বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

সম্পাদকীয়: শিশু ডায়রিয়ার ভয়াবহ প্রকোপ ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়: শিশু ডায়রিয়ার ভয়াবহ প্রকোপ ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা

উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় তীব্র দাবদাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শিশু ডায়রিয়ার প্রকোপ। গত ৫০ দিনে জেলা সদরের তিনটি প্রধান হাসপাতালে ১ হাজার ৭১৮ জন শিশুর ভর্তির পরিসংখ্যান জনস্বাস্থ্যের এক চিত্র তুলে ধরছে। বিশেষ করে সদর হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে যে হারে ভিড় বাড়ছে, তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্চ-এপ্রিলের এই অস্বাভাবিক গরম শিশুদের শরীরের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে। তীব্র গরমে পানিশূন্যতা থেকে শুরু করে জ্বর, বমি এবং ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়ছে। তবে কেবল আবহাওয়া নয়, বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং পচা-বাসি খাবারের অসতর্ক ব্যবহার এই সংক্রমণকে আরও ত্বরান্বিত করছে। শিশুদের জন্য মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি ওরস্যালাইন ও তরল খাবারের পরামর্শ চিকিৎসকরা দিলেও অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরা সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা নিতে পারছেন না।

শুক্রবার দৈনিক পত্রদূত পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যা সংকট প্রকট। ডায়রিয়ার মতো একটি সংক্রামক রোগে আক্রান্ত শিশুদের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তার ওপর সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ না থাকা এবং রোগীদের প্রায় সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হওয়া দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য “মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা” হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতালে স্যালাইন ছাড়া অন্য ওষুধ না পাওয়া গেলে সাধারণ মানুষের সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর আস্থা যেমন কমে, তেমনি দরিদ্র রোগীদের দুর্ভোগও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার যে শয্যা সংকটের কথা উল্লেখ করেছেন, তা নিরসনে স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিভিল সার্জনকে অবিলম্বে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে অস্থায়ী ওয়ার্ড তৈরি করতে হবে। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়ার অধিকার সাধারণ মানুষের আছে। পর্যাপ্ত স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে গ্রামগঞ্জে বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় ডায়রিয়া প্রতিরোধে প্রচার চালাতে হবে। শিশুদের খাবার ও পানির বিশুদ্ধতা রক্ষায় সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে।

মনে রাখতে হবে, ডায়রিয়া প্রতিরোধযোগ্য রোগ। যদি সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত শয্যা ও ওষুধের ব্যবস্থা করা না যায়, তবে এর দায় প্রশাসন এড়াতে পারবে না। আমরা আশা করি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত সাড়া দেবেন এবং শিশুদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করে সাতক্ষীরাবাসীকে এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দেবেন।

 

 

Ads small one

সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি ও বেসরকারি সমমনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুন দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিসিডিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন। সিসিডিবি’র রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং ম্যানেজার সামিউল আলিম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও শামসুজ্জামান কনক। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদ বিন শফিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাছপালা কেটে ফেলা এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বসন্তপুর গ্রামের বৈদ্যনাথ দাস বাদী হয়ে শংকর দাস ও দিপঙ্কর দাসসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা (নং-৪০৬/২০২৬) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বসন্তপুর মৌজার ৫৮ শতক পৈতৃক সম্পত্তির একটি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, যা নিয়ে আগেও একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। বাদীর অভিযোগ, চলমান মামলার তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক তাঁর জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন গাছগাছালি কেটে সাবাড় করেছে এবং জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। বিবাদীদের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে তাঁর পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আলিপুর থেকে কুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে সরকারি খাস জমিতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। সড়কের ‘অপ্রয়োজনীয় অংশ’ উচ্ছেদ না করে কেবল মূল কাজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু জমি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে গত ২৪ জুন জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। আগামী ৮ ও ৯ জুলাই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে আবেদনপত্রটি তুলে দেন।
এ সময় কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা এবং সমাজসেবক মোজাম্মেল হোসেনসহ (মিনু ডাক্তার) এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এলাকার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়কের উন্নয়ন কাজকে স্থানীয়রা স্বাগত জানান। তবে সওজ-এর নকশা অনুযায়ী ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা হলে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁদের দোকান, পুঁজি ও জীবিকা হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। গ্রামীণ অর্থনীতি, মাছের শেড ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বহু ভূমিহীন পরিবার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়নে যতটুকু জমি অপরিহার্য, ঠিক ততটুকু রেখে বাকি অংশ উচ্ছেদ না করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।