সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সাতক্ষীরার জলবায়ু সংকট ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতায় টেকসই সমাধান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার জলবায়ু সংকট ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতায় টেকসই সমাধান

মো. মামুন হাসান

উপকূলের ভাঙন কোনো আকস্মিক দুর্যোগ নয়, বরং এটি একটি ধীরগতির নিঃশব্দ ঘাতক যা তিলে তিলে জীবনের ভিত নাড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তের জেলা সাতক্ষীরা আজ সেই নীরব ধ্বংসলীলার এক জীবন্ত সাক্ষী। এককালের অবারিত সবুজ আর সুজলা-সুফলা এই জনপদে প্রকৃতি এখন আর আগের মতো নির্ভরযোগ্য নেই। বাতাসের আর্দ্রতা থেকে শুরু করে মাটির স্পর্শ সবখানেই এক অদ্ভুত অস্থিরতা বিরাজ করছে। ক্রমশ বাড়তে থাকা লবণাক্ততা, ঘনঘন ঘূর্ণিঝড়ের রুদ্ররূপ এবং বৃষ্টির খামখেয়ালি ধরন সাতক্ষীরার লাখ লাখ মানুষের জীবনকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। এটি কেবল একটি ভৌগোলিক সমস্যা নয়, বরং অস্তিত্ব রক্ষার এক কঠিন লড়াই।

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বৈজ্ঞানিক প্যানেল তথা আইপিসিসি তাদের সতর্কবার্তায় স্পষ্ট জানিয়েছে যে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বর্তমান গতিতে বাড়তে থাকলে উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন অন্তত ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। বাংলাদেশের উপকূলীয় এই জনপদে ৩ কোটির বেশি মানুষের বসবাস, যাদের জীবনের স্পন্দন মিশে আছে এই মাটির সঙ্গে। সাতক্ষীরার বর্তমান চিত্র আরও ভয়াবহ। অনেক এলাকায় মাটির লবণাক্ততা এমন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ধানের ফলন ইতোমধ্যে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। জীবন ধারণের তাগিদে কৃষিজমির একটি বিশাল অংশ আজ চিংড়ি ঘেরে রূপান্তরিত হয়েছে। যদিও এই রূপান্তর সাময়িকভাবে কিছু মানুষের পকেটে টাকা আনছে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা মাটির উর্বরতাকে বিষিয়ে তুলছে। এর চেয়েও বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে সুপেয় পানি। বিভিন্ন সমীক্ষা বলছে, সাতক্ষীরার প্রায় ৬০ শতাংশ পরিবার নিরাপদ পানির তীব্র সংকটে ভুগছে। এক কলস পানযোগ্য পানির জন্য এখানকার নারীদের প্রতিদিন মাইলের পর মাইল তপ্ত পথ পাড়ি দিতে হয়, যা কেবল শারীরিক শ্রম নয় বরং একটি সামাজিক ও মানসিক যন্ত্রণার নাম।

ঘূর্ণিঝড় আইলা থেকে শুরু করে আম্ফানের মতো বিধ্বংসী দুর্যোগগুলো সাতক্ষীরার মানুষের মেরুদ- ভেঙে দিয়েছে। আইলার প্রলয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ২০ লাখ মানুষ বছরের পর বছর পানির নিচে কাটিয়েছে। আম্ফানের সময় ২৫ লাখ মানুষের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়েছে। এই ধারাবাহিক দুর্যোগ কেবল ঘরবাড়ি আর বাঁধ ভাঙে না, বরং মানুষের দীর্ঘদিনের সঞ্চয়, তিল তিল করে গড়া অবকাঠামো এবং মানসিক স্থিতিশীলতাকেও চুরমার করে দেয়। তবে এই অন্ধকার পরিস্থিতির মাঝেও আশার আলো দেখায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সফল কিছু উদাহরণ। সাতক্ষীরাকে বাঁচাতে হলে আমাদের সেই বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে দেশীয় প্রেক্ষাপটে কাজে লাগাতে হবে।

নেদারল্যান্ডসের দিকে তাকালে আমরা এক বিস্ময়কর সফলতার গল্প দেখি। সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে অবস্থান করেও দেশটি তাদের উন্নত বাঁধ ও বৈজ্ঞানিক পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখেছে। তাদের ডেল্টা প্ল্যান বা বদ্বীপ পরিকল্পনা অনুযায়ী জাতীয় আয়ের প্রায় ১ শতাংশ এই খাতে নিয়মিত বিনিয়োগ করা হয়, যার ফলে তাদের বন্যাজনিত আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হয়েছে। জাপানের উপকূলীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা আরেকটি চমৎকার উদাহরণ। জাপান তাদের উপকূলে সুপার লিভি বা অতি-শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণ করেছে যা কেবল জলোচ্ছ্বাস নয়, বরং তীব্র কম্পন সহনশীল। সাতক্ষীরার গাবুরা বা পদ্মপুকুরের মতো জরাজীর্ণ বাঁধ কবলিত এলাকায় দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য জাপানি এই প্রকৌশলবিদ্যার আদলে গ্রিন বেল্ট বা সবুজ বেষ্টনীসহ বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন। এটি কেবল মাটির বাঁধ হবে না, বরং এর ওপর থাকবে ঘন ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল যা বাঁধের স্থায়িত্ব কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে।

অন্যদিকে ভিয়েতনামের মেকং বদ্বীপে লবণাক্ততা মোকাবিলায় যে সমন্বিত কৃষি পদ্ধতি চালু করা হয়েছে, তা সাতক্ষীরার জন্য একটি আদর্শ মডেল হতে পারে। সেখানে ধান ও চিংড়ির যৌথ চাষের মাধ্যমে কৃষকের আয় দুই থেকে তিনগুণ বেড়েছে। এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর বহুমুখিতা যেখানে প্রকৃতি কোনো এক দিকে বিরূপ হলে অন্য খাতটি কৃষকের জীবিকা আগলে রাখে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ কিরিবাতি এবং ফিজি সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি মোকাবিলায় ভাসমান কৃষি বা ফ্লোটিং এগ্রিকালচারকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সাতক্ষীরার যেসব এলাকা বছরের অর্ধেক সময় জলাবদ্ধ থাকে, সেখানে মাটির ওপর নির্ভর না করে বাঁশ এবং কচুরিপানার স্তরের ওপর আধুনিক ভাসমান বেড তৈরি করে সারাবছর সবজি ও মশলা উৎপাদন করা সম্ভব। ফিলিপাইন আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে হয়। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় তাদের আগাম সতর্কবার্তা ও তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের নিবিড় প্রশিক্ষণ গত এক দশকে প্রাণহানির সংখ্যা ৭০ শতাংশ কমিয়ে এনেছে। একইভাবে প্রতিবেশী দেশ ভারতের গুজরাট ও পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং লবণ সহনশীল ফসলের সম্প্রসারণ ঘটিয়ে সুপেয় পানির সংকট ও কৃষির ক্ষতি অন্তত ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

সাতক্ষীরার সংকট নিরসনে এখন কিছু বৈপ্লবিক ও উদ্ভাবনী পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। প্রথমত ব্লু ইকোনমি বা নীল অর্থনীতির স্থানীয়করণ করতে হবে। উপকূলীয় লোনা পানিতে সামুদ্রিক শৈবাল বা সি-উইড চাষ একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় খাত হতে পারে যা লোনা পানিতে অনায়াসেই জন্মায় এবং এর বিশাল আন্তর্জাতিক বাজার রয়েছে।

 

দ্বিতীয়ত প্রতিটি ইউনিয়নে সৌরচালিত সুপেয় পানি শোধনাগার বা সোলার ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট স্থাপন করা যেতে পারে। সূর্যের তাপ ব্যবহার করে লোনা পানি থেকে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করার এই প্রযুক্তি অত্যন্ত সাশ্রয়ী। তৃতীয়ত ডিজিটাল রিলায়েন্স নেটওয়ার্ক তৈরি করা প্রয়োজন যেখানে আধুনিক সেন্সরের মাধ্যমে মাটির লবণাক্ততা ও জোয়ারের উচ্চতা রিয়েল-টাইমে পরিমাপ করে কৃষকদের স্মার্টফোন বা স্থানীয় তথ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে সচেতন করা হবে। চতুর্থত ম্যানগ্রোভ ভিত্তিক পর্যটন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার মাধ্যমে স্থানীয়দের জন্য বিকল্প আয়ের উৎস তৈরি করা সম্ভব। সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে অবস্থিত হওয়ায় সাতক্ষীরায় ইকো ট্যুরিজম গড়ে তোলা গেলে বননির্ভর মানুষের সংখ্যা কমবে এবং প্রকৃতির ওপর চাপ হ্রাস পাবে। পঞ্চমত উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা সহিষ্ণু কৃত্রিম ম্যানগ্রোভ নার্সারি স্থাপন করা যেতে পারে যা বাঁধের প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করবে।

বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে এখনই কিছু জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। দুর্বল বেড়িবাঁধ দ্রুত মেরামত করা এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করে তাদের আধুনিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। খাল ও ড্রেন পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করার পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সচল রাখতে হবে। লবণ সহনশীল বীজ কৃষকদের মধ্যে দ্রুত বিতরণ করা এবং বৃষ্টির পানি সংগ্রহের জন্য প্রতিটি বাড়িতে সাশ্রয়ী হারভেস্টিং সিস্টেম প্রবর্তন করা দরকার। অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এই বিনিয়োগ অত্যন্ত লাভজনক কারণ বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে জলবায়ু অভিযোজন খাতে প্রতি ১ টাকা বিনিয়োগ করলে দীর্ঘমেয়াদে ৪ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সুবিধা পাওয়া যায়। অর্থাৎ এটি কেবল পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয় বরং একটি টেকসই অর্থনৈতিক কৌশল।

পরিশেষে এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে সাতক্ষীরার এই সংকট আজ আমাদের সামনে এক কঠিন বাস্তবতা। কিন্তু এই সংকটই হতে পারে নতুন সম্ভাবনার সূচনা যদি আমরা বিশ্ব থেকে শিক্ষা নিয়ে তা নিজেদের বাস্তবতায় প্রয়োগ করতে পারি। সাতক্ষীরাকে বাঁচানো মানে কেবল একটি জেলাকে রক্ষা করা নয় বরং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করা। এখনই সময় সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ প্রকৃতি দ্রুত তার রূপ বদলাচ্ছে এবং আগামীকাল হয়তো আমাদের জন্য আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে অপেক্ষা করছে। লেখক: শিক্ষক ও কলাম লেখক

Ads small one

বুড়িগোয়ালিনী বিএনপির মধ্যস্থতায় দুই পরিবারের ছেলে-মেয়ের বিয়ে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
বুড়িগোয়ালিনী বিএনপির মধ্যস্থতায় দুই পরিবারের ছেলে-মেয়ের বিয়ে

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দুটি পরিবারের ছেলে-মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন করিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ। সোমবার (২৫ মে) দুপুরে বুড়িগোয়ালিনী বিএনপি কার্যালয়ে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে এ বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক জটিলতা ও ভুল বোঝাবুঝির কারণে বিয়েটি নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের নজরে এলে তারা উভয় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আলোচনা করেন এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সমাধানের মাধ্যমে ছেলে-মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন করান।

এসময় স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী সাবেক সেনা সদস্য জিএম রুস্তম আলী, কুদরতে খোদা, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের মহিলার সদস্যা নিপা চক্রবর্তী, ফজলুল করিম, মহিদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম।

 

এসময় কুদরতে খোদা বলেন, সমাজে বিরোধ মীমাংসা, মানবিক সহায়তা এবং পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তাদের এ উদ্যোগে দুই পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বিএনপি নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয়রা বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।

প্রাথমিক শিক্ষা পদকে শ্যামনগরে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক বাবু লাল ও শ্রেষ্ঠ স্কুল খ্যাগড়াদানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৫:৩০ অপরাহ্ণ
প্রাথমিক শিক্ষা পদকে শ্যামনগরে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক বাবু লাল ও শ্রেষ্ঠ স্কুল খ্যাগড়াদানা

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: চলতি বছরে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার তালিকায় শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক (পুরুষ) ১৪ নং চিংড়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু লাল মিস্ত্রী ও শ্রেষ্ঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৯১ খ্যাগড়াদানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্বাচিত হয়েছেন।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সুত্রে প্রকাশ, ২০২৬ সালের প্রাথমিক শিক্ষা পদকের তালিকায় অন্যান্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক (পুরুষ) ১৩ নং হায়বাতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আমিনুর রহমান, শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক(মহিলা) ৯১ খ্যাগড়াদানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাছরিন আক্তার।

 

শ্রেষ্ঠ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শাহীন হোসেন, শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক (পুরুষ) ৯১ খ্যাগড়াদানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ সুমন আহমেদ, শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক (মহিলা) ১৭৫ নং দক্ষিণ পাখিমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সেলিনা খাতুন ও শ্রেষ্ঠ কর্মচারী মোঃ খায়রুল আলম।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার এনামুল হক বলেন সরকারি নিয়মানুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রাপ্তদের নির্ধারিত কমিটি কর্তৃক যাচাই বাছাই করে নির্বাচন করা হয়েছে এবং পদক প্রাপ্ত সকলকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করা হয়েছে।

 

শ্যামনগরে ঈদুল আজহা উপলক্ষে কম আয়ের মানুষরা পেল ১৪৮ মেট্রিক টন চাল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৫:২৩ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে ঈদুল আজহা উপলক্ষে কম আয়ের মানুষরা পেল ১৪৮ মেট্রিক টন চাল

রনজিৎ বর্মন, সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর): পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় সরকারিভাবে একটি পৌরসভা ও এগারটি ইউনিয়নের দরিদ্র ব্যক্তি বা কম আয়ের মানুষ ১৪ হাজার ৮৮৬ টি ভিজিএফ কার্ডধারীরা পরিবার পিছু ১০ কেজি হারে পাবে ১৪৮.৮৬০ মেট্রিকটন চাউল।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে প্রকাশ, উপজেলায় ১১ টি ইউনিয়নে ভিজিএফ কার্ডধারীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৩৩৭ জন। এই কার্ডের বিনিময়ে বরাদ্দকৃত চাউলের পরিমান ১৩৩.৩৭০ মেট্রিকটন। শ্যামনগর পৌরসভায় কার্ডধারীর সংখ্যা হল ১৫৪৯ জন এবং এই কার্ডের বিনিময়ে চাউল বরাদ্ধ ১৫.৪৯ মেট্রিকটন।

ইউনিয়ন অনুযায়ী কার্ড ধারীর সংখ্যা ও বরাদ্ধকৃত চাউল ভূরুলিয়া ইউনিয়নে কার্ড সংখ্যা ৮৭৯ টি ও বরাদ্ধকৃত চাউল ৮.৭৯ মেট্রিকটন, কাশিমাড়ী ইউপির কার্ড সংখ্যা ১২৫২ টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ১২.৫২০ মেট্রিকটন, নুরনগর ইউপির কার্ড সংখ্যা ৮৯৯টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ৮.৯৯০ মেট্রিকটন, কৈখালী ইউপির কার্ড সংখ্যা ১৩৫২ টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ১৩.৫২০ মে.টন, রমজাননগর ইউপির কার্ডধারী ১১১২ টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ১১.১২০ মে.টন, মুন্সিগঞ্জ ইউপির কার্ড সংখ্যা ১৪৬৫ টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ১৪.৬৫০ মে.টন, ঈশ^রীপুর ইউপির কার্ড সংখ্যা ১১৮৫ টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ১১.৮৫০ মে.টন, বুড়িগোয়ালিনী ইউপির কার্ড সংখ্যা ১২৭২টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ১২.৭২০ মে.টন, আটুলিয়া কার্ড সংখ্যা ১৩৭৩টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ১৩.৭৩০ মে.টন, পদ্মপুকুর ইউপির কার্ড সংখ্যা হল ১২১৯ টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ১২.১৯০ মে.টন ও গাবুরা ইউপির কার্ড সংখ্যা হল ১৩২৯টি, বরাদ্ধকৃত চউাল ১৩.২৯০ মে.টন।

 

সব মিলিয়ে ১১টি ইউপিতে কার্ড সংখ্যা ১৩ হাজার ৩৩৭টি এবং বরাদ্ধকৃত চাউল ১৩৩ মেট্রিক টন ৩৭০ কেজি।

জানা যায় ঈদের পূর্বেই সকল ইউনিয়নে চাউল বিতরণ সমাপ্ত করা হবে। চাউল বিতরণের সময় প্রত্যেকটি ইউপির ভিজিএফ কমিটি ও নির্ধারিত ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে মাস্টার রোলের মাধ্যমে চাউল বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে।