মৃত্যুতে নেই দায়ের অবকাশ
সুজন হোসেন
রোদ্র তপ্ত সারা দুপুর প্রান্তরে কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেও,
মঞ্জু মিয়া কখনো কালো হলো না সে তাপদাহে;
তব সামান্য প্রভাতের সূর্যের সাথে মিলনে নিমিত্তে,
মোরা অতীব দুশ্চিন্তায় পড়ি অন্ধকার বর্ণের হবার।
ভাটার উতপ্ত চিমনি হতে বের হয় মৃত মানুষের ধোঁয়া,
তব তাদের দেহে লাগে না সামান্য পরিমাণ তার ছোঁয়া;
আগুনের উদাম উত্তাপে,সে বা তারা নিত্যে বিভোর হয়,
হেনো তাহাদের দেহে এক অদ্ভুত বিদ্যুৎ সর্বদা বয়।
তাদের পায়ে লাগানো যুদ্ধ বিমানের পাখা হয়তো,
তাদের অবিরল এ চলাচলে অবকাশ থাকত নয়তো।
তাদের মৃত্যুতে নেই তাদের অবকাশ বিন্দুপরিমাণ,
তাদের প্রিয়ার মৃত্যুতেও নেই দায়ের অবকাশ।
হাতে কয়লা খনিতে কাজ করিতেছে দুই যুগ,
পেটের দায়ে নাকি প্রিয়জনের চোখের প্রেমে?
তব সে এখনো সুদর্শন পুরুষের পরিচয় বহন করে,
তব মোদের শহরে সুদর্শনা সব মিলেছে আন্ধারে।
সুখের নিলামে বিক্রি করেছে তাহার সমস্ত যৌবন,
যাকে শুধু চেয়েছে তার বিরুদ্ধাচারণ করা প্রকৃতি।
আর চায়নি কেউ হয়তো বা চেয়েছিল আর মৃত্যু।
পৃথিবী হয়তো চিরকালের দ্রোহিতা করে তার সাথেই,
কেউ পৃথিবীতে পায় দুঃখ আর সে জন্মেছে দুঃখ নিয়েই।
হে পৃথিবী আর তারে বাঁচতে দাও একটু শহরে,
তুমি চাইলে তার আবার দেখা হবে প্রিয়তমের সাথ।
ফের হাত ধরে দেখাও সুখের রাস্তা যা গেছে ভুলে,
তোমার কাছে মোর প্রার্থনা প্রিয়তমা কদম ফুলে।








