হারানো নস্টালজিয়া: প্রযুক্তির জোয়ারে স্মৃতির অতলে হারিয়ে যাচ্ছে রেডিও
আশাশুনি সংবাদদাতা: এক সময় যা ছিল দেশ-বিদেশের খবর জানার প্রধান বাতায়ন, বিনোদনের একচ্ছত্র সঙ্গী—সময়ের আবর্তে সেই রেডিও আজ বিলুপ্তির পথে। সাতক্ষীরার আশাশুনিসহ উপকূলীয় অঞ্চলের গ্রামগুলোতে এখন আর আগের মতো দলবেঁধে রেডিও শোনার চিরচেনা দৃশ্য চোখে পড়ে না। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির কাছে হার মেনে বাঙালির বৈঠকখানা থেকে এই ঐতিহ্যবাহী বেতার যন্ত্রটি যেন একপ্রকার বিদায় নিয়েছে।
মাত্র তিন দশক আগেও গ্রামীণ জনপদে বিয়ের উপহার হিসেবে নামী-দামী ব্র্যান্ডের রেডিও দেওয়া ছিল আভিজাত্য ও গর্বের প্রতীক। যার ঘরে রেডিও ছিল, প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা কিংবা রাতের খবরের সময়ে সেখানে জমত পাড়ার মানুষের আসর। রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, গানের ডালি, সুখী সংসার কিংবা ছায়াছবির গানের অনুষ্ঠান শুনে কাটত তরুণদের অবসর। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এই রেডিওই ছিল স্বাধীনতাকামী মানুষের আশার আলো। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠান ও খবর শুনে উদ্বুদ্ধ হয়ে বহু মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিসংগ্রামে।
সময়ের বদলে রেডিওর জায়গা প্রথমে নিয়েছিল টেপ রেকর্ডার, এরপর সিডি প্লেয়ার এবং সবশেষে স্মার্টফোন। বর্তমানের ডিজিটাল ও ইন্টারনেটের যুগে আলাদা করে রেডিও কেনার চল প্রায় উঠে গেছে। মোবাইল ফোনের এফএম বা ইন্টারনেটের মাধ্যমেই এখন অনায়াসে সব শোনা যায়। তবে এই আধুনিকতার আড়ালে হারিয়ে গেছে দলবেঁধে অনুষ্ঠান শোনার সেই সামাজিক আবহ।
এই পরিবর্তনের বড় ধাক্কা লেগেছে রেডিওর কারিগর বা মিস্ত্রিদের জীবনে। জীবিকার তাগিদে অনেকেই এখন পেশা বদলে টেলিভিশন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক সামগ্রী মেরামতের কাজ করছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রেডিও শুধু একটি যন্ত্র নয়, এটি আমাদের ইতিহাসের অংশ। আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন প্রজন্মের উপযোগী ডিজিটাল অনুষ্ঠান নির্মাণ করা গেলে ঐতিহ্যবাহী এই গণমাধ্যমটিকে হয়তো আবারও নতুন রূপে টিকিয়ে রাখা সম্ভব।









