বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

অদেখা গ্রামীণ অর্থনীতির মানচিত্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
অদেখা গ্রামীণ অর্থনীতির মানচিত্র

মোঃ মামুন হাসান

বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় গ্রামীণ অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তি খোঁজার আলোচনা যখন ক্রমশ গুরুত্ব পাচ্ছে, তখন একটি প্রশ্ন সামনে আসে। উন্নয়নের জন্য কি সবসময় শত শত কোটি টাকার অবকাঠামো দরকার, নাকি মানুষের জীবনযাপন, সংস্কৃতি ও প্রকৃতিই হতে পারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল সম্পদ? এই প্রশ্নের একটি বাস্তবসম্মত উত্তর লুকিয়ে আছে সাতক্ষীরার নদী, খাল, মৎস্যঘের, বাঁশের সাঁকো এবং মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ সংস্কৃতির মধ্যে।

বিশ্ব পর্যটন বাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। একসময় পর্যটকরা কেবল দর্শনীয় স্থান দেখতে যেতেন, এখন তারা অভিজ্ঞতা কিনতে চান। জাতিসংঘ, বিশ্ব পর্যটন সংস্থা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, অভিজ্ঞতাভিত্তিক পর্যটন, গ্রামীণ পর্যটন ও কমিউনিটি পরিচালিত পর্যটন বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত সম্প্রসারিত পর্যটন খাতগুলোর একটি। পর্যটকেরা এখন পাঁচতারা হোটেলের কৃত্রিম পরিবেশের চেয়ে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে বসে খাবার খাওয়া, কৃষকের সঙ্গে মাঠে কাজ করা, জেলের সঙ্গে নদীতে যাওয়া কিংবা প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকার অভিজ্ঞতাকে বেশি মূল্য দিচ্ছেন।

এই পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রবণতার প্রেক্ষাপটে সাতক্ষীরা বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় অঞ্চল। সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত হলেও জেলার প্রকৃত সম্ভাবনা কেবল বনভিত্তিক পর্যটনে সীমাবদ্ধ নয়। এখানে রয়েছে শত শত কিলোমিটার নদীপথ, বিস্তীর্ণ চিংড়ি ও কাঁকড়া খামার, গ্রামীণ জীবনধারা, লোকজ সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী খাদ্য এবং তুলনামূলকভাবে দূষণমুক্ত পরিবেশ। এই সম্পদগুলোকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তরের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে কমিউনিটি ভিত্তিক পর্যটন ও হোমস্টে মডেল।

এই মডেলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর অর্থনৈতিক গুণক প্রভাব। একটি পর্যটক যখন কোনো গ্রামে রাতযাপন করেন, তখন তার ব্যয় কেবল আবাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তিনি স্থানীয় কৃষকের উৎপাদিত খাদ্য খান, স্থানীয় নৌকা ব্যবহার করেন, স্থানীয় গাইড নিয়োগ করেন, স্থানীয় নারীদের তৈরি পণ্য কিনেন এবং স্থানীয় পরিবহন ব্যবহার করেন। ফলে একই অর্থ বারবার স্থানীয় অর্থনীতির মধ্যে আবর্তিত হয়। অর্থনীতির ভাষায় একে স্থানীয় গুণক প্রভাব বলা হয়।

ধরা যাক, সাতক্ষীরার একটি গ্রামে মাত্র বিশটি পরিবার হোমস্টে কার্যক্রমে যুক্ত হলো। প্রতিটি পরিবার বছরে গড়ে একশ দিন পর্যটক আতিথেয়তা প্রদান করলে এবং প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার টাকা আয় করলে শুধুমাত্র আবাসন ও খাদ্যসেবা থেকেই বছরে প্রায় ষাট লাখ টাকার অর্থনৈতিক কার্যক্রম সৃষ্টি হবে। এর সঙ্গে পরিবহন, গাইডিং, হস্তশিল্প, কৃষিপণ্য, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও অন্যান্য সেবা যুক্ত হলে একটি ছোট গ্রামেই বছরে এক কোটির বেশি টাকার স্থানীয় অর্থনৈতিক প্রবাহ তৈরি হওয়া সম্ভব। জেলার একশটি গ্রামে একই মডেল বাস্তবায়িত হলে এই অর্থনৈতিক কর্মকান্ড কয়েকশ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই আয় সরাসরি তৃণমূল মানুষের হাতে পৌঁছায়। বড় হোটেল বা রিসোর্টভিত্তিক পর্যটনে অধিকাংশ মুনাফা কিছু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কেন্দ্রীভূত হয়। কিন্তু কমিউনিটি পর্যটনে উপকারভোগী হয় পুরো গ্রাম। এতে নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি হয়, যুবকদের কর্মসংস্থান বাড়ে এবং গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসনের চাপ কমে।

সাতক্ষীরার জন্য কৃষি পর্যটন, মৎস্য পর্যটন, নদী পর্যটন, লোকসংস্কৃতি পর্যটন, আলোকচিত্র পর্যটন, শিক্ষাভিত্তিক পর্যটন এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান পর্যটনের মতো বিশেষায়িত পণ্য তৈরি করা সম্ভব। শহরের আলোক দূষণ থেকে দূরে সাতক্ষীরার উন্মুক্ত আকাশ জ্যোতির্বিজ্ঞান অনুরাগীদের জন্য একটি নতুন আকর্ষণ হতে পারে। একইভাবে চিংড়ি ও কাঁকড়া উৎপাদন কেন্দ্রিক অভিজ্ঞতামূলক ভ্রমণ বিদেশি পর্যটকদের জন্য একটি অনন্য পণ্য হয়ে উঠতে পারে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় বিরল।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ জেলা হিসেবে সাতক্ষীরার জন্য এই মডেলের আরেকটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা ও কৃষি উৎপাদনের অনিশ্চয়তার মধ্যে বিকল্প আয়ের উৎস সৃষ্টি করা এখন সময়ের দাবি। কমিউনিটি পর্যটন জলবায়ু অভিযোজনভিত্তিক অর্থনীতির একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে। কারণ এখানে প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস না করেই আয় সৃষ্টি করা সম্ভব। তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রয়োজন সুস্পষ্ট নীতিগত সহায়তা। গ্রামীণ হোমস্টে নিবন্ধন নীতিমালা, স্বল্পসুদে সবুজ ঋণ, ডিজিটাল বুকিং প্ল্যাটফর্ম, নিরাপত্তা মানদন্ড এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করতে হবে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার, পর্যটন করপোরেশন, বেসরকারি খাত এবং স্থানীয় জনগণকে সমন্বিত অংশীদারিত্বে কাজ করতে হবে।

এক্ষেত্রে সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করতে পারে। পর্যটক সেবা, আতিথেয়তা ব্যবস্থাপনা, খাদ্য নিরাপত্তা, গাইডিং, ডিজিটাল বিপণন এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়ে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ চালুর মাধ্যমে হাজারো যুবক ও নারীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা সম্ভব। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি কেবল ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের ভূমিকায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি কার্যকর কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

আজকের বিশ্বে উন্নয়ন মানে শুধু সেতু, সড়ক কিংবা কংক্রিটের স্থাপনা নয়। উন্নয়ন মানে স্থানীয় সম্পদকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তর করার সক্ষমতা। সাতক্ষীরার বাঁশের সাঁকো, নদীর পাড়, মৎস্যঘের এবং মানুষের আন্তরিক আতিথেয়তা যদি সঠিক পরিকল্পনা ও নীতিগত সহায়তা পায়, তবে এগুলোই একদিন শত কোটি টাকার টেকসই অর্থনীতির ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। উন্নয়নের ভবিষ্যৎ হয়তো কোনো বহুতল ভবনের কাচের দেয়ালে নয়, বরং সাতক্ষীরার একটি সাধারণ গ্রামে দাঁড়িয়ে থাকা বাঁশের সাঁকোর ওপরই লেখা আছে।

লেখক: ইনস্ট্রাক্টর ও বিভাগীয় প্রধান,ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ,সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

Ads small one

ইতিহাস গড়ার বাসনায় ফের ‘বরবাদ’ নির্মাতার ফ্রেমে শাকিব খান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৮:১১ অপরাহ্ণ
ইতিহাস গড়ার বাসনায় ফের ‘বরবাদ’ নির্মাতার ফ্রেমে শাকিব খান

দেশীয় চলচ্চিত্রে ব্যাপক আলোড়ন তোলা ‘বরবাদ’-এর সাফল্যের পর আবারও এক হচ্ছেন সেই ছবির পরিচালক ও নায়ক। পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয়ের নতুন সিনেমায় আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন শাকিব খান।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে নতুন প্রজেক্টটির আনুষ্ঠানিক সাইনিং সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ‘বরবাদ’ মুক্তির পর ছবিটি বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি দর্শকদের প্রশংসাও কুড়ায়। ছবিটি শাকিব খানের ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক সাফল্যে পরিণত হয়।

ঈদে মুক্তির পর প্রথম সাত দিনেই প্রায় ২৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকার টিকিট বিক্রির দাবি করে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে দেশ-বিদেশে ব্যাপক সাড়া ফেলে সিনেমাটি এবং বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের অন্যতম সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমাগুলোর তালিকায় জায়গা করে নেয়।

একই টিমের নতুন সিনেমার খবর প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহ।

 

যদিও নতুন সিনেমাটির নাম কিংবা গল্প এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রিয়েল এনার্জি প্রডাকশন জানিয়েছে, খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে ছবিটির ঘোষণা দেওয়া হবে।

পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয় জানিয়েছেন, এটি একটি অ্যাকশন থ্রিলার ঘরানার সিনেমা। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবারই শাকিব খানকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এদিকে, শাকিব খানও তার ফেসবুক পেজে সাইনিংয়ের মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করে লিখেছেন, “বরবার টিম আবারও ফিরছে। চলো ফের নতুন ইতিহাস গড়ি।”

নির্মাতাদের দাবি, ‘বরবাদ’-এর মতো এবারও দর্শকদের জন্য বড় পরিসরের একটি চমক নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ঈদুল ফিতরে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

রোনালদো নাকি মদরিচ, কার বিদায় আজ?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৮:১০ অপরাহ্ণ
রোনালদো নাকি মদরিচ, কার বিদায় আজ?

ফুটবল বিশ্বের দুই কিংবদন্তি লুকা মদরিচ ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বয়সের ভারে দুজনই ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে। চলতি বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া ও পর্তুগালের শেষ ষোলোর লড়াই তাই শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার নয়, বরং দুই মহাতারকার একজনের বিশ্বকাপ অধ্যায়ের ইতি টানার মঞ্চও। ম্যাচটা মাঠে গড়াবে আজ রাত ৩টায়। দেখাবে টি স্পোর্টস।

পর্তুগালের মিডফিল্ডার ভিতিনহা ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘মদরিচ ও রোনালদো বিশ্ব ফুটবলের দুই অসাধারণ আইকন। ক্রিস্টিয়ানোর সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করার সৌভাগ্য হয়েছে, যা আমার জন্য দারুণ অভিজ্ঞতা। মদরিচের সঙ্গেও আরও বেশি সময় কাটানোর ইচ্ছা ছিল। যতটুকু দেখেছি, তিনি ভীষণ ভদ্র ও আন্তরিক একজন মানুষ। কিন্তু আগামীকাল একজনের যাত্রা শেষ হবেই। আমি চাই, সেটি যেন মদরিচের হয়।’

ক্রমশ সময় ফুরিয়ে আসছে দুই তারকার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। ৪১ বছর বয়সী মদরিচ এবং ৪০ বছর বয়সী রোনালদোর এটি শেষ বিশ্বকাপ হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। ফলে বৃহস্পতিবারের ম্যাচটি একজনের জন্য হয়ে উঠতে পারে বিশ্বকাপের শেষ অধ্যায়।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুজন মিলে খেলেছেন ৪৭টি ম্যাচ। ২০০৮ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে তাদের ঝুলিতে উঠেছে মোট ছয়টি ব্যালন ডি’অর, যার পাঁচটিই রোনালদোর। আর ২০১২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদে একসঙ্গে খেলতে গিয়ে জিতেছেন চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা।

পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজও দুই কিংবদন্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন, ‘তারা জনমতের ঊর্ধ্বে থাকা ফুটবলার। এত দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজেদের ধরে রাখা-ই তাদের বিশেষ করে তুলেছে। ৪০ পেরিয়েও মদরিচ নিয়মিত খেলছেন এবং দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই কথা আমাদের অধিনায়ক রোনালদোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বয়স কেবল একটি সংখ্যা। আসল বিষয় হলো, তারা মাঠে কী দিচ্ছেন এবং ড্রেসিংরুমে কী ধরনের উদাহরণ তৈরি করছেন।’

এবারের বিশ্বকাপেও দুজনই নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। তবে বয়সের ছাপ যে তাদের পারফরম্যান্সে পড়েছে, সেটিও স্পষ্ট।

পর্তুগালের হয়ে এখন পর্যন্ত তিনটি ম্যাচেই পুরো ২৭০ মিনিট খেলেছেন রোনালদো। করেছেন দুটি গোলও। তবে সতীর্থদের জন্য কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেননি। ২৫০ মিনিটের বেশি খেলা ফরোয়ার্ডদের মধ্যে বল স্পর্শ, বল দখল, প্রগ্রেসিভ পাস এবং দ্বৈরথে অংশ নেওয়ার পরিসংখ্যানে তিনি পিছিয়ে রয়েছেন।

অন্যদিকে মদরিচ খেলেছেন ২২৯ মিনিট। একটি অ্যাসিস্টসহ পাঁচটি সুযোগ তৈরি করেছেন তিনি। তবে ২২৫ মিনিটের বেশি খেলা মিডফিল্ডারদের মধ্যে বল দখল ও দ্বৈরথের পরিসংখ্যানে তিনিও অনেকটাই নিচের দিকে।

তাই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে দুই কিংবদন্তির চেয়ে তাদের সতীর্থদের ভূমিকাই হতে পারে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মাঝমাঠের লড়াইকে দুই কোচই ম্যাচের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হিসেবে দেখছেন।

এই জায়গায় পর্তুগালের শক্তি নিঃসন্দেহে চোখে পড়ার মতো। ভিতিনহা, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, জোয়াও নেভেস, বের্নার্দো সিলভা ও রুবেন নেভেস—প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থানে বিশ্বের সেরাদের একজন।

অন্যদিকে অভিজ্ঞ মদরিচ ও মাতেও কোভাচিচের পাশাপাশি উদীয়মান পেতার সুচিচকে নিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ একটি মিডফিল্ড গড়ে তুলেছে ক্রোয়েশিয়া।

ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচও মনে করছেন, ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হবে মাঝমাঠেই। তার ভাষায়, ‘নিঃসন্দেহে এটি হবে বিশাল এক লড়াই। সম্ভবত মধ্যমাঠের আধিপত্যই ঠিক করে দেবে ম্যাচের ফল।’

খামেনির শেষ বিদায়ে কত কোটি মানুষ আসবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৮ অপরাহ্ণ
খামেনির শেষ বিদায়ে কত কোটি মানুষ আসবে

প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগমের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধের বার্তা বিশ্বকে পৌঁছে দিতেই এই উপস্থিতির আহ্বান জানান তিনি। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

আগামী শনিবার (৪ জুলাই) থেকে শুরু হতে যাওয়া এই শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকতা প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে গালিবাফ বলেন, আমি সকল ইরানি জনগণকে আহ্বান জানাই, শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ইসলামি ইরানের ইতিহাসে একটি গৌরবময় অধ্যায় রচনা করুন। তিনি আরও বলেন, প্রতিশোধের জন্য জাতির আহ্বান যেন পুরো বিশ্বের কানে পৌঁছে যায়।

ঐতিহাসিক এই আয়োজন প্রসঙ্গে গালিবাফ বলেন, ইরান তার ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্তের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ চরম উত্তাল থাকায় খামেনির শেষকৃত্য এতদিন স্থগিত ছিল। তবে সংঘাত থামানোর লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি সই হওয়ার পর, বর্তমানে চলমান একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুদ্ধের প্রথম দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের কেন্দ্রস্থলে তার বাসভবনে নিহত হন। শনিবার তার মরদেহ জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে রাখা হবে। সেখানে তার নিহত স্বজনদের মরদেহও প্রদর্শন করা হবে।

কর্মকর্তাদের ধারণা, শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে এক কোটি ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে। তাহলে এটি হবে ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠান।

শেষ বিদায় ও দাফন অনুষ্ঠান চলাকালে তেহরানের পাশাপাশি পবিত্র শহর কুম ও মাশহাদে সরকারি ছুটি পালন করা হবে। একই সঙ্গে শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত তেহরানের সরকারি ও বেসরকারি অফিস বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যান চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে শহরের কেন্দ্রের বড় অংশে ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।