বুধবার, ৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

ষষ্ঠ স্ত্রীর ওপর নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ: কালিগঞ্জে গৃহবধূ হাসপাতালে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ণ
ষষ্ঠ স্ত্রীর ওপর নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ: কালিগঞ্জে গৃহবধূ হাসপাতালে

মিলন বিশ্বাস: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের শীতলপুর গ্রামে গৃহবধূ নির্যাতনের ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় দুই সন্তানের জননী খাদিজা খাতুন বর্তমানে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার স্বামী আব্দুর রবের বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে ও দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (৩ মে) বেলা আনুমানিক ১২টার দিকে পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটে। আহত খাদিজা খাতুন সোমবার (৪ মে) দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিকদের জানান, তাকে ফেলে নতুন করে আরেকটি বিয়ের পরিকল্পনা করছেন তার স্বামী। এছাড়া অপরিপক্ক আমে কেমিক্যাল ব্যবহার করে পাকিয়ে বাজারজাত করার প্রতিবাদ করায় আব্দুর রব ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, আব্দুর রব তার ষষ্ঠ স্ত্রী খাদিজা খাতুনকে বেধড়ক মারধর করলে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে স্বজনরা উদ্ধার করে দ্রুত কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খাদিজা খাতুন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমার ওপর নির্যাতন চালানো হতো। একাধিক বিয়েকে কেন্দ্র করে সংসারে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত। সর্বশেষ হামলার পর আমি নিজের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছি।”
এ ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত আব্দুর রব ঘটনার আংশিক সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “রাগের বশে মারধর করেছি, কিন্তু এতটা গুরুতর হয়ে যাবে বুঝতে পারিনি।”
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সাংবাদিকদের ম্যানেজ করারও চেষ্টা করেন তিনি।
কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুয়েল হোসেন বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে এলাকাবাসী ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নির্যাতনের শিকার খাদিজা খাতুনের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও সমাজের সচেতন মহলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

Ads small one

জলবায়ু সংকটে উপকূলীয় নারী: সংকট ছাপিয়ে সম্ভাবনার খোঁজে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
জলবায়ু সংকটে উপকূলীয় নারী: সংকট ছাপিয়ে সম্ভাবনার খোঁজে

নিজস্ব প্রতিনিধি: জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনপদ সাতক্ষীরায় উপকূলীয় নারীদের জীবনসংগ্রাম ও সম্ভাবনা নিয়ে জেলা পর্যায়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ‘জলবায়ু ও নারী: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ইউএন উইমেনের অর্থায়নে ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের (এমজেএফ) সহযোগিতায় ‘এম্পাওয়ার: ওমেন ফর ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট সোসাইটিজ (ফেজ-২)’ প্রকল্পের আওতায় এই সভার আয়োজন করা হয়। প্রকল্পটি বর্তমানে শ্যামনগরে ‘বিন্দু নারী উন্নয়ন সংগঠন’ এবং কালিগঞ্জে ‘প্রেরণা’ বাস্তবায়ন করছে। বিন্দু নারী উন্নয়ন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক জান্নাতুল মাওয়ার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণুপদ পাল। সভাপতির সূচনা বক্তব্যে জান্নাতুল মাওয়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সাতক্ষীরার উপকূলীয় নারীদের দৈনন্দিন জীবনসংগ্রাম, লবণাক্ততার কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং দুর্যোগের মধ্যেও তাঁদের অদম্য মানসিকতার কথা তুলে ধরেন। সভায় মূল প্রবন্ধ (কী-নোট) উপস্থাপন করেন প্রেরণার প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর দীপিকা রাণী।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন, সিভিল জজ ও লিগ্যাল এইড অফিসার লিটন দাস এবং প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি কল্যাণ ব্যানার্জি।
এছাড়া জেলা মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, কৃষি এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন। ইউএন উইমেনের পক্ষে কাজী রাবেয়া এমি এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পক্ষে নাছরিন আহমেদ জলবায়ু অভিযোজনে জেন্ডার সংবেদনশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। এছাড়া ডাব্লিউ ক্যান ও জিহা সংগঠনের সদস্যরা তৃণমূল পর্যায়ের নারীদের দাবিগুলো তুলে ধরেন।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় নারীদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও জীবিকা চরম সংকটের মুখে। তবে এই সংকট ছাপিয়ে অনেক নারী জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও বিকল্প জীবিকার মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর কানিজ শাইমা।

কলারোয়ায় সোনাই নদীতে অবৈধ পাটা ও নেট অপসারণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
কলারোয়ায় সোনাই নদীতে অবৈধ পাটা ও নেট অপসারণ

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ায় সোনাই নদীতে অবৈধ পাটা ও নেট অপসারণ করা হয়। মঙ্গলবার কলারোয়া সীমান্তবর্তীগ্রামের সোনাই নদীর ব্রীজ সংলগ্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নদীতে দেওয়া ১৫টি চায়না ও ১০টি মশারি জাল জব্দ করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম। এসসয় উপস্থিত ছিলেন থানার অফিসার ইনচার্জ এইচএম শাহীন, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাইদুর রেজা, উপজেলা সরকারি প্রোগ্রামার মোতাহার হোসেন, বিজিবির মাদরা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার প্রমুখ। জব্দকৃত জাল স্থানীয় জনসাধারণের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

অবৈধ বালু উত্তোলন ঠেকাতে খোলপেটুয়া নদীতে রাতে অভিযান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
অবৈধ বালু উত্তোলন ঠেকাতে খোলপেটুয়া নদীতে রাতে অভিযান

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ভাঙন কবলিত খোলপেটুয়া নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন ঠেকাতে অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বুধবার রাত ১০টা পর্যন্ত খোলপেটুয়া নদীর শ্যামনগরের বিভিন্ন অংশে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) রাশেদ হোসাইনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী উপ-পরিদর্শক আনোয়ার জাহিদ ও কনস্টেবল শাহিন।
উপজেলা সহকারী কমিশার (ভুমি) রাশেদ হোসাইন জানান, এখন কোন বালুমহাল নেই শ্যামনগরে। কিন্তু কিছু ব্যক্তি ইজারা না থাকা সত্ত্বেও ভাঙন কবলিত খোলপেটুয়ার বিভিন্ন অংশ হতে বালু উত্তোলন করছে। যার প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনা মত অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে জড়িতদের আটক করতে রাতে অভিযান চালানো হয়। পরবর্তীতে একই ধারা অব্যাহত থাকবে।