শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সাতক্ষীরা শহরের কুখরালীতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা শহরের কুখরালীতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুখরালী এলাকায় সোহানা পারভীন (১৯) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, সোহানাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আজ শুক্রবার (২২ মে) সকালে কুখরালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। নিহত সোহানা পারভীন মোঃ আব্দুল খলিলের মেয়ে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিহত সোহানার ৩ বছর বয়সী শিশুসন্তান ফাইয়াজ হোসেন। সে সাংবাদিকদের জানায়, “আমার আব্বু আর দাদি দুইজনে মিলে আম্মুকে মারছে। তারপর আম্মুকে ঘরের ভিতরে ওড়না দিয়ে ওপরের আড়ার সাথে ঝুলাই দিছে।” অবুঝ শিশুর এমন বক্তব্যে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত সোহানার স্বামী শেখ সাকিব হোসেন ও শাশুড়ি খালেদা বেগম দীর্ঘদিন ধরে তার ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, সাকিবের সাথে পাশের বাড়ির একটি দ্বিতল ভবনের এক তরুণীর পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। সাকিব প্রায়ই ওই তরুণীকে নিয়ে বাইরে ঘুরতে যেতেন। এই পরকীয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই কলহ ও মারধর চলত। স্থানীয়দের দাবি, শুক্রবার সকালেও একইভাবে মারধরের একপর্যায়ে সোহানা মারা যান। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে মোড় নিতে সাকিব ও তার মা মিলে সোহানার লাশ ওড়না দিয়ে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করেন।

খবর পেয়ে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করছে। এছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, “আমরা ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ পাঠিয়েছি। তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত চালাচ্ছেন। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী শেখ সাকিব হোসেনকে থানায় আনা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত শেষে অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ওসি আরও জানান, তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা-সে বিষয়ে নিশ্চিত করে এই মুহূর্তে কোনো তথ্য দেওয়া সম্ভব নয় ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

Ads small one

না-এ কোনও ইতিহাস নয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১:১৫ পূর্বাহ্ণ
না-এ কোনও ইতিহাস নয়

মারিয়া নূর
কয়েক মিলিয়ন কষ্টের বরাদ্দ নেওয়া ছিলো
আগেই, অনেক আগেই।
এখন আর বাড়তি দেনার দায় নেই ভাগ্যলিপিতে।
সুখেরা তো বরাবরই মুখচোরা
তাই আর ঘাঁটাতে চাইনি ওদের নতুন করে।

ফিরে যাওয়া বসন্তের আক্ষেপ পত্রে
অভিযোগ ছিলো – অপয়া মুখদর্শনের।
এখন দফায় দফায় হাজিরা চলে
জজকোর্ট থেকে হাইকোর্টের বারান্দায়।

সানগ্লাসটা ছোট হতে হতে
এখন মোটা ফ্রেমের চশমায় পরিনত।
চোখের নিচে বয়সের পাটিগণিত।
নামতা ভুলে গেছি সেই কবে;
উপপাদ্য বা সম্পাদ্য যাই বলো
সকল সুত্রের কারসাজিতে এখন
চোখ রাঙানি দেখি ভীষণ রকম।

যারা একসময় স্বপ্নের পরিচয়ে
চোখের সমুদ্রে খেলতো গোল্লাছুট;
বৃদ্ধ বটের নুয়ে পড়া তর্জনী আঁকড়ে
ওরাও ঝুলে থাকে অলস দুপুরে।

এখন আর দিবাকরের হৃদপি-ে কামড় দিয়ে
রোদ চুরি করে না কেউ।

না – এ কোনও ইতিহাস নয়;
রবীঠাকুরের ছোট গল্প? না তাও না।
এ হলো সেই চমকপ্রদ উপন্যাস
যার বিশেষ ক’টা পৃষ্ঠা অলক্ষেই অন্তর্ধান।

নবান্ন ও চন্দ্রাহত একজন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
নবান্ন ও চন্দ্রাহত একজন

বাবুল চৌধুরী
খোলা চুলে বাইরে এসো না এই ঘোর পূর্ণিমা-রাতে
সনাতন চাঁদ আকাশে সওয়ার চাঁদের জোয়ার, তাই
জোছনায় আহত হতে পারো আমিও চন্দ্রগ্রস্থ বলে
এক শ’ বছর পেছনে তাকাই অথবা তারও বেশি
সময়ের উল্টো স্রোতে, তোমার মুখে দেখি দীঘল
ফসলের মাঠ, চুলে খরতর নদী, ও শাড়ির জমিনে
জড়ানো স্থির অথবা অনেক উড়ন্ত ফিঙের ডানা,
আঁচলে আদরে আগলে রেখেছ নাকি ধান স্বর্ণালী!
আরেক মানবীর মতো তখন তুমি, যে মুখ বহু বছর
আগে দেখেছি – সে ছন্দে নাচে, উঠোনে হেসে যায়

এখনি ঢেঁকির শব্দ উঠবে, ঢেঁকিতে পড়ছে তার পা
স্বপ্নের ভেতর তার ছন্দিত পা দেখি, ধান ভাঙা হলে
এখনই দেবে সে নবান্নের ডাক, এখন চাঁদের মতো
সব থালা ভরবে নতুন খাদ্য-কণায়, নিরন্ন লোকালয়

নবান্নের সাড়া পেয়ে যায়, আকাশে চাঁদের জোয়ার –
এ নবান্নে নিমগ্ন আমি – খোলাচুলে বাইরে এসো না

সুখের দিনে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১:১১ পূর্বাহ্ণ
সুখের দিনে

ফাহিম শাহরিয়ার রুমি
সুখের দিনে কেন এ হৃদয়
নিভৃতে কাঁদিতে চায়?
হাসির আড়ালে কার যেন বেদনা
নীরবে ভাসিয়া যায়।

রৌদ্রঝলমল প্রভাত-আকাশে
স্বর্ণরেখা খেলে যায়,
তবু মোর চিত্তে অকারণ ছায়া
নিভৃত ব্যথা বুনে যায়।

সবাই যখন গাহে আনন্দগান,
মিলন-সুরে মাতে প্রাণ,
আমি কেন শুনি বিরহের বীণা
অশ্রুর মৃদু তান?

ফুলে ভরা এ জীবনের বাগান,
গন্ধে ভরে চারিধার,
তবু কেন যেন মলিন হইয়া
ঝরে পড়ে অন্তর-হার।

হায়, সুখের মাঝে লুকায়ে থাকে
দুঃখের অচেনা রূপ,
মানব-হৃদয় তাই চিরদিন
বিরোধে গাঁথা এক সুরূপ।