বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩

হরমুজ নিয়ে উত্তেজনার মাঝেই সমঝোতার ইঙ্গিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
হরমুজ নিয়ে উত্তেজনার মাঝেই সমঝোতার ইঙ্গিত

ইরান, ওমান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর আবারও আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের শুরু থেকেই আলোচনায় থাকা এই নৌপথটি আটকে দিয়ে ইরান একপ্রকার কৌশলগত বিজয় অর্জন করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিজেদের অনুকূলে একটি চুক্তিও সম্পন্ন করেছে। এবার এই প্রণালির ওপর নিজেদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ওমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু করেছে তেহরান।

গত কয়েক সপ্তাহে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান ও ওমান একাধিকবার আলোচনা করেছে। ইরান এখন হরমুজ প্রণালিকে কেবল নিজেদের এবং ওমানের মধ্যকার একটি অভ্যন্তরীণ ও দ্বিপক্ষীয় বিষয় হিসেবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।

সম্প্রতি ওমানের রাজধানী মাসকাটে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠক শেষে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেন যে, তাদের মধ্যে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে।

বদর আলবুসাইদি জানান, সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকে হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত যে ধারাগুলো রয়েছে, সেগুলোর ওপর ভিত্তি করেই এই গঠনমূলক আলোচনা পরিচালিত হয়েছে।

বৈঠকে উভয় দেশই আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন মেনে চলার ব্যাপারে একমত হয়েছে। ওমান ও ইরান যৌথভাবে ঘোষণা করেছে যে, আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী ও সামরিক জাহাজগুলো কোনো ধরনের টোল বা ফি ছাড়াই এই জলপথ দিয়ে আগের মতো চলাচল করতে পারবে।

আপাতত জাহাজ চলাচল টোলমুক্ত রাখার ঘোষণা দেওয়া হলেও ইরান ভিন্ন একটি ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে। তেহরান জানিয়েছে, এই কৌশলগত জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিনিময়ে ভবিষ্যতে চলাচলকারী নৌযানগুলো থেকে ফি বা টোল আদায়ের বিষয়টি তারা বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালির যে পরিস্থিতি ছিল, তা আর কখনোই আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না।

তবে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক নৌযানের জন্য হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও টোলমুক্ত থাকবে বলে দুই দেশই আশ্বস্ত করেছে।

Ads small one

সাতক্ষীরায় গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিনিধি: উৎসবমুখর পরিবেশে সাতক্ষীরায় ৫৩তম বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। ২ সেপ্টেম্বর সকালে গণমুখী মাঠে এ প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করা হয়।
সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম টুকুর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আবুল হোসেন বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মাঠের এই প্রতিযোগিতা তাদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। ছাত্র-ছাত্রীরা ক্রীড়াঙ্গনে নিজেদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে সাতক্ষীরা জেলার নাম দেশব্যাপী উজ্জ্বল করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, ক্রীড়ামুখী তরুণ প্রজন্মই আগামীর ভবিষ্যৎ। এই মাঠ থেকেই একদিন জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরি হবে। প্রতিযোগিতায় জয়-পরাজয় বড় কথা নয়, শৃঙ্খলা ও খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব বজায় রাখাই মূল উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে খেজুরডাঙ্গা আর কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান, রসুলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আশরাফুর রহমান এবং বৈকারী ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া খেজুরডাঙ্গা আর কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক ঈদুউজ্জামান ইদ্রিস, কারিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক আবু সাঈদসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে মাঠের মূল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু হয়। আয়োজকেরা জানান, এবারের প্রতিযোগিতায় উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দাবা, সাঁতার, হ্যান্ডবল ও কাবাডিসহ বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নিচ্ছে।

সম্পাদকীয়/নিম্ন মানের সামগ্রী দিয়ে সড়ক সংস্কার ও নাগরিক প্রতিবাদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/নিম্ন মানের সামগ্রী দিয়ে সড়ক সংস্কার ও নাগরিক প্রতিবাদ

সাতক্ষীরা শহরের অত্যন্ত ব্যস্ততম পাকাপোল থেকে কেষ্টময়রা মোড় পর্যন্ত সড়ক পুনর্র্নিমাণ কাজে নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহারের যে অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও অনাকাক্সিক্ষত। শিডিউলবহির্ভূত অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংস্কারকাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। নাগরিকদের এই ক্ষোভ ও প্রতিবাদ সম্পূর্ণ যৌক্তিক এবং জনস্বার্থ সুরক্ষায় একটি সচেতন পদক্ষেপ।
খবরে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, প্রাক্কলন তোয়াক্কা না করে ৩ নম্বর ইট ও ঝামাযুক্ত মাটি মিশ্রিত খোয়া দিয়ে তড়িঘড়ি রাস্তা ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। যেখানে মানসম্মত ১ নম্বর ইট ব্যবহারের কথা, সেখানে গুঁড়ো ইট ও ধূলো-মাটির প্রলেপ দিয়ে সরকারি বরাদ্দের অপচয় ঘটানো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এমন নি¤œমানের কাজের স্থায়িত্ব অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী, যা প্রথম পশলা বৃষ্টিতেই ধুয়েমুছে গিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে তুলবে।
শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কে পৌর প্রশাসনের সরাসরি নজরদারির সময় কীভাবে এমন অনিয়ম ঘটতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের গাফিলতি কিংবা নীরবতা এই দুর্নীতির সুযোগ করে দিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এমন বেপরোয়া আচরণ প্রমাণ করে যে, জবাবদিহিতার ঘাটতি কোথায় যেন থেকে যাচ্ছে।
সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। অবিলম্বে এই নি¤œমানের খোয়া অপসারণ করে শিডিউল অনুযায়ী গুণগত মান বজায় রেখে সড়কটির সংস্কারকাজ সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে কাজের তদারকিতে গাফিলতি থাকা কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সময়ের দাবি। জনগণের করের টাকার অপচয় রোধে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেনÑএটাই প্রত্যাশিত।

সাতক্ষীরায় শিল্প বিকাশে সকল বাধা দূর করার আশ্বাস জেলা প্রশাসকের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় শিল্প বিকাশে সকল বাধা দূর করার আশ্বাস জেলা প্রশাসকের

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা বিসিক শিল্পনগরীর সার্বিক কর্মকা- পরিদর্শন, শিল্প উদ্যোক্তাদের সাথে মতবিনিময় এবং শিল্পনগরী প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেছেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিসিক শিল্পনগরী পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসককে বিসিক শিল্প মালিক সমিতির পক্ষ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক শিল্পনগরীর বিভিন্ন উৎপাদনমুখী কারখানা ঘুরে দেখেন। বিশেষ করে ‘সুন্দরবন এগ্রো’-এর মধু প্রসেসিং সেন্টার এবং ‘এক্সিমকো ভেট ফার্মা’সহ বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিল্প ইউনিট পরিদর্শন করে তিনি উৎপাদিত পণ্যের মান ও সামগ্রিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন। পরিদর্শন শেষে শিল্পনগরী চত্বরে পরিবেশ সুরক্ষায় ফলজ ও বনজ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। পরবর্তীতে বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি ও সাংবাদিক মো. মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিসিক সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ের ডেপুটি ম্যানেজার গৌরব দাসসহ স্থানীয় উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় বিসিকের বিদ্যুৎ সংযোগের নিরবচ্ছিন্নতা নিশ্চিত করা, শিল্পনগরীতে একটি ড্যাডিকেটেড ‘শিল্প পুলিশ ফাঁড়ি’ স্থাপন এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানান শিল্প মালিকেরা।
ব্যবসায়ীদের বক্তব্য শুনে সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের আশ্বাস দিয়ে জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ বলেন, শিল্পই হচ্ছে অর্থনীতির প্রধান চাকা। শিল্প কারখানা সচল থাকলে অঞ্চলে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতির গতি সঞ্চার হবে। বিসিকের সার্বিক নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নে জেলা প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।