বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

মেইলের সুরক্ষায় জি-মেইলে নতুন ফিচার আনলো গুগল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:০৫ অপরাহ্ণ
মেইলের সুরক্ষায় জি-মেইলে নতুন ফিচার আনলো গুগল

ই-মেইল নিরাপত্তা আরো শক্তিশালী করতে নতুন আপডেট এনেছে গুগল। এই আপডেটের মাধ্যমে জি-মেইলে যুক্ত হয়েছে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সুবিধা, যা এখন সরাসরি অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস ডিভাইসেও ব্যবহার করা যাবে। ফলে ব্যবহারকারীরা মোবাইল থেকেই নিরাপদভাবে ই-মেইল পাঠানো, পড়া এবং পরিচালনা করতে পারবেন যেখানে আগে ডেস্কটপ বা আলাদা টুলের ওপর নির্ভর করতে হতো।
এই নতুন ফিচারটি মূলত ক্লাইন্ট-সাইড এনক্রিপশন প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। অর্থাৎ, ই-মেইল পাঠানোর আগেই ব্যবহারকারীর ডিভাইসেই সেটি এনক্রিপ্ট হয়ে যায়। ব্যবহারকারী যখন মেইল পাঠাবেন, তখন শুধু লক আইকনে ক্লিক করে অতিরিক্ত এনক্রিপশন অপশন চালু করলেই বার্তাটি সুরক্ষিতভাবে পাঠানো সম্ভব।

প্রাপক যদি জি-মেইল ব্যবহারকারী হন, তাহলে তিনি মেইলটি স্বাভাবিক কথোপকথনের মতোই দেখতে পাবেন। আর যদি অন্য কোনো ই-মেইল সার্ভিস ব্যবহার করেন, তাহলে একটি সুরক্ষিত ওয়েব ইন্টারফেসের মাধ্যমে সেই মেইল অ্যাক্সেস করতে পারবেন এবং জবাবও দিতে পারবেন।

তবে এই সুবিধা আপাতত সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। এটি বর্তমানে গুগল ওয়ার্কস্পেসের এন্টারপ্রাইজ ব্যবহারকারীদের জন্য চালু করা হয়েছে। অ্যাডমিনদের আলাদা করে সেটিংস থেকে এটি চালু করতে হবে। অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস-দুই প্ল্যাটফর্মেই ধাপে ধাপে এই ফিচার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে কাজ করে, তাদের জন্য এই আপডেট বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এটি ডাটা সুরক্ষা, গোপনীয়তা এবং নিয়ম মেনে চলার ক্ষেত্রে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। সব মিলিয়ে, এই নতুন সুবিধার ফলে মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য নিরাপদ ই-মেইল আদান-প্রদান এখন আরও সহজ এবং নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠেছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

Ads small one

হারানো নস্টালজিয়া: প্রযুক্তির জোয়ারে স্মৃতির অতলে হারিয়ে যাচ্ছে রেডিও

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
হারানো নস্টালজিয়া: প্রযুক্তির জোয়ারে স্মৃতির অতলে হারিয়ে যাচ্ছে রেডিও

আশাশুনি সংবাদদাতা: এক সময় যা ছিল দেশ-বিদেশের খবর জানার প্রধান বাতায়ন, বিনোদনের একচ্ছত্র সঙ্গী—সময়ের আবর্তে সেই রেডিও আজ বিলুপ্তির পথে। সাতক্ষীরার আশাশুনিসহ উপকূলীয় অঞ্চলের গ্রামগুলোতে এখন আর আগের মতো দলবেঁধে রেডিও শোনার চিরচেনা দৃশ্য চোখে পড়ে না। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির কাছে হার মেনে বাঙালির বৈঠকখানা থেকে এই ঐতিহ্যবাহী বেতার যন্ত্রটি যেন একপ্রকার বিদায় নিয়েছে।
মাত্র তিন দশক আগেও গ্রামীণ জনপদে বিয়ের উপহার হিসেবে নামী-দামী ব্র্যান্ডের রেডিও দেওয়া ছিল আভিজাত্য ও গর্বের প্রতীক। যার ঘরে রেডিও ছিল, প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা কিংবা রাতের খবরের সময়ে সেখানে জমত পাড়ার মানুষের আসর। রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, গানের ডালি, সুখী সংসার কিংবা ছায়াছবির গানের অনুষ্ঠান শুনে কাটত তরুণদের অবসর। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এই রেডিওই ছিল স্বাধীনতাকামী মানুষের আশার আলো। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠান ও খবর শুনে উদ্বুদ্ধ হয়ে বহু মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিসংগ্রামে।
সময়ের বদলে রেডিওর জায়গা প্রথমে নিয়েছিল টেপ রেকর্ডার, এরপর সিডি প্লেয়ার এবং সবশেষে স্মার্টফোন। বর্তমানের ডিজিটাল ও ইন্টারনেটের যুগে আলাদা করে রেডিও কেনার চল প্রায় উঠে গেছে। মোবাইল ফোনের এফএম বা ইন্টারনেটের মাধ্যমেই এখন অনায়াসে সব শোনা যায়। তবে এই আধুনিকতার আড়ালে হারিয়ে গেছে দলবেঁধে অনুষ্ঠান শোনার সেই সামাজিক আবহ।
এই পরিবর্তনের বড় ধাক্কা লেগেছে রেডিওর কারিগর বা মিস্ত্রিদের জীবনে। জীবিকার তাগিদে অনেকেই এখন পেশা বদলে টেলিভিশন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক সামগ্রী মেরামতের কাজ করছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রেডিও শুধু একটি যন্ত্র নয়, এটি আমাদের ইতিহাসের অংশ। আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন প্রজন্মের উপযোগী ডিজিটাল অনুষ্ঠান নির্মাণ করা গেলে ঐতিহ্যবাহী এই গণমাধ্যমটিকে হয়তো আবারও নতুন রূপে টিকিয়ে রাখা সম্ভব।

শ্যামনগরে ভেটেরিনারি স্বেচ্ছাসেবককে ৫দিনের প্রশিক্ষণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে ভেটেরিনারি স্বেচ্ছাসেবককে ৫দিনের প্রশিক্ষণ

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফেইথ ইন এ্যাকশন গাবুরা ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড এর ১৫টি গ্রামে কানাডিয়ান দাতা সংস্থা ওয়ার্ল্ড রিনিউ-এর আর্থিক সহযোগিতায় জলবায়ু সহনশীল জনগোষ্ঠী তৈরি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
উক্ত প্রকল্প কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় ফেইথ ইন এ্যাকশনের আয়োজনে এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের কারিগরি সহযোগিতায় শ্যামনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের প্রশিক্ষণ কক্ষে ২০ জুন থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত ১৫জন ভেটেরিনারি স্বেচ্ছাসেবককে ৫ দিনের গবাদি প্রাণীর প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা ও টিকাদান কর্মসূচি নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
প্রশিক্ষণে প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. সুব্রত কুমার বিশ্বাস, উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পরিতোষ কুমার মন্ডল, ভিএফএ সুদীপ্ত বিশ্বাস।
প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠান ফেইথ ইন এ্যাকশনের মুন্সিগঞ্জে সিআরসি প্রকল্প অফিসে আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে অনলাইনে সভাপতিত্ব করেন ফেইথ ইন এ্যাকশনের নির্বাহী পরিচালক নৃপেন বৈদ্য, আরও উপস্থিত ছিলেন প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী তীমন বাড়ৈ, প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মিল্টন বাড়ৈ, প্রকল্প হিসাব রক্ষক লরেন্স ঢালী, মিল অফিসার প্রিন্স মার্ক বিশ্বাস, জেন্ডার অফিসার নওমী বিশ্বাস প্রমূখ। ৫দিনের প্রশিক্ষণ শেষে ১৫ জন অংশগ্রহণকারীর হাতে প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ করা হয়। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

 

সাতক্ষীরার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি

চীফ রিপোর্টার: চলতি অর্থবছরে সাতক্ষীরার গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। জেলায় চরমভাবে বালু সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও বিটুমিনের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির মধ্যেও গুণগত মান রক্ষা করে গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে অন্তত ২৬ ভাগ বেশি কাজ সম্পন্ন করেছে দপ্তরটি।

জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দপ্তরটির কাজের সামগ্রিক গড় অগ্রগতির হার ছিল ৫৩ দশমিক ৫ শতাংশ। যা চলতি অর্থবছরে বৃদ্ধি পেয়ে ৮৯.৩৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
সূত্র মতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাতক্ষীরা জেলায় গ্রামীণ সড়ক কার্পেটিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৩৭ কিলোমিটার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১৪৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়কের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চলমান রয়েছে ৮৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার কাজ। যা আগামী শীত মৌসুমের মধ্যেই শেষ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। চলমান কাজের অগ্রগতিসহ লক্ষ্যমাত্রার ৭৮ ভাগ কাজ সম্পন্ন করেছে দপ্তরটি। একই সময়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ছিল ৫২ শতাংশ।
এলজিইডি সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলায় ছয়টি বক্স কালভার্ট, ২৫০ মিটার ব্রিজ সংস্কার, ১৫টি হাট বাজারের উন্নয়ন, দুইটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ, তিনটি স্কুলের প্রাচীর নির্মাণ, ১৩টি স্কুলের প্রধানশিক্ষকের কক্ষ নির্মাণ, আটটি স্কুল সংস্কার, তিনটি স্কুলের নতুন ভবন নির্মাণ এবং দুই হাজার ৩১১টি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। যার শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে।
এছাড়া ১০টি ব্রিজ নির্মাণের মধ্যে চারটি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চলমান ছয়টির কাজসহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ৭৬ শতাংশ। ১৬টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ কাজের মধ্যে একটি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চলমান ১৫টির কাজসহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ৬৩ শতাংশ। ৩২টি মসজিদ ও মন্দির উন্নয়নের কাজের মধ্যে ২৮টির কাজ শেষ হয়েছে। চলমান চারটির কাজসহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ৮৮ শতাংশ। ৪০৫ মিটার ড্রেনের মধ্যে ২৯৭ মিটার ড্রেন নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। চলমান কাজসহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ৭৩ শতাংশ। পাঁচ দশমিক চার কিলোমিটার খালের মধ্যে চার দশমিক ২৪ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন হয়েছে। চলমান কাজসহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ৭৮ শতাংশ। ২৭টি পুকুরের মধ্যে ২০ খননের কাজ শেষ হয়েছে। চলমান ৭টির কাজসহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ৭৪ শতাংশ।
খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার গোয়ালডাঙ্গা জিসি টু প্রতাপনগর জিসির ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার, খাজরা ইউপি টু বড়দল সড়কের প্রায় ৭ কিলোমিটার, তালার দলুয়া জিসি টু বুধহাটা জিসির ৪.১ কিলোমিটার, দেবহাটার সুর্বনবাদ জিসি টু কোমরপুর জিসির ছয় কিলোমিটার, দেবহাটা ইউপি অফিস টু ভাতশালা কোমরপুর সড়কের ২ কিলোমিটার, নাংলা বাজার টু পানির কল পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার, বদরতলা টু গাজীরহাট ১.৮ কিলোমিটার, কালিগঞ্জের বাশতলা বাজার টু কাশিমাড়ি সড়কের ২ কিলোমিটার, কালিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড টু তারালী সড়কের দেড় কিলোমিটার, কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হতে মথুরেশপুর ইউপি সড়কের ১.৩ কিলোমিটার, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কদমতলা টু কাথন্ডা জিসির ২.৫ কিলোমিটার, কলারোয়ার তুলসীডাঙ্গা হতে কুশোডাঙ্গা ইউপি অফিসের ৩.৭ কিলোমিটার, শ্যামনগরের গ্যারেজ বাজার থেকে হরিনগর বাজার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার, বুড়িগোয়ালিনী ইউপি টু নীলডুমুর ঘাট সড়কের ৩.৩ কিলোমিটার সহ প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকার গ্রামীণ শতাধিক সড়কের কাজ দ্রুততম সময়ে শেষ হওয়ায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে লাখ লাখ মানুষ।
যেখানে পূর্বে সড়ক উন্নয়নের নামে রাস্তা খুড়ে বছরের পর বছর ফেলে রাখা হতো, সেখানে চলতি অর্থবছরে এলজিইডির কর্মতৎপরতায় কাজ সম্পন্নের হার ৮৯.৩৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই এসব গ্রামীন সড়কের কাজ শেষ হওয়ায় একদিকে যেমন জনগনের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে অপর দিকে গ্রামীন অর্থনীতিতেও বিরাট ভূমিকা রাখবে।
শ্যামনগরের কচুখালী গ্রামের গৌর মন্ডল বলেন, আমার বয়স ৭০ বছর হয়েছে। এর আগে শ্যামনগরের গ্যারেজ বাজার থেকে হরিনগর বাজার রাস্তায় তিন বার কাজ হতে দেখেছি। কিন্তু এবারই প্রথম আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার করে কাজ হতে দেখলাম। আমার বাড়ি রাস্তার পাশেই। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমি রাস্তার কাজ দেখেছি। এতো দ্রুত কাজটি শেষ হবে আমরা ভাবতেও পারিনি। সবচেয়ে বড় কথা কাজটি দ্রুত করায় সাধারণ মানুষের কোনো ভোগান্তি হয়নি। এতে আমরা খুশি। রাস্তাটি মেরামত হওয়ার ফলে এ অঞ্চলের কয়েকটি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ উপকৃত হয়েছে।
হরিনগর বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, পূর্বে এ রাস্তা দিয়ে মালামাল আনতে খুবই অসুবিধা হতো। তাছাড়া শ্যামনগর থেকে মুন্সিগঞ্জ হয়ে হরিনগর বাজারে আসতে কয়েক কিলোমিটার পথ ঘুরে আসতে হতো, তাতে আমাদের পরিবহন খরচও অনেক বেড়ে যেতো। কিন্তু রাস্তাটি দ্রুত মেরামত করার ফলে আমরা সহজে মালামাল পরিবহন করতে পারছি। এতে আমাদের খরচ অনেক কম হচ্ছে।
একই সাথে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো অগ্রগতি অর্জন না হওয়ায় কেবিএস (খুলনা বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা) প্রকল্পের অনেক কাজে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে দপ্তরটি।
কাজ বাস্তবায়নকারী কয়েকটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিকের সাথে কথা বলে জানা যায়, জেলায় চরমভাবে বালু সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও বিটুমিনের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে কাজ বাস্তবায়ন করতে হিমসিম খেতে হয়েছে। তারপরও কাজের গুণগত মান রক্ষা করে প্রায় শতাধীক গ্রামীণ সড়কের কাজ শেষ করা হয়েছে। এসব কাজ শেষ করার ফলে জেলার উন্নয়নসহ গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
এ বিষয়ে এলজিইডি সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী এ.এস.এম তারিকুল হাসান খান বলেন, চলতি অর্থবছরে কাজ করা অনেক চ্যালেঞ্জের ছিল। জেলায় চরমভাবে বালু সংকট, জ্বালানি সংকট ও বিটুমিনের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির পরও নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কাজের গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুত কাজ শেষ করে জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে।
দাপ্তারিক নানা সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এলজিইডির উপজেলা অফিসগুলোতে জনবল সংকট রয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলীদের কোনো যানবাহন না থাকায় নিয়মিত তদারকির বিষয়টিও বিঘিœত হয়। কারণ অর্থের অংকে কম হলেও উপজেলাগুলোতে স্কিম সংখ্যা অনেক বেশি। তাই এলজিইডির কর্মতৎপরতা বৃদ্ধির জন্য দপ্তরগুলোতে জনবল বৃদ্ধি এবং উপজেলা প্রকৌশলীদের যানবাহন সরবরাহ করা উচিত।
মাঠ পর্যায়ে কাজ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি সাতক্ষীরায় এসেছি মাত্র ১১ মাস। যোগদানের পর প্রতিটি কাজই সর্বোচ্চ তদারকির মাধ্যমে শেষ নামানো হয়েছে। কিন্তু মানুষ বুঝে না বুঝে অপপ্রচার চালায়। বিশেষ করে রাস্তায় কার্পেটিংয়ের পর পিচ জমাট বাধতে স্বাভাবিক হতে একটা নিদিষ্ট সময়ের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এক শ্রেণীর মানুষ পিচ দেওয়ার এক দুই দিন পরেই তা তুলে ফেলে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পরে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা মেলে না। কিন্তু এমন অপপ্রচারে অহেতুক সরকারের দুর্নাম হয়।