মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

অনভিজ্ঞ দল নিয়েও বাংলাদেশকে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ
অনভিজ্ঞ দল নিয়েও বাংলাদেশকে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড

প্রথম ওয়ানডের সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ৪৮.৩ ওভারে ২২১/১০ (রানা ০*; তানজিদ ২, শান্ত ০, সাইফ ৫৭, লিটন ৪৬, আফিফ ২৭, মিরাজ ৬, রিশাদ ৪, শরিফুল ০, তাসকিন ২, হৃদয় ৫৫)

ফল: নিউজিল্যান্ড জয়ী ২৬ রানে।

নিউজিল্যান্ড ৫০ ওভারে ২৪৭/৮ (লেনক্স ১*, স্মিথ ২১* ; কেলি ৭, ইয়াং ৩০, ল্যাথাম ১৪, নিকোলস ৬৮, আব্বাস ১৪, ক্লার্কসন ৮, ফক্সক্রফট ৫৯, টিকনার ৭)

মিরপুরে দ্বিতীয় সারির অনভিজ্ঞ দল নিয়েও সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ২৬ রানে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। ২৪৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে বাংলাদেশ ৪৮.২ ওভারেই ২২১ রানে অলআউট হয়েছে।

রান তাড়ায় নাথান স্মিথের আঘাতে ২১ রানে দ্রুত দুটি উইকেট পতনের পর ভালোই জবাব দিয়েছিল বাংলাদেশ। সাইফ হাসান-লিটন দাস মিলে ৯৩ রানের জুটি গড়েছিলেন। সাইফ ৫৭ রানে ফিরলেও লিটন দাস যতক্ষণ ছিলেন ততক্ষণ সব কিছুই ঠিক মতো ছিল। উইকেটকিপার ব্যাটার ৪৬ রানে ফিরতেই নিজেদের পরিস্থিতি কঠিন করে তোলে স্বাগতিক দল। চাপের মুহূর্তে তাওহীদ হৃদয় ও আফিফ হোসেন মিলে জুটি গড়েন ঠিকই কিন্তু মন্থর সেই জুটি বলের ব্যবধান বাড়িয়েছে। তার ওপর আফিফের আউটের পর প্রয়োজনের সময় প্রতিরোধ গড়তে ব্যর্থ হন মেহেদী হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেনও। যার প্রভাবে পরে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। এই সময় দ্রুত উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছে। বিশেষ করে ব্লেয়ার টিকনার টানা দুই বলে দুই উইকেটসহ শেষ দিকে এসে ৩ উইকেট নিয়ে ইনিংস গুটিয়ে দিতে ভূমিকা রেখেছেন। তাওহীদ হৃদয় এই সময় হাত খোলার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ৬০ বলে ৫৫ রানে আউট হওয়াতে ২২১ রানে থেমেছে বাংলাদেশের ইনিংস।

ব্লেয়ার টিকনার ৪০ রানে নেন সর্বোচ্চ ৪ উইকেট। ৪৫ রানে ৩টি নেন নাথান স্মিথ। একটি করে নিয়েছেন উইল ও’রুর্ক, জেইডেন লেনক্স ও ডিন ফক্সক্রফট। ফক্সক্রফট ব্যাট হাতেও ৫৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলায় ম্যাচসেরা হয়েছেন।

তাসকিনের বিদায়ে পড়লো নবম উইকেট

এক ওভার বিরতি দিয়ে আবার আঘাত হেনেছেন ব্লেয়ার টিকনার। বাংলাদেশকে অসম্ভব কিছু করার কোনও সুযোগই দেননি তিনি। ৪৭.৩ ওভারে তাসকিন আহমেদকে বোল্ড করেছেন। নিজের চতুর্থ শিকারের সঙ্গে বাংলাদেশ হারায় তাদের নবম উইকেট।

টানা দুই বলে ফিরলেন রিশাদ, শরিফুল

মিরাজের পর শেষ স্বীকৃত ব্যাটার হিসেবে রিশাদ হোসেনের ওপর নির্ভর করছিল অনেক কিছু। কিন্তু ৪৬তম ওভারে রিশাদকে ৪ রানে ফিরিয়েছেন কিউই পেসার টিকনার। পরের বলে বোল্ড করেন শরিফুলকেও। পর পর দুটি উইকেট পতনে ৮ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ।

চাপ বাড়িয়ে সাজঘরে মিরাজ

আফিফ-হৃদয় জুটি গড়ে খেললেও তাতে ছিল মন্থর গতি। যার প্রভাব পড়েছে ম্যাচে। নতুন নামা মেহেদী হাসান মিরাজও বেশি কিছু করতে পারেননি। ৬ রানে আউট হয়ে আরও চাপ বাড়িয়ে গেছেন। দলের ১৯৪ রানে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তাতে পড়ে দলের ষষ্ঠ উইকেট।

আফিফের আউটে ভাঙলো ৫২ রানের জুটি

লিটন দাসের বিদায়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। আফিফ হোসেন ও তাওহীদ হৃদয় জুটি গড়লেও তাদের রান তোলায় ছিল মন্থর গতি। ৭৯ বলে দুজনে যোগ করেছেন ৫২ রান। দলের ১৮৪ রানে আফিফ হোসেনের বিদায়ে ভেঙেছে এই জুটি। মেরে খেলতে গিয়ে ২৭ রানে ক্যাচ তুলে আউট হন আফিফ।

৪৬ রানে বোল্ড লিটন

সাইফ ফিরলেও প্রান্ত আগলে খেলছিলেন লিটন দাস। ব্যবধান কমাচ্ছিলেন তিনি। চলে আসেন ফিফটির কাছেও। ব্যক্তিগত ৪৬ রানে তাকে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে চমকে দিয়েছেন ফক্সক্রফট। তার ঘূর্ণি বল বুঝতেই পারেননি লিটন। বোল্ড হয়েছেন। লিটনের ৬৮ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি চারের মার। বাংলাদেশ চতুর্থ উইকেট হারায় ১৩২ রানে।

সাইফের বিদায়ে ভাঙলো ৯৩ রানের জুটি

শুরুতে দ্রুত দুই উইকেট পতনের পর বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়ায় সাইফ হাসান-লিটন দাসের জুটিতে। দুজনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্রাসী ছিলেন সাইফ। তুলে নেন ফিফটি। তাকে ৫৭ রানে থামিয়ে ৯৩ রানের জুটি ভেঙেছেন ও রুর্ক। পুল করতে গিয়ে ক্লার্কসনের হাতে ধরা পড়েছেন সাইফ। বাংলাদেশ তৃতীয় উইকেট হারায় ১১৪ রানে।

সাইফের ফিফটি, একশ ছাড়ালো বাংলাদেশ

২১ রানে টানা দুই বলে দুটি উইকেট পড়লেও সেই ধাক্কা সামলে উঠেছেন অভিজ্ঞ সাইফ হাসান ও লিটন দাস। তৃতীয় উইকেটে তাদের পঞ্চাশ ছাড়ানো জুটিতে বাংলাদেশ ভালোভাবেই জবাব দিচ্ছে। সাইফ হাসান তো ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নিয়েছেন। দুজনের ব্যাটেই বাংলাদেশের স্কোর ছাড়িয়েছে একশ।

স্মিথের জোড়া আঘাতে ফিরলেন তানজিদ, শান্ত

রান তাড়ায় শুরুটা দেখেশুনে করেছিলেন দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান। তৃতীয় ওভারে অবশ্য শেষ রক্ষা হয়নি। নাথান স্মিথের প্রথম বলে মেরে খেলতে গিয়ে ২ রানে বোল্ড হয়েছেন ওপেনার তানজিদ হাসান। পরের বলে নতুন নামা নাজমুল হোসেন শান্তকেও বোল্ড করে টানা দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন কিউই পেসার। ফলে ২১ রানের মধ্যেই দুই উইকেট পড়েছে বাংলাদেশের।

বাংলাদেশকে ২৪৮ রানের লক্ষ্য দিয়েছে নিউজিল্যান্ড

প্রথম ওয়ানডেতে বল হাতে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। টস হেরে বোলিং করে নিউজিল্যান্ডকে ৮ উইকেটে ২৪৭ রানে আটকে দিয়েছে তারা।

ব্যবহৃত পাঁচ বোলারের প্রত্যেকেই উইকেটের দেখা পেয়েছেন। তাদের মধ্যে পেসার শরিফুল ইসলাম ছিলেন সবচেয়ে সফল। ১০ ওভারে ২৭ রানে নেন ২ উইকেট। ছিল দুটি মেডেনও। লেগ-স্পিনার রিশাদ হোসেন ও পেসার তাসকিন আহমেদও নেন দুটি করে উইকেট। এছাড়া নাহিদ রানা ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ নেন একটি করে উইকেট।

সফরকারীদের পক্ষে ওপেনার হেনরি নিকোলস ৮৩ বলে সর্বোচ্চ ৬৩ রান করেন। নিচের দিকে নেমে ডিন ফক্সক্রফট ৫৮ বলে ৫৯ রানের কার্যকর ইনিংসে গতি ফেরান।

অবশ্য পাওয়ারপ্লের পর কিছুটা গতি বাড়ালেও মাঝের ওভারে নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে নিউজিল্যান্ডকে চাপে ফেলে বাংলাদেশ। শুরুর ধীরগতির পর হেনরি নিকোলস ও উইল ইয়াং দ্বিতীয় উইকেটে ৭৩ রানের জুটি গড়ে দলকে ভালোই এগিয়ে নিয়েছিলেন। এক পর্যায়ে ১ উইকেটে স্কোর ছিল ৯৪। উইল ইয়াংকে রিশাদ হোসেন বিদায় দিলে তারপর দ্রুতই ইনিংসের ছন্দপতন ঘটে। মাঝে দারুণ বোলিংয়ে মাত্র ৩৭ রানে ৩ উইকেট তুলে ম্যাচের গতি নিজেদের পক্ষে নেয় স্বাগতিকরা।

শেষ দিকে বাংলাদেশ সফরকারীদের ওপর আরও চাপ বাড়ালে তারা বেশি রান নিতে পারেনি। এই সময় দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ২১ রানে অপরাজিত থাকেন নাথান স্মিথ (২১*)।

তাসকিনের দ্বিতীয় শিকার টিকনার

শেষ ওভারে গিয়ে রান বাড়াতে চেয়েছিল নিউজিল্যান্ড। কিন্তু তাসকিন আহমেদের গতির কাছে পেরে উঠেননি স্ট্রাইকে থাকা ব্লেয়ার টিকনার (৭)। ৪৯.২ ওভারে বোল্ড হয়েছেন তিনি। তাতে অষ্টম উইকেট হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। এটি তাসকিনের দ্বিতীয় শিকার।

ফক্সক্রফটকে থামালেন রানা

নিকোলসের পর নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন মূলত ডিন ফক্সক্রফট। তার দায়িত্বশীল ব্যাটিং দলকে পথ দেখাচ্ছিল। ৫২ বলে ফিফটি তুলে নেওয়া এই ব্যাটারকে অবশেষে থামিয়েছেন নাহিদ রানা। ৪৬.৪ ওভারে ফক্সক্রফটকে ৫৯ রানে বোল্ড করেছেন তিনি। কিউই ব্যাটারের ৫৮ বলের ইনিংসে ছিল ৮টি চারের মার। নিউজিল্যান্ড সপ্তম উইকেট হারায় ২২৬ রানে।

ক্লার্কসনকে বোল্ড করলেন তাসকিন

আব্বাসকে নিয়ে ৩৪ রান যোগ করেছিলেন ফক্সক্রফট। তার পর ষষ্ঠ উইকটে ক্লার্কসনকে নিয়েও ২৭ রান যোগ করেন তিনি। এই জুটি পোক্ত হওয়ার আগেই ক্লার্কসনকে বোল্ড করে প্রথম উইকেটের দেখা পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ। ১৬ বলে ৮ রানে ফিরেছেন কিউই ব্যাটার। নিউজিল্যান্ড ষষ্ঠ উইকেট হারায় ১৯২ রানে।

শরিফুলের আঘাতে ভাঙলো জুটি

৪ রানের ব্যবধানে দ্রুত ২ উইকেট পতনের পর পঞ্চম উইকেটে জুটি গড়েছিলেন মোহাম্মদ আব্বাস ও ফক্সক্রফট। কিন্তু ৩৬তম ওভারে শরিফুলের আঘাতে ভেঙেছে ৩৪ রানের এই জুটি। লিটনকে ক্যাচ দিয়ে ১৪ রানে ফিরেছেন আব্বাস। তাতে ১৬৫ রানে পতন হয়েছে পঞ্চম উইকেটের। শরিফুলের এটি দ্বিতীয় শিকার।

মিরাজের পর রিশাদের আঘাত

দ্বিতীয় উইকেট জুটি ভাঙার পর নেমেছিলেন অধিনায়ক ল্যাথাম। বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি যদিও। ২৭তম ওভারে ১৫ বলে ১৪ রানে মেহেদী হাসান মিরাজের আঘাতে বোল্ড হয়েছেন। তাতে ভাঙে নিকোলস-ল্যাথামের ৩৩ রানের জুটি। পরের ওভারে রিশাদের আঘাতে ফেরেন প্রান্ত আগলে খেলতে থাকা নিকোলসও। রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে লিটনের গ্লাভসবন্দি হয়েছেন। ৮৩ বলে থেমেছেন ৬৮ রানে। তার ইনিংসে ছিল ৯টি চারের মার। তাতে ৪ রানের ব্যবধানে পড়েছে দুটি উইকেট।

নিকোলসের ফিফটি, দলীয় শতরান ছাড়িয়েছে নিউজিল্যান্ড

দ্বিতীয় উইকেট পতন হলেও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ১৭তম ফিফটি তুলে নিয়েছেন নিকোলস। ৭ চারে ৬৫ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন তিনি। একই সময়ে দল শত রানও ছাড়িয়েছে।

৭৩ রানের জুটি ভাঙলেন রিশাদ

২১ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে নিউজিল্যান্ডকে পথ দেখাচ্ছিলেন হেনরি নিকোলস ও উইল ইয়াং। ধীর গতির সূচনার পর ভালো জুটিও গড়েন তারা। ২১.৩তম ওভারে এসে ৭৩ রানের জুটি ভেঙেছেন রিশাদ হোসেন। সফট ডিসমিসালে ফিরেছেন ইয়াং। রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে ৩০ রানে বিদায় নেন তিনি। তাতে ৯৪ রানে পড়েছে দ্বিতীয় উইকেট। ইয়াং অবশ্য ১ রানে জীবন পেয়েছিলেন।

১০ ওভারে নিউজিল্যান্ডের ৩৮

পাওয়ার প্লেতে নিউজিল্যান্ডকে বেশি রান নিতে দেয়নি বাংলাদেশ। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে তাদের আটকে রাখার চেষ্টা করেছে। তাতে দশ ওভারে নিউজিল্যান্ড ১ উইকেটে তুলেছে ৩৮ রান। অবশ্য এই সময়ে একটি ক্যাচ ছাড়ার ঘটনাও ঘটেছে। নবম ওভারে শরিফুলের বলে সহজ ক্যাচ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন স্লিপে থাকা সাইফ হাসান।

সপ্তম ওভারেই শরিফুলের সাফল্য

টস হেরে বোলিংয়ে নামলেও শুরুটা দারুণ করেছেন তাসকিন আহমেদ,শরিফুল ইসলামরা। তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে সেভাবে হাতই খুলতে পারেননি দুই ওপেনার হেনরি নিকোলস ও নিক কেলি। ৫ ওভারে রান এসেছে মাত্র ১৬। সপ্তম ওভারে শরিফুলের বলে আসে প্রথম সাফল্যও। মেরে খেলতে গিয়ে ৭ রানে বোল্ড হয়েছেন ওপেনার কেলি। তার ২৩ বলের ইনিংসে ছিল ১টি চার।

টস হেরে বোলিংয়ে বাংলাদেশ

সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস হেরেছে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। ম্যাচটা শুরু হয়েছে বেলা ১১টায়। দেখাচ্ছে টি স্পোর্টস ও নাগরিক টিভি।

এবারের সিরিজে দ্বিতীয় সারির দল নিয়েই খেলতে এসেছে কিউই দল। তাই সিরিজে লড়াইটা হচ্ছে নতুন বনাম অভিজ্ঞদের। স্বাগতিক বাংলাদেশের লক্ষ্য সিরিজ জয়। বিশেষ করে ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা করে নিতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সর্বশেষ ২০২৩ সালেও একই রকম খর্ব শক্তির দল নিয়ে সিরিজ ২-০ তে জিতেছিল নিউজিল্যান্ড। এবারও তাদের প্রেরণা দিচ্ছে সেই সিরিজ।

একাদশে কারা

পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা সর্বশেষ ওয়ানডে থেকে একটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। মোস্তাফিজুর রহমানের জায়গায় খেলছেন আরেক পেসার শরিফুল ইসলাম। সব মিলে একাদশে রয়েছেন ৩ পেসার।

বাংলাদেশ একাদশ:
মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস (উইকেটকিপার), তাওহীদ হৃদয়, আফিফ হোসেন, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।

নিউজিল্যান্ড একাদশ:
উইল ইয়াং, টম ল্যাথাম (অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), হেনরি নিকোলস, নিক কেলি, মোহাম্মদ আব্বাস, ডিন ফক্সক্রফট, জশ ক্লার্কসন, নাথান স্মিথ, ব্লেয়ার টিকনার, উইলিয়াম ও’রুর্ক ও জেইডেন লেনক্স।

Ads small one

কেশবপুরে সীমানা বিরোধে স্কুল ভবন নির্মাণ: জমির মালিককে মারধরের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ
কেশবপুরে সীমানা বিরোধে স্কুল ভবন নির্মাণ: জমির মালিককে মারধরের অভিযোগ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলার রেজাকাটি শহীদ জিয়াউর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে জোরপূর্বক নতুন ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। বাধা দেওয়ায় প্রধান শিক্ষক ও তাঁর সহযোগীর হাতে জমির মালিক দম্পতি লাঞ্ছিত ও মারধরের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় গত ২০ জুলাই (সোমবার) জমির মালিক ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জাহানারা বেগম ও সহকারী শিক্ষক কাকরকে অভিযুক্ত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হাসানপুর ইউনিয়নের ৫০ নম্বর রেজাকাটি মৌজার ৩৭৫৪ নম্বর দলিল ও সংশ্লিষ্ট খতিয়ান সূত্রে ফিরোজা খাতুন ডাঙ্গা ও অন্যান্য শ্রেণিতে মোট ১৮.৩৮ শতক জমির মালিক হয়ে ভোগদখল করে আসছেন। জমিতে বিভিন্ন ফলের গাছগাছালিও রোপণ করেছিলেন তিনি। তবে প্রধান শিক্ষিকা স্কুলের আয়াকে দিয়ে গাছগুলো উপড়ে ফেলেন এবং উক্ত বিতর্কিত জমিতেই স্কুলের নতুন ভবনের কাজ শুরু করেন।
গত ২০ জুলাই সকালে ফিরোজা বেগম ও তাঁর স্বামী মো. আব্দুল হাদিস নির্মাণকাজে বাধা দেন এবং সরকারি আমিন দিয়ে জমি মেপে ভবন করার অনুরোধ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা আব্দুল হাদিসকে মারধর ও গলাধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষিকা জাহানারা বেগম বলেন, মারামারির কোনো ঘটনা ঘটেনি। স্কুলে শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের কাজ চলছে। ফিরোজা বেগমের জমি স্কুলের ভেতর রয়েছে কিনা তা তাঁর জানা নেই; সরকারিভাবে নকশা এলে জমি মেপে দেখা হবে।
যোগাযোগ করা হলে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন জানান, অভিযোগপত্রটি পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাইকগাছায় শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে অর্থ আদায়ের মিথ্যা অভিযোগের প্রমাণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
পাইকগাছায় শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে অর্থ আদায়ের মিথ্যা অভিযোগের প্রমাণ

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা আদায়ের যে অভিযোগ উঠেছিল, তা ভুয়া এবং স্বাক্ষর জালের মাধ্যমে করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সোমবার (২০ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে শেষ ধাপের তদন্ত শেষে এ তথ্য জানা যায়।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে তেরখাদা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এম এম মতিয়ার রহমান ও খুলনা সদর থানা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম এই অভিযোগের ওপর তদন্ত চালান। এতে উপজেলার ৩৪ জন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাজির হয়ে নিজেদের বক্তব্য লিখিত ও মৌখিকভাবে জমা দেন।
অভিযোগে দাবি করা হয়েছিল, ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের রিট মামলার খরচ বাবদ শিক্ষক সমিতির সভাপতি রবীন্দ্রনাথ রায়, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান ও সহকারী শিক্ষক আবদুল আলীম মিলে শিক্ষকদের কাছ থেকে ৬ হাজার ২০০ টাকা করে আদায় করেছেন। তবে অভিযোগের মূল ভিত্তি নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়।
তদন্তে হাজির হয়ে অভিযোগকারী হিসেবে নাম থাকা সহকারী শিক্ষক হাফিজুল ইসলাম স্পষ্টভাবে জানান, তিনি এমন কোনো কাগজে সই করেননি; তাঁর স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। অন্যদিকে ফোনে যোগাযোগের পর অপর অভিযোগকারী সুভাষ চন্দ্র মন্ডলও একই কথা জানিয়ে বলন, মধুখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল আক্তার তাঁর সই জাল করেছেন।
অবশ্য বাবুল আক্তার জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনুমতি নিয়েই অন্য প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান কাগজে স্বাক্ষর করেছিলেন। এ বক্তব্যের পরই সেখানে উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষকরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং স্বাক্ষর জালিয়াতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
পাইকগাছা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান বলেন, ১০ম গ্রেড নিয়ে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন হয়নি। শিক্ষক সংগঠনকে হেয় করতে একদল শিক্ষক জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনার মাধ্যমে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

আশাশুনিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে সমন্বয় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:০২ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে সমন্বয় সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার আশাশুনিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সতর্কতা, ঝুঁকি হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের নিয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১১টায় আশাশুনি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মুসলিম এইড ইউকে বাংলাদেশ ফিল্ড অফিসের আর্থিক সহায়তায় এবং ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) ‘আইসিআরডিসিভি-৩’ প্রকল্পের আওতায় এ সভার আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু।
ইএসডিওর প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. শামসুল হক মৃধার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক আহ্বায়ক সম হেদায়েতুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের আমীর আবু মুসা তারিকুজ্জামান তুষার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নিতীশ চন্দ্র গোলদার, কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সোবহান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার বর্মণ, এবং সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান মনির।
এ ছাড়া সভায় মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার দাস, বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. রিজাউল করিম, আশাশুনি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আকাশ হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান হাজী আবু দাউদ ঢালী ও আবু বক্কর সিদ্দিকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সিপিপি দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছানো এবং টেকসই অভিযোজন কৌশলের ওপর জোর দেন বক্তারা। দুর্যোগ পূর্ববর্তী প্রস্তুতি গ্রহণ ও ঝুঁকি হ্রাসে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।