বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/ উপকূলীয় মৎস্যজীবী নারীদের ঘামে ভেজা জীবন: স্বীকৃতি, সুরক্ষা ও টেকসই সমাধানের তাগিদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ উপকূলীয় মৎস্যজীবী নারীদের ঘামে ভেজা জীবন: স্বীকৃতি, সুরক্ষা ও টেকসই সমাধানের তাগিদ

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় জনপদে ভোরের সূর্য ওঠার আগেই শুরু হয় জীবনসংগ্রামের এক নিরবচ্ছিন্ন অধ্যায়। সংসারের রান্নাবান্না ও সন্তানদের দেখাশোনা শেষ করেই শ্যামনগরসহ উপকূলের অসংখ্য নারী হাতে জাল তুলে নিয়ে নেমে পড়েন রূপসা, কালিন্দী বা খোলপেটুয়ার মতো প্রমত্তা নদীতে। জোয়ার-ভাটার গতিপথ মেপে হাঁটু কিংবা কোমরপানিতে ঘণ্টা পর ঘণ্টা জাল টেনে তাঁদের সংগ্রহ করতে হয় বাগদা-গলদার রেণু ও নদীর ছোট মাছ। পরিবারকে দুমুঠো অন্ন জোগানোর এই নিত্যদিনের লড়াই কেবল এক দারিদ্র্যের রূপকথা নয়; এটি তাঁদের অপরিসীম আত্মনির্ভরতা, সহনশীলতা ও দায়বদ্ধতার গল্প।

বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজকাঠামোয় উপকূলীয় নারীদের এই অবদান কোনোভাবেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। কিন্তু বাস্তবতা হলোÑযে নারীদের ঘামে ভেজা পরিশ্রমে উপকূলীয় সংসারের চাকা ঘোরে, তাঁদের শ্রম আজও সমাজে যথাযথ স্বীকৃতি ও সামাজিক মর্যাদা পায় না। রোদ, বৃষ্টি আর নোনা পানির দীর্ঘ শারীরিক ক্লান্তি সহ্য করে অর্জিত জলজ সম্পদের ন্যায্যমূল্য পান না তাঁরা। স্থানীয় মধ্যস্বত্বভোগী ও আরতদারদের দাপটে তাঁদের পাওয়া অর্থের অঙ্ক থাকে অত্যন্ত নগণ্য, যা দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কেনাই অসম্ভব হয়ে পড়ে।

তদুপরি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রথম সারির শিকার এসব উপকূলীয় নারী। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বেড়িবাঁধ ভাঙন এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে বছরে বহু দিন নদী বন্ধ থাকে। কোনো সঞ্চয় না থাকায় কয়েক দিনের এই কর্মবিরতি তাঁদের ঠেলে দেয় তীব্র খাদ্যসংকটে। সঙ্গে যোগ হয়েছে নদীর নোনা পানির প্রভাবে বিভিন্ন চর্মরোগ ও জরায়ুজনিত নানা শারীরিক জটিলতা। একদিকে অনিশ্চিত জীবিকা, অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান শারীরিক স্বাস্থ্যঝুঁকিÑএ দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে তাঁদের দৈনন্দিন জীবন।
উপকূলীয় নারীদের এই দীর্ঘস্থায়ী সংগ্রামকে টেকসই সমাধানে রূপ দিতে হলে সমন্বিত নীতি ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। প্রথমত, এসব মৎস্যজীবী নারীকে ‘শ্রমিক’ ও ‘মৎস্যজীবী’ হিসেবে সরকারি নিবন্ধনের আওতায় এনে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে। দুর্যোগকালীন সামাজিক সুরক্ষাবেষ্টনী ও খাদ্যসহায়তার তালিকায় তাঁদের অগ্রাধিকার প্রদান আবশ্যক। দ্বিতীয়ত, দাদনপ্রথা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ থেকে বাঁচাতে সহজ শর্তে ও সুদমুক্ত বা স্বল্পসুদে ক্ষুদ্রঋণের ব্যবস্থা করতে হবে।

তৃতীয়ত, শুধু মাছ ধরার ওপর নির্ভরতা কমাতে নারীবান্ধব বিকল্প কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজনÑযেমন উপকূলীয় জলবায়ুসহনশীল হাঁস-মুরগি বা ছাগল পালন, হস্তশিল্প এবং বিকল্প কৃষিকাজ। একই সাথে স্থানীয় বাজারব্যবস্থায় তাঁদের উৎপাদিত বা সংগৃহীত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে যৌথ বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

নদী বাঁচলে যেমন উপকূলীয় জনপদ বাঁচবে, তেমনি নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেই শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াবে উপকূলের সামগ্রিক অর্থনীতি। উপকূলের মৎস্যজীবী নারীদের এই অসামান্য শ্রমকে অবহেলায় ফেলে রাখা মানে কেবল কয়েকটি পরিবারকে সংকটে রাখা নয়, বরং আমাদের গ্রামীণ ভিত্তিমূলকে দুর্বল করে রাখা। সরকারের নীতি নির্ধারণী মহল, স্থানীয় প্রশাসন ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে এখনই এই নারীদের পাশে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সঠিক সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিত করতে পারলেই উপকূলের এসব অদম্য নারীদের জীবনসংগ্রাম অবশেষে এক স্থায়ী স্বস্তির মুখ দেখবে।

Ads small one

খুলনায় কাজী নজরুল ইসলাম স্মরণে প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন, আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ণ
খুলনায় কাজী নজরুল ইসলাম স্মরণে প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন, আলোচনা সভা

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এঁর ৫০তম প্রয়াণ বার্ষিকী-নজরুলবর্ষ স্মরণে খুলনা রাইটার্স ক্লাব ৭ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যায় ক্লাব কক্ষে ভাঁজপত্র বিশেষ সংখ্যা ‘আমারে দেব না ভুলিতে’ ‘প্রকাশনা’র মোড়ক উন্মোচন শেষে আলোচনা, নিবেদিত কবিতা আবৃত্তি অনুষ্ঠিত হয়।

শুরুতে অতিথিবৃন্দকে ফুলের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কবি, শিক্ষাবিদ্, যশোর শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর হাফিজুর রহমান,বিশেষ অতিথি ছিলেন আহমদ আলী খান, নির্বাহী সম্পাদক দৈনিক পূর্বাঞ্চল, সভাপতিত্ব করেন কবি খন্দকার নজরুল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রাবন্ধিক গবেষক অরবিন্দ মৃধা, কবি লেখক ডিকে ম-ল, কবি অর্পন-উজ-জ্জামান, সোহরাব হোসেন প্রমূখ।

প্রধান অতিথি বলেন-স্মৃতিচারণ করে বলেন, কবির মৃত্যু দিনে আমি পিজি হাসপাতালে উপস্থিত ছিলাম। বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্র-নজরুল-জীবনানন্দ দাশ অফুরান প্রাণশক্তি। আহমদ আলী খান বলেন, নজরুল গান কবিতা ক্রান্তিকালে মানুষের প্রেরণা যোগায়। অনুষ্ঠানে নজরুলকে নিবেদিত কবিতা পাঠান করেন কবি নীলরতন ম-ল, কবি মিনু রাণী পাল, বাচিক শিল্পী সালমান মেহেদী মুকুট প্রমূখ। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

আশাশুনিতে মৎস্যজীবী দলের শোভাযাত্রা ও সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে মৎস্যজীবী দলের শোভাযাত্রা ও সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: নবগঠিত আশাশুনি উপজেলা মৎস্যজীবী দলের আনন্দ শোভাযাত্রা ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে সদর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।
পরে নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জজ কোর্টের অতিরিক্ত পিপি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এডভোকেট গোলাম গনি দুদু।

মৎস্যজীবী দলের নবগঠিত কমিটির সদস্যসচিব এস এম আশিকুজ্জামান আশিকের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব জাকির হোসেন বাবু, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আ. মজিদ ও সাজিনুর রহমান সাজু, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব সবুজ হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাফফর হোসেন রিপন, ছাত্রদল নেতা আতিকুল ইসলাম, পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সদর ইউনিয়ন সম্পাদক জয়দেব কুমার বিশ্বাস, মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম, আ. লতিফ, হাফিজুল ইসলাম, ইউপি সদস্য মোক্তার হোসেন, নেওয়াজ ও সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ফরিদুল।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর খুলনা সফরসূচি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর খুলনা সফরসূচি

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এক দিনের সফরে আজ ৮ অক্টোবর খুলনা আসছেন। সফরসূচি অনুযায়ী প্রতিমন্ত্রী আজ ৮ অক্টোবর দুপুর ১২.০০ টায় খুলনা দৌলতপুর সরকারি আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার পরিদর্শন এবং বেলা দেড়টায় খালিশপুর ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক সংলগ্ন জিলপুকুর (লেক)-এ মাছের পোনা অবমুক্ত করবেন।

তিনি বিকাল চারটায় বয়রা মৎস্য পরিদর্শন ও কোয়ালিটি কন্ট্রোল ল্যাব পরিদর্শন এবং সন্ধ্যা ছয়টায় হোটেল সিটি ইনে বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে খুলনা জেলার চাষী, ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন প্রতিনিধি, গবাদিপশু খামারি, ফিডমিল ও প্রিমিক্স মালিক, জেলা মৎস্য অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং অন্যান্য অংশীজনের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে যোগদান করবেন। পরে প্রতিমন্ত্রী ঢাকার উদ্দেশ্যে খুলনা ত্যাগ করবেন। তথ্যবিবরণী