মাল্টিপ্লেক্সে ঈদের তৃতীয় দিন: কোন চলচ্চিত্র আয় করলো কত?
বাংলা সিনেমার মেটা ডাটাভিত্তিক ফেসবুক পেজ বিএমআর-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঈদের মুক্তির তৃতীয় দিনেও দেশের মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে শীর্ষ কয়েকটি বাংলা চলচ্চিত্র তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে। শো সংখ্যা, হাউজফুল শো এবং মোট গ্রস আয়ের ভিত্তিতে স্পষ্ট হয়েছে কোন সিনেমা এগিয়ে আছে এবং কোনগুলো ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
এদিকে, প্রতিটি চলচ্চিত্র নিয়েই দর্শকদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। ফলে বোঝা যাচ্ছে, দর্শকের রুচি ও পছন্দের ভিন্নতার কারণে একেকটি সিনেমা নিয়ে ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা তৈরি হচ্ছে হলে গিয়ে। তবে এর মাঝেও থেমে নেই ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রগুলোর যাত্রা। উৎসবের আবহে দর্শকরা এখনো হলে গিয়ে সিনেমা উপভোগ করছেন। এখন দেখার বিষয়, মাল্টিপ্লেক্সে দিনশেষে কোন সিনেমা কেমন আয় করছে এবং প্রযোজক ও প্রদর্শকদের হিসাব কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে।
তৃতীয় দিনেও সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে রকস্টার। এদিন শুধু স্টার সিনেপ্লেক্স (৩৭টি শো), লায়ন সিনেমাস (৮টি), গ্র্যান্ড সিলেট মুভি থিয়েটার (৪টি), মম ইন (৪টি), মণিহার সিনেপ্লেক্স (৫টি), মধুবন সিনেপ্লেক্স (৪টি), সিনেস্কোপ (৪টি), শ্যামলী সিনেমা (৪টি), গ্র্যান্ড রিভারভিউ সিনেপ্লেক্স (৩টি), স্বপ্নীল সিনেপ্লেক্স (৪টি) এবং কে-স্ক্রিন সিনেপ্লেক্স (৪টি) মিলিয়ে মোট ৮১টি শো চলেছে। এর মধ্যে ৩২টি শো হাউজফুল এবং আরও ৫টি প্রায় হাউজফুল ছিল। তিনদিন শেষে সিনেমাটির মাল্টিপ্লেক্স গ্রস দাঁড়িয়েছে ১.৩৪ কোটি টাকা।
রইদ তৃতীয় দিনেও ডাবল ডিজিট কালেকশন ধরে রেখেছে। স্টার সিনেপ্লেক্স (১৯টি শো), লায়ন সিনেমাস (২টি) এবং কে-স্ক্রিন (১টি) মিলিয়ে মোট ২২টি শো চলেছে। এর মধ্যে ৭টি শো হাউজফুল এবং ২টি প্রায় হাউজফুল ছিল। তিনদিন শেষে মোট গ্রস ৩৬.৯২ লাখ টাকা।
বনলতা সেন তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। স্টার সিনেপ্লেক্সে (১০টি শো) এবং লায়ন সিনেমাসে (১টি শো) মোট ১১টি শো চলেছে, যার মধ্যে ৪টি হাউজফুল ছিল। তিনদিন শেষে মোট গ্রস ১৬.৬৫ লাখ টাকা।
মালিক তৃতীয় দিনেও ভালো হোল্ড বজায় রেখেছে। স্টার সিনেপ্লেক্স (১০টি), লায়ন সিনেমাস (৩টি) এবং কে-স্ক্রিন সিনেপ্লেক্স (৩টি) মিলিয়ে ১৬টি শোতে ২টি হাউজফুল শো ছিল। তিনদিন শেষে মোট আয় ১৫ লাখ টাকা।
মাসুদ রানা তৃতীয় দিনে কিছুটা উন্নতি করলেও কোনো শো হাউজফুল হয়নি। স্টার সিনেপ্লেক্স (৬টি) ও লায়ন সিনেমাস (১টি) মিলিয়ে ৭টি শো চলেছে। তিনদিন শেষে মোট গ্রস ৬.২৩ লাখ টাকা।
পিনিক তুলনামূলকভাবে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। স্টার সিনেপ্লেক্স (৪টি) ও লায়ন সিনেমাস (১টি) মিলিয়ে ৫টি শো চললেও কোনো হাউজফুল শো হয়নি। তিনদিন শেষে গ্রস ১.৬৯ লাখ টাকা।
অফিসার সবচেয়ে কম শো পাওয়া ছবিগুলোর একটি। স্টার সিনেপ্লেক্সে একমাত্র শোতে দর্শক উপস্থিতি ছিল ৩০ জন। তিনদিন শেষে মোট গ্রস ৫০.৮ হাজার টাকা।
প্রসঙ্গত, বিএমআর এর এ জরিপ প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, স্টার সিনেপ্লেক্সের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা মেসবাহ উদ্দিন আহমেদের সাথে। তিনি বলেন, “বিএমআর এ ধরণের কাজগুলো করছে বলে শুনেছি। মাল্টিপ্লেক্সগুলোর সবকিছুই খুব ট্রান্সপারেন্ট। কেউ যদি চায়, কত টাকা সেল হল তা তারা অবশ্যই বের করতে পারে। তা সঠিক তথ্যের কাছাকাছি বা সঠিক তথ্য হতে পারে।”
বরাবরই বিএমআরও দাবি জানিয়ে এসেছে, তাদের এ জরিপ অনলাইন থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কেবলমাত্র মাল্টিপ্লেক্স এর জন্যই প্রযোজ্য। শুধুমাত্র যমুনা ব্লকবাস্টার এর আওতাভুক্ত নয়।






