বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

লোনা জমিতে ধানের জোয়ার, সাতক্ষীরায় ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
লোনা জমিতে ধানের জোয়ার, সাতক্ষীরায় ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষক

ইব্রাহিম খলিল: উপকূলীয় সাতক্ষীরা জেলায় একসময় লবণাক্ততার কারণে অনেক জমিতে ভালো ফসল হতো না। দীর্ঘদিন ধরে এসব জমি অনাবাদি পড়ে থাকত বা সীমিত আকারে চাষ হতো। তবে এখন সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। লবণসহিষ্ণু জাতের বোরো ধান চাষের মাধ্যমে কৃষকেরা আবারও মাঠে ফিরছেন, আর চলতি মৌসুমে শুরু হয়েছে ধান কাটার ব্যস্ততা।

২০২০ সালের মে মাসে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় এলাকার বিস্তীর্ণ জমিতে লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়ে। এতে কৃষি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে। অনেক কৃষকই চাষাবাদ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কৃষি বিভাগের পরামর্শ, গবেষণার ফলাফল এবং কৃষকদের নিজস্ব অভিজ্ঞতায় বদলাতে শুরু করে পরিস্থিতি।

কুড়িকাওনিয়া গ্রামের কৃষক মজিদ শেখ ১২ বিঘা জমিতে চাষ করেন। তিনি জানান, দুর্যোগের পর কয়েক বছর জমিতে কিছুই করতে পারেননি। পরে জমিতে মিঠা পানি ধরে রেখে লবণ কমানো, আগাম বোরো চাষ এবং লবণসহিষ্ণু জাত ব্যবহার করে আবার চাষাবাদ শুরু করেন। এ বছর তার জমিতে ভালো ফলন হয়েছে এবং ধান কাটা শুরু হয়েছে।

আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন জানান, তার এলাকার অধিকাংশ জমিতে উচ্চমাত্রার লবণ থাকায় সব জাতের ধান চাষ করা সম্ভব হয় না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে কয়েক বছর ধরে তিনি লবণসহিষ্ণু ব্রি-৬৭ জাতের ধান চাষ করছেন। চলতি মৌসুমে ১৫ বিঘা জমিতে এই ধান আবাদ করেছেন। গত বছর একই জমিতে তিনি প্রায় ২৭ মণ পর্যন্ত ফলন পেয়েছেন। তার গ্রামের অনেক কৃষক এখন একই পদ্ধতি অনুসরণ করছেন।

শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর গ্রামের কৃষক আমিনুর ইসলাম জানান, তার এলাকার জমিগুলোতেও লবণাক্ততার মাত্রা বেশি। কয়েক বছর আগেও সেখানে বোরো ধানে বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১২ মণের বেশি ফলন হতো না, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম ছিল। তবে গত চার বছর ধরে লবণসহিষ্ণু জাতের ধান চাষ শুরু করার পর পরিস্থিতি বদলেছে। তিনি বলেন, এখন অনেক কৃষক চিংড়ির ঘেরেই ধান চাষ করছেন একই জমিতে মাছ ও ধান দুই ধরনের উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ মৌসুমে জেলার সাত উপজেলায় ৭৯ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে লবণসহিষ্ণু জাতের ধান আবাদ করা হয়েছে, যেখানে আগের মৌসুমে এ পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার হেক্টর। চলতি মৌসুমে এই আবাদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ হাজার হেক্টরে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪ হাজার হেক্টর বেশি।

চলতি মৌসুমে জেলায় ৮০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে আবাদ হয়েছে ৮২ হাজার ৭৩৫ হেক্টর জমিতে।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে লবণাক্ততা বাড়ছে। তবে কৃষকেরা এখন অভিযোজন কৌশল গ্রহণ করছেন। প্রতি বছরই লবণসহিষ্ণু জাতের বোরো ধানের আবাদ বাড়ছে। আমরা কৃষকদের আগাম চাষ, উন্নত জাতের বীজ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে সহায়তা দিচ্ছি।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাতক্ষীরা আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সাজ্জাদুর রহমান বলেন, উপকূলীয় এলাকায় দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে। এ কারণে আমরা ইতোমধ্যে ১৪টি লবণসহিষ্ণু ধানের জাত উদ্ভাবন করেছি। এর মধ্যে ব্রি ধান-৬৭, ৯৭ ও ৯৯ উল্লেখযোগ্য। এসব জাত ১২ থেকে ১৪ ডিএস পর্যন্ত লবণ সহ্য করতে পারে এবং বিঘাপ্রতি ২৬ থেকে ২৭ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব।

একসময় যে জমি লবণাক্ততার কারণে অনাবাদি ছিল, আজ সেখানে ধান কাটার দৃশ্য এটি শুধু একটি কৃষকের গল্প নয়, বরং উপকূলীয় কৃষকদের জন্য একটি কার্যকর অভিযোজন কৌশল, যা অনুসরণ করে অন্যরাও নিজেদের জীবন বদলাতে পারেন।

 

 

Ads small one

সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি ও বেসরকারি সমমনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুন দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিসিডিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন। সিসিডিবি’র রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং ম্যানেজার সামিউল আলিম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও শামসুজ্জামান কনক। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদ বিন শফিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাছপালা কেটে ফেলা এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বসন্তপুর গ্রামের বৈদ্যনাথ দাস বাদী হয়ে শংকর দাস ও দিপঙ্কর দাসসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা (নং-৪০৬/২০২৬) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বসন্তপুর মৌজার ৫৮ শতক পৈতৃক সম্পত্তির একটি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, যা নিয়ে আগেও একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। বাদীর অভিযোগ, চলমান মামলার তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক তাঁর জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন গাছগাছালি কেটে সাবাড় করেছে এবং জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। বিবাদীদের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে তাঁর পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আলিপুর থেকে কুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে সরকারি খাস জমিতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। সড়কের ‘অপ্রয়োজনীয় অংশ’ উচ্ছেদ না করে কেবল মূল কাজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু জমি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে গত ২৪ জুন জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। আগামী ৮ ও ৯ জুলাই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে আবেদনপত্রটি তুলে দেন।
এ সময় কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা এবং সমাজসেবক মোজাম্মেল হোসেনসহ (মিনু ডাক্তার) এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এলাকার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়কের উন্নয়ন কাজকে স্থানীয়রা স্বাগত জানান। তবে সওজ-এর নকশা অনুযায়ী ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা হলে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁদের দোকান, পুঁজি ও জীবিকা হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। গ্রামীণ অর্থনীতি, মাছের শেড ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বহু ভূমিহীন পরিবার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়নে যতটুকু জমি অপরিহার্য, ঠিক ততটুকু রেখে বাকি অংশ উচ্ছেদ না করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।