সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

সব চাওয়া পূরণ হলেই কি মানুষ সুখী হয়?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
সব চাওয়া পূরণ হলেই কি মানুষ সুখী হয়?

সচিচ্চদানন্দ দে সদয়

মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত তার আকাক্সক্ষা। জন্মের পর থেকেই মানুষ কিছু না কিছু চায়। শৈশবে খেলনা, কৈশোরে সাফল্য, যৌবনে প্রতিষ্ঠা, মধ্যবয়সে সম্পদ, আর বার্ধক্যে নিরাপত্তা। একটি চাওয়া পূরণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আরেকটি চাওয়া জন্ম নেয়। যেন চাওয়ার কোনো শেষ নেই। কিন্তু একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকেই যায়Ñমানুষের সব চাওয়া যদি পূরণ হয়, তবে কি সে সত্যিই সুখী হয়ে ওঠে? আজকের বিশ্বে উন্নয়নের পরিমাপ অনেকটাই অর্থ, ভোগ এবং বাহ্যিক সাফল্যের ওপর নির্ভরশীল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিংবা অন্যের সাফল্য দেখে আমরা নিজের জীবনকে অসম্পূর্ণ মনে করি।

 

প্রতিবেশীর বড় বাড়ি, সহকর্মীর দামি গাড়ি কিংবা পরিচিত কারও দ্রুত উন্নতি আমাদের মনে নতুন নতুন চাহিদার জন্ম দেয়। ফলে যা আছে, তার আনন্দ হারিয়ে যায়; যা নেই, তার অভাবই হয়ে ওঠে জীবনের প্রধান অনুভূতি। কিন্তু মানুষের অভিজ্ঞতা ভিন্ন কথা বলে। ইতিহাস, সাহিত্য এবং সমাজÑসবখানেই দেখা যায়, সীমাহীন প্রাপ্তি সব সময় সুখ বয়ে আনে না। বরং অনেক সময় অতিরিক্ত সম্পদ, ক্ষমতা কিংবা আরাম মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণ দুর্বল করে দেয়। অহংকার বাড়ায়, সম্পর্কের উষ্ণতা কমায়, প্রতিযোগিতা ও অস্থিরতা বাড়িয়ে তোলে। যে সম্পদ একসময় নিরাপত্তা দেওয়ার কথা ছিল, সেটিই কখনো কখনো উদ্বেগ, ভয় এবং একাকীত্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

 

অন্যদিকে অভাব বা সীমাবদ্ধতা সব সময় দুর্ভাগ্যের প্রতীক নয়। জীবনের অনেক বড় শিক্ষা আসে অপূর্ণতা থেকে। যে মানুষ সংগ্রাম করেছে, প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়েছে, অপেক্ষা করতে শিখেছেÑসে সাধারণত জীবনের মূল্যও বেশি বোঝে। অল্প প্রাপ্তির আনন্দ তার কাছে অনেক গভীর হয়। কারণ সে জানে, প্রতিটি অর্জনের পেছনে রয়েছে শ্রম, ধৈর্য এবং সময়। জীবনের এই বাস্তবতাকে বোঝাতে একটি সাধারণ পারিবারিক উদাহরণই যথেষ্ট। একটি শিশু অসুস্থ। সে তার প্রিয় মিষ্টি খেতে চায়। কিন্তু মা তাকে তা দেন না।

 

শিশুটি হয়তো কাঁদে, অভিমান করে, মনে করে মা তাকে ভালোবাসেন না। অথচ সত্য সম্পূর্ণ উল্টো। মা জানেন, এই মুহূর্তে সেই মিষ্টি শিশুর জন্য ক্ষতিকর। তাই সাময়িক কষ্ট দিয়ে তিনি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি থেকে সন্তানকে রক্ষা করেন। এই ঘটনাটি কেবল পারিবারিক সম্পর্কের উদাহরণ নয়; এটি জীবনেরও একটি গভীর সত্য। মানুষ অনেক সময় তাৎক্ষণিক ইচ্ছাকে প্রয়োজন মনে করে। কিন্তু বাস্তবতা সব সময় সেই ইচ্ছার সঙ্গে একমত হয় না। আজ যে সুযোগটি হাতছাড়া হয়েছে বলে আমরা হতাশ, কয়েক বছর পর হয়তো বুঝতে পারিÑসেই ব্যর্থতাই আমাদের অন্য একটি ভালো পথের দিকে নিয়ে গেছে।

 

আবার যে সাফল্য একসময় জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে হয়েছিল, সেটিই হয়তো পরে নতুন সংকটের কারণ হয়েছে। মনোবিজ্ঞানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা রয়েছেÑহেডোনিক অ্যাডাপটেশন। অর্থাৎ মানুষ নতুন প্রাপ্তির সঙ্গে খুব দ্রুত মানিয়ে নেয়। নতুন বাড়ি, নতুন গাড়ি কিংবা উচ্চ বেতনÑপ্রথমে এগুলো আনন্দ দেয়, কিন্তু কিছুদিন পর সেগুলোই স্বাভাবিক হয়ে যায়। তখন আবার নতুন কিছুর আকাক্সক্ষা তৈরি হয়। অর্থাৎ সুখের উৎস যদি কেবল বাহ্যিক অর্জনের ওপর নির্ভর করে, তবে সেই সুখ দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তাই প্রকৃত সুখের ভিত্তি বাহ্যিক নয়, অভ্যন্তরীণ। কৃতজ্ঞতা, আত্মসংযম, ধৈর্য, সম্পর্কের উষ্ণতা এবং অর্থপূর্ণ জীবনবোধÑএসবই মানুষের মানসিক শান্তির প্রধান উপাদান।

 

গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা প্রতিদিন নিজের প্রাপ্তির জন্য কৃতজ্ঞ থাকতে পারেন, তাঁদের মানসিক চাপ তুলনামূলক কম থাকে এবং জীবনের প্রতি সন্তুষ্টিও বেশি হয়। দুর্ভাগ্য জনক ভাবে আমরা এমন একটি সময়ে বাস করছি, যেখানে মানুষের মূল্যায়ন অনেক ক্ষেত্রেই তার চরিত্র দিয়ে নয়, সম্পদ দিয়ে করা হয়। একটি শিশুকেও ছোটবেলা থেকে শেখানো হয়Ñপ্রথম হতে হবে, বেশি উপার্জন করতে হবে, অন্যকে ছাড়িয়ে যেতে হবে। কিন্তু খুব কম মানুষই শেখায়Ñনিজেকে জানো, নিজের সীমা বোঝো, যা আছে তার মর্যাদা দাও এবং অন্যের সুখ দেখে নিজের জীবনকে ছোট করে দেখো না।

 

অতিরিক্ত ভোগের সংস্কৃতি মানুষকে আরও অস্থির করে তুলছে। বিজ্ঞাপন প্রতিনিয়ত আমাদের বোঝায়Ñএই পণ্যটি কিনলে তুমি সুখী হবে, ওই বাড়িটি পেলে জীবন সফল হবে, আরও বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারলেই শান্তি মিলবে। কিন্তু বাস্তব জীবনের পরিসংখ্যান ভিন্ন ছবি তুলে ধরে। অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ অনেক সমাজেই উদ্বেগ, বিষণœতা, নিঃসঙ্গতা ও মানসিক অবসাদের হার বেড়েই চলেছে। অর্থাৎ সম্পদ গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেটিই সুখের একমাত্র উৎস নয়। এর অর্থ এই নয় যে মানুষ উচ্চাকাক্সক্ষী হবে না বা উন্নতির চেষ্টা করবে না।

 

উন্নতির আকাক্সক্ষা মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি এবং সমাজের অগ্র গতিরও চালিকাশক্তি। কিন্তু সেই আকাক্সক্ষা যদি সীমাহীন লোভে পরিণত হয়, তবে তা মানুষকে ক্লান্ত করে। তখন প্রাপ্তির আনন্দের চেয়ে অপ্রাপ্তির যন্ত্রণা বড় হয়ে ওঠে। বরং জীবনের প্রতি একটি ভারসাম্য পূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। চেষ্টা থাকবে, স্বপ্ন থাকবে, পরিশ্রম থাকবেÑকিন্তু সেই সঙ্গে থাকবে ধৈর্য, সংযম এবং ফলাফলকে গ্রহণ করার মানসিক শক্তি। কারণ মানুষ তার প্রচেষ্টাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, কিন্তু সব ফলাফলকে নয়। আমরা প্রায়ই জীবনের ঘটনাগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে বিচার করি।

 

চাকরি না পাওয়া, ব্যবসায় ক্ষতি, কাক্সিক্ষত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি না হওয়া কিংবা কোনো সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াকে আমরা জীবনের শেষ বলে মনে করি। অথচ সময়ের ব্যবধানে দেখা যায়, সেই ঘটনা গুলোই নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। জীবনের অনেক সিদ্ধান্তের প্রকৃত মূল্য তখনই বোঝা যায়, যখন আমরা কিছুটা দূরত্ব থেকে ফিরে তাকাই। আজকের সমাজে মানসিক স্বাস্থ্যের যে সংকট ক্রমেই প্রকট হচ্ছে, তার অন্যতম কারণ এই অবিরাম তুলনা।

 

অন্যের জীবন দেখে নিজের জীবনকে ব্যর্থ মনে করার প্রবণতা আমাদের সুখ কেড়ে নিচ্ছে। অথচ প্রত্যেক মানুষের জীবন আলাদা, বাস্তবতা আলাদা, সুযোগ-সুবিধাও আলাদা। তাই অন্যের সাফল্যকে নিজের ব্যর্থতার মানদ- বানানো কোনো ভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়। প্রকৃত শিক্ষা হলোÑযা আছে, তার সর্বোত্তম ব্যবহার করা; যা নেই, তার জন্য নিরন্তর হাহাকার না করা। কারণ মানুষের চরিত্র গড়ে ওঠে প্রাপ্তি দিয়ে নয়, প্রাপ্তিকে কীভাবে ব্যবহার করছে এবং অপ্রাপ্তিকে কীভাবে গ্রহণ করছে, তার ওপর। শেষ পর্যন্ত সুখ কোনো গন্তব্য নয়; এটি একটি দৃষ্টিভঙ্গি।

 

যে মানুষ সীমিত সম্পদের মধ্যেও কৃতজ্ঞ থাকতে পারে, সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়, সততা ও সংযমকে জীবনের ভিত্তি বানায় এবং প্রতিটি অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে পারে, তার জীবনেই শান্তি বেশি। সব চাওয়া পূরণ হওয়াই জীবনের সাফল্য নয়। বরং কখন থামতে হবে, কোন আকাক্সক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং কোন প্রাপ্তির জন্য কৃতজ্ঞ হতে হবেÑএই বোধই একজন মানুষকে পরিণত করে। কারণ জীবনের প্রকৃত সমৃদ্ধি সম্পদের পরিমাণে নয়, মনের প্রশান্তিতে। আর সেই প্রশান্তি আসে তখনই, যখন মানুষ বুঝতে শেখেÑসব অপ্রাপ্তি ক্ষতি নয়, সব প্রাপ্তিও আশীর্বাদ নয়।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

Ads small one

প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকা বর্জ্য ও মাদকমুক্ত করার উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ
প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকা বর্জ্য ও মাদকমুক্ত করার উদ্যোগ

শেখ আব্দুল আলিম: সাতক্ষীরা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বাজার কমিটির সক্ষমতা বাড়াতে এক পরামর্শ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের ম্যানগ্রোভ সভাকক্ষে উন্নয়ন সংস্থা ‘রূপান্তর’-এর উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় সাতক্ষীরা পৌর এলাকা ও প্রাণসায়ের খাল পাড়ের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন বক্তারা। তাঁরা জানান, প্রাণসায়ের খালের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও যাতায়াতের জন্য যে পথটি তৈরি করা হয়েছে, তা বর্তমানে গরু-ছাগল চলাচল, ময়লা-আবর্জনা এবং মাদকসেবীদের দখলে চলে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি নিরসনে পুরো এলাকাটিকে ধূমপান ও মাদকমুক্ত ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ ও নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার জন্য ঝুড়ি (বাস্কেট) স্থাপনের প্রস্তাব রাখা হয়।
অনুষ্ঠানে রূপান্তরের প্রতিনিধি রতœা খাতুন, অণিক দত্ত এবং কর্মসূচি সঞ্চালক নাসরিন সুলতানা মৌ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন সাতক্ষীরা বড়বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুর রব, সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রতিনিধি মো. ইদ্রিস আলি, মো. রাশেদ, আব্দুল আলিম, ফরিদ আহম্মেদ ময়না এবং প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন ব্যবসায়ীরা।
আলোচনা পর্ব শেষে সাতক্ষীরা শহর ও প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকাকে পরিচ্ছন্ন ও মাদকমুক্ত রাখতে সর্বস্তরের নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান পৌর প্রতিনিধি মোঃ ইদ্রিস আলি ও রূপান্তরের প্রতিনিধি নাসরিন সুলতানা মৌ।

সাতক্ষীরায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, স্তব্ধ জনজীবন ও বাণিজ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, স্তব্ধ জনজীবন ও বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি: জ্বালানি সংকটের প্রভাবে সাতক্ষীরা জেলায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। দিনে-রাতে মিলিয়ে অর্ধেকেরও বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন জীবনের পাশাপাশি স্তব্ধ হয়ে পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিভিত্তিক শিল্প। দীর্ঘ লোডশেডিং ও ভোল্টেজ ওঠানামার কারণে বাসাবাড়ির ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকসংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয় লাখ। পিক আওয়ারে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা থাকে প্রায় ১৫৮ মেগাওয়াট। তবে আবহাওয়াভেদে গড় চাহিদা প্রায় ১২০ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ, এমনকি ক্ষেত্রভেদে আরও বেশি লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ে এলাকাভেদে দিনে মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে। শ্যামনগরের কাশিমাড়ি ও আশাশুনির গদাইপুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর মাত্র এক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। ফলে সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ধানের মিল, মুড়ির মিল ও খাবার পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। বরফ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আশাশুনির মৎস্য খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চালকেরাও জীবিকা সংকটে পড়েছেন।
সাতক্ষীরা সুন্দরবন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ জানান, ভোল্টেজ পরিবর্তনের কারণে ফ্রিজসহ মূল্যবান সরঞ্জাম বিকল হয়ে যাচ্ছে। এতে কোল্ড স্টোরেজ ও ফ্রিজনির্ভর ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সামনে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা থাকলেও বিদ্যুতের অভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বিঘিœত হচ্ছে।
সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভারপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার মুহাঃ আজিজু রহমান সরকার জানান, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। স্বাভাবিক নিয়মে এক ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হওয়ার কথা নয়; তবে কোথাও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে তা কারিগরি ত্রুটি বা স্থানীয় সমস্যার কারণে হতে পারে।

পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি তালা-কয়রা সড়ক সংস্কার, ভোগান্তি চরমে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি তালা-কয়রা সড়ক সংস্কার, ভোগান্তি চরমে

এমএম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: সাতক্ষীরার তালা থেকে খুলনার কয়রা পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ ও বাঁক সরলীকরণের কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। ৫৩৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই মহাসড়কে চলাচলকারী হাজার হাজার মানুষকে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। একই বছরের ডিসেম্বরে ৩৩৯ কোটি টাকা চুক্তিতে মোজাহার এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০২২ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। জমি অধিগ্রহণ ও আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ বর্তমানে প্রকল্পের মোট বাজেট দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁক সোজা করার কাজ সিংহভাগ শেষ হলেও সড়ক প্রশস্ত করার মূল কাজ অর্ধেকের কম হয়েছে। নির্মাণাধীন সড়কের ধুলোবালি ও খানাখন্দে যানবাহনের সময় স্বাভাবিকের চেয়ে তিন গুণ বেশি লাগছে। বিশেষ করে রোগী, পরীক্ষার্থী ও নিত্যদিনের যাত্রীদের যাতায়াতে চরম বিঘœ ঘটছে।
খুলনা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান মাসুদ জানান, জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত আইনি জটিলতা ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে কাজে ধীরগতি ছিল। নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসী আফরোজা স্বর্ণাও নিয়মিত তদারকি করছেন বলে জানান।