধারণা নয়; বরং এর বিভিন্ন উপাদান দেশের প্রচলিত বিচারব্যবস্থায় ইতোমধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এসব উপাদান এখনো বিচ্ছিন্নভাবে কার্যকর হওয়ায় একটি সমন্বিত ও সুসংহত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা রয়ে গেছে।

পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচারের পূর্ণ সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশে সুসংগত আইনগত সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, পেশাগত প্রশিক্ষণ এবং জবরদস্তি ও স্থানীয় ক্ষমতার অসমতা প্রতিরোধে কার্যকর সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

একটি জাতীয় নীতি প্রণয়ন, আদালতভিত্তিক পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচার ইউনিট প্রতিষ্ঠা, আইনগত সহায়তাভিত্তিক মধ্যস্থতা শক্তিশালীকরণ, শিশুদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও দায়ী ব্যক্তির মধ্যে নিরাপদ মধ্যস্থতা এবং নিয়মিত পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচারের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে।

সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হলে পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচার প্রচলিত বিচারব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে নয়, বরং তার একটি পরিপূরক ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে। এটি অপ্রয়োজনীয় মামলা ও দীর্ঘসূত্রতা কমানো, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির স্বার্থ রক্ষা এবং আরও অংশগ্রহণমূলক, মানবিক ও কার্যকর বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
পরিশেষে বলা যায়, পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচারের সফল প্রয়োগের মূল লক্ষ্য কেবল বিরোধের নিষ্পত্তি নয়; বরং ক্ষতি নিরসন, দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠা, মানবিক মর্যাদা রক্ষা এবং দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠা। বাংলাদেশের দেওয়ানি বিচারব্যবস্থায় এ দর্শনের কার্যকর অন্তর্ভুক্তি ন্যায়বিচারকে আরও সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও জনমুখী করে তুলতে পারে।

লেখক: ড. মো: আতিকুস সামাদ, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, কর্মস্থল: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়

ফ্যামিলি কার্ডের জন্য টিপসই নিয়ে বিধবার বিয়ে, থানায় জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ণ
ফ্যামিলি কার্ডের জন্য টিপসই নিয়ে বিধবার বিয়ে, থানায় জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে জাতীয় পরিচয়পত্র ও টিপসই নিয়ে বিধবার জাল কাবিননামা তৈরির ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে দুই জনের নাম উল্লেখ করে গত বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাতে ফুলবাড়িয়া থানায় নিজেই এ অভিযোগ জমা দেন ওই নারী। এরপর গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঘটনাটি তদন্তে ভুক্তভোগীর বাড়িতে যায় পুলিশ।

অভিযুক্ত দুই জন হলেন- স্থানীয় কসমেটিক ব্যবসায়ী ও জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সদস্য আবদুস ছাত্তার এবং ভুক্তভোগী নারীর ছেলের উকিলশ্বশুর আবদুল কদ্দুস।

ভুক্তভোগী নারী জানান, প্রায় ১৩ বছর আগে তার স্বামী মারা যান। এরপর মানুষের জমিতে কাজ করে পাঁচ ছেলেকে বড় করেন। সম্প্রতি এক ছেলের উকিলশ্বশুর আবদুল কদ্দুস তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে তিনি রাজি না হচ্ছিলেন না। পরে কদ্দুসের পক্ষ নিয়ে স্থানীয় আবদুস ছাত্তার ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি নেন। একটি কাগজে নেওয়া হয় টিপসই। এরপর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তার বিয়ে হয়ে গেছে এবং একটি কাবিননামাও এলাকার লোকজনকে দেখানো হয়। তবে বিয়ের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন ওই নারী।

বৃহস্পতিবার রাতেই ভাইয়ের সঙ্গে গিয়ে ফুলবাড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেন ওই নারী। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ফুলবাড়িয়া থানার একজন এসআই তদন্তের জন্য ভুক্তভোগীর বাড়িতে যান।

এদিকে ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে টিপসই নিয়ে বিয়ে হয়ে গেছে— এমন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার প্রথম বুধবার দ্বিতীয় সালিশে বসেন এলাকাবাসী; কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সালিশে না আসায় শুক্রবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে জামায়াত নেতা আবদুল ছাত্তারকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলা হয়েছিল; কিন্তু এতে তিনি সাড়া দেননি।

সালিশে থাকা স্থানীয় প্রাণী চিকিৎসক মোস্তফা কামাল বলেন, ‘শুক্রবার কোনও সালিস হয়নি। ওই নারী থানায় অভিযোগ দেওয়ায় এটি এখন আইনিভাবেই শেষ হবে। সে কারণে গ্রামের মানুষ সালিশ থেকে সরে এসেছেন। ছাত্তার জামায়াতের নেতা হওয়ায় এলাকায় টুকটাক মাতবরি করতেন। ওই নারীকে বিয়ে করতে আগ্রহী কদ্দুসেরও যোগাযোগ ছিল ছাত্তারের সঙ্গে। নিজের বিয়ের বাসনা পূরণ করতে ছাত্তারকে দিয়ে সব কাজ করিয়েছেন কদ্দুস, আমরা এমনটি ধারণা করছি।’

ঘটনার পর থেকে কদ্দুসকে এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না। তার মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে শুরু থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে যাচ্ছেন জামায়াতের ইউনিয়ন কমিটির সহযোগী সদস্য আবদুস ছাত্তার। শুক্রবার বিকালে তার মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

ঘটনার শিকার ওই নারী বলেন, ‘এলাকার সালিশে ওরা (আবদুল কুদ্দুস ও আবদুস সাত্তার) না আসায় আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি। পুলিশ গতকাল এসে তদন্ত করে গেছে। দেখি, পুলিশ কী ব্যবস্থা নেয়। কদ্দুসের হয়ে ছাত্তার কেন স্বাক্ষর নিলো তা জানি না।’

ফুলবাড়িয়া থানার ওসি মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান জানান, ওই নারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এতে বিয়ের প্রলোভন, অসদুপায়ে এনআইডি ও টিপসই নিয়ে কাবিননামা তৈরির অভিযোগ করা হয়েছে।

ওসি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। কাবিননামাসহ মূল কাগজপত্রগুলো খোঁজা হচ্ছে। কোন কাজি এটি করেছেন, তা বের করতে পুলিশ কাজ করছে। কাগজপত্র পাওয়ার পর যাচাই–বাছাই করে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো।’

রাজধানীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

রাজধানীর তুরাগে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের খুলনার ফুলতলা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ওরফে এস কে সাদ্দামকে (৩৭) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া) মো. আকতার হোসেন জানান, তুরাগ থানা পুলিশের একটি দল শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকাল ৪টার দিকে তুরাগের খালপাড় ব্রিজসংলগ্ন পাকা রাস্তা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

তিনি জানান, পুলিশের ক্রিমিনাল ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিডিএমএস) পর্যালোচনায় সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে খুলনার বিভিন্ন থানায় একাধিক রাজনৈতিক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দিঘলিয়া ও ফুলতলা থানায় দায়ের করা মামলায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, চুরি এবং অন্যান্য অভিযোগ রয়েছে।

গ্রেফতার সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।