বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩

সন্তানকে যেভাবে সবজি খাওয়াবেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ণ
সন্তানকে যেভাবে সবজি খাওয়াবেন

সবজির মধ্যে আছে ভিটামিন, মিনারেলস, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট যা একটি শিশুর বিকাশে সাহায্য করে এবং তার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। পরিবারের ছোট সদস্যরা এমনকি পরিণত বয়সের সন্তানকেও সবজি খাওয়াতে বেগ পেতে হয় অনেক মায়ের। খেতে বসে সবজি দেখলে তারা নাক সিটকায়, মুখ বাকায়, জেদ করে।

শিশুরা সবজি দেখলেই মুখ ফিরিয়ে নিলেও বড়দের চেষ্টা করতে হবে সেটা খাওয়ানোর। সবজি না খাওয়ালে তো সুষম পুষ্টি মিলবে না। তাই অনাগ্রহী হলেও সন্তানকে সবজি খাওয়াতে হবে। ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যের আটটি শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে চালানো গবেষণায় দেখা গেছে, সকালের নাস্তায় সবজি দিলে প্রায় ৬০ শতাংশ ক্ষেত্রেই শিশুরা তা খেয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ সাধারণত নির্দিষ্ট পরিমাণ খাবার খায়, তাই মাংস বা অন্য কিছু র তুলনায় সবজির অনুপাত বাড়ালে শিশু স্বাভাবিকভাবেই বেশি পরিমাণে সবজি গ্রহণ করে। প্লেটে ফল ও সবজির পরিমাণ ৫০ শতাংশ বাড়ালে শিশু তা খাওয়ার পরিমাণও বেড়ে যায়। এ ছাড়া একসঙ্গে বিভিন্ন ধরনের সবজি দিলে প্রাক-বিদ্যালয়ের শিশুরা বেশি পরিমাণে সেগুলো খায়।

যুক্তরাজ্যের লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈব-মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক ম্যারিয়ন হেথারিংটন বলছেন, শৈশবে যত বেশি ধরনের শাকসবজি বারবার খাওয়ানোর চেষ্টা করা হবে, শিশু তত সহজেই সেগুলো গ্রহণ করবে। প্রাক-বিদ্যালয় পর্যায়ে অর্থাৎ পাঁচ বছর বয়সের আগে এই অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে কার্যকর।

তার মতে, পাঁচ বছরের মধ্যে যদি শিশুকে বিভিন্ন সবজির সঙ্গে পরিচিত করানো না যায়, তবে পরে তা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। একেবারেই যে পারা যায় না তা নয়, তবে অনেক কঠিন হয়ে যায়।

মার্কিন পেনসিলভানিয়া স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিজ্ঞানের অধ্যাপক বারবার রোলস বলছেন, এভাবে প্রথমে সবজি দিলে শিশু অতিরিক্ত খাবারও খায় না। শুধু দুপুর বা রাতের খাবার নয়, সকালের নাস্তাতেও সবজি যোগ করা যেতে পারে। যেমন ওমলেটে মাশরুম বা পালংশাক, বা মাফিনে কুচি করা কুমড়ো।

কীভাবে খাওয়াবেন-
১। শিশুদের পছন্দমতো রান্না করুন। প্রয়োজনে সবজির মধ্যে মুরগির মাংস দিয়ে দিন।

২। কয়েক রঙের সবজি রান্না করুন। একটু কর্নফ্লাওয়ার আর ডিম দিন।

৩। সবজি দিয়ে কাটলেট তৈরি করুন, বার্গারও করে দিতে পারেন।

৪। শিশুরা ঝাল খেতে পারে না। তাই রান্নার পরে সবজিতে হালকা চিনি মিশিয়ে দিন।

৫। সবজি কেনার সময় খেয়াল করতে হবে, এগুলো যেন তরতাজা থাকে।

৬। রান্নার সময় খেয়াল রাখতে হবে, সবজি কেনার পর যত দ্রæত সম্ভব রান্না করতে হবে।

৭। সবজি ধোয়ার জন্য বেশি সময় পানিতে ভিজিয়ে রাখা যাবে না।

৮। শিশুকে বোঝাতে হবে যে সবজি মানেই সেটা সব সময় বিস্বাদ নয়। বাড়িতে যদি ভালো করে সেটা রান্না করা যায়, খেতে ভালোই লাগবে।

৯। যখন সবজি রান্না করা হচ্ছে তখন, কিছু দায়িত্ব আপনার শিশু সন্তানকেও দেয়া যায়। গাজর, আলু, মটরশুটি এগুলো যদি সে ধুয়ে দেয় বা রান্নার সময় একটু খুন্তি নাড়িয়ে দেয়, তাহলে তার মনে হবে সেও অনেক কিছু করেছে। যা জিনিসটা খাওয়ার প্রতি তার আকর্ষণ বাড়াবে।

১০। ধৈর্য না হারিয়ে ধীরে ধীরে আপনার শিশু সন্তানকে সবজি খাওয়ানো অভ্যাস করতে হবে। বকুনি দিলে জিনিসটা খাওয়া নিয়ে তার মনে ভয় আর অনিচ্ছা বাড়বে বই কমবে না।

১১। একটা শিশুর জন্য বাবা মা-ই প্রথম রোল মডেল হয়। তারা যা করে শিশুরাও চেষ্টা করে তেমন করতে। সবাই একসঙ্গে খেতে বসলে শিশু যখন দেখবে পরিবারের সবাই ফল আর সবজি খাচ্ছে তখন সেও সেটি খেতে আগ্রহী হবে।

সে খেতে না চাইলে জোর করবেন না। তাহলে খাবারের প্রতি তার আগ্রহ চলে যাবে। নিয়মিত একসঙ্গে খেতে বসুন। এক সময় সে নিজেই প্লেট থেকে খাবার তুলে নেবে।

১২। নিয়মিত খাবার খেতে উৎসাহিত করার জন্য শিশুকে ছোট ছোট পুরস্কার দিতে পারেন। যেমন পেন্সিল, বা তার পছন্দের কার্টুন স্টিকার। নিয়মিত তার লম্বা হওয়ার বিবরণ রাখুন। শিশুকে জানান সে নিয়মিত খাওয়ার ফলে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তার শারীরিক গঠন বাড়ছে।

Ads small one

সন্ত্রাসবাদের শিকারদের প্রতি শ্রদ্ধা: স্মরণ, সহমর্মিতা ও মানবাধিকারের অঙ্গীকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ণ
সন্ত্রাসবাদের শিকারদের প্রতি শ্রদ্ধা: স্মরণ, সহমর্মিতা ও মানবাধিকারের অঙ্গীকার

সাকিবুর রহমান বাবলা

প্রতি বছর ২১ আগস্ট বিশ্বব্যাপী পালিত হয় ‘সন্ত্রাসবাদের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানানোর আন্তর্জাতিক দিবস’। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০১৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর গৃহীত এ/আরইএস/৭২/১৬৫ প্রস্তাবের মাধ্যমে এই দিবস ঘোষণা করে। দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো সন্ত্রাসবাদের কারণে নিহত, আহত এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির শিকার মানুষদের সম্মান জানানো, তাদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা এবং তাদের পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তার প্রতি বিশ্বসমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন দিবসের প্রতিপাদ্য হলো ‘স্মৃতির মাধ্যমে নিরাময়’। সন্ত্রাসবাদের শিকার ব্যক্তিদের অ্যাসোসিয়েশন নেটওয়ার্কের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার ভিত্তিতে জাতিসংঘ এই প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে। এর মূল বার্তা হলো-ভয়াবহ ঘটনার স্মৃতিকে শুধু অতীতের অংশ হিসেবে বিবেচনা না করে, সেই স্মৃতিকে ভুক্তভোগীদের মানসিক পুনরুদ্ধার, সম্মান প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক সংহতি জোরদারের একটি মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগানো। একই সঙ্গে স্মারক সংরক্ষণ ও স্মৃতি ধারণের গুরুত্বও এই প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

সন্ত্রাসবাদ দমনে জাতিসংঘ বৈশ্বিক নীতি ও আইনগত কাঠামো তৈরির মাধ্যমে প্রধান ভূমিকা পালন করে আসছে। ২০০৬ সালের বৈশ্বিক সন্ত্রাস দমন কৌশল এবং নিরাপত্তা পরিষদের বিভিন্ন প্রস্তাবের মাধ্যমে এটি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও উগ্রবাদ মোকাবেলার পথ সুগম করেছে। পাশাপাশি, ইউনাইটেড নেশনস অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম এবং সন্ত্রাস দমন অফিসের মতো বিশেষায়িত সংস্থাসমূহ দেশগুলোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

সন্ত্রাসবাদ কেবল একটি সহিংস ঘটনা বা প্রাণহানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের ওপর দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতা তৈরি করে। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় এটি কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল, ধর্ম বা সংস্কৃতির একচ্ছত্র বিষয় নয়; বরং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সংঘাত, দুর্বল শাসনব্যবস্থা, দারিদ্র্য ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের মতো বাস্তবতার কারণে রাজনৈতিক, জাতীয়তাবাদী বা বিচ্ছিন্নতাবাদী বিভিন্ন গোষ্ঠী বোমা হামলা ও অপহরণের মতো সহিংস পথ বেছে নেয় ইদানিং সাইবার হামলা এর অন্তর্ভুক্ত। তাই সন্ত্রাসবাদকে কোনো একটি নির্দিষ্ট পরিচয়ের সঙ্গে না জড়িয়ে এর মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিভিন্ন দেশ কঠোর আইন ও বিশেষায়িত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্যাট্রিয়ট অ্যাক্ট, চীনে কাউন্টার-টেররিজম আইন এবং সিঙ্গাপুরে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আইন সন্ত্রাস দমনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশে সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামোর মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ মোকাবিলা করা হয়। একই সঙ্গে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম, অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট, প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড, স্পেশাল ওয়েপনস অ্যান্ড ট্যাকটিক্স এবং অন্যান্য বিশেষায়িত বাহিনী দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

তবে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানো। কোনো হামলার পর সংবাদ শিরোনাম পরিবর্তিত হলেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারগুলোকে দীর্ঘদিন শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। অনেকেই আজীবন মানসিক আঘাত বহন করেন, কেউ হারান কর্মক্ষমতা, আবার অনেক পরিবার হারায় তাদের প্রধান উপার্জনক্ষম সদস্যকে। ফলে চিকিৎসা, পুনর্বাসন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

এই প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের কাউন্টার-টেরোরিজম অফিসের উদ্যোগে গঠিত হয়েছে ভিকটিমস অব টেররিজম অ্যাসোসিয়েশনস নেটওয়ার্ক। এই বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মটি সন্ত্রাসবাদের শিকার ব্যক্তি, তাদের পরিবার, ভুক্তভোগী সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের একত্রিত করে। বর্তমানে বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশের ১২০টির বেশি ভুক্তভোগী ও সংগঠন এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত। ভুক্তভোগীদের অধিকার রক্ষা, অভিজ্ঞতা বিনিময়, নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণ, প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা, মনোসামাজিক সহায়তা এবং পুনর্বাসন-সংক্রান্ত তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ বৃদ্ধিতে এই নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সন্ত্রাসবাদের শিকার মানুষের জন্য রাষ্ট্রের করণীয়ের মধ্যে রয়েছে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, বিনামূল্যে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা, ক্ষতিপূরণ ও স্থায়ী সহায়তা তহবিল গঠন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা। একই সঙ্গে নাগরিক সমাজেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সহমর্মিতা প্রকাশ, সামাজিক অপবাদ দূর করা, পুনর্বাসনে সহযোগিতা করা, রক্তদান ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং সন্ত্রাসবিরোধী সচেতনতা গড়ে তোলা একটি মানবিক ও দায়িত্বশীল সমাজ নির্মাণের জন্য অপরিহার্য।

২১ আগস্টের এই আন্তর্জাতিক দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সন্ত্রাসবাদের প্রকৃত মূল্য শুধু নিহতের সংখ্যায় পরিমাপ করা যায় না; এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে অসংখ্য পরিবার, সম্প্রদায় এবং প্রজন্মের জীবনে। তাই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করা বিশ্বসমাজের একটি যৌথ দায়িত্ব। স্মরণ, শ্রদ্ধা, মানবাধিকার এবং সহমর্মিতার এই বার্তাই দিবসটির মূল তাৎপর্য।

কেশবপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গ্যাসবাহী ট্যাংকার বসতবাড়িতে, ভবন ক্ষতিগ্রস্থ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০৪ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গ্যাসবাহী ট্যাংকার বসতবাড়িতে, ভবন ক্ষতিগ্রস্থ

এম আব্দুল করিম, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গ্যাসবাহী ট্যাংকার লরি সড়কের পাশের বসতবাড়িতে ঢুকে পড়েছে। এতে বাড়ির বাথরুমসহ ভবনের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেঙে গেছে একটি প্রাইভেটকারের গ্লাস। দুর্ঘটনার সময় ঘরে ঘুমিয়ে থাকা পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে অল্পের জন্য বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পেয়েছে ঘুমিয়ে থাকা পরিবারের সদস্যরা।

বুধবার (২০ আগস্ট ২০২৬) ভোরে যশোর-চুকনগর সড়কের কেশবপুর উপজেলার আলতাপোল চারের মাথা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনা কবলিত গ্যাসবাহী ট্যাংকারটির নম্বর চট্টগ্রাম মেট্রো-ঢং-৬১-০৩৯৮।

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, গ্যাসবাহী ট্যাংকারটি ঢাকা থেকে ছেড়ে খুলনার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। ভোরে আলতাপোল চারের মাথা এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্যাংকারটি সড়কের পাশের স্বাস্থ্যকর্মী হাবিবুর রহমানের বাড়িতে সজোরে ধাক্কা করে। এতে বাড়ির বাথরুমের বিল্ডিং ভেঙে ট্যাংকারটি ভেতরে ঢুকে পড়ে। পরে বাড়ির অপর একটি অংশেও আঘাত লাগে।

বাড়ির মালিক হাবিবুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা সবাই ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে গেলে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বাইরে এসে তাঁরা দেখতে পান, একটি গ্যাসবাহী ট্যাংকার তাঁদের বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়েছে। এতে বাথরুমসহ বাড়ির বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ভোররাতে সড়কটি দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করে। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় গ্যাসবাহী ট্যাংকারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ যান নিয়ন্ত্রণ হারালে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এবিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্র রোকসানা খাতুন বলেন খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছে।

 

ভারত থেকে ভোমরা বন্দর দিয়ে ১৫ দিনে ৪ হাজার ৯২ মেট্রিকটন কাঁচামরিচ আমদানি, কমেছে দাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৭ অপরাহ্ণ
ভারত থেকে ভোমরা বন্দর দিয়ে ১৫ দিনে ৪ হাজার ৯২ মেট্রিকটন কাঁচামরিচ আমদানি, কমেছে দাম

এম শফিকুল ইসলাম, ভোমরা: গত ৩ আগস্ট থেকে ভোমরা স্থল বন্দর ব্যবহার করে ভারত থেকে ৩২০টি ট্রাকে ৪ হাজার ৯২ মেট্রিকটন কাঁচামরিচ আমদানি করা হয়েছে। ভোমরায় কাস্টম হাউজের রাজস্ব শাখা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বন্দর ব্যবসায়ী বলছেন, পর্যাপ্ত কাঁচামরিচ আমদানি হওয়ায় গ্রাম ও শহর অঞ্চলের হাট-বাজারগুলোতে কমেছে কাঁচা মরিচের দাম।

 

এখন কেজি প্রতি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা থেকে ৮০ টাকায়। যা ১৫ দিন আগে প্রতি কেজি ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, মূল্য স্থিতিশীল ও চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত পরিমাণ আমদানি হওয়ায় এবং স্থানীয় বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে সাধারণ ক্রেতারা ক্রয়মূল্য সুবিধা পাচ্ছেন। স্বস্তি ফিরে এসেছে বাজারমূল্যে।

এদিকে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় কমে গেছে ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি। ভোমরা বন্দর দিয়ে গত ২/৩দিন কাঁচা মরিচ আমদানি নেই বললেও চলে। বাজারে হঠাৎ করে দাম কমে যাওয়ায় এখন মুনাফার পরিবর্তে আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা।

 

আমদানিকারক ফারহাদ হোসেন জানিয়েছেন, বিপুল পরিমাণ কাঁচা মরিচ সরবরাহ থাকায় আগস্ট মাস পর্যন্ত বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। পরবর্তী সেপ্টেম্বর মাস থেকে আবার চাহিদায় বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সুতরাং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান কাঁচা মরিচ আমদানির লক্ষ্য এলসি (ঋণপত্র) খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে আমদানি অনুমতি (আইপি) নিয়ে আবার পুরোদমে চলবে কাঁচা মরিচ আমদানি কার্যক্রম। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির সম্ভাবনা রয়েছে। নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার আমদানি অনুমতি বহাল রাখে।