সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: আশাশুনির ‘সাতপোয়া’ ও ‘পাঙ্গাসমারি’ খাল খনন প্রকল্প
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নে সরকারি অর্থ ব্যয়ে ‘সাতপোয়া’ ও ‘পাঙ্গাসমারি’ খাল খনন প্রকল্পে যে ধরনের অনিয়ম, জবরদখল ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে, তা জনমনে গভীর ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে। জনস্বার্থে গৃহীত একটি সরকারি প্রকল্প কীভাবে স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে, বড়দলের ঘটনা তারই এক নিকৃষ্ট উদাহরণ।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খালের খননকাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় সেখানে আড়াআড়িভাবে নেট-পাটা (বাঁশের বেড়া ও জাল) দিয়ে মাছ চাষের পাঁয়তারা চলছে। এর ফলে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে, যা খালের মূল উদ্দেশ্যকেই ব্যাহত করছে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, সরকারি খাস জমি পুনরুদ্ধার না করে এবং খাস খালের ওপর থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করে সম্পূর্ণ উল্টো পথে হাঁটছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। খালের মাটি সরকারি জমিতে ফেলার নিয়ম থাকলেও, প্রভাবশালীদের সুবিধা দিতে সাধারণ মানুষের ভোগদখলীয় ও রেকর্ডীয় ফসলি জমি এবং বসতবাড়ির ওপর ইচ্ছেমতো মাটির স্তূপ করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ঘরবাড়ি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।
যেকোনো সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের মূল শর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। অথচ বড়দলের এই প্রকল্পে খালের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ বা গভীরতা কত—তার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য স্থানীয় বাসিন্দা কিংবা খোদ জনপ্রতিনিধিদের জানানো হয়নি। প্রকল্পের বিবরণী বা সিডিউল দৃশ্যমান স্থানে ঝুলিয়ে দেওয়ার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ গোপনে, নিজেদের খেয়ালখুশিমতো দায়সারাভাবে কাজ শেষ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরাও এই অনিয়ম ও জবরদখলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
খাল খনন করার মূল উদ্দেশ্য হলো জলাবদ্ধতা দূর করা, কৃষি কাজের সুবিধা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা। কিন্তু বড়দলের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে সরকারি বরাদ্দের টাকার অপচয় ও সাধারণ মানুষের জমি জবরদখলের এক ‘হরিলুট’ চলছে। আমরা মনে করি, এই অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে খালের নেট-পাটা উচ্ছেদ করে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের রেকর্ডীয় জমি থেকে অবৈধভাবে ফেলা মাটি অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে এই প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের জরুরি ও আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।











