সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে ডাকাতদের বন্দুকযুদ্ধ, ৫ জেলে উদ্ধার
জি এম রিয়াজুল আকবর, কয়রা (খুলনা): সুন্দরবনে দুর্ধর্ষ ‘দাদাভাই বাহিনী’র সঙ্গে কোস্ট গার্ডের বন্দুকযুদ্ধের পর জিম্মি থাকা পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় একটি একনলা বন্দুক, ছয় রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ ও তিনটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের সময় ডাকাতেরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের বনদস্যু নির্মূল ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার সুন্দরবনের আরপাঙ্গাসিয়া নদীর কঞ্চির খাল এলাকায় দাদাভাই বাহিনী কয়েকজন জেলেকে মুক্তিপণের জন্য জিম্মি করে রেখেছে।
এ তথ্যের ভিত্তিতে ২৭ অক্টোবর মধ্যরাতে কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রা ও দোবেকী যৌথভাবে অভিযান চালায়। এ সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতেরা সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ডও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে জিম্মি জেলেদের রেখে ডাকাতেরা সুন্দরবনের গভীরে পালিয়ে যায়।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রবিউল ইসলাম (৩৫) ও বিল্লাল হোসেন (২৬) এবং খুলনার কয়রা উপজেলার আলাউল ইসলাম (৩২), নওশেন মোড়ল (৪১) ও শাহিনুর রহমান (২৮)।
জব্দ করা অস্ত্র ও কার্তুজের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং উদ্ধার হওয়া জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।












