শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

যেমন ছিল রাসুল (স.) এর যুগের ব্যবসা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ণ
যেমন ছিল রাসুল (স.) এর যুগের ব্যবসা

আখলাকুর রহমান

মরুভূমির বুক চিরে যে বাণিজ্য কাফেলা একদিন সিরিয়া থেকে ইয়েমেন পর্যন্ত ছুটে চলত, সেই কাফেলার প্রতিটি উটের পিঠে চাপানো ছিল কেবল পণ্য নয়, বরং একটি জাতির ভবিষ্যৎ অর্থনীতির বীজ। মক্কা তখন আরব উপদ্বীপের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র। আর সেই মক্কার বুকেই বেড়ে উঠেছিলেন এমন একজন মানুষ, যাঁর সততা আর ন্যায়পরায়ণতা তাঁকে অল্প বয়সেই উপাধি এনে দিয়েছিল আল আমিন, অর্থাৎ বিশ্বস্ত। সেই মানুষটিই পরবর্তীতে হয়ে ওঠেন বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

নবুওয়াত লাভের আগে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। তিনি হযরত খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার বাণিজ্যিক কাফেলা পরিচালনা করে সিরিয়া পর্যন্ত গিয়েছিলেন। তাঁর সততা, ওজনে কারচুপি না করা এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষার গুণে মুগ্ধ হয়ে খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এখান থেকেই বোঝা যায়, ইসলামি ব্যবসার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল সততা এবং আমানতদারিতার উপর, লাভের অন্ধ প্রতিযোগিতার উপর নয়।

সাহাবিরা মূলত তিনটি পথে পণ্য সংগ্রহ করতেন। প্রথমত, নিজেরাই দূরদেশ থেকে কাফেলার মাধ্যমে পণ্য আমদানি করতেন, যেমন সিরিয়া থেকে কাপড়, ইয়েমেন থেকে চামড়া ও সুগন্ধি, ইরাক থেকে খেজুর ও শস্য। দ্বিতীয়ত, স্থানীয় কৃষক ও কারিগরদের কাছ থেকে পাইকারি দরে পণ্য কিনে পুনরায় বিক্রি করতেন। তৃতীয়ত, অনেকে যৌথ মূলধনে বাণিজ্য পরিচালনা করতেন, যাকে বলা হয় মুদারাবা। এই পদ্ধতিতে একজন মূলধন দিতেন, অন্যজন শ্রম ও দক্ষতা দিতেন, আর লাভ পূর্বনির্ধারিত অনুপাতে ভাগ হতো। এই মুদারাবা পদ্ধতিই আধুনিক যুগের অংশীদারি ব্যবসার প্রাচীন রূপ বলে বিবেচিত হয়।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাজার তদারকি করতেন এবং প্রতারণামূলক লেনদেন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছিলেন। একবার তিনি এক শস্য বিক্রেতার স্তূপে হাত ঢুকিয়ে দেখেন ভেতরে ভেজা শস্য লুকানো আছে, অথচ উপরের অংশ শুকনো দেখানো হয়েছে। তখন তিনি বলেছিলেন, যে প্রতারণা করে সে আমাদের দলভুক্ত নয়। এছাড়া তিনি নিষিদ্ধ করেছিলেন গারার অর্থাৎ অনিশ্চয়তাপূর্ণ লেনদেন, মজুতদারি করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা, এবং ক্রেতা শহরে প্রবেশের আগেই পণ্য কিনে নিয়ে দাম বাড়িয়ে দেওয়া। সুদভিত্তিক লেনদেনও সম্পূর্ণরূপে হারাম ঘোষণা করা হয়েছিল, যা তৎকালীন আরব বাণিজ্যে প্রচলিত একটি বড় প্রথা ছিল।

যাঁরা ব্যবসা করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছিলেন সাহাবিদের মধ্যে হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহুর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মদিনায় হিজরতের পর তিনি খালি হাতে এসেছিলেন, কিন্তু বাজারের পথ চিনিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন আনসারি ভাইয়ের কাছে, উপহার নয়। এরপর ব্যবসা করে তিনি এমন সম্পদের মালিক হন যে, তাঁর একটি বাণিজ্য কাফেলা মদিনায় প্রবেশ করলে গোটা শহর কেঁপে উঠত শব্দে। তিনি জীবদ্দশায় বহুবার সমুদয় সম্পদ আল্লাহর পথে দান করে দিয়েছিলেন।

হযরত উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন কুরাইশদের অন্যতম শীর্ষ ধনী ব্যবসায়ী। মদিনায় পানির সংকটের সময় তিনি নিজের অর্থে রুমা কূপ কিনে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন। তাবুক যুদ্ধের প্রস্তুতির সময় তিনি একাই বিশাল অংকের অর্থ ও রসদ দান করেছিলেন, যা ইতিহাসে আজও স্মরণীয়।

হযরত খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা নিজেও ছিলেন মক্কার প্রথম সারির নারী ব্যবসায়ী। তাঁর নিজস্ব বাণিজ্য কাফেলা ছিল, কর্মচারী ছিল, এবং তিনি নিজের বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতায় বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছিলেন।

সেই যুগের ব্যবসার মূলমন্ত্র ছিল সততা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা, ওজনে নিখুঁততা এবং পারস্পরিক আস্থা। মুনাফা অর্জন নিষিদ্ধ ছিল না, বরং হালাল পথে ব্যবসা করে সম্পদশালী হওয়াকে উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে সেই সম্পদের একটি বড় অংশ সমাজের কল্যাণে ব্যয় করার নজির স্থাপন করে গেছেন সাহাবিরা। আজকের বাণিজ্যিক জগতে যখন প্রতারণা, ভেজাল ও অতিরিক্ত মুনাফালোভের প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে, তখন রাসুলের যুগের এই ব্যবসায়িক আদর্শ আমাদের জন্য এক অমূল্য দিকনির্দেশনা হয়ে থাকতে পারে। লেখক: উদ্যোক্তা

Ads small one

কপোতাক্ষ-বেতনা খনন হলেও জলজট: চরম দুর্ভোগে আশাশুনিবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
কপোতাক্ষ-বেতনা খনন হলেও জলজট: চরম দুর্ভোগে আশাশুনিবাসী

বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: আশাশুনি উপজেলার মরিচ্চাপ ও বেতনা নদী খনন করা হলেও তার সুফল পাচ্ছে না স্থানীয় বাসিন্দারা। পানি নিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় সপ্তাহকালের বৃষ্টিতে খাল-বিল, বসতবাড়ি, আমন বীজতলা ও মৎস্য ঘের তলিয়ে গেছে।

উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বেশিরভাগ গ্রামেই এখন হাঁটু পানি। ড্রেনেজ ব্যবস্থা অপরিকল্পিত হওয়া এবং যত্রতত্র বাঁধ, ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো গড়ে তোলায় বৃষ্টির পানি সরতে পারছে না। ফলে আমন চাষের বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী দুটিতে জোয়ার-ভাটা সচল হলেও অভ্যন্তরীণ পয়ঃনিষ্কাশন বা পানি নামার খালগুলো অবরুদ্ধ থাকায় নদী খননের প্রকৃত সুফল তারা পাচ্ছেন না। ফলে বহু পরিবার এখন পানিবন্দী অবস্থায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

আশাশুনিতে চোরাই মোটরবাইকসহ গ্রেপ্তার ১, গাঁজাসহ আটক ১

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১:৩২ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে চোরাই মোটরবাইকসহ গ্রেপ্তার ১, গাঁজাসহ আটক ১

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে পৃথক অভিযান চালিয়ে একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ এক চোর ও ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ১২ জুলাই খালিয়া এলাকার একটি মসজিদের সামনে থেকে একটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় মামলা (নং-২৬, তারিখ: ২৩/০৭/২৬) দায়েরের পর আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমদ খানের নেতৃত্বে এসআই নীতিশ বিশ্বাস দেবহাটা থানার পারুলিয়া বাজারে অভিযান চালিয়ে চোরাই মোটরসাইকেলসহ সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেফতার করেন।
অপরদিকে, এএসআই তারিক উর রহমান দরগাহপুর বাজারের একটি চায়ের দোকানের সামনে অভিযান চালিয়ে ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ শেখ জীবন ওরফে তবিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেন। তাঁর বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা (নং-২৭/১৪৪, তারিখ: ২৪-০৭-২৬) করা হয়েছে।

শ্যামনগরে ভাবগাম্ভীর্যে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের উল্টো রথযাত্রা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১:৩০ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে ভাবগাম্ভীর্যে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের উল্টো রথযাত্রা

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের উল্টো রথযাত্রা উদযাপিত হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে শ্যামনগর উপজেলার হরিতলা সার্বজনীন দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য উল্টো রথযাত্রা বের করা হয়।
রথটি উপজেলার চৌরাস্তা থেকে গোডাউন মোড় হয়ে গোপালপুর শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় হাজার হাজার ভক্ত-অনুরাগী ও সামাজিক-ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনিতে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।
উৎসব উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণে বিশেষ পূজা-অর্চনা, গীতাপাঠ, কীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা ও প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দির (ইসকন)-এর অধ্যক্ষ শ্রীপাদ কৃষ্ণ সখা দাস ব্রহ্মচারী জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বৈচিত্র্যময় আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উল্টো রথযাত্রা উদযাপিত হয়েছে। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত রূপ নেয়। অনুষ্ঠান শেষে বিশ্বশান্তি ও সকলের মঙ্গল কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয় এবং ভক্তদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়।