শ্যামনগরের গাবুরায় বেড়িবাঁধ রক্ষায় কঠোর অভিযান শুরু
এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় গাবুরা দ্বীপ ইউনিয়নে মেঘা প্রকল্পের আওতায় নির্মিত টেকসই বেড়িবাঁধ রক্ষায় অবৈধ ‘নাইনটি’ (নদী থেকে নোনা পানি উত্তোলনের পাইপলাইন) অপসারণে কঠোর অভিযান শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ইউনিয়নের কোথাও নতুন করে কোনো অবৈধ ‘নাইনটি’ স্থাপন করতে দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জি. এম. মাছুদুল আলম। একই সঙ্গে ইতোমধ্যে স্থাপিত সব অবৈধ পাইপলাইন দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কিছু মৎস্যঘের মালিক বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে অবৈধভাবে ‘নাইনটি’ স্থাপন করে নদী থেকে নোনা পানি উত্তোলন করে আসছিলেন। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত টেকসই বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জোয়ার-ভাটাপ্রবণ এই উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছিল।
এ পরিস্থিতিতে জনস্বার্থে মঙ্গলবার চেয়ারম্যান জি.এম. মাছুদুল আলম স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ও যুবসমাজকে সঙ্গে নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানের প্রথম দিনেই বেড়িবাঁধের ওপর স্থাপিত একাধিক অবৈধ ‘নাইনটি’ অপসারণ করা হয়।
চেয়ারম্যান জি. এম. মাছুদুল আলম বলেন, “নদী ও বেড়িবাঁধ উপকূলের মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রধান ভরসা। এগুলোর ক্ষতি করে এমন কোনো কর্মকান্ড সহ্য করা হবে না। যারা অবৈধভাবে ‘নাইনটি’ স্থাপন করেছেন, তারা দ্রুত নিজ উদ্যোগে অপসারণ করুন। অন্যথায় আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি জানান, উপকূলীয় বেড়িবাঁধ, নদী ও পরিবেশ রক্ষায় এ অভিযান নিয়মিত চলবে এবং ভবিষ্যতে কোনো অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলতে দেওয়া হবে না।
ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে মৎস্যঘের মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় জনগণের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেড়িবাঁধ রক্ষায় সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।






