মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

শিশু অধিকার দিবসে শিশুদের ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪৮ অপরাহ্ণ
শিশু অধিকার দিবসে শিশুদের ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত

এম. এম হায়দার আলী

একটি শিশুর হাসির চেয়ে নির্মল দৃশ্য পৃথিবীতে খুব কমই আছে। সেই হাসির মধ্যে থাকে একটি পরিবারের স্বপ্ন, একটি সমাজের সম্ভাবনা এবং একটি দেশের আগামী দিনের প্রতিচ্ছবি। আজকের শিশু আগামী দিনের নাগরিক-কেউ হবে শিক্ষক, কেউ চিকিৎসক, কেউ প্রকৌশলী, কেউ সাংবাদিক, কেউ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবে। তাই শিশুদের নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্মাণেরও অন্যতম প্রধান শর্ত।

শিশু অধিকার দিবস-২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি সেই জায়গা থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত হলে ১৫০ জন শিশু ফুল দিয়ে তাকে বরণ করে নেয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য-‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি নিঃসন্দেহে এমন একটি আয়োজনে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বের প্রতিফলন ঘটায়। তবে এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই আয়োজন থেকে শিশুদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে রাষ্ট্র কী ধরনের বাস্তব অঙ্গীকার গ্রহণ করে এবং সেই অঙ্গীকার কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়। কারণ শিশুদের ভবিষ্যৎ কেবল একটি দিনের অনুষ্ঠান, বক্তব্য কিংবা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি প্রতিদিনের রাষ্ট্রীয় নীতি ও সামাজিক দায়িত্বের সঙ্গে জড়িত। শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’Ñপ্রতিপাদ্যটি তাই অত্যন্ত সময়োপযোগী। কারণ শিশুর ভবিষ্যৎ বলতে শুধু তার হাতে বই তুলে দেওয়া বোঝায় না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার নিরাপদ ঘুম, পুষ্টিকর খাবার, মানসম্মত শিক্ষা, চিকিৎসার অধিকার, খেলাধুলার সুযোগ, নির্মল পরিবেশ, নিরাপদ চলাচল, সাইবার নিরাপত্তা, মানসিক সুস্থতা এবং ভয়মুক্তভাবে বেড়ে ওঠার অধিকার।

 

আমরা প্রায়ই বলি-‘শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ। কিন্তু নিজেদের কাছে প্রশ্ন রাখতে হবে, সেই ভবিষ্যৎকে আমরা কতটা নিরাপদ করে তুলতে পেরেছি ? একদিকে রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত শিশুদের নিয়ে নানা আয়োজন হচ্ছে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে, ছবি আঁকা হচ্ছে, স্মারক উপহার দেওয়া হচ্ছে, স্মরণিকা প্রকাশিত হচ্ছে। অন্যদিকে দেশের কোনো কোনো প্রান্তে এখনো এমন শিশু আছে, যার কাছে বিদ্যালয়ে যাওয়ার চেয়ে দুবেলা খাবারের ব্যবস্থা করাই বড় চ্যালেঞ্জ। কেউ শ্রমে যুক্ত হচ্ছে, কেউ বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ছে, কেউ বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে, কেউ নির্যাতনের ভয় নিয়ে বেড়ে উঠছে। আবার কেউ মাদক, সহিংসতা, সাইবার অপরাধ কিংবা মানব পাচারের ঝুঁকিতে পড়ছে। এই বৈপরীত্য আমাদের ভাবায়। একটি রাষ্ট্র তখনই সত্যিকার অর্থে উন্নত হয়, যখন উন্নয়নের সুফল সমাজের সবচেয়ে অসহায় শিশুটির কাছেও পৌঁছে যায়। শহরের নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিশু যেমন সুযোগ পাবে, প্রত্যন্ত চর, উপকূল, নদীভাঙন কিংবা দুর্গম এলাকার শিশুটিও তেমন সুযোগ পাবে,এটাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের লক্ষ্য।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তিও এই আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। অর্ধশতাব্দী ধরে প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের সৃজনশীলতা, সংস্কৃতি ও মানসিক বিকাশে ভূমিকা রেখে আসছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে শিশুর পৃথিবীও বদলে গেছে। একসময় শিশুর বিনোদনের প্রধান মাধ্যম ছিল মাঠ, গল্পের বই, রেডিও কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এখন শিশুর হাতে স্মার্টফোন, সামনে ইন্টারনেট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন পৃথিবী। তাই শিশু অধিকার রক্ষার সংজ্ঞাটিও এখন আরও বিস্তৃত।
একটি শিশুকে শুধু শারীরিক নির্যাতন থেকে রক্ষা করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; তাকে অনলাইন হয়রানি, সাইবার বুলিং, প্রতারণা, অনলাইন আসক্তি ও ডিজিটাল অপরাধ থেকেও সুরক্ষা দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির সুফল ব্যবহারের সুযোগও দিতে হবে।

 

প্রযুক্তিকে ভয় দেখিয়ে দূরে রাখা নয়, বরং নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের শিক্ষা দেওয়া এখন সময়ের দাবি। শিশুর অধিকার মানে তার কথা বলার অধিকারও। শিশুকে শুধু নির্দেশ পালনকারী হিসেবে দেখলে চলবে না। তার স্বপ্ন কী, সে কী হতে চায়, কোন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে,সেসব কথাও শুনতে হবে। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিশুদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়ের যে কর্মসূচি রয়েছে, তার গুরুত্ব এখানেই। রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারকেরা যদি শিশুদের সরাসরি কথা শোনেন, তাহলে বাস্তব সমস্যাগুলো বোঝার সুযোগ আরও বাড়ে। তবে সেই মতবিনিময়ের সবচেয়ে বড় সার্থকতা হবে তখনই, যখন শিশুদের উত্থাপিত বিষয়গুলো নীতি ও বাস্তব কর্মসূচিতে প্রতিফলিত হবে।

শিশুর জন্য নিরাপদ পরিবেশও জরুরি। স্কুলে যাওয়া-আসার নিরাপত্তা, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো, নিরাপদ খেলার মাঠ, সড়কে নিরাপদ চলাচল,এসবও শিশু অধিকারের অংশ। শহরের অনেক এলাকায় খেলার মাঠ সংকুচিত হচ্ছে। গ্রামের অনেক শিশুরও নিরাপদ খেলাধুলার জায়গা নেই। অথচ খেলাধুলা কোনো বিলাসিতা নয়; শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের অপরিহার্য অংশ। শিক্ষার ক্ষেত্রেও আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করানোই শিক্ষার উদ্দেশ্য হতে পারে না।

 

একজন শিশুকে মানবিক, সৎ, দায়িত্বশীল, বিজ্ঞানমনস্ক ও সহনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই শিক্ষার বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত। তার প্রশ্ন করার অধিকার থাকতে হবে, ভুল থেকে শেখার সুযোগ থাকতে হবে এবং ভিন্নমতকে সম্মান করার শিক্ষা থাকতে হবে। অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিশুদের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব দাবি করে। একটি শিশু কোন পরিবারে জন্মেছে, সেটি তার নিজের পছন্দ নয়। তাই পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কোনো শিশু যেন শিক্ষা, চিকিৎসা, পুষ্টি কিংবা নিরাপদ শৈশব থেকে বঞ্চিত না হয়,এ দায়িত্ব রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়ের।

বিশেষ করে পথশিশু, প্রতিবন্ধী শিশু, এতিম, সুবিধাবঞ্চিত শিশু, শ্রমে নিয়োজিত শিশু এবং দুর্যোগপ্রবণ এলাকার শিশুদের জন্য আরও কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচি প্রয়োজন। শুধু নীতিমালা তৈরি করলেই হবে না; সেই নীতিমালার বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
শিশু অধিকার দিবস তাই শুধু ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর দিন নয়। এটি নিজেদের কাছে একটি প্রশ্ন করার দিনÑআমরা কি সত্যিই আমাদের শিশুদের প্রাপ্য অধিকার দিতে
পারছি ? একটি শিশু যখন ক্ষুধার্ত থাকে, তখন তার কাছে সুন্দর বক্তৃতার মূল্য কম। একটি শিশু যখন বিদ্যালয়ে যেতে পারে না, তখন তার হাতে স্মারক তুলে দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। একটি শিশু যখন নির্যাতনের শিকার হয়, তখন তার জন্য শুধু সহানুভূতি নয়,দ্রুত বিচার, মানসিক সহায়তা ও কার্যকর সুরক্ষা প্রয়োজন। একটি শিশু যখন বাল্য বিবাহের মুখে পড়ে, তখন পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে। শিশুর অধিকার বাস্তবায়নে তাই প্রয়োজন রাষ্ট্র, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ববোধ। প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকদের কাছে এই দিবসের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হতে পারে, শিশুদের নিয়ে ঘোষিত প্রতিটি অঙ্গীকার যেন বাস্তব কর্মসূচিতে রূপ নেয়। কারণ একটি শিশুর ভবিষ্যৎ নিরাপদ করার কাজ কোনো একক ব্যক্তি বা সরকারের একার দায়িত্ব নয়; তবে রাষ্ট্রের নীতি ও নেতৃত্ব এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আজকের শিশু আগামী দিনের বাংলাদেশ। তাদের চোখে যে স্বপ্ন, সেই স্বপ্নের ওপরই দাঁড়িয়ে থাকবে আগামী দিনের রাষ্ট্র। তাই শিশুর হাতে বই তুলে দেওয়ার পাশাপাশি তার পাশে নিরাপদ পরিবার তৈরি করতে হবে, মানসম্মত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে, খেলাধুলার মাঠ দিতে হবে এবং তাকে ভয়মুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে।

শিশু একাডেমির ৫০ বছরের পথচলা আমাদের অতীতের কথা মনে করিয়ে দেয়। আর শিশু অধিকার দিবস আমাদের ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে শেখায়। সেই ভবিষ্যৎ যেন কেবল অনুষ্ঠানের মঞ্চে উচ্চারিত সুন্দর শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে; তা যেন প্রতিটি শিশুর জীবনে বাস্তব অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

আমাদের প্রত্যাশা একটাই, শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সত্যিই সুরক্ষিত। শিশুর অধিকার হোক কাগজের অঙ্গীকার নয়, বাস্তব জীবনের নিশ্চয়তা। কারণ আজকের শিশুকে আমরা যেমন বাংলাদেশ দেব, আগামীকাল সেই শিশুই আমাদের তেমন বাংলাদেশ ফিরিয়ে দেবে। শিশুর হাসি বাঁচুক, শৈশব বাঁচুক,সুরক্ষিত হোক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Ads small one

গৃহযুদ্ধের ঝুঁকিতে ইসরায়েল: সিআইএ’র গোপন প্রতিবেদন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ণ
গৃহযুদ্ধের ঝুঁকিতে ইসরায়েল: সিআইএ’র গোপন প্রতিবেদন

তীব্র অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দল ও সামাজিক মেরুকরণের কারণে চরম অস্থিতিশীলতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইসরায়েল। এমনকি দেশটি গৃহযুদ্ধ বা অভ্যন্তরীণ ধসের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র একটি প্রতিবেদন। ড্রপ সাইট নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে সোমবার সিআইএ’র গত আগস্টের এই গোপনীয় মূল্যায়নের বিষয়টি সামনে আনা হয়।

‘ফ্র্যাকচার ফ্রম উইদিন’ (ভেতর থেকে ভাঙন) শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসরায়েলে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বাঁচানোর লড়াইয়ে নেমেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিভাজনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কট্টর অর্থোডক্স খ্রিষ্টানদের সামরিক পরিষেবা থেকে ছাড় পাওয়ার বিষয়টি। গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইরানে যুদ্ধের জন্য লাখ লাখ রিজার্ভ সেনাকে তলব করা হলেও ইয়েশিভায় ধর্মীয় শিক্ষার অজুহাতে আল্ট্রা-অর্থোডক্স পুরুষরা ঐতিহ্যগতভাবেই এই বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পেয়ে আসছেন। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় এ ছাড় বাতিলের চাপ বেড়েছে। তবে নেতানিয়াহুর জোট সরকার তাদের সামরিক নিয়োগ সংক্রান্ত আইন পাসে ব্যর্থ হয়েছে, যা সামরিক পরিষেবা এড়ানোর অভিযোগে একাধিক তরুণকে আটক ও বিশাল বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এতে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের মিত্র ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) ও শাস পার্টি ক্ষুব্ধ হয়েছে।

সিআইএ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধ শেষে হাজার হাজার সশস্ত্র সেনা ও রিজার্ভ সদস্যের বেসামরিক জীবনে ফিরে আসা অস্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে। কারণ ইসরায়েলে রিজার্ভে থাকা সেনারা বাড়িতেও অস্ত্র রাখতে পারেন এবং প্রকাশ্যে অস্ত্র বহন সেখানে স্বাভাবিক ঘটনা। এ ছাড়া দখলকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধি, খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ও সামরিক ব্যয়ের কারণে অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে তুলছে।

সিআইএ’র ‘রেড সেল’ নামে একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত ইউনিট এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে, যার কাজ মূলধারার ধারণার বাইরে গিয়ে বিকল্প ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা। প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনে নেতানিয়াহু বা তার বিরোধী জোট কেউই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নাও পেতে পারে। বিদেশি প্রযুক্তি ও এআই প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ কমানো কিংবা আঞ্চলিক দেশগুলোর ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করার সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।

তবে প্রতিবেদনে ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিকের ভেতরের অসন্তোষের বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এদিকে গত শুক্রবার ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট প্রার্থিতা বাতিলের আভাস দেওয়ায় এক ফিলিস্তিনি রাজনীতিক নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, যদিও অন্য চারটি দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে আদালত।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

২০২৭ সালে স্বর্ণের দাম নিয়ে ওয়াল স্ট্রিট ও বাবা ভাঙ্গার পূর্বাভাসে কী আছে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ণ
২০২৭ সালে স্বর্ণের দাম নিয়ে ওয়াল স্ট্রিট ও বাবা ভাঙ্গার পূর্বাভাসে কী আছে?

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম অব্যাহতভাবে বেড়ে চলায় সাধারণ ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের নজর এখন এই মূল্যবান ধাতুর দিকে। বাজার বিশ্লেষকদের পাশাপাশি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে বুলগেরিয়ার প্রয়াত অন্ধ জ্যোতিষী বাবা ভাঙ্গার এক কথিত বার্তা। দাবি করা হচ্ছে, ২০২৭ সালে বিশ্বজুড়ে চরম নগদ অর্থসংকট ও আর্থিক মন্দা দেখা দেবে, যার ফলে ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা কমে যাবে এবং বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের দিকে ঝুঁকবেন।

ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া পোস্ট অনুযায়ী, এই বৈশ্বিক সংকটকালে স্বর্ণের দাম ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। ভারতভিত্তিক কয়েকটি অনলাইন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৭ সালে ভারতে প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম হতে পারে ২ লাখ ৬২ হাজার থেকে ২ লাখ ৮২ হাজার রুপি (২,৭৩৩ থেকে ২,৯৪২ ডলার)। আরেকটি সংস্করণে এই দাম ২ লাখ ১০ হাজার রুপির কাছাকাছি হতে পারে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এগুলো কোনও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পূর্বাভাস নয়। বুলগেরিয়ার এই রহস্যদর্শীর নামে প্রচারিত আনুমানিক হিসাব মাত্র। কারণ বাবা ভাঙ্গা নিজে কোনও লিখিত নথি রেখে যাননি; তার অধিকাংশ ভবিষ্যতবাণীই দ্বিতীয় ব্যক্তির মাধ্যমে বা পরে প্রকাশিত বইয়ের মাধ্যমে সামনে এসেছে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাগুলোও ২০২৭ সালের জন্য স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির আভাস দিয়েছে। জেপি মরগান গ্লোবাল রিসার্চ-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ প্রান্তিকে স্বর্ণের গড় দাম দাঁড়াতে পারে আউন্স প্রতি ৬,০০০ ডলারে (প্রতি ১০ গ্রামে ২,১১৬.৪৪ ডলার বা ১,৮৪,৮৮৩ রুপি)। আর ২০২৭ সালের শেষের দিকে তা আরও বেড়ে আউন্স প্রতি ৬,৩০০ ডলার (প্রতি ১০ গ্রামে ২,২২২ ডলার বা ২,১৩,১২৫ রুপি) ছুঁতে পারে।

ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর চাহিদাকে এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া ইউবিএস জানিয়েছে, ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে স্বর্ণের দাম আউন্স প্রতি ৫,০০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে এবং ডয়চে ব্যাংক ২০২৬ সালের শেষ প্রান্তিকের জন্য আউন্স প্রতি ৪,৬০০ ডলারের লক্ষ্যমাত্রা ধরে রেখেছে।

১৯১১ সালে জন্ম নেওয়া ভাংগেলিয়া প্যান্ডেভা দিমিত্রোভা বা বাবা ভাঙ্গা ১২ বছর বয়সে এক টর্নেডোর কবলে পড়ে দৃষ্টিশক্তি হারান। ৯/১১ হামলা, চেরোনবিল দুর্ঘটনা, প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যু, ২০০৪ সালের সুনামির মতো ঘটনার আগাম আভাস দেওয়ার জন্য তার সমর্থকরা দাবি করেন, তার ৮৫ শতাংশ ভবিষ্যতবাণীই সত্যি হয়েছে; যদিও এর কোনও স্বাধীন সত্যায়ন মেলেনি।

সূত্র: উইয়ন নিউজ

সম্পাদকীয়/ বেওয়ারিশ প্রাণীর উপদ্রব ও জলাতঙ্ক ঝুঁকি: কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ বেওয়ারিশ প্রাণীর উপদ্রব ও জলাতঙ্ক ঝুঁকি: কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি

খুলনার পাইকগাছাসহ বিভিন্ন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুর, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড় ও আঁচড়ে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত মাত্র দুই মাসে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন নিতে বাধ্য হয়েছেন ৭৩৯ জন লোক। প্রতিদিন গড়ে বেশ কয়েকজন মানুষÑবিশেষ করে শিশু ও প্রবীণরা বেওয়ারিশ প্রাণীর আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বাভাবিক চলাচলে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

পরিস্থিতি কেবল আতঙ্কজনকই নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মারাত্মক হুমকির ইঙ্গিত বহন করে। জলাতঙ্ক একটি অত্যন্ত মারণব্যাধি, যা সময়মতো প্রতিরোধ বা চিকিৎসা না করালে পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আক্রান্তদের চিকিৎসা প্রদান এবং জলাতঙ্কের প্রতিষেধক সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করলেও মূল সমস্যার কোনো সমাধান হচ্ছে না। বেওয়ারিশ কুকুর ও বিড়ালের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং এদের মাধ্যমে জলাতঙ্ক ছড়ানো রোধে কার্যকর উদ্যোগের অভাব স্পষ্ট।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেওয়ারিশ প্রাণীদের বন্ধ্যাত্বকরণ কিংবা সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমন্বিত কর্মসূচি দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের মতে, সরকারি পর্যায়ে প্রাণীদের প্রয়োগের জন্য জলাতঙ্ক প্রতিষেধক টিকা তৈরির সুযোগ না থাকায় পোষা প্রাণীর দায়িত্ব মালিকদের ওপরই বর্তায়। কিন্তু মাঠপর্যায়ে সড়ক বা পাড়া-মহল্লায় ঘুরে বেড়ানো হাজার হাজার বেওয়ারিশ প্রাণীর টিকার ব্যবস্থা কে করবেÑসেই প্রশ্নের উত্তর মিলছে না।
এই সংকট কাটিয়ে উঠতে স্থানীয় পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে। জাতীয় জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচির আওতায় এনে বেওয়ারিশ কুকুরদের গণ-টিকা প্রদান এবং বন্ধ্যাত্বকরণ কর্মসূচি জোরদার করা অত্যন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে গৃহপালিত ও পোষা প্রাণীদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

যেকোনো প্রাণীর আক্রমণের শিকার হলে অবহেলা না করে ক্ষতের স্থান অন্তত ১৫ মিনিট সাবান ও পানি দিয়ে ধোয়া এবং দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সম্পূর্ণ মেয়াদের ভ্যাকসিন গ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। পাইকগাছার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী পদক্ষেপে এগিয়ে আসবেÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।