মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় বিজিবির অভিযানে গাঁজা ও চিংড়ি রেনুসহ ত্রিশ লক্ষাধিক টাকার মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় বিজিবির অভিযানে গাঁজা ও চিংড়ি রেনুসহ ত্রিশ লক্ষাধিক টাকার মালামাল আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ কাকডাঙ্গা, কুশখালী, মাদরা, পদ্মশাখরা ও তলুইগাছা বিওপি এর টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মোবাইল ও মোটরসাইকেলসহ ভারতীয় শাড়ি, গাঁজা, চিংড়ি মাছের রেণু পোনা ও মোবাইল ফোনের স্পিকার আটক করেছে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন হেডকোয়াটার জানায়, পদ্মশাখরা বিওপির পৃথক দুইটি আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানাধীন হাড়দ্দাহ জোড়া তালগাছ ও পল্লী শ্রী আমবাগান হতে ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকার ভারতীয় চিংড়ি মাছের রেণু পোনা আটক করে। কুশখালী বিওপির পৃথক দুইটি আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার শ্মশান ঘাট ও ছয়ঘড়িয়া হতে ২ লাখ ৭০ হাজার ২০০ টাকার ৫.২ কেজি গাঁজা, ১ টি মোটরসাইকেল ও ১ টি মোবাইল ফোন আটক করে।

 

মাদরা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার শ্মশান ঘাট হতে ৫২ হাজার ৫০০ টাকার ভারতীয় সিল্ডেনাফিল ট্যাবলেট আটক করে। কাকডাঙ্গা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার গেরাখালী হতে ৭০ হাজার টাকার ভারতীয় শাড়ি আটক করে।

এছাড়াও, তলুইগাছা বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানাধীন মজুমদারের খাল হতে ৪ লাখ টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের স্পিকার আটক করে। আটক মালামালের সর্বমোট মূল্য ৩০ লাখ ৪২ হাজার ৭০০ টাকা।
বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়।

 

এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।

Ads small one

আশাশুনিতে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও পরিকল্পনা অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও পরিকল্পনা অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ঝুঁকি হ্রাস পরিকল্পনা (ডিআরআর-আরআরএপি) প্রকল্পের অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সার্বিক সহযোগিতায়, জাপান সরকারের আর্থিক সহায়তায়, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এর কারিগরি সহযোগিতায়, বাস্তবায়নে সহযোগি সংস্থা সুশীলন ও ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির বাস্তবায়নে কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু। প্রকল্প সমন্বয়কারী ইমরান হোসেনের পরিচালনায় কর্মশালায় আলোচনা রাখেন, ডব্লিউএফপি খুলনা সাব অফিসের হেড আল মামুন আজাদ, খুলনা অফিসের তাছলিমা তামাচ্ছুম, সুশীলনের উপ-পরিচালক মনীর হোসেন, প্রকল্পের মিল কো-অর্ডিনেটর খালিদ মাহমুদ, উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার অনিন্দ্যদেব সরকার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আতিয়ার রহমান, পিআইও আমিরুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রুমা, অধ্যক্ষ মুজিবর রহমান, ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক দিপঙ্কর বাছাড় দিপু, হাজী আবু দাউদ ঢালী প্রমুখ। কর্মশালায় প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত কার্যক্রমের উপর আলোচনা, প্রতিবন্ধকতা, সমস্যা ও এলাকার সমস্যা তুলে ধরে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়।

শ্যামনগরে সোয়া দুই টন নিষিদ্ধ শামুক আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৫ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে সোয়া দুই টন নিষিদ্ধ শামুক আটক

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয় থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে রাখা সোয়া দুই টন (২২৫০ কেজি) নিষিদ্ধ শামুক ও ঝিনুক জব্দ করেছে পুলিশ ও বন বিভাগ। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলা সদরের নকিপুর বাজারে এক যৌথ অভিযানে ৫০ বস্তা ভর্তি এই শামুক জব্দ করা হয়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিকেলে বন বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জ ও শ্যামনগর থানা পুলিশ কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়ে অভিযান চালায়। সেখানে বস্তাভর্তি নিষিদ্ধ শামুকগুলো কক্সবাজারে পাঠানোর জন্য রাখা হয়েছিল।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুল হক বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, মো. হানজালা নামের এক ব্যক্তি এসব শামুক কক্সবাজারের নূর আলম নামের এক ব্যক্তির কাছে পাঠানোর জন্য বুকিং করেছিলেন। বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০২৬-এর তফসিল অনুযায়ী এসব শামুক ও ঝিনুক আহরণ, পরিবহন ও বাণিজ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
বন কর্মকর্তা আরও জানান, জব্দ করা শামুকগুলো বর্তমানে বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে। এই পাচার চেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয়রা জানান, এর আগেও বেশ কয়েকবার শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ও মুন্সিগঞ্জ এলাকা থেকে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ শামুক ও ঝিনুক জব্দ করেছিল বন বিভাগ। একটি অসাধু চক্র সুন্দরবন ও সংলগ্ন এলাকা থেকে এসব প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাচার করে আসছে, যা উপকূলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য চরম হুমকি।

বর্ণিল আয়োজনে সাতক্ষীরায় জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২২ অপরাহ্ণ
বর্ণিল আয়োজনে সাতক্ষীরায় জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস

পত্রদূত রিপোর্ট: ‘সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’-এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বর্ণিল শোভাযাত্রায় সাতক্ষীরায় পালিত হয়েছে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা, মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত ১৫ মাসে (জানুয়ারি ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬) সাতক্ষীরা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) আওতায় ৯৯ লাখ ৭৮ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে জেলা জজ আদালত চত্বরে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “অসহায় ও দরিদ্র মানুষের দ্রুত ও কার্যকর বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে লিগ্যাল এইড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমাদের লক্ষ্য সাতক্ষীরার গাবুরা থেকে কলারোয়ার ইলিশপুর পর্যন্ত প্রত্যেকটি মানুষের ঘরে এই সেবা পৌঁছে দেওয়া।”

তিনি আরও জানান, উল্লিখিত সময়ে ২ হাজার ১২০টি আবেদনের বিপরীতে ৫২০টি মামলা দায়ের হয়েছে। এডিআরের মাধ্যমে ১ হাজার ৪৮১টি বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়েছে, যা বিচারব্যবস্থার ওপর চাপ কমিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘব করছে। এই সময়ে ২ হাজার ১৬৫ জন মানুষ সরাসরি আইনি সুবিধা পেয়েছেন, যার মধ্যে বড় একটি অংশ নারী।

দিবসটি উপলক্ষে সকাল সাড়ে সাতটায় জজ কোর্ট চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় আদালতে এসে শেষ হয়। এতে বিচার বিভাগ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিলÑ আইনি সহায়তা মেলা। এতে সাধারণ মানুষকে আইনি পরামর্শ দিতে আদালত চত্বরে বসে বিশেষ বুথ। আগত বিচারপ্রার্থীদের জন্য ছিল স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ। শ্রেষ্ঠ প্যানেল আইনজীবী হিসেবে নারী ক্যাটাগরিতে উম্মে হাবিবা রূপা এবং পুরুষ ক্যাটাগরিতে মো. আসাদুজ্জামান আসাদকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। বিকেলে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আরেফিন জুয়েল লিগ্যাল এইড কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে তৃণমূল পর্যায়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমান বলেন, সরকারি এই উদ্যোগের ফলে এখন অর্থিক অনটনের কারণে কারও বিচারপ্রাপ্তি আটকে থাকছে না।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস, সিভিল সার্জন ডা. মো. আবদুস সালাম, পিপি শেখ আবদুস সাত্তার এবং জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা বক্তব্য দেন। বক্তারা একমত হন যে, সরকারি খরচে আইনি সহায়তা কার্যক্রম বিচারপ্রার্থী মানুষের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।