মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

সুন্দর ও আলোকিত শহর, এবং আমাদের ঘিঞ্জি সাতক্ষীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪১ অপরাহ্ণ
সুন্দর ও আলোকিত শহর, এবং আমাদের ঘিঞ্জি সাতক্ষীরা

আল মুতাসিম বিল্লাহ সুমন

(প্রথম পর্ব) বাংলাদেশের মানচিত্রের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণের শেষ প্রান্তের জেলা সাতক্ষীরা। সুন্দরবনের কোলঘেঁষা এই জনপদটি দেশের অর্থনীতিতে যে কত বড় ভূমিকা রাখে, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। সাদা সোনাখ্যাত চিংড়ি, বিশ্বখ্যাত হিমসাগর আম, সুন্দরবনের মধু আর ভোমরা স্থলবন্দরের শত শত কোটি টাকার রাজস্ব, সবই আসে এই সাতক্ষীরা থেকে। অথচ পরিতাপের বিষয় হলো, যে জেলাটি দেশের অর্থনীতিকে এত কিছু দিচ্ছে, সেই জেলার প্রাণকেন্দ্র সাতক্ষীরা শহরটি নিজেই চরম অবহেলিত, শ্রীহীন ও দমবন্ধ করা জনপদে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশে ছোট-বড় মিলিয়ে অনেক শহর রয়েছে। সময়ের সাথে সাথে দেশের প্রায় প্রতিটি শহরেই আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে, শহরের সৌন্দর্য বাড়াতে নেওয়া হয়েছে নানা পরিকল্পনা। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে ব্যতিক্রম কেবল সাতক্ষীরা। দেশের অধিকাংশ শহর যখন নিজেদের নতুন রূপে সাজিয়ে নিয়েছে, সাতক্ষীরা তখন যেন ক্রমেই পিছিয়ে গেছে অন্ধকার আর বিকৃঙ্খলার দিকে।

আমরা যদি রাজধানী ঢাকার বাইরে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোর দিকে তাকাই, তবে দেখব রাজশাহী আজ শুধু বাংলাদেশের নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর একটি শহর। প্রশস্ত রাস্তা, ঝকঝকে ফুটপাত, সড়ক দ্বীপে সবুজের সমারোহ আর রাতের আলোকসজ্জা রাজশাহীকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। একইভাবে সিলেট কিংবা আমাদের পাশের বিভাগীয় শহর খুলনাকেও সাজানো হয়েছে বেশ পরিপাটি করে। শুধু বিভাগীয় শহর কেন, দেশের অনেক জেলা শহরও আজ সৌন্দর্যের দিক থেকে দারুণ উদাহরণ তৈরি করেছে। আমাদের প্রতিবেশী জেলা যশোরের কথাই ধরা যাক, কিংবা দক্ষিণের আরেক জেলা পটুয়াখালী, এই শহরগুলোতে ঢুকলে যে কারো মন ভালো হয়ে যায়। প্রশস্ত সড়ক, পরিকল্পিত বিপণি বিতান, সুন্দর মোড় আর পরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে বোঝা যায়, শহরগুলোকে ভালোবেসে কেউ আপন মনে সাজিয়েছে। কিন্তু যশোর বা খুলনা পেরিয়ে যখনই কেউ সাতক্ষীরা শহরে প্রবেশ করে, তখনই এক রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়। মনে হয়, এ যেন কোনো আধুনিক শহর নয়, বরং অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা এক বিশাল ঘিঞ্জি বাজার।

অথচ সাতক্ষীরা কোনো নতুন শহর নয়। শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী এক পৌরসভা শহর এটি। স্বাধীনতার পর দেখতে দেখতে পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। এই দীর্ঘ অর্ধ শতাব্দীতে সাতক্ষীরা শহরকে একটু সুন্দর করে সাজানো বা আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার কোনো দূরদর্শী পরিকল্পনা নিতে দেখা যায়নি কাউকে। প্রতি পাঁচ বছর পরপর নির্বাচন হয়েছে, শহরে নতুন মেয়র এসেছেন, আবার মেয়াদ শেষে চলেও গেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক সত্য হলো, যারাই নগর পিতার আসনে বসেছেন, তাঁরা শহরকে সাজানোর ক্ষেত্রে চরম ব্যর্থতা ও রুচিহীনতার পরিচয় দিয়ে গেছেন। একটি শহরের রাস্তাঘাট, পার্ক, খাল আর মোড়গুলোর চেহারা দেখলেই বোঝা যায় সেই শহরের হর্তাকর্তাদের রুচি বোধ কেমন। গত পঞ্চাশ বছরে সাতক্ষীরার মানুষ কেবল প্রতিশ্রুতিই শুনেছে, কিন্তু শহরের চেহারা বদলায়নি এক চুলও।

আসলে সাতক্ষীরা শহরকে সাজানো কি খুব কঠিন বা অসম্ভব কিছু? মোটেই না। এর জন্য হাজার হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্পেরও প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন কেবল একটু সদিচ্ছা, নান্দনিক রুচি বোধ আর সঠিক পরিকল্পনা। কিন্তু দীর্ঘদিনের অযতœ, অবহেলা আর সুষম উন্নয়নের অভাবে সাতক্ষীরা শহর আজ এক ঘিঞ্জি এবং বসবাসের অযোগ্য শহরে পরিণত হয়েছে। শত বছরের পুরনো এই জেলা শহরে আজও পর্যন্ত একটি ফোর-লেন সড়ক নেই। নেই কোনো রোড ডিভাইডার, নেই কোনো দৃষ্টিনন্দন আইল্যান্ড, নেই মানুষের বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার মতো একটি আদর্শ পার্ক, এমনকি নেই আধুনিক কোনো সড়ক-বাতিও।

শহরের রাস্তা দিয়ে হাঁটতে গেলে পথচারীদের প্রতিদিন জীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে চলতে হয়। কারণ, সমগ্র শহরে ফুটপাত বলতে আজ আর অবশিষ্ট কিছু নেই। অবৈধ দখলদারিত্ব আর অনুমোদনহীন স্থাপনায় গিলে খাওয়া হয়েছে শহরের সব ফুটপাত। দোকানের মালামাল রাস্তার ওপর সাজিয়ে রাখা, ফুটপাত দখল করে টং দোকান বসানো আর যত্রতত্র ইজিবাইক ও ভ্যানের জটলা-সব মিলিয়ে সাতক্ষীরা শহর যেন এক চরম নৈরাজ্যের ক্ষেত্র।

সাতক্ষীরা শহরের সবচেয়ে বড় দুর্ভোগের নাম এখন যানজট। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের প্রধান সড়কগুলোতে রিকশা, ভ্যান, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল আর বাস-ট্রাকের জটলায় নাভিশ্বাস ওঠে সাধারণ মানুষের। এই যানজটের মূল কারণ হলো শহরের অপ্রশস্ত সড়ক এবং রোড ডিভাইডার না থাকা। যে যার মতো করে উল্টো পথে গাড়ি ঢুকিয়ে দেয়, ফলে পাঁচ মিনিটের রাস্তা পার হতে সময় লাগে আধা ঘণ্টা।

এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে এবং শহরকে একটি আধুনিক রূপ দিতে হলে সবার আগে শহরের প্রধান সড়কগুলোকে রোড ডিভাইডার দিয়ে ফোর-লেনে উন্নীত করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে শহরের প্রবেশ-মুখ লাবসা থেকে আলিপুর পর্যন্ত, খুলনা রোড মোড় থেকে বিনেরপোতা পর্যন্ত এবং নিউ মার্কেট মোড় থেকে পুরাতন সাতক্ষীরা পর্যন্ত সড়ক গুলোকে অবিলম্বে চার লেনে রূপান্তর করা দরকার। এই তিনটি প্রধান সড়ক যদি মাঝখানে সুন্দর রোড ডিভাইডার দিয়ে ফোর-লেন করা যায় এবং ডিভাইডারের মাঝখানে ছোট ছোট বাহারি ফুলের গাছ ও সবুজের সমারোহ ঘটানো যায়, তবে একদিকে যেমন শহরের চিরচেনা যানজট চিরতরে দূর হবে, অন্যদিকে শহরের চেহারাই মুহূর্তের মধ্যে পাল্টে যাবে।

যেকোনো শহরের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে তার প্রধান মোড় বা চত্বরগুলোর মধ্য দিয়ে। মানুষ যখন একটি শহরে প্রবেশ করে বা এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যায়, তখন শহরের মোড়গুলোর স্থাপত্যশৈলী তার মনে প্রথম ছাপ ফেলে। সাতক্ষীরা শহরে এমন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মোড় রয়েছে, যেগুলোকে খুব সহজেই দৃষ্টিনন্দন করে তোলা সম্ভব।

শহরের খুলনা রোড মোড়, নিউ মার্কেট মোড়, পাকাপোল মোড়, আমতলা মোড়, মেডিকেল কলেজের সামনে বাইপাসে প্রবেশের মুখ, লাবসা জিরো পয়েন্ট এবং বিনেরপোতা বাইপাসে প্রবেশের মুখে পরিকল্পিত ও দর্শনীয় সড়ক দ্বীপ তৈরি করা সময়ের দাবি। এই সড়ক দ্বীপ গুলোতে এমন কিছু নান্দনিক ভাস্কর্য বা স্থাপনা তৈরি করা দরকার, যা সাতক্ষীরার নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরবে। কোথাও সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার বা হরিণের প্রতিকৃতি, কোথাও চিংড়ি বা ম্যানগ্রোভ বনের আবহ, আবার কোথাও জেলার সংগ্রামী ইতিহাসের স্মারক থাকলে বাইরে থেকে আসা যেকোনো মানুষ শহরের প্রবেশ মুখেই সাতক্ষীরার সমৃদ্ধ পরিচয় সম্পর্কে জানতে পারবে।

সম্প্রতি ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে শহরে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিসৌধ’ নির্মাণ করা হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি মহৎ উদ্যোগ। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্মৃতিস্তম্ভ বসানো হয়েছে জেলা পরিষদের একটি পরিত্যক্ত জায়গায়। যা শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না।

শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানাতে এবং শহরের সৌন্দর্য বাড়াতে হলে জুলাই শহীদ স্মৃতিসৌধটি জেলা পরিষদের ওই পরিত্যক্ত জায়গা থেকে স্থানান্তর করে শহরের কোনো একটি প্রধান সড়ক দ্বীপে স্থাপন করা উচিত। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা হতে পারে শহরের আমতলা মোড়। আমতলা মোড়ের চারপাশের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে জায়গাটি প্রশস্ত করে সেখানে যদি একটি সুন্দর সড়ক দ্বীপ তৈরি করা হয় এবং তার ঠিক মাঝখানে জুলাই শহীদ স্মৃতিসৌধটি স্থাপন করা হয়, তবে তা হবে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। একই সাথে জেলা পরিষদের ওই মূল্যবান জায়গাটি খালি হলে জেলা পরিষদ সেখানে একটি আধুনিক ও আকর্ষণীয় ডাকবাংলো তৈরি করতে পারবে, যা শহরের আবাসন ও দাপ্তরিক মর্যাদা বাড়াবে।

দিনের বেলা একটি শহর যেমনই হোক, রাতের আলোয় তাকে মায়াবী করে তোলা যায়। আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনায় আলোকসজ্জা কেবল নিরাপত্তার বিষয় নয়, এটি শহরের সৌন্দর্যেরও বড় অংশ। বর্তমানে সাতক্ষীরা শহরের খুলনা রোড মোড়, নিউ মার্কেট মোড়, পাকাপোল মোড় এবং সংগীতা মোড়ে উঁচু পোলে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কিছু বাতি লাগানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, পুরো শহরের তুলনায় এই চারটি মোড়ের বাতি মোটেই পর্যাপ্ত নয়। তা ছাড়া এই বাতিগুলো কেবল ওপর থেকে সাদা আলো ফেলে; এগুলো মোটেও আধুনিক বা সৌন্দর্যমন্ডিত নয়।

সাতক্ষীরা শহরকে রাতে সত্যিকার অর্থেই সুন্দর দেখাতে হলে প্রধান সড়কগুলোর রোড ডিভাইডারে এবং রাস্তার দুই পাশে আধুনিক ডিজাইনের ও রঙিন সড়ক বাতি বসাতে হবে, যা রাতের শহরকে এক বর্ণিল রূপ দেবে। শুধু প্রধান কয়েকটি মোড়েই নয়, সমগ্র সাতক্ষীরা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের প্রতিটি প্রধান সড়ক, অলিগলি এবং আবাসিক এলাকার রাস্তাগুলোতে পর্যাপ্ত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আধুনিক সড়ক বাতি লাগানো উচিত। আজও শহরের বহু আবাসিক এলাকায় সন্ধ্যা নামলেই ঘুটঘুটে অন্ধকার নেমে আসে, যা চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধ বাড়িয়ে দেয়। পুরো পৌর এলাকা সমানভাবে আলোকিত হলে নাগরিক নিরাপত্তা যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি রাতের সাতক্ষীরা হয়ে উঠবে ঝলমলে এক আধুনিক জনপদ।

(চলবে)

লেখক: আল মুতাসিম বিল্লাহ সুমন, রাজারবাগান, সাতক্ষীরা।

Ads small one

জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের অনলাইন কার্যক্রম বন্ধ ৬ দিন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ
জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের অনলাইন কার্যক্রম বন্ধ ৬ দিন

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের অনলাইন কার্যক্রম ছয় দিনের জন্য বন্ধ থাকবে। নিবন্ধন সংক্রান্ত সফটওয়্যার বিডিআরআইএস রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৫ অক্টোবর সকাল ৬টা পর্যন্ত জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সংক্রান্ত সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

সফটওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সাময়িকভাবে এ কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

ভিডিও ঘিরে বিতর্ক, দুঃখ প্রকাশ করলেন মাহমুদউল্লাহ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
ভিডিও ঘিরে বিতর্ক, দুঃখ প্রকাশ করলেন মাহমুদউল্লাহ

একটি ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের মুখে পড়েছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জমজম ব্রাদার্সের একটি নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগের প্রচারে তার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে মাহমুদউল্লাহ জানিয়েছেন, প্রকল্পটি সম্পর্কে আগে থেকে তার কোনো ধারণা ছিল না। এর সঙ্গে তার কোনো ব্যবসায়িক বা আর্থিক সম্পর্কও নেই।

বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর মাহমুদউল্লাহর অনুরোধে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে নিয়েছে জমজম ব্রাদার্স। অনিচ্ছাকৃত এই ঘটনায় কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে কিংবা বিভ্রান্ত হয়ে থাকলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের একটি ফেসবুক পোস্ট থেকে। সেখানে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের জাতীয় দলের এক সাবেক ক্রিকেটার ভানুয়াতু নামের দ্বীপ রাষ্ট্রের নাগরিকত্বে বিনিয়োগ করা প্রমোট করছেন। এ ধরনের বিনিয়োগের অর্থ বিদেশে পাঠানোর বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেছেন, এ ধরনের নাগরিকত্বে বিনিয়োগের জন্যে যে অর্থ প্রয়োজন তা বাংলাদেশ হতে বিদেশে প্রেরণের কোন আইনি উপায় নেই। পাশাপাশি মাহমুদউল্লাহর মতো পরিচিত একজন ক্রিকেটারের এমন প্রচারে যুক্ত থাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সায়েরের পোস্টের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা বাড়ে। এর মধ্যেই জমজম ব্রাদার্সকে ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানান মাহমুদউল্লাহ। তার অনুরোধের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

তার পর মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক পোস্টে পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন সাবেক এই অধিনায়ক। মাহমুদউল্লাহ জানান, শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জমজম ব্রাদার্সের সঙ্গে তার প্রথম পরিচয় হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটির আমন্ত্রণে অফিসে গেলে তাদের নতুন একটি ব্যবসায়িক প্রকল্পের প্রচারের জন্য ভিডিও করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

মাহমুদউল্লাহ লিখেছেন, ‘সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে আমি আমার অবস্থান পরিষ্কার করতে চাই। কিছুদিন আগে শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জমজম ব্রাদার্সের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় হয়। তাদের আমন্ত্রণে একদিন তাদের অফিসে গেলে, তারা তাদের একটি নতুন ব্যবসায়িক প্রকল্পের বিষয়ে ভিডিও করার অনুরোধ জানান। তবে প্রকল্পটি সম্পর্কে আমার আগে থেকে কোনো ধারণা ছিল না এবং এর সঙ্গে আমার কোনো ধরনের ব্যবসায়িক এবং অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততাও নেই।’

ক্যারিয়ারের পুরোটা সময় ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে বিতর্ক এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন মাহমুদউল্লাহ। অনিচ্ছাকৃত এই ঘটনায় কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে কিংবা বিভ্রান্ত হয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমার পুরো ক্যারিয়ারে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে সব সময় বিতর্ক এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছি। অনিচ্ছাকৃত এই ঘটনায় কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে কিংবা কোনো ধরনের বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়ে থাকলে, আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।’

ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। পোস্টের শেষাংশে মাহমুদউল্লাহ লিখেছেন, ‘ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে আরও সতর্ক থাকব, ইনশাআল্লাহ। সবার ভালোবাসা, সমর্থন ও বোঝাপড়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।’

ইতিহাস গড়া নারী কাবাডি দল পেলো অর্থপুরস্কার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
ইতিহাস গড়া নারী কাবাডি দল পেলো অর্থপুরস্কার

এশিয়ান বিচ গেমসে ব্রোঞ্জ জিতে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ নারী কাবাডি দল। আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে এবার খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা ও অর্থপুরস্কার দিয়েছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)। দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় পেয়েছেন এক লাখ টাকা করে।

ষষ্ঠ এশিয়ান বিচ গেমসে নারী কাবাডিতে ব্রোঞ্জ পদক জেতে বাংলাদেশ। দলের এই অর্জন উদযাপন ও খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করতে মঙ্গলবার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিওএ। সেখানে খেলোয়াড়দের হাতে সম্মাননা ও অর্থপুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মো. জোবায়েদুর রহমান রানা, বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. ইসরাইল হাওলাদার এবং যুগ্ম সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন।

এশিয়ান বিচ গেমসের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদক জয়ের মাধ্যমে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। নারী কাবাডি দলের এই সাফল্য দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের হয়ে পদক জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার প্রত্যয়ও রয়েছে নারী কাবাডি দলের।