সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

শ্যামনগরে যুবদল নেতাকে আটকের ঘটনায় ভিন্ন দাবি, সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে যুবদল নেতাকে আটকের ঘটনায় ভিন্ন দাবি, সংবাদ সম্মেলন

মিলন বিশ্বাস: শ্যামনগরে এক নারীর ঘর থেকে স্থানীয় এক যুবদল নেতাকে আটকের ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে। ঘটনার একদিন পর সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগী নারী দাবি করেছেন, তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করতে পরিকল্পিতভাবে পুরো ঘটনাটি সাজানো হয়েছে।

শনিবার শ্যামনগর উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে চম্পা মল্লিক নামের ওই নারী এসব অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, পারিবারিক বিরোধের কারণে স্বামীর সঙ্গে তাঁর মামলা চলছে এবং তিনি বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। মামলা তুলে নিতে বাধ্য করতে এবং সামাজিকভাবে কোণঠাসা করতেই একটি পক্ষ এমন ষড়যন্ত্র করছে। আটক যুবদল নেতাকে ছোট ভাইয়ের মতো উল্লেখ করে তিনি জানান, একটি দাপ্তরিক কাজে বাজারে যাওয়ার জন্য ওই নেতা তাঁর বাড়িতে এসেছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তাঁর অভিযোগ, এ সময় স্থানীয় ১২ থেকে ১৪ জনের একটি দল জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করে তাঁদের মারধর করে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না পেয়ে যুবদল নেতাকে জোরপূর্বক বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ ও প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে তাঁকে নির্যাতন, শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

পরবর্তী ঘটনা রোধ ও নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি শ্যামনগর থানা-পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন। শ্যামনগর থানার পুলিশ জানায়, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

 

Ads small one

আশাশুনিতে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৩ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার আশাশুনিতে ৩০ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে পলাশ মন্ডল (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১০ আগস্ট) ভোর রাতে উপজেলার ফকরাবাদ গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে আশাশুনি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

গ্রেপ্তারকৃত পলাশ মন্ডল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের ফকরাবাদ গ্রামের নরেন্দ্রনাথ মন্ডলের ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে ফকরাবাদ মৌজায় পলাশ মন্ডলের মৎস্য ঘেরের বাসায় ওই প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। পরে ভুক্তভোগীর বাবা থানায় হাজির হয়ে এজাহার দায়ের করলে পুলিশ ধর্ষণ মামলা রুজু করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মো. ফিরোজ আলম অভিযান চালিয়ে সোমবার ভোর রাতে পলাশ মন্ডলকে তার বসতবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সাতক্ষীরার ৪ প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি একজনও: শিক্ষক সংকট ও বেতনহীনতার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার ৪ প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি একজনও: শিক্ষক সংকট ও বেতনহীনতার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রকাশিত মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে সাতক্ষীরা জেলার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার তালিকায় উঠে এসেছে উপজেলা পর্যায়ের নিম্ন মাধ্যমিক ও নৈশ বিদ্যালয়ের নাম। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান ও জেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সাতক্ষীরায় শতভাগ ফেল করা ৪ প্রতিষ্ঠান হলো -আশাশুনি উপজেলার, আশাশুনি গোদাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। সাতক্ষীরা সদরের সাতক্ষীরা নৈশ বিদ্যালয় (নাইট স্কুল)। দেবহাটা উপজেলার: বাবুরাবাদ ঢেবুখালী বিদ্যালয়। শ্যামনগর উপজেলার সাহেবখালী সিদ্দিকগাজী বিদ্যালয়।

আশাশুনি গোদাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জেবুন্নেছা জানান, এ বছর তাদের বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে মোট চারজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তবে প্রকাশিত ফলাফলে তাদের কেউই পাস করতে পারেনি।

দেবহাটার বাবুরাবাদ ঢেবুখালী বিদ্যালয়ের বেহাল দশার কথা তুলে ধরে কার্যালয় সহকারী (অফিস সহকারী) নূর হোসেন জানান, ২০০১ সাল থেকে শিক্ষকরা কোনো বেতন-ভাতা পান না। ফলে শিক্ষকরা নিয়মিত স্কুলে আসেন না। কাগজে-কলমে আটজন শিক্ষক থাকলেও তারা অনুপস্থিত থাকেন; একজন শিক্ষিকা ও ধর্ম শিক্ষক থাকলেও তারা ঠিকমতো সময় দেন না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বলতে গেলে আমি অফিস সহকারী হিসেবে একাই স্কুলটি দেখে-শুনে টিকিয়ে রেখেছি। গত বছরও পাঁচজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে চারজন পাস করেছিল, তবে এবার চরম বিপর্যয় ঘটেছে।

সাতক্ষীরা নৈশ বিদ্যালয়ের ফলাফলের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমান জানান, ফলাফলের সঠিক তথ্য এই মুহূর্তে তার জানা নেই। বোর্ড ও অনলাইন কেন্দ্রীক নথি দেখে বিস্তারিত জানাতে পারবেন।

শ্যামনগরের কৈখালি ইউনিয়নের সাহেবখালী সিদ্দিকগাজী বিদ্যালয়টি শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে প্রধান শিক্ষকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আবুল খায়ের বলেন, যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ফলাফলের বিস্তারিত পাঠানো হচ্ছে। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

এ বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার *৬২.২৫ শতাংশ। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সারা দেশের ৩০ হাজার ৪০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে মোট ৩১২টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।

এ বছর সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি পরীক্ষায় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষায় ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল।

এসএসসির চেয়ে দাখিলে পাসের হার কম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৩ অপরাহ্ণ
এসএসসির চেয়ে দাখিলে পাসের হার কম

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের এসএসসির তুলনায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার কম। এবছর সাধারণ শিক্ষাবোর্ডগুলোর গড় পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ, আর দাখিলে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এসএসসির তুলনায় দাখিলে পাসের হার কম ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এদিন সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পরীক্ষার ফল হস্তান্তর করেন।

ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এবার সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় পাস করেছে ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ শিক্ষার্থী। অর্থাৎ দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৫৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। বিপরীতে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের এসএসসিতে প্রতি ১০০ জনে প্রায় ৬৪ জন পাস করেছে।

দাখিল পরীক্ষাতেও ছাত্রীদের ফল ছাত্রদের তুলনায় ভালো। দাখিলে ছাত্রদের পাসের হার ৫১ দশমিক ৬৪ শতাংশ, আর ছাত্রীদের ৫৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ। অর্থাৎ দাখিলে পাসের হারেও মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট এগিয়ে।

সামগ্রিকভাবে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে সামগ্রিক পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ।

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।

গত বছর পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। ফলে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।

এবার এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ, যা সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের এসএসসির চেয়েও কম। ফলে তিন ধারার ফলাফলে সাধারণ এসএসসি এগিয়ে, এরপর ভোকেশনাল এবং সর্বশেষ দাখিল।