বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

৭৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস: নির্দেশনামূলক বিশ্ব প্রেক্ষিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ণ
৭৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস: নির্দেশনামূলক বিশ্ব প্রেক্ষিত

মো. হুমায়ুন খালিদ

বাংলাদেশের বিজ্ঞজনদের ভাষ্য দেশের প্রবীনরা ভালো নেই। পাড়া প্রতিবেশি আত্মীয় স্বজনকে বয়োজষ্ঠদের ব্যাপারে উদাসীন থাকতে দেখাযায়। যথাযথ মানবিক দৃষ্টিতে তারা প্রবীনদের আদর করে না। অবজ্ঞা বিংবা লঞ্ছনা যেন প্রবীনদের ভাগ্যলিপি। বাংলাদেশে বিরজমান এ প্রেক্ষাপটেই ৬ই অক্টোবর ২০২৬ তারিখে উদযাপিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক ৭৬তম প্রবীণ দিবস। নিজস্ব নীতি আদর্শ বজায় রেখে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর প্রায় সকল দেশ দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে পালন করে আসছে। সরকারি-বেসরকারি নির্বিশেষে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান দিবসটি পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

দিবসটির গুরুত্ব, তাৎপর্য, সময়কাল এবং অধিক্ষেত্র বিবেচনা বিবেচনা করে একটি সময়োপযোগী প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়ে থাকে। ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসটির জন্য একটি যথোপযুক্ত প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে। প্রতিপাদ্যটি হচ্ছে :“এইজ অফ লঞ্জিভিটি: রি থিঙ্কিং সিস্টেমস ফর লংগার লাইভস”। বাংলায় এ প্রতিবাদ্যটির মর্মার্থ দাঁড়ায়-দীর্ঘায়ু প্রাপ্তির এ যুগেও আয়ুষ্কাল আরো দীর্ঘতর করার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিস্টেমগুলো সম্পর্কে আরো চিন্তাভাবনা করা প্রয়োজন।

বিশ্বের মানুষের গড় আয়ু ইতোমধ্যে আগের তুলনায় তাৎপর্যপূর্ণভাবেই বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অগ্রগতির ক্ষেত্রে জীবন যাপনের সাথে অবিচ্ছেদ্য কিছু সিস্টেম সামগ্রিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। এতদসত্বেও সিস্টেমগুলোর কার্যকারিতা এ বছরের জন্য নির্ধারিত প্রতিপাদ্য ও বিশ্বের অন্যান্য নির্দেশনার আলোকে আরো বৃদ্ধি ও জোরদার করার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে আন্তর্জাতিক এবং রিজিওনাল সংগঠনসহ অনেকের পক্ষ থেকে। এ নির্দেশনার সাথে জড়িয়ে আছে বয়োবৃদ্ধদের স্বাস্থ্যসম্মত, উৎপাদনশীল, মর্যাদাপূর্ণ ও বৈষম্যহীন জীবন ব্যবস্থা। উল্লেখ্য, এ বিষয়গুলো শুধু বয়স্কদের বা বয়োবৃদ্ধদের সঙ্গেই সম্পৃক্ত নয়; বরং স্থান-কাল- পাত্র-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। দিবসটি পালন উপলক্ষে বয়স্কদের বা বৃদ্ধদের স্বার্থের জন্য প্রয়োজনীয় সিস্টেমগুলোকে চারটি এরিয়াতে ভাগ করা যেতে পারে । যেমন- (১) সামাজিক সুরক্ষা; (২) স্বাস্থ্য ও যতœাদি; (৩) শোভনীয় কাজ ও জীবনব্যাপী শিক্ষা; এবং (৪) সহায়ক পরিবেশ পরিস্থিতি ।

উপরোক্ত ক্ষেত্রসমূহভিত্তিক কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- বৃদ্ধ ব্যক্তিগণ যাতে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ,সুস্বাস্থ্য ও উপযুক্ত ক্ষেত্রে সক্রিয় অংশগ্রহণসহ অবদান রেখে বাঁচতে পারে।
এ প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট কমিটি উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় বয়স বৃদ্ধদের গুরুত্ব দেওয়ার লক্ষ্যে চারটি ক্ষেত্রকে চিহ্নিত করেছে। যথা- (১) সকল প্রকার ও সকল মাত্রার দরিদ্রতা দূরীভূত করার কার্যকর পন্থা গ্রহণ; (২) অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিস্তৃত পরিসরের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা; (৩) বয়োবৃদ্ধ কালের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল প্রক্রিয়ার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রবণতাকে আরো জোরদার এবং স্বাস্থ্যসম্মত করা; (৪) বয়স্কদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা যতœ কাজটিকে একটি পেশার মর্যাদায় নিয়ে আসা এবং এ সেবাকে অর্থনীতির সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করা,এবং এ সেবা খাতকে আর্থিক বিনিয়োগের অন্যতম খাত হিসেবে গড়ে তোলা।

জাতিসংঘের আঞ্চলিক সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে বিবেচনাপ্রসূত বিভিন্ন আয়োজন করে থাকে। যেমন, এসকাপ এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য দিবসের প্রতিপাদ্য ভিত্তিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কনফারেন্সের আয়োজন করছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে আছেÑ (১) টেকনোলজি, (২) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এবং (৩) বয়োবৃদ্ধ জনসমাজ। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে এসডিজি অর্জনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি থাকলেও বাধা হিসেবে দাড়িয়েছে দরিদ্রতা দূরীকরণ এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জসমূহ।

 

চ্যালেঞ্জগুলো হচ্ছে বহুমাত্রিক দরিদ্রতা,বৈষম্যতা, ডেমোগ্রাফিক পরিবর্তন,এবং শিক্ষা,স্বাস্থ্য সেবা, এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে অনধিগম্ম্যতা ও বৈষম্যতা। এসবের জন্য দরকার রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার বিস্তৃতি। মনে রাখতে হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবারিত উত্থান ও দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তর সরকারি সেবা পাওয়া এবং প্রদান উভয় ক্ষেত্রেই নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকির সৃষ্টি করছে। আবার এর মধ্য দিয়ে নতুন নতুন সুযোগও সৃষ্টি হচ্ছে। টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য এ সকল চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকি মোকাবেলা করা খুবই জরুরী।

প্রসঙ্গত চলতি বছর দৈনিক যুগান্তরের ১লা অক্টোবর তারিখে প্রকাশিত সংবাদেসূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে বর্তমানে ষাটোর্ধ জনগণের হার প্রায় ১০ শতাংশ। ২০২২ রালে ছিল ৯.২৮ শতাংশ। ২০২৬ সাল শেষে এ সংখ্যা ২ কোটিতে পৌছাবে। ২০৪১ সালে প্রবীনদের সংখ্যা ৩ কোটির বেশি এবং ২০৬১ সালে প্রায় ৬ কোটিতে দাড়াবে। অর্থ্যাৎ চার দশক পর দেশের প্রায় এক চতুর্থাংশের বেশি মানুষ প্রবীন হয়ে পড়বে।

ইএসসিএপি কর্তৃক উল্লেখিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে বৃদ্ধ মানুষের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে এ রিজিয়নে ৬০ এবং ৬০ উর্ধ লোকের সংখ্যা ২০২০ সালে ছিল মোট জনসংখ্যার শতকরা ১৩.৬ ভাগ। এই হিসাবে আগামী ২০৫০ সালে এ হার দাঁড়াবে শতকরা ২৪ দশমিক ৯ ভাগ। একই সাথে এসডিজি বা ২০৩০ সালের উন্নয়ন এজেন্ডা প্রসঙ্গে বলা যায় যে এজেন্ডা যদি হয় প্ল্যান ফর পিপল, প্লানেট এন্ড প্রসকারিটি জন্য। তাহলে এজেন্ডার কোনোটাতেই বৃদ্ধদের প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত না হওয়ার কোনো অবকাশই নেই। এছাড়া, এ জেন্ডার আদর্শের বাণীতে রয়েছে, “লিভ নো ওয়ান বিহাইন্ড।” সূতরাং দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ও দক্ষতা সম্পন্ন বয়োবৃদ্ধগণ একই সাথে এ উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নের উপকারভোগী এবং অবদান রাখার যোগ্যতম ব্যক্তিবর্গ।

বায়োবৃদ্ধদের সুস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু এতটাই উদগ্রীব যে বৃদ্ধদের জীবন ব্যবস্থার তাৎপর্যপূর্ণ উন্নয়নের নিমিত্ত বিশ্বব্যাপী বিরাজমান সরকার, সিভিল সোসাইটি, আন্তর্জাতিক এজেন্সি, পেশাদার, একাডেমিক এবং প্রাইভেট সেক্টর কে এক কাতারে নিয়ে আসতে ২০২০ সালে “দি ডিকেড অব হেলদি এবং শিরোনামে একটি কর্মসূচিরও সূত্রপাত করে। এ সূত্র ধরেই খোদ জাতিসংঘ ২০২০ সালের সাধারণ পরিষদের ৭৫ /১৩১ নম্বর রেজুলেশনের মাধ্যমে সকল সদস্য রাষ্ট্রকে সম্পৃক্ত করে ঘোষণা দেয় যে ‘২০২০২১- ২০৩০’ হবে: the decade of healthy aging”. জাতিসংঘ এই ডিকেভ বাস্তবায়নে নেতৃত্বের দায়িত্ব দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে। সুতরাং ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসটি জাতিসংঘ ঘোষিত ডিকেডের সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে। আবার জাতিসংঘ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং জাতিসংঘের রিজিওনাল সংগঠনগুলো সম্মিলিত হয়েই রিজিয়ন ভেদে কাস্টমাইজড সাপেক্ষে সাতটি কৌশলেরও ঘোষণা দেয়।

উল্লেখ, বয়োবৃদ্ধ সংক্রান্ত বিশ্ব নির্দেশনা কে উদ্দেশ্যভিত্তিক সুনির্দিষ্ট ভাবে তিনটি ক্যাটাগরিতে ফেলা যেতে পারে। যেমন- (১)এনেবল ইন সোশ্যাল রিটার্ন; (২) সাপোর্ট; এবং, (৩) রিসার্চ, মনিটরিং এন্ড ইভালুয়েশন। এক্ষেত্রে কয়েকটি শর্তপূরণ অপরিহার্য । শর্তগুলো হচ্ছে: (১) সুদৃঢ় রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি; (২) সক্ষমতা তৈরি ও যোগ্য নেতৃত্ব; (৩) স্বাস্থ্য সুরক্ষা সেবা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য; কিন্তু সুবিন্যাসিত নীতি-পরিকল্পনা; (৪) বিভিন্ন সেক্টর ও স্টকহোল্ডার ভিত্তিক পরিকল্পনা; (৫) সাধারণ জনগণের ইতিবাচক ধারণা; এবং (৬) কার্যকর সকল পদ্ধতি এবং (৭) উপযুক্ত পরিমাণ আর্থিক ও মানবসম্পদদের সংস্থান।

এ অবস্থায় বাংলাদেশসহ জাতিসংঘের প্রতিটি সদস্য দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান,বেসরকারি সংগঠন, সিভিলসোসাইটির উচিত বিশ্ব গাইডগুলোর আলোকে নিজস্ব নীতি, নির্দেশনা, আদর্শ দর্শন ও সক্ষমতার ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিকল্পনা ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা। উল্লেখ্য, বয়স্কদের জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন তা যদি কেবলমাত্র বয়স্কদের উপরে ছেড়ে দেওয়া হয় তাহলে ঠিক হবে না; বরং বৃদ্ধদের নিয়েই বৃদ্ধদের জন্য যা করার তা করতে হবে। মনে রাখতে হবে আজকে যারা বৃদ্ধ একসময় দেশ ও জাতির জন্য তারাই মেধা ও শ্রম দিয়েছেন এবং সুযোগ পেলে এখনো তারা তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারেন। এ লক্ষ্যে অন্তত বয়োবৃদ্ধদের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য বয়োবৃদ্ধদেরকে কাজে লাগাতে হবে।

লেখক: মো. হুমায়ুন খালিদ, সাবেক সচিব

 

Ads small one

সম্পাদকীয়: মাদুরশিল্প বাঁচাতে উদ্যোগ জরুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়: মাদুরশিল্প বাঁচাতে উদ্যোগ জরুরি

সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী মাদুরশিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। একসময় তালা উপজেলার বহু পরিবারের জীবিকার প্রধান অবলম্বন ছিল মাদুর তৈরি। পাটকেলঘাটার মাদুরের সুনামও ছিল দেশের বিভিন্ন এলাকায়। কিন্তু কাঁচামালের সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, মাদুরের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং প্লাস্টিক পণ্যের দাপটে এ শিল্প এখন সংকটে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, মেলে ঘাসের দাম বেড়েছে, অথচ মাদুরের বিক্রিমূল্য সেই তুলনায় বাড়েনি। ফলে শ্রম ও উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে কারিগরদের হাতে সামান্য অর্থ থাকছে। এ কারণে অনেকেই পেশা বদল করতে বাধ্য হচ্ছেন। একই সঙ্গে ব্যাংকঋণের অপ্রতুলতা ও সরকারি সহায়তার অভাবও শিল্পটির সংকট বাড়াচ্ছে।
এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে হলে প্রথমে মাদুরশিল্পীদের সহজ শর্তে ঋণ, কাঁচামাল সংগ্রহে সহায়তা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি মাদুরের নকশা ও ব্যবহার বহুমুখী করে বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। ইউনিয়ন বা উপজেলা পর্যায়ে মাদুর মেলার আয়োজন এবং দেশীয় ও অনলাইন বাজারে বিপণনের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে।
পাটকেলঘাটার মাদুরশিল্প শুধু একটি পেশা নয়, এটি স্থানীয় ঐতিহ্য ও গ্রামীণ অর্থনীতির অংশ। তাই শিল্পটি পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়ার আগেই সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এতে ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি বহু প্রান্তিক পরিবারের কর্মসংস্থানও টিকে থাকবে।

 

কলারোয়ায় ৪৬টি ম-পে দুর্গাপূজা, ঝুঁকিপূর্ণ নয় কোনটিই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
কলারোয়ায় ৪৬টি ম-পে দুর্গাপূজা, ঝুঁকিপূর্ণ নয় কোনটিই

কলারোয়া প্রতিনিধি: সামনেই শারদীয় দুর্গোৎসব। উৎসবকে ঘিরে কলারোয়া উপজেলার সব ম-পে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে রঙ-তুলির শেষ মুহূর্তের ছোঁয়া। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রস্তুতিতে কোনো সমস্যা হয়নি বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
বৃহস্পতিবার পৌরসভার তুলসীডাঙ্গা ঘোষপাড়া মাতৃমন্দির, উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়া ও গোয়ালঘাটা পূজাম-প ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমার নির্মাণ ও রঙের কাজ প্রায় শেষ। ম-পে ম-পে প্রতিমা দেখার জন্য স্থানীয় হিন্দুধর্মাবলম্বী মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। উৎসব ঘিরে সর্বত্র সম্প্রীতিময় পরিবেশ বজায় রয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কলারোয়ায় এবার ৪৬টি ম-পে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে, যা গতবারের চেয়ে একটি বেশি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত সভায় জানানো হয়, উপজেলার সবকটি ম-প সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। কোনো ম-পকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।

পৌরসভার আটটি ম-প হলোÑতুলসীডাঙ্গা ঘোষপাড়া সর্বজনীন, তুলসীডাঙ্গা গোয়ালঘাটা, উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়া, মুরারিকাটি দক্ষিণ পাড়া, মুরারীকাটি দক্ষিণ হরিসভা, গোপীনাথপুর ঘোষপাড়া, গোপীনাথপুর দক্ষিণ পাড়া ও ঝিকরা হরিতলা সর্বজনীন পূজাম-প।
ইউনিয়ন পর্যায়ের ম-পগুলোর মধ্যে জয়নগরে আটটি, দেয়াড়ায় ছয়টি, কুশোডাঙ্গায় চারটি, জালালাবাদ, কেঁড়াগাছি ও হেলাতলায় তিনটি করে, কয়লা, লাঙ্গলঝাড়া, চন্দনপুর, কেরালকাতা ও যুগিখালিতে দুটি করে এবং সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নে একটি ম-পে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
সার্বিক পরিবেশ নিয়ে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট কলারোয়া উপজেলা শাখার সভাপতি প্রকাশ চন্দ্র হালদার ও সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ দাস দেবু সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে এবং কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সবার সহযোগিতায় উৎসবমুখর পরিবেশে এবারও পূজা সম্পন্ন হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।

তালায় দুর্গাপূজা ঘিরে নবাগত ওসির মতবিনিময় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
তালায় দুর্গাপূজা ঘিরে নবাগত ওসির মতবিনিময় সভা

শাহিন আলম, খলিষখালী (পাটকেলঘাটা): শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তালার খলিষখালীতে বিভিন্ন পূজাম-পের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে পাটকেলঘাটা থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তোফাজ্জল হোসেনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় খলিষখালী রামকৃষ্ণ আশ্রমে এ সভা হয়।
খলিষখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাবীর হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাটকেলঘাটা থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা শেখ নূর আহম্মেদ ও শেখ আব্দুল হান্নান, তালা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র মজুমদার, খলিষখালী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. সায়েম, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. জিহাদ হোসেন এবং জয়দেব বাবু। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন তালা উপজেলা যুবদলের নেতা মেহেদী হাসান।