সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

মোদি সরকারকে যে কৌশলে নতি স্বীকারে বাধ্য করলো ‘ককরোচরা’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
মোদি সরকারকে যে কৌশলে নতি স্বীকারে বাধ্য করলো ‘ককরোচরা’

কোনও রাজনৈতিক পরিচয় নেই, ছিল না কোনও দলীয় রাজনৈতিক সংগঠন কিংবা বছরের পর বছর রাজপথে আন্দোলন আন্দোলনের অভিজ্ঞতা। তা সত্ত্বেও ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং সাধারণ শিক্ষার্থী প্রতিবাদকারীরা ভারতের পুরো রাজনৈতিক মহলকে পরাস্ত করতে সক্ষম হয়েছে এবং অবশেষে মোদি সরকারকে নতি স্বীকারে বাধ্য করেছে।

ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী
সিজেপি যখন প্রথম জাতীয় রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ করে, তখন একে ভারতীয় রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণ এক প্রতিবাদী গোষ্ঠী হিসেবেই দেখেছিল। ভারতীয় রাজনীতিতে যা বহুবার দেখা গেছে, কয়েকজন ক্ষুব্ধ তরুণ, স্লোগান, আর নতি স্বীকার না করার বিষয়ে অনড় একটি সরকার। নাটকের চিত্রনাট্য অত্যন্ত চেনা হলেও, এর পরিণতি হয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

কয়েক সপ্তাহ ধরে সিজেপির টানা আন্দোলনের মুখে শনিবার মোদি সরকার শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করে। শিক্ষার্থীদের মূল দাবিগুলো মেনে নেওয়া হয়, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন এবং আন্দোলনকারীরা নিজেদের জয় ঘোষণা করে বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন। নিজেদের সিদ্ধান্তে চরম অনড় থাকার জন্য পরিচিত মোদি সরকারের রাজত্বে এটি অত্যন্ত বিরল ও অভাবনীয় এক অর্জন।

ভারতে বিগত এক দশকে নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) বিরোধী আন্দোলন, বছরব্যাপী কৃষক আন্দোলন কিংবা মণিপুরের সহিংসতা নিয়ে এর চেয়েও বড় বিক্ষোভ দেখা গেছে। তবে সেই আন্দোলনগুলোর খুব কমই সরকারের একদম শীর্ষ পর্যায়ে এমন সরাসরি রাজনৈতিক জবাবদিহিতা আদায় করতে পেরেছিল। এমনকি ২০২৪ সালেও নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ক্ষোভ থাকলেও সরকার কোনও মন্ত্রীকে বলি দেয়নি। তবে এবার কেন হার মানলো মোদি সরকার? পার্থক্যটা শুধু শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে ছিল না, বরং ছিল তারা যেভাবে লড়াই করেছে তার মধ্যে।

রাজনীতিবিদেরা ভেবেছিলেন অভিজ্ঞতার কাছে তরুণেরা হেরে যাবে। কিন্তু দিনশেষে রাজনীতির নিয়ম কতটা বদলে গেছে, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো এই আনকোরা তরুণেরাই।

সিজেপির সাফল্যের চাবিকাঠি

সিজেপির সবচেয়ে বড় সুবিধা ছিল তারা সাধারণ রাজনৈতিক দলের মতো আচরণ করেনি, কারণ তারা সত্যিই কোনও রাজনৈতিক দল ছিল না। আন্দোলনকে রাজনৈতিক বা নির্বাচনি রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হলে সরকার খুব সহজেই তাকে প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক খেলা বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু তরুণেরা সরকারকে সেই চেনা সুযোগ দেয়নি। বিরোধী দলের নেতারা সমর্থনে এগিয়ে এলেও সিজেপি কৌশলে নিশ্চিত করেছে যেন রাজনৈতিক নেতারা কেবল সমর্থক হিসেবেই থাকেন, আন্দোলনের মূল মুখ না হয়ে ওঠেন। ক্যামেরার নজর সবসময় রাজনীবিদদের বদলে শিক্ষার্থীদের ওপরই স্থির ছিল।

রাজনীতিতে আনকোরা হওয়াই সিজেপির সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত হয়েছিল। পেশাদার রাজনীতিবিদরা দরকষাকষির সময় ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণের কথা ভাবেন, কিন্তু শিক্ষার্থীরা তা ভাবেনি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাদের দাবিগুলো ছিল একদম এক ও অপরিবর্তনীয় জবাবদিহিতা, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। এই স্থিতিশীলতাই তাদের আন্দোলনকে এক অনন্য বিশ্বাসযোগ্যতা এনে দিয়েছিল। কোনও আদর্শিক বিতর্কে না জড়িয়ে আন্দোলনকে শুধু পরীক্ষা, মেধা এবং কোটি কোটি তরুণের ভবিষ্যতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল, যা সাধারণ অভিভাবক ও শিক্ষকদের গভীরভাবে স্পর্শ করে।

রাজপথের বাইরে সোশ্যাল মিডিয়ার লড়াই

রাজপথ যদি একটি যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে থাকে, তবে সোশ্যাল মিডিয়া ছিল অপর যুদ্ধক্ষেত্র। এখানে দুই প্রজন্মের ব্যবধান স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। আগের আন্দোলনগুলোতে ফেসবুক বা এক্স ব্যবহৃত হতো কেবল হালনাগাদ তথ্য দেওয়ার জন্য। কিন্তু সিজেপির কাছে সোশ্যাল মিডিয়াই ছিল আন্দোলনের মূল ক্ষেত্র।

এখানেই শেষ নয়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের জয়ে চাঙ্গা মোদিবিরোধীরাএখানেই শেষ নয়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের জয়ে চাঙ্গা মোদিবিরোধীরা
ইনস্টাগ্রামে পুলিশকে প্রশ্ন করা শিক্ষার্থীর ভিডিও, অনশনের বার্তা, ড্রোন দিয়ে তোলা জনস্রোতের দৃশ্য কিংবা আবেগঘন মুহূর্তগুলো মুহূর্তের মধ্যেই লাখ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছিলো। মূলধারার টেলিভিশন টকশো শুরুর আগেই অ্যালগরিদম ঠিক করে ফেলছিল মানুষ কী দেখবে।

রাজনৈতিক দলগুলো সোশ্যাল মিডিয়াকে ঐতিহ্যবাহী প্রচারণার ডিজিটাল রূপ হিসেবে দেখলেও, জেন-জি বোঝে অন্য ভাষা। তাদের রাজনৈতিক যোগাযোগ ভিজ্যুয়াল, দ্রুত ও দূরদর্শী। ২০ সেকেন্ডের একটি শক্তিশালী রিল বা একটি রিলেটেবল মিম বিশ মিনিটের সংবাদ সম্মেলনের চেয়ে অনেক বেশি আবেদন তৈরি করেছিল।

সরকার বা বিরোধীদের ডিজিটাল টিম এই গতি সামলাতে হিমশিম খেয়েছে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর ফোন ছিল এক একটি সম্প্রচার কেন্দ্র। সরকারের যোগাযোগের যন্ত্র সংসদ বা টকশো সামলাতে পারলেও, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া হাজার হাজার বিকেন্দ্রীভূত ভিডিও বা রিলকে একক কোনও সংবাদ সম্মেলন দিয়ে ঠেকানো সম্ভব হয়নি।

বিরোধী দলগুলো সংসদে চাপ সৃষ্টি করলেও তারা আন্দোলন পরিচালনা করছিল না, বরং আন্দোলনকে অনুসরণ করছিল। বছরের পর বছর পর ভারতের রাজনীতিতে তরুণেরা রাজনীতিবিদদের পেছনে না হেঁটে, রাজনীতিবিদদের নিজেদের পেছনে হাঁটাতে বাধ্য করেছে।

অভিজ্ঞ নেতারা যখন বক্তৃতা আর সংবাদ সম্মেলন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, সিজেপি প্রতিটি প্রতিবাদস্থলকে কনটেন্ট কারখানায় পরিণত করেছিল। রাজনীতিবিদেরা যখন বিষয়টি ধরতে পারলেন, ততক্ষণে তরুণেরা মনোযোগের রাজনীতি এবং একই সঙ্গে মূল রাজনৈতিক লড়াই দুটোতেই জয়ী হয়ে গেছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

Ads small one

আশাশুনিতে দুর্গাপূজা উপলক্ষে শাড়ি ও অনুদানের চেক বিতরণ করলেন এমপি রবিউল বাশার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে দুর্গাপূজা উপলক্ষে শাড়ি ও অনুদানের চেক বিতরণ করলেন এমপি রবিউল বাশার

oplus_2

বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে শাড়ি এবং আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব সহায়তা বিতরণ করেন সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার।
অনুষ্ঠানে উপজেলার সাতজন অসহায় ও দুস্থ ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক দেওয়া হয়। এ ছাড়া শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের ১৫০টি পরিবারের মধ্যে একটি করে শাড়ি বিতরণ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার বলেন, “ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। শারদীয় দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলেও এ উৎসবের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে সবাই মিলেমিশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব উদ্‌যাপন করবেন। কোনো মানুষ যেন আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে উৎসবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হন, সে জন্য আমাদের সাধ্যমতো সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “অসহায় ও দুস্থ মানুষের কল্যাণে সরকারের সহায়তা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহমর্মিতার মধ্য দিয়েই একটি শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডুর সভাপতিত্বে উপজেলা জামায়াতের আমির আবু মুসা তারিকুজ্জামান তুষারের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আমিরুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি নীলকণ্ঠ সম, বুধহাটা কলেজিয়েট স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক চিত্তরঞ্জন ঘোষ, অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম, সংসদ সদস্যের এপিএস শরিফুল ইসলাম, পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রনজিৎ কুমার বৈদ্য, মহিলা কলেজের প্রভাষক রতন কুমার অধিকারী, আশাশুনি প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জি এম মুজিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আকাশ হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে দুর্গাপূজা উপলক্ষে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়।

আজ মহাঅষ্টমী ও কুমারী পূজা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ণ
আজ মহাঅষ্টমী ও কুমারী পূজা

অনলাইন ডেস্ক: আজ মহাঅষ্টমী। অষ্টমীর বিশেষ আকর্ষণ কুমারী পূজা। কুমারী বালিকার মধ্যে বিশুদ্ধ নারীর রূপ কল্পনা করে তাকে দেবী জ্ঞানে পূজা করেন ভক্তরা। রামকৃষ্ণ মিশনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ পূজা।

হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে, সাধারণত ১ থেকে ১৬ বছরের অজাতপুষ্প সুলক্ষণা ব্রাহ্মণ বা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কুমারী নারীকে দেবী জ্ঞানে পূজা করা হয়। শ্রীরাম কৃষ্ণের কথামতে, কুমারী পূজার বিষয়ে বলা হয়েছে, শুদ্ধাত্মা কুমারীতে ভগবতীর রূপ বেশি প্রকাশ পায় এবং মাতৃরূপ উপলব্ধি করাই কুমারী পূজার উদ্দেশ্য।

শাস্ত্রমতে, এক বছর বয়সী কন্যাকে সন্ধ্যা, দুইয়ে সরস্বতী, তিনে ত্রিধামূর্তি, চারে কলিকা, পাঁচে সুভাগা, ছয়ে উমা, সাতে মালনী, আটে কুজ্বিকা, নয়ে কালসন্দর্ভা, দশে অপরাজিতা, এগারোয় রুদ্রানী, বারোয় ভৈরবী, তেরোয় মহালক্ষ্মী, চোদ্দতে পীঠ নায়িকা, পনেরোতে ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ষোলো বছরে তাকে অন্নদা নামে অভিহিত করা হয়।

নির্বাচিত কুমারীকে মহাষ্টমীর দিন ভোরে গোসল করিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয়। তাকে সাজিয়ে কপালে সিঁদুর, পায়ে আলতা ও হাতে ফুল দেওয়া হয়। কুমারীকে সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে ষোড়শোপাচারে (ষোলো উপাদান) দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। এ সময় চারদিকে শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বোল, উলুধ্বনি আর দেবী স্তুতিতে মুখর হয়ে ওঠে।

কুমারী পূজার তাৎপর্য প্রসঙ্গে পুরোহিতরা বলেন, অনেক চিন্তাশীল মানুষ অনুভব করছেন, আধুনিক পৃথিবীতে সামাজিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক সংকট নিরসন করে অগ্রগামী হতে হলে মাতৃজাতির প্রতি যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন করা উচিত। জগতের অনেক স্থানে নারীকে সম্মান দেওয়া হয় পত্নীরূপে বা সহকারিণীরূপে। কিন্তু নারীর সবচেয়ে মহিমময় রূপ তার মাতৃরূপ। তাই এই মহাষ্টমী তিথিতে আমরা জগতের সব মাতৃজাতিকে উদ্দেশ্য করে কুমারী মাতাকে প্রণাম জানাই। তার মাধ্যমে আদ্যাশক্তিকে আমাদের প্রণাম নিবেদন করি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী এবং বুধবার (২১ অক্টোবর) দশমীর মাধ্যমে বিদায় নেবেন দেবী দুর্গা। দশমীর দিন বিকেল ৩টার পর থেকে প্রতিমা বিসর্জনের কথা বলা হয়েছে। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃত্বে পলাশীর মোড় থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা বের হয়ে সদরঘাটের ওয়াইজ ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন হবে। ও টাইম বোমা উদ্ধার

লালন শাহের মাজার থেকে পেট্রোল ও টাইম বোমা উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
লালন শাহের মাজার থেকে পেট্রোল ও টাইম বোমা উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক: কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের মাজারের ভিতরে মূল ফটকের পাশ থেকে একটি সাদা ব্যাগে রাখা ২টি বোতলভর্তি পেট্রোল ও টাইম বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাজার ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

 

রোববার (১৮ অক্টোবর) দিবাগত রাতে লালন শাহের মাজারের মূল ফটকের পাশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় সাদা ব্যাগটি উদ্ধার করা হয়।

অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে মাজার এলাকা ফাঁকা করে দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মাজারে প্রবেশের মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে পুলিশ, র‍্যাব ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাতে মাজার কমপ্লেক্সের মূল প্রবেশদ্বারের পাশে একটি সাদা ব্যাগে মোড়ানো সন্দেহজনক বস্তু পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় সাধুরা। পরে তারা সেখানে দায়িত্বে থাকা কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিনকে বিষয়টি জানান। ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যাগের ভেতরে পেট্রোল ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের মতো কিছু দেখতে পান তিনি। এরপর বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানানো হয়।

পরে মাজার এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে ব্যাগটি পাহারায় রাখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ সুপারের মাধ্যমে ঢাকায় যোগাযোগ করা হলে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের ৪ সদস্যের একটি দল সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে কুষ্টিয়ায় পৌঁছায়। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ব্যাগের ভেতরে দুটি বোতলভর্তি পেট্রোল ও একটি টাইম বোমা থাকার বিষয়টি শনাক্ত করা হয়।

 

এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, রাতে সাধুরা পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা একটি ব্যাগ দেখে আমাকে জানালে আমি তাৎক্ষণিক সেখানে গিয়ে ব্যাগ দেখে পুলিশ সুপার মহোদয়কে জানাই। পরে ঢাকা থেকে ৪ সদস্যবিশিষ্ট বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট সকালে এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। তাদের মাধ্যমে জানতে পারি, সেটি টাইম বোমা।

ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। খুব দ্রুতই তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।