৩৫ হাজার মুক্তায় সেজেছে দুর্গাপ্রতিমা, দেখতে ভিড়
মিলন বিশ্বাস: প্রতিমার শরীরে মাটির প্রলেপ ও রঙের নিখুঁত ছোঁয়ার ওপর বসানো হচ্ছে হাজার হাজার মুক্তা। আলো পড়তেই প্রতিমা জুড়ে ফুটে উঠছে নান্দনিক আভা। দুর্গাপূজা শুরু হওয়ার আগেই ব্যতিক্রমী এই শিল্পকর্ম দেখতে ম-পে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বুড়িয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে চলছে এই আয়োজন।
বুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত মন্দিরটিতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিমাশিল্পী ও কারিগরেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। ১৩টি প্রতিমার সাজসজ্জায় ব্যবহার করা হচ্ছে প্রায় ৩৫ হাজার মুক্তা। পুরো প্রতিমা তৈরিতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় চার লাখ টাকা।
দক্ষিণ বড়দল গ্রামের প্রতিমাশিল্পী প্রকাশ ম-ল জানান, গত ৫ জুলাই চারজন কারিগরকে সঙ্গে নিয়ে তিনি কাজ শুরু করেন। দক্ষিণ ভারতীয় স্থাপত্য ও প্রতিমার নকশা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এটি তৈরি করছেন। মুক্তার নিখুঁত কাজের জন্য সময় বেশি লেগেছে। দর্শনার্থীদের নতুন কিছু উপহার দেওয়ার লক্ষ্যেই এই প্রয়াস।
বুড়িয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি অর্ধেন্দু ম-ল জানান, প্রতিবারই ম-পে নতুনত্ব আনার চেষ্টা থাকে। দর্শনার্থীর চাপ সামলাতে সিসি ক্যামেরা ও নিজস্ব সেচ্ছাসেবক দল দিয়ে নিরাপত্তার জোরদার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর ম-ল বলেন, পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই দর্শনার্থীদের আগ্রহ সবাইকে নতুন উদ্দীপনা দিচ্ছে।
আগামী ১৭ অক্টোবর ষষ্ঠীবোধনের মাধ্যমে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসব শেষ হবে। বিজয়া দশমীতে বুড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী আড়ং মেলার আয়োজন থাকবে, যেখানে আশপাশের অন্তত ১০টি মন্দিরের প্রতিমা একত্র করে বিসর্জন দেওয়া হবে।
আশাশুনি উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রনজিত কুমার বৌদ্দ জানান, চলতি বছর উপজেলায় ১০৬টি ম-পে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে বুড়িয়ায় মুক্তাখচিত প্রতিমা, ঘুঘুমারীতে ঝরনার আদলে ম-প সাজানো ও বুধহাটায় ডাল দিয়ে প্রতিমা তৈরির মতো নানা ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।









