সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার
সুন্দরবনের সামুদ্রিক ও প্রাকৃতিক সম্পদের প্রজনন এবং স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে প্রতিবছর তিন মাসের জন্য জলজ সম্পদ আহরণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সুরক্ষার এই সুনির্দিষ্ট সময়েও বনভূমির ওপর একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তির নির্মম অত্যাচার থেমে নেই। বন বিভাগের চোখ ফাঁকি দিয়েÑকিংবা তাঁদের নজরদারির শিথিলতার সুযোগ নিয়েÑনিষিদ্ধ এলাকায় বিষ প্রয়োগ করে মাছ ও কাঁকড়া শিকারের খবর উঠে আসছে, যা দেশের ফুসফুসখ্যাত সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের জন্য চরম এক হুমকির সংকেত।
পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের সোরা এলাকার এক জেলে সুন্দরবনের নিষিদ্ধ অঞ্চল থেকে বিষ দিয়ে প্রায় ২৯০ কেজি চিংড়ি শিকার করে লোকালয়ের আড়তে প্রকাশ্যে বিক্রি করেছেন। সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বিষ ঢেলে মাছ ধরা মানে কেবল বড় মাছগুলোকে হত্যা করা নয়, বরং হাজার হাজার মাছ ও কাঁকড়ার রেণুপোনা ধ্বংস করে পুরো মৎস্যসম্পদের বংশবৃদ্ধির ধারাকে স্থবির করে দেওয়া। বিষের এই বিষাক্ত প্রভাবে সুন্দরবনের সংবেদনশীল জলজ পরিবেশ ও খাদ্যশৃঙ্খলে দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয় নেমে আসছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো প্রশাসন ও বন বিভাগের ভূমিকা। সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকা অবস্থায় এবং উপকূলজুড়ে টহল ব্যবস্থা থাকার পরও কীভাবে বিষ দিয়ে শিকার করা শত শত কেজি মাছ লোকালয়ে এনে প্রকাশ্যে বেচাকেনা হয়Ñএ প্রশ্নের উত্তর আজও অধরা। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বন বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তারা বিষয়টিকে অস্বীকার করে লিখিত অভিযোগের অযুহাত দিয়েছেন। দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের এ ধরনের দায়সারা অবস্থান পুরো নজরদারি ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
সুন্দরবন কেবল কোনো সাধারণ বনাঞ্চল নয়; এটি উপকূলীয় কোটি কোটি মানুষের প্রাকৃতির ঢাল এবং দেশের এক অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ। এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকা- রোধে প্রশাসনিক শৈথিল্য কিংবা তদারকির অভাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিষ প্রয়োগে মাছ শিকারের পেছনের সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। কেবল কাগজে-কলমে নিষেধাজ্ঞা না রেখে, ড্রোন ও উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় নদীপথের নজরদারি আরও কঠোর করা জরুরি। সুন্দরবনের প্রাণ প্রকৃতি বাঁচাতে বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এবার সত্যি সত্যি কঠোর ভূমিকায় নামতে হবে।









