শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩

শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ: ‘আইনি পন্থায়’ পর্যালোচনার কথা জানালো ভারত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ
শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ: ‘আইনি পন্থায়’ পর্যালোচনার কথা জানালো ভারত

চব্বিশের গণ-আন্দোলনে ক্ষমতা হারিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ ‘আইনি ও বিচারিক পন্থায়’ পর্যালোচনা করছে ভারত। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত সরকার বর্তমানে আইনি বাধ্যবাধকতা এবং আঞ্চলিক কূটনীতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার এক জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মুখপাত্রের এই অবস্থান সেই জটিল পরিস্থিতিরই প্রতিফলন।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অনেকটা তলানিতে পৌঁছালেও, বর্তমানে নরেন্দ্র মোদি সরকার বাংলাদেশের বর্তমান তারেক রহমানের সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সম্পর্ক পুনরায় স্বাভাবিক পর্যায়ে ফেরানোর এই চেষ্টার মাঝেই শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়টি বড় একটি ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফরকালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি পুনরায় উত্থাপন করেন।

এই অনুরোধের প্রেক্ষিতে ভারতের অবস্থান জানতে চাওয়া হলে জয়সওয়াল বলেন, “চলমান বিচারিক এবং অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে (বাংলাদেশের) অনুরোধটি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকবো এবং সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছি।”

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির ২১ দফা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির ২১ দফা

১. সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমসহ আগামী শিক্ষা বর্ষ থেকে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করতে হবে।

২. সাতক্ষীরা মুন্সিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত রেল লাইন নির্মাণ কাজ দ্রুত শুরু করতে হবে।

৩. আয়তন ও জনসংখ্যা বিবেচনায় সাতক্ষীরায় আরো একটি উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রমঃ বাস্তবায়ন করতে হবে।

৪. অবিলম্বে ভোমরা স্থলবন্দর পূর্ণাঙ্গরূপে এবং বসন্তপুর নৌবন্দর চালুর দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

৫. সাতক্ষীরায় জেলা সদরসহ সকল উপজেলায় আধুনিক মানের স্টেডিয়াম, ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ করতে হবে।

৬. জেলার পর্যটন শিল্প বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিতে হবে। সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের অভ্যন্তরে একাধিক পর্যটন স্পট নির্মাণ করতে হবে এবং সাতক্ষীরা রেঞ্জের নিকটবর্তি এলাকাকে পর্যটন এলাকা ঘোষণা করতে হবে। সুন্দরবনের সম্পদ ভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলে সুন্দরবনের উপর জেলে বাওয়ালি মাওয়ালিদের নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে হবে।

৭. অবিলম্বে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু, ও ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টার স্থাপন করতে হবে। জনবলসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধান করতে হবে। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

৮. সাতক্ষীরায় বেকার সমস্যা সমাধানে শ্রমঘন বিশেষ শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা ও শিল্প কলকারখানা গড়ে তুলতে হবে। সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলকে আধুনিকায়ন করে চালু করতে হবে। আইটি পার্ক গড়ে তুলতে হবে।

৯. জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনার আওতায় সাতক্ষীরার সকল উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতঃ জেলার সকল স্থানে লবনাক্ত, আর্সেনিক ও আয়রণমুক্ত নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে হবে।

১০. শহরে বাস ও ট্রাক টার্মিনাল স্থাপন, বিআরটিসির বাস সংখ্যা বাড়ানো, সাতক্ষীরা থেকে সরাসরি শ্যামনগর পর্যন্ত যাত্রীবাহী বাস চলাচলের প্রতিবন্ধকতা নিরসনসহ শহরে সিটি সার্ভিস চালু করতে হবে।

১১. সাতক্ষীরা বাইপাস সড়কের মেডিকেল কলেজের অংশটি লিংক রোড় হিসেবে চালু রেখে মূল সড়কটি বাইপাস হয়ে আলিপুর চেকপোস্টে ভোমরা সড়কের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। খ) সাতক্ষীরা শহরের প্রধান সড়কটি চার লেনে উন্নীতকরে জেলায় চলাচলে অযোগ্য রাস্তাঘাট সংস্কার ও পুন:নির্মাণ করতে হবে। গ) আশাশুনির সাথে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাতক্ষীরা শহরের পূর্বাংশে প্রস্তাবিত বাইপাস সড়ক দ্রুত নির্মাণ করতে হবে। ঘ) ঢাকার সাথে সাতক্ষীরার দুরত্ব কমিয়ে আনতে মাওয়া-ভাঙ্গা-নড়াইল-বসুন্দিয়া-চুকনগর-সাতক্ষীরা সড়ক নির্মাণ করতে হবে।

১২. মানুষের চাহিদা ও প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে জেলার বিভিন্ন ফিডার রোডে চলাচলরত হাজার হাজার ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও ইঞ্জিন ভ্যানের আধুনিকায়ন করতে হবে। স্থানীয়ভাবে এগুলোর চলাচলের লাইসেন্স দিতে হবে। চালকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তাদেরকে হয়রানী করা বন্ধ করতে হবে।

১৩. জেলার সাথে সকল উপজেলার সরাসরি যাতায়াতের জন্য আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন পরিবহন ব্যবস্থা ও নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে হবে। পুরাতন, ফিটনেস বিহীন, অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে হবে।

১৪. আম-কুল-লিচু-পেয়ারাসহ বিভিন্ন মৌসুমী ফলের ক্রয় বিক্রয় এর জন্য সুনির্দিষ্ট কৃষি বাজার নির্মাণ করতে হবে। বিভিন্ন ফল, শাক-সবজী ও দুধ সংরক্ষণের জন্য চাহিদা অনুযায়ী উপজেলায় আধুনিক হিমাগার ও সংরক্ষণাগার নির্মাণ ও কৃষিভিত্তিক ইকোভিলেজ মার্কেট স্থাপন করতে হবে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে নিরাপদ ও স্বল্প খরচের পরিবহন ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

১৫. শিশুর বিকাশের জন্য জেলা সদর ও প্রত্যেক উপজেলা সদরে শিশুপার্ক নির্মাণ করতে হবে। সকল সরকারী অফিস ও পাবলিক প্লেসে ব্রেস্ট ফিডার কর্নার স্থাপন করতে হবে। যানবাহনে নারী, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণদের জন্য আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

১৬. সাতক্ষীরা’র সকল পূরাকীর্তি সংরক্ষণসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল স্মৃতিবিজড়িত স্থান, বধ্যভূমি, গণকবর সংরক্ষণে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

১৭. ক) সাতক্ষীরা জেলার উন্নয়ন মাষ্টার প্লান এবং সাতক্ষীরা পৌরসভার নতুন মাস্টার প্লান করতে হবে।

খ) নতুন ভবন নির্মাণের সময় চলাচলের পর্যাপ্ত রাস্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখতে হবে।

গ) শহরের সকল রাস্তা প্রসস্ত করতে হবে। ফুটপাথ রাখতে হবে। গুরুত্বপূর্ণস্থানে ওভারপাস নির্মাণ করতে হবে।

ঘ) প্রাণ সায়ের খালের দু’পাশে যোগাযোগ সহজ করতে ইটাগাছা কর্মকারপাড়া ও সাবেক পৌর মেয়র এমএ জলিলের বাড়ির সামনে, পাসপোট অফিসের সামনে আরো একাধিক ব্রীজ নির্মাণ, এসব ব্রীজ সংলগ্ন গলিপথগুলো সম্প্রসারণের উদ্যোগ এবং প্রধান সড়কগুলো ডিভাইডার দিয়ে দুই ও চার লেন করতে হবে।

ঙ) ইটাগাছা হাট, পুরাতন সাতক্ষীরা হাট, কদমতলা হাট ও সাতক্ষীরা বড়বাজার প্রসস্ত ও নতুন বহুতল ভবন নির্মাণ করে আধুনিক হাট-বাজারে রূপান্তরিত করতে হবে।

চ) শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক দখলমুক্ত ও ব্যবহারের উপযোগী করতে হবে।

ছ) জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য সাতক্ষীরা অডিটরিয়ামের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ ও খেলার মাঠ করতে হবে।

জ) শহরে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন ও গণ-শৌচাগার নির্মাণ করতে হবে।

ঝ) শহরে শিশু পার্ক ও একাধিক হকার্স মার্কেট গড়ে তুলতে হবে।

১৮. প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নদী ভাঙ্গন ও জলাবন্ধতা কবলিত সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকাকে ‘দুর্যোগ প্রবণ এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা এবং সুন্দরবন উপকূলের উন্নয়নে পৃথক বোর্ড ও মন্ত্রণালয় গঠন করতে হবে। সুন্দরবন সংলগ্ন এই এলাকার উন্নয়নে পৃথক অথরিটি গঠন করতে হবে। দুর্যোগের কারণে এই এলাকা থেকে ব্যাপকহারে অভিবাসন বন্ধ করতে বিশেষ বরাদ্দ ও অর্থনৈতিক প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। জলাবদ্ধ ও ভাঙ্গন কবলিত এলাকার দরিদ্র মানুষের জন্য স্থায়ী রেশনের ব্যবস্থা করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগকে মাথায় রেখে স্থায়ী, মজবুত ও টেকসই বেড়িবাঁধ পুন:নির্মাণ করতে হবে। সামগ্রীক উন্নয়ন অংশিদার সুনির্দ্দিষ্ট এসডিজি অর্জনে অগ্রধিকার ভিত্তিতে গৃহীত ডেল্টা ও ব্লু প্লানের আওতায় টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।

ক) বেড়িবাঁধের নদীর সাইটে পর্যাপ্ত জায়গা রাখতে হবে এবং সেখানে বৃক্ষরোপণ করতে হবে।

খ) লোকালয় সাইডে বেড়িবাঁধ ও কাঁচা-পাকা যে কোন সড়ককে চিংড়ি ঘেরের বাঁধ হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে এবং বেড়িবাঁধ ও ঘেরের বাঁেধর মধ্যবর্তি স্থানে বৃক্ষরোপন করতে হবে।

গ) যেসব স্থানে বারবার বাঁধ ভাঙছে সেইসব স্থান চিহ্নিত করে সেখানে ভাঙ্গন প্রতিরোধক স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে।

ঘ) বাঁধ নির্মাণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব জমি না থাকলে ক্ষতিপূরণ দিয়ে জমি অধিগ্রহণ করতে হবে।

ঙ) বাঁধের নিচে ১০০ ফুট এবং সেই অনুপাতে উচ্চতা ও উপরে চওড়া করতে হবে।

চ) বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জরুরী তহবিল গঠন ও বাঁধ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সরকারকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

জ) জলবায়ু পরিবর্তনকে একমাত্র কারণ হিসেবে চিহ্নিত না করে এই এলাকায় প্রতিনিয়ত নদী ভাঙ্গন ও জলাবন্ধতার কারণ অনুসন্ধানে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করতে হবে এবং মনুষ্য সৃষ্ট কারণগুলো চিহ্নিত করে তা নিরসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

ঝ) উপকূলীয় সকল মানুষের খাবার পানির টেকসই ও স্থায়ী সমাধান করতে হবে। অন্যান্য প্রাণিকূলের জন্য মিষ্টি পানির আধার গড়ে তুলতে হবে ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণে সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী কর্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

ঞ) দুর্যোগ প্রবণ এলাকাগুলোতে জেন্ডার ফ্রেন্ডলি সকল সুবিধা সহ পর্যাপ্ত আশ্রয় কেন্দ্রসহ মাটির কেল্লা তৈরী করতে হবে।

১৯. ক) জেলার সকল নদী-খালের জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ যতদুর সম্ভব পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সকল বাধা অপসারণ করতে হবে।

খ) সিএস ম্যাপ অনুযায়ী নদী-খালের সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করতে হবে এবং উদ্ধারকৃত জমি ইজারা দেওয়া যাবে না। নতুন করে আর কোন অপ্রয়োজনীয় স্লুইস গেট ও ক্লোজার নির্মাণ করা যাবে না।

গ) গ্রাম-শহরের পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় এমন স্থানে চিংড়ি চাষ বন্ধ করতে হবে।

ঘ) ইছামতি নদীর সাথে মরিচ্চাপ-খোলপেটুয়া নদীর সংযোগ স্থাপনকারী কুলিয়ার লাবণ্যবতি ও পারুলিয়ার সাপমারা খালের দু’পাশের স্লুইস গেট অপসারণ করে জোয়ার-ভাটা চালু করতে হবে।

ঙ) ইছামতি থেকে মাদার নদীর (আদি যমুনা) প্রবাহ স্বাভাবিক করতে হবে।

চ) নিচু বিলগুলো উচু করতে টিআরএম করতে হবে।

ছ) সাতক্ষীরা শহরের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত প্রাণসায়র খালের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে ও বেতনা ও মরিচ্চাপের সাথে সংযুক্ত করতে হবে।

জ) নদী খালের নেট-পাটা অপসারণ করতে হবে।

২০. চিংড়ি চাষের কারণে প্রান্তিক কৃষকের জমি হারানো রোধ করতে হবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভূমিহীনদের মধ্যে খাসজমি বন্দোবস্ত দিতে হবে।

২১. জেলার প্রতিটি উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ক) কালিগঞ্জে বিদ্যুৎ সাব স্টেশন ও বিদ্যুৎ উদপাদন কেন্দ্র নির্মাণ করতে হবে। খ) শ্যামনগরের গাবুরা ও পদ্মপুকুর এবং কয়রা উপজেলার সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে একাধিক ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে। গ) তালা-কুমিরা ও দেবহাটা-সখিপুর সড়কের বাক কমিয়ে সহজ সরল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

ঘ) খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপন করতে হবে ঙ) মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ জোন প্রতিষ্ঠা কতে হবে চ) সীমান্ত সড়ক নির্মাণ করতে হবে ছ) জেলার সকল সরকারী দপ্তরে দুর্নীতি অনিয়ম বন্ধ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বানিজ্য বন্ধ করতে হবে।

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটি কতৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত। (সংশোধিত) এপ্রিল ২০২৬

 

সুন্দরবন উপকূলের উন্নয়নে পৃথক বোর্ড ও মন্ত্রণালয় গঠনসহ ২১ দফা দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
সুন্দরবন উপকূলের উন্নয়নে পৃথক বোর্ড ও মন্ত্রণালয় গঠনসহ ২১ দফা দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

পত্রদূত রিপোর্ট: সুন্দরবন উপকূলের উন্নয়নে পৃথক বোর্ড ও মন্ত্রণালয় গঠনসহ ২১ দফা দাবী বাস্তবায়নে সংবাদ সম্মেলন করেছে সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটি। শনিবার বেলা ১২টায় সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা নাগরিক কমিটির আহবায়ক এড. শেখ আজাদ হোসেন বেলাল।

লিখিত বক্তব্যে আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে সাতক্ষীরা জেলার উন্নয়ন প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সাতক্ষীরা খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি জেলা। এখানে বছরে ৫ লক্ষাধিক মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়। ২৮ হাজার মেট্রিক টন বিদেশে রপ্তানীযোগ্য চিংড়িসহ গড়ে ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হয়। প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন দুধ উৎপাদন হয়। প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন শীতকালীন শাক সবজি, ৭৫ হাজার মেট্রিক টন আম, ১৫ হাজার মেট্রিক টন কুল, প্রায় ১০০ মেট্রিক টন মধুসহ বিপুল পরিমান অন্যান্য রবিশষ্য উৎপাদন হয়। এছাড়া ভোমরা স্থল বন্দর হতে বছরে গড়ে ১ হাজার কোটি টাকার রাজম্বসহ সুন্দরবন ও মৎস্য সম্পদ থেকে বিপুল পরিমান রাজস্ব আয় হয়।

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়েছে, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীর ভেড়িবাধ ভাঙন, জলাবদ্ধতা, লবনাক্ততাসহ ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগে জর্জরিত জেলা সাতক্ষীরা। অতিরিক্ত লবনাক্ততার কারনে এখানকার উন্নয়ন টেকসই হয় না। জলবায়ু পরিবর্তনে পরিবেশগত ঝুকি, সুপেয় পানির সংকট, কৃষি জমির পরিমান ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় এখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হয়েছে। দারিদ্রতার হার দেশের অন্যান্য স্থানের চেয়ে অনেক বেশী। শিক্ষার হারও কমে যাচ্ছে। দেশে বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৩৩ শতাংশ হলেও সাতক্ষীরা জেলায় এই হার কমে ০.৯০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এর প্রধান কারন ব্যাপক সংখ্যক মানুষ কাজের সন্ধ্যানে স্থায়ী-অস্থায়ীভাবে অন্যত্রে চলে যেতে বাধ্য হওয়া। এই মানুষের মিছিলের একটি অংশ সাতক্ষীরা শহরে চলে আসছে। ২০২২ সালের জনশুমারীর তথ্যানুযায়ী সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৩৮ হাজার উল্লেখ করা হলেও বর্তমানে তা ২ লাখ অতিক্রম করেছে।

লিখিত বক্তব্যে এড. বেলাল আরো বলেন, গত ৫৫ বছরে সারাদেশের যে উন্নয়ন হয়েছে, সেই ধারা থেকে সাতক্ষীরা অনেক বেশি পিছিয়ে। তাছাড়া এখানকার ভূ-প্রকৃতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলাবদ্ধতা ও লবনাক্ততার কারনে কোন উন্নয়নই টেকসই হয় না। বিভিন্ন সরকারি দপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত সারাদেশের একই ডিজাইনের রাস্তাঘাট-ব্রীজ-কালভার্ট, সরকারি ভবন, নদীর ভেড়িবাধগুলো এখানে অতিদ্র”ত সময়ে নষ্ট হয়ে যায়।

সামগ্রীক প্রেক্ষাপটে সুন্দরবন উপকূলে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে “সুন্দরবন উপকূলীয় বোর্ড ও মন্ত্রণালয় গঠন” এবং আসন্ন বাজাটে এই অঞ্চলের উন্নয়নে পর্যাপ্ত বরাদ্দের দাবী জানানো হয়। একই সাথে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রেল লাইন, আয়তন ও জনসংখ্যা বিবেচনায় নতুন একটি উপজেলা প্রতিষ্টা, ভোমরা স্থলবন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে এবং বসন্তপুর নৌবন্দর চালু করা, ক্রীড়া কমপ্লেক্স, পর্যটন এলাকা ঘোষণা, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু, বিকল্প বাইপাস, শ্রমঘন বিশেষ শিল্পাঞ্চল, লবনাক্ত, আর্সেনিক ও আয়রণমুক্ত নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা, বাস ও ট্রাক টার্মিনাল স্থাপন, উপজেলা ভিত্তিক স্টেডিয়াম, বিআরটিসির বাস সংখ্যা বাড়ানো, চলাচলে অযোগ্য সড়কগুলো দ্র”ত সংস্কার, সাতক্ষীরা জেলা ও পৌরসভার উন্নয়নে মাষ্টার প্লান, আইটি সিটি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ নদী ভাঙ্গন ও জলাবন্ধতা সমস্যা সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা, জলবায়ু উদ্বাস্তুু আবাসনকেন্দ্র, জেলার সকল নদী-খালের জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনাসহ ২১ দফা দাবী জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, প্রফেসর আব্দুল হামিদ, শেখ হারুণ অর রশিদ, মাধব চন্দ্র দত্ত, হেনরী সরদার, শেখ সিদ্দিকুর রহমান, কমরেড আবুল হোসেন, আবু তালেব, স্বপন কুমার শীল, মুনসুর রহমান, শ্যামল কুমার বিশ্বাস, শেখ আফজাল হোসেন, বাইজিদ হোসেন, আলী নুর খান বাবুল, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

বিরতির পর নতুন লুক ও চরিত্র নিয়ে শুটিংয়ে দীঘি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
বিরতির পর নতুন লুক ও চরিত্র নিয়ে শুটিংয়ে দীঘি

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তরুণ নায়িকা প্রার্থনা প্রার্থনা ফারদিন দীঘি আবারও ব্যস্ত সময় পার করছেন নতুন সিনেমার শুটিং নিয়ে। তার অভিনীত বিদায় সিনেমার শুটিং ফের শুরু হয়েছে। কিছুদিন বিরতির পর আবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন এ অভিনেত্রী।
সিনেমাটির প্রথম ধাপের শুটিং শেষ হওয়ার পর সাময়িক বিরতি নেওয়া হয়েছিল। এরপর নির্মাতা মেহেদী হাসান হৃদয় অন্য একটি প্রজেক্ট নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। সেই কাজ শেষ করে সম্প্রতি আবার শুরু হয়েছে বিদায় সিনেমার শুটিং। আর শুটিংয়ে ফিরেই আলোচনায় দীঘি।

শুটিং সেট থেকে ছবি প্রকাশ করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অভিনেতা ফারুক আহমেদ। সিনেমাটিতে দীঘির উপস্থিতিও নজর কাড়ে। নতুন লুক ও চরিত্র নিয়ে তিনি দর্শকদের সামনে কেমনভাবে হাজির হবেন, তা নিয়ে এরই মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

শিশুশিল্পী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও দীঘি এখন নিয়মিত নায়িকা চরিত্রে কাজ করছেন। একের পর এক নতুন সিনেমায় নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন তিনি। বিদায় সিনেমাটিও তার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি বলে মনে করা হচ্ছে।

এই সিনেমায় দীঘির সঙ্গে অভিনয় করছেন ফারুক আহমেদ, বাপ্পারাজ ও আলীরাজের মতো অভিজ্ঞ অভিনয়শিল্পীরা। সিনিয়র শিল্পীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা দীঘির অভিনয় ক্যারিয়ারে নতুন সমৃদ্ধি যোগ করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে, দ্রুত শুটিং শেষ করে সিনেমাটি মুক্তির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আসন্ন কোরবানির ঈদে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে বিদায়। ফলে ঈদের সিনেমার তালিকায় দীঘির নতুন উপস্থিতি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ বাড়ছে।