ষষ্ঠ স্ত্রীর ওপর নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ: কালিগঞ্জে গৃহবধূ হাসপাতালে
মিলন বিশ্বাস: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের শীতলপুর গ্রামে গৃহবধূ নির্যাতনের ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় দুই সন্তানের জননী খাদিজা খাতুন বর্তমানে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার স্বামী আব্দুর রবের বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে ও দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (৩ মে) বেলা আনুমানিক ১২টার দিকে পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটে। আহত খাদিজা খাতুন সোমবার (৪ মে) দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিকদের জানান, তাকে ফেলে নতুন করে আরেকটি বিয়ের পরিকল্পনা করছেন তার স্বামী। এছাড়া অপরিপক্ক আমে কেমিক্যাল ব্যবহার করে পাকিয়ে বাজারজাত করার প্রতিবাদ করায় আব্দুর রব ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, আব্দুর রব তার ষষ্ঠ স্ত্রী খাদিজা খাতুনকে বেধড়ক মারধর করলে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে স্বজনরা উদ্ধার করে দ্রুত কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খাদিজা খাতুন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমার ওপর নির্যাতন চালানো হতো। একাধিক বিয়েকে কেন্দ্র করে সংসারে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত। সর্বশেষ হামলার পর আমি নিজের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছি।”
এ ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত আব্দুর রব ঘটনার আংশিক সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “রাগের বশে মারধর করেছি, কিন্তু এতটা গুরুতর হয়ে যাবে বুঝতে পারিনি।”
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সাংবাদিকদের ম্যানেজ করারও চেষ্টা করেন তিনি।
কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুয়েল হোসেন বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে এলাকাবাসী ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নির্যাতনের শিকার খাদিজা খাতুনের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও সমাজের সচেতন মহলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।












