সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

শিক্ষকের মর্যাদাই হোক শিক্ষা সংস্কারের শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৯ অপরাহ্ণ
শিক্ষকের মর্যাদাই হোক শিক্ষা সংস্কারের শুরু

মো. মামুন হাসান

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের কথা নতুন নয়। পাঠ্যক্রম বদলেছে, পরীক্ষাপদ্ধতি বদলেছে, মূল্যায়নের ধরণ বদলেছে, কখনো কখনো একটি নীতির ফল দেখার আগেই আরেকটি নীতি এসে হাজির হয়েছে। প্রতিবারই ঘোষণায় থাকে নতুন স্বপ্ন, আর বাস্তবায়নের দায়িত্ব গিয়ে পড়ে শ্রেণিকক্ষের শিক্ষকের কাঁধে। এই পরিচিত চিত্র দেখে আমার একটি প্রশ্ন বারবার ফিরে আসে। সংস্কারের শুরুটা আমরা কোথা থেকে করছি। আমার বিশ্বাস, শুরুটা হওয়া উচিত শিক্ষক থেকে, আর সেই শুরুর প্রথম ধাপ শিক্ষকের মর্যাদা নিশ্চিত করা।

প্রথমে একটি সহজ সত্য মেনে নেওয়া দরকার। কোনো সংস্কার কাগজে সম্পূর্ণ হয় না, সম্পূর্ণ হয় শ্রেণিকক্ষে। নীতিমালা যত সুচিন্তিত হোক, শিক্ষার্থীর কাছে সেটি পৌঁছায় শিক্ষকের মাধ্যমে। নতুন পাঠ্যক্রম বুঝিয়ে দেওয়া, নতুন মূল্যায়ন প্রয়োগ করা, শিক্ষার্থীর ভয় ও দ্বিধা কাটানো, সবই করেন শিক্ষক। অর্থাৎ সংস্কারের সফলতার চাবি তাঁর হাতেই। অথচ সংস্কারের পরিকল্পনায় তাঁকে প্রায়ই দেখা হয় বাস্তবায়নের একটি উপকরণ হিসেবে, অংশীদার হিসেবে নয়। উপকরণ হিসেবে দেখলে তাঁর কাছ থেকে নির্দেশ পালন পাওয়া যায়, কিন্তু উদ্যম পাওয়া যায় না। আর উদ্যম ছাড়া কোনো সংস্কার প্রাণ পায় না।

এই বাস্তবতা থেকেই বোঝা যায় কেন মর্যাদা এত গুরুত্বপূর্ণ। মর্যাদা বলতে আমি কেবল সামাজিক সম্মান বোঝাচ্ছি না। ১৯৬৬ সালে আইএলও ও ইউনেস্কোর সুপারিশ শিক্ষকের মর্যাদাকে অধিকার ও দায়িত্বের একটি কাঠামো হিসেবে দেখেছিল। তার ষাট বছর পূর্ণ হচ্ছে এই বিশ্ব শিক্ষক দিবসে। এই দীর্ঘ সময়ে আমরা কতটা এগিয়েছি, সেই হিসাব নেওয়ার এটাই সময়। মর্যাদার মধ্যে আছে ন্যায্য পারিশ্রমিক, নিরাপদ চাকরি, স্পষ্ট পেশাগত অগ্রগতির পথ, পাঠদানের স্বাধীনতা, প্রশিক্ষণের সুযোগ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণের অধিকার। এগুলোর কোনোটি বাদ গেলে মর্যাদা অসম্পূর্ণ থাকে, আর অসম্পূর্ণ মর্যাদার ওপর দাঁড়ানো সংস্কার টলমলে হয়।

কেন শুরুটা শিক্ষক দিয়েই হতে হবে, তার তিনটি যুক্তি আমি দিতে চাই।
প্রথম যুক্তি আস্থার। যে শিক্ষককে পেশাদার হিসেবে বিশ্বাস করা হয়, তিনি নতুন কিছু চেষ্টা করার সাহস পান। তিনি পাঠদানের পদ্ধতিতে পরীক্ষা করেন, শিক্ষার্থীর প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেকে বদলান। কিন্তু যে ব্যবস্থায় প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য নির্দেশ ও নজরদারি, সেখানে শিক্ষক নিরাপদ পথে হাঁটতে শেখেন। সংস্কার চায় সৃজনশীলতা, আর সৃজনশীলতা জন্মায় আস্থার পরিবেশে।
দ্বিতীয় যুক্তি প্রতিভার। যে কোনো পেশার মান নির্ভর করে সেখানে কারা আসছেন তার ওপর। আজ অনেক মেধাবী তরুণ শিক্ষকতাকে প্রথম পছন্দ হিসেবে ভাবে না, কারণ তারা সেখানে নিরাপত্তা, সুযোগ ও সম্মানের নিশ্চয়তা দেখে না। শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি মানে শেষ পর্যন্ত ভালো শিক্ষক পাওয়া। ভালো শিক্ষক পেতে হলে পেশাটিকে আকর্ষণীয় করতে হবে। এই কাজটি সংস্কারের সবচেয়ে গোড়ার কাজ, কারণ বাকি সব পরিবর্তন এর ওপরেই দাঁড়ায়।

তৃতীয় যুক্তি ধারাবাহিকতার। বারবার বদলে যাওয়া নীতি শিক্ষককে ক্লান্ত করে। নতুন পদ্ধতি শিখতে না শিখতেই আরেকটি এসে যায়। এই সংস্কার ক্লান্তি থেকে বাঁচার উপায় হলো শিক্ষকদের আগে থেকেই আলোচনায় যুক্ত করা। তাঁরা যদি পরিকল্পনার অংশীদার হন, তাহলে সেটি তাঁদের নিজেদের হয়ে ওঠে এবং বাস্তবায়নে তাঁরা সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে দাঁড়ান।

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় এই যুক্তিগুলো আরও জোরালো। আমি নিজে একটি পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠানে পর্যটন ও আতিথেয়তা বিভাগে পড়াই। এই খাতে শিল্পের চাহিদা বদলায় খুব দ্রুত। দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার কথা আমরা বলি, কিন্তু সেই শিক্ষা দিতে হলে শিক্ষকের নিজের হাতে কলমে অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। তাঁকে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দিতে হয়, কর্মশালায় আধুনিক সরঞ্জাম দিতে হয়, নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হয়। এসব না দিয়ে নতুন পাঠ্যক্রম চাপিয়ে দিলে শিক্ষক এমন দায়িত্ব পান, যা পালনের উপকরণ তাঁর হাতে নেই। তখন সংস্কার হয় নামমাত্র, আর স্নাতকেরা সনদ নিয়ে বের হয় ঠিকই, কিন্তু কর্মক্ষেত্রের প্রস্তুতি নিয়ে নয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগ এই প্রয়োজনকে আরও তীব্র করেছে। তথ্য এখন সবার হাতের মুঠোয়। তাই শিক্ষকের ভূমিকা এখন তথ্য দেওয়ার চেয়ে প্রশ্ন করতে শেখানো, যাচাই করতে শেখানো, নৈতিকতা ও মানবিকতা গড়ে তোলার দিকে সরে এসেছে। এই কাজ আগের চেয়ে কঠিন ও সূক্ষ্ম। যে সংস্কার এই নতুন ভূমিকাকে স্বীকার করবে না, সে সংস্কার সময়ের পেছনে পড়ে থাকবে। আর যে শিক্ষকের কাছে আমরা এই নতুন ভূমিকা দাবি করছি, তাঁকে প্রযুক্তি শেখার সুযোগ, ডিজিটাল অবকাঠামো ও সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।

মর্যাদার আরেকটি দিক নিরাপত্তা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই সময়ে এক টুকরো ভিডিও বা অর্ধসত্য মন্তব্য একজন শিক্ষকের বছরের পর বছরের সুনাম নষ্ট করে দিতে পারে। শিক্ষকও মানুষ, তাঁর ভুল হলে জবাবদিহি অবশ্যই হবে। কিন্তু সেই জবাবদিহি হতে হবে তথ্য যাচাই করে, তাঁর বক্তব্য শুনে, ন্যায্য প্রক্রিয়ায়। আতঙ্কের মধ্যে থাকা শিক্ষক ঝুঁকি নিতে চান না, আর ঝুঁকি ছাড়া শিক্ষার উন্নতি হয় না।

শিক্ষকের কাজের বোঝার প্রশ্নটিও সংস্কারের আলোচনায় জরুরি। পাঠদানের পাশাপাশি তথ্য সংকলন, প্রতিবেদন, নানা কমিটির কাজ, এসব মিলিয়ে অনেক শিক্ষক শেখানোর জন্য যথেষ্ট সময় পান না। প্রতিটি নতুন সংস্কারের সঙ্গে যদি আরও কাগজপত্র যুক্ত হয়, তাহলে সংস্কার শিক্ষকের জন্য সহায়তা না হয়ে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। তাই সংস্কারের নকশা করার সময়ই জিজ্ঞেস করা দরকার, এতে শিক্ষকের সময় বাঁচবে নাকি আরও কমবে।

তবে একতরফা দাবি করলে আলোচনা অসম্পূর্ণ থাকবে। শিক্ষক হিসেবে আমাদেরও নিজেদের দিকে তাকাতে হবে। সম্মান দাবি করার আগে তা অর্জনের দায় আমাদের আছে। বিষয়ে দক্ষতা বাড়ানো, সময়ানুবর্তিতা ও সততা বজায় রাখা, শিক্ষার্থীর প্রতি সহমর্মী থাকা এবং প্রতিদিন শেখার আগ্রহ ধরে রাখা, এগুলো পেশার মর্যাদাকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে। কিছু শিক্ষকের দায়িত্বে অবহেলা পুরো পেশার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই মর্যাদা ও জবাবদিহি একে অপরের বিরোধী নয়, পরিপূরক। স্বচ্ছ মূল্যায়ন ও পেশাগত আচরণবিধি থাকলে শিক্ষকের দাবি আরও গ্রহণযোগ্য হয়।

তাহলে সংস্কারের শুরুতে কী করা দরকার। প্রথমত, যে কোনো সংস্কার প্রস্তাবের খসড়া পর্যায়েই মাঠপর্যায়ের শিক্ষকদের প্রতিনিধিত্বমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে এবং বড় পরিবর্তনের আগে সীমিত পরিসরে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের মাধ্যমে তাঁদের মতামত নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, ন্যায্য বেতন কাঠামো, স্বচ্ছ পদোন্নতি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, প্রশিক্ষণকে অধিকার হিসেবে দেখে ঢাকার বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সমান সুযোগ দিতে হবে। চতুর্থত, কারিগরি শিক্ষকদের জন্য শিল্প অভিজ্ঞতার নিয়মিত সুযোগ ও আধুনিক সরঞ্জামের ব্যবস্থা রাখতে হবে। পঞ্চমত, প্রশাসনিক বোঝা যুক্তিসংগত রাখতে হবে। ষষ্ঠত, অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য ন্যায্য ও মর্যাদাপূর্ণ প্রক্রিয়া চালু করতে হবে।

অভিভাবক ও সমাজেরও এখানে ভূমিকা আছে। শিক্ষককে হেয় করার সংস্কৃতি বদলাতে হবে, শিক্ষকের সঙ্গে অংশীদারত্বের মনোভাব গড়তে হবে। সন্তানের শিক্ষার সাফল্য ঘরে ও বিদ্যালয়ের সমন্বিত চেষ্টার ফল।কেউ বলতে পারেন, সীমিত সম্পদের দেশে সবকিছু একসঙ্গে সম্ভব নয়। কথাটি আংশিক সত্য। কিন্তু অগ্রাধিকার ঠিক করাই আসল কথা। বহু সংস্কার ব্যর্থ হয় এ কারণে নয় যে নকশা খারাপ ছিল, ব্যর্থ হয় এ কারণে যে যাঁরা তা বাস্তবায়ন করবেন, তাঁদের প্রস্তুত করা হয়নি। শিক্ষকে বিনিয়োগ করলে বাকি সব বিনিয়োগের ফলও বাড়ে। এটি ব্যয় নয়, সবচেয়ে নিশ্চিত পুঁজি।

শেষ পর্যন্ত কথাটা এই দালান গড়তে গেলে আগে ভিত গড়তে হয়। শিক্ষাব্যবস্থার ভিত হলেন শিক্ষক। সেই ভিত দুর্বল রেখে ওপরে যত সুন্দর কাঠামোই তুলি, তা টেকসই হবে না। এই বিশ্ব শিক্ষক দিবসে তাই আমাদের অঙ্গীকার হোক, সংস্কারের পরিকল্পনা শুরু করার আগে আমরা শিক্ষকের পাশে দাঁড়াব, তাঁর কথা শুনব, তাঁর অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করব। কারণ শিক্ষার ভবিষ্যৎ বদলাতে চাইলে আগে বদলাতে হবে শিক্ষকের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি।

মো. মামুন হাসান, বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সাতক্ষীরা।

 

Ads small one

আদালত প্রাঙ্গণে আইনগত সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতায় বিলবোর্ড স্থাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
আদালত প্রাঙ্গণে আইনগত সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতায় বিলবোর্ড স্থাপন
বদিউজ্জামান: ‘আইনগত সেবা পাওয়া আপনার অধিকার—নিশ্চিত করেছে সরকার’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় আইনগত সহায়তা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে বিলবোর্ডটি স্থাপন করা হয়।
বিলবোর্ড স্থাপনকালে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ নাছির উদদীন ফরাজী, চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান, লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিভিল জজ লিটন দাস, সিভিল জজ মোঃ হাসানুল বান্না, সিভিল জজ লাবিব মেজবাহ, প্যানেল আইনজীবী খায়রুল বদিউজ্জামান ও আরা সংস্থার পরিচালক আবুল কালাম আজাদ। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, সাতক্ষীরার উদ্যোগে স্থাপিত বিলবোর্ডে সরকারি আইনগত সহায়তা পাওয়ার বিভিন্ন সুযোগ ও পদ্ধতি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আর্থিকভাবে অসচ্ছল, নির্যাতিত, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষসহ নির্ধারিত শ্রেণির নাগরিকরা সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা পাওয়ার অধিকারী।
বিলবোর্ডের তথ্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে বিনামূল্যে আইনগত পরামর্শ, আইনজীবী নিয়োগ, মামলা পরিচালনা, আপস-মীমাংসা ও বিরোধ নিষ্পত্তিতে সহায়তা পাওয়া যায়। দেওয়ানি, ফৌজদারি, পারিবারিক ও অন্যান্য মামলায় প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত সহায়তার জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এমনকি চলমান মামলায়ও আইনগত সহায়তার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট আদালতের মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
এতে আইনগত সহায়তা পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নির্যাতিত নারী ও শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি, দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তি, কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত বা নির্দিষ্ট কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছলসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিলবোর্ডে সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা পেতে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে যোগাযোগের পাশাপাশি অনলাইনে আবেদন করার সুযোগের কথাও জানানো হয়েছে। জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, উপজেলা লিগ্যাল এইড অফিস এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবী সমিতির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা নেওয়া যাবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অনেক দরিদ্র ও অসহায় মানুষ আইনি অধিকার সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন। এ ধরনের জনসচেতনতামূলক উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে সরকারি আইনগত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ, আবেদন পদ্ধতি এবং লিগ্যাল এইডের বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে জানতে পারবেন।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের এ উদ্যোগের মাধ্যমে ‘অর্থের অভাবে কোনো মানুষ যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন’—এই লক্ষ্য আরও কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
বিলবোর্ডটি বাস্তবায়নে রয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আরা, সাতক্ষীরা। সহযোগিতায় রয়েছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও ট্রাইডিশন এইড, অর্থায়নে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। প্রচারে রয়েছে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, সাতক্ষীরা।

কলারোয়ায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা
কলারোয়া প্রতিনিধি: ‘শিক্ষকদের পাশে: পেশা সুরক্ষা, এর মর্যাদা বৃদ্ধি এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ার ৬০ বছর’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কলারোয়ায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে সোমবার (৫ অক্টোবর) উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম।
আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন কলারোয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শশী ভূষণ পাল। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জয়নাল আবদীন।  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন কলারোয়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর  আবু নসর, সরকারি জিকেএফ কে পাইলট হাইস্কুলের  প্রধান শিক্ষক সুদীপ বিশ্বাস, একাডেমিক সুপারভাইজার তাপস কুমার দাস, উপজেলা জামায়াতের আমীর মুহা. কামরুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত  প্রধান শিক্ষক আমানুল্লাহ আমান, প্রধান শিক্ষক আখতার আসাদুজ্জামান  প্রধান শিক্ষক সাংবাদিক রাশেদুল হাসান কামরুল, সুপার মাওলানা ওসমান গনি, শিক্ষক নেতা বাকী বিল্লাহ শাহী, সহকারী শিক্ষক আরিফুজ্জামান কাঁকন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কলারোয়া প্রেসক্লাবের যুগ্ম আহ্বায়ক এমএ সাজেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ জুলফিকারুজ্জামান জিল্লু, সাংবাদিক জাহিদুর রহমান, দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, একটি উন্নত ও মানবিক সমাজ গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান ও সহযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হারুন অর রশিদ মোল্লা।

কলারোয়ার উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়ায় এবার দুর্গাপ্রতিমায় নতুন চমক, সাদা তিলে গড়া অনন্য শিল্পকর্ম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ
কলারোয়ার উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়ায় এবার দুর্গাপ্রতিমায় নতুন চমক, সাদা তিলে গড়া অনন্য শিল্পকর্ম
কলারোয়া প্রতিনিধি: প্রতিমা নির্মাণে ব্যতিক্রমী সৃজনশীলতার জন্য ইতোমধ্যে আলাদা পরিচিতি পেয়েছে সাতক্ষীরার কলারোয়ার উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়া। দুর্গাপূজাকে ঘিরে প্রতিবছরই নতুন কোনো শিল্পভাবনা নিয়ে হাজির হন এখানকার প্রতিমাশিল্পী ও পূজা আয়োজকরা। এরই ধারাবাহিকতায় এবার দেশীয় খাদ্যশস্য সাদা তিলের আবরণে তৈরি করা হয়েছে দুর্গাপ্রতিমা। অভিনব এই শিল্পকর্ম দেখতে প্রতিদিনই পূজামণ্ডপে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
কলারোয়া পৌরসভাধীন উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়া সর্বজনীন পূজামণ্ডপে এবার দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ, কার্তিক, অসুর ও মহিষাসুরসহ মোট ১৬টি প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি প্রতিমার গায়ে বিশেষ পদ্ধতিতে বসানো হচ্ছে সাদা তিল। সব মিলিয়ে প্রতিমাগুলোতে প্রায় ২৫ কেজি সাদা তিল ব্যবহার করা হচ্ছে।
এর আগে ২০২৩ সালে চিনিগুঁড়া ধান দিয়ে এবং গত বছর পাটের আঁশ ব্যবহার করে প্রতিমা নির্মাণ করে চমক সৃষ্টি করেছিল পালপাড়া পূজামণ্ডপ। সেই ধারাবাহিকতায় এবার সাদা তিলের মোড়কে প্রতিমা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিমাগুলো নির্মাণের মূল কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। এখন প্রতিমার শরীরে আঠা দিয়ে একেকটি করে সাদা তিল বসানোর সূক্ষ্ম কাজ চলছে। তালুতে তিল নিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় বসিয়ে দেওয়ার এই কাজ অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও শ্রমসাধ্য। প্রতিটি তিল সঠিকভাবে বসিয়ে প্রতিমার শরীরে নান্দনিক নকশা ফুটিয়ে তুলতে প্রয়োজন হচ্ছে ধৈর্য, নিখুঁত হাতের কাজ ও শিল্পীর দক্ষতা।
প্রতিমাশিল্পী খুলনার পাইকগাছার কপিলমুনির বাসিন্দা প্রহ্লাদ বিশ্বাস জানান, প্রতিমা নির্মাণ, তিল বসানো ও রঙের কাজ শেষ করতে সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ দিন সময় লাগছে। তিনি চার সহকর্মীকে নিয়ে দিনরাত কাজ করছেন। তিল বসানোর কাজ শেষ করতে আরও দুই দিন সময় লাগতে পারে।
তিনি বলেন, “পরিষ্কার সাদা তিল হাতের তালুতে নিয়ে প্রতিমার গায়ে একে একে বসিয়ে দেওয়ার কাজটি বেশ কঠিন। প্রতিটি তিল সঠিকভাবে স্থাপন করতে যথেষ্ট সময় ও শ্রম দিতে হয়।”
পূজা মণ্ডপ কমিটির কোষাধ্যক্ষ অশ্বিন পাল জানান, এবার প্রতিমা নির্মাণ ও মণ্ডপসজ্জাসহ সব মিলিয়ে পাঁচ লাখ টাকারও বেশি খরচ হচ্ছে। তিনি বলেন, পাটের আঁশ দিয়ে প্রতিমা তৈরির পর এবারও নতুন কিছু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। পূজা মণ্ডপের দায়িত্বশীলদের আলোচনার মাধ্যমে সাদা তিলের মোড়কে প্রতিমা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, “কলারোয়া উপজেলার মধ্যে আমরাই প্রতিবার নতুন কিছু করে দেখানোর চেষ্টা করি। এবারও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সাদা তিল দিয়ে প্রতিমা সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
পূজা মণ্ডপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক প্রদীপ পাল বলেন, সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার ফলেই এই ব্যতিক্রমী কাজ সম্ভব হয়েছে। চিনিগুঁড়া ধান ও পাটের আঁশ দিয়ে তৈরি প্রতিমা দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও প্রশংসা পেয়েছিল। এবার দেশীয় খাদ্যশস্য সাদা তিল দিয়ে তৈরি প্রতিমাটিও মানুষের নজর কাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পালপাড়া পূজামণ্ডপ কমিটির নেতৃবৃন্দের মতে, সাদা তিল দিয়ে প্রতিমা সাজানো শুধু একটি ব্যতিক্রমী শিল্পপ্রয়াস নয়; এর মাধ্যমে কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের মাটি, শস্য, শিকড় ও ঐতিহ্যকেও তুলে ধরা হচ্ছে। দেশীয় উপকরণকে শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করে নতুন প্রজন্মের সামনে লোকজ সৃজনশীলতার একটি ভিন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করাই তাদের লক্ষ্য।
উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি বাবু প্রকাশ হালদার জানান, এ বছর কলারোয়া উপজেলায় ৪৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। এর মধ্যে উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়া পূজামণ্ডপে সাদা তিলের আবরণে তৈরি ব্যতিক্রমী প্রতিমা ইতোমধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের নজর কেড়েছে।
ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগে একদিকে যেমন ফুটে উঠেছে প্রতিমাশিল্পীদের নিপুণ হাতের কারুকাজ, অন্যদিকে দেশীয় খাদ্যশস্য সাদা তিল পেয়েছে এক অনন্য শিল্পরূপ। ফলে এবারের দুর্গাপূজায় উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়া হয়ে উঠেছে সৃজনশীলতার এক আকর্ষণীয় কেন্দ্র।