শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩

আজ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ
আজ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তি

অনলাইন ডেস্ক: আজ ২৫ বৈশাখ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১শ’৬৫তম জন্মজয়ন্তি। ১৮৬১ সালের এই দিনে কোলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে জন্ম নিয়েছিলেন সাহিত্যে বিশ্ব জয় করা বিরল প্রতিভার অধিকারী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা সম্ভার বিপুল ও বৈচিত্রময়। সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই যেখানে তিনি বিচরণ করেননি। যে বিশেষণে তাকে বিশেষায়িত করা হোক না কেনো, যেন কম হয়ে যায়। রবীন্দ্রনাথ এমন একটি নাম ও প্রতিষ্ঠান যা বাঙালির মন-মানসিকতা গঠন, চেতনার উন্মেষের অন্যতম প্রধান অবলম্বন। শুধু সৃজনশীল সাহিত্য রচনা নয়, অর্থনীতি, সমাজ, রাষ্ট্র নিয়ে ভাবনাও তাকে অত্যন্ত উঁচু আসনে অধিষ্ঠিত করেছে।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মায়ের নাম সারদাসুন্দরী দেবী এবং বাবা জমিদার দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর ধর্মীয় ও দার্শনিক চেতনা ছিল শুধু নিজের শান্তি বা নিজের আত্মার মুক্তির জন্য ধর্ম নয়, মানুষের কল্যাণের জন্য যে সাধনা তাই ধর্ম। তাঁর দর্শন ছিল মানুষের মুক্তির দর্শন।

 

তিনি বিশ্বাস করতেন বিশ্বমানবতাবাদে। জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাঁর কবিতায়, গানে, গল্পে, বিভিন্ন কর্মকান্ডে সেই দর্শনের অন্বেষণ করেছেন তিনি। তাঁর কবিতা, গান, সাহিত্যের অন্যান্য শাখার লেখনি মানুষকে আজও সেই অন্বেষণের পথে, উপলব্ধির পথে আকর্ষণ করে। তার বাণীর ঐশ্বর্যে, ভাষার নৈপুণ্যে ও মানবিক মাঙ্গলিকতার বোধে এখনো আমাদের শিশুর মতো ছুঁয়ে যান তিনি, মোহিত করেন, আনন্দিত করেন, উদ্বুদ্ধ করেন। আর তা বজায় থাকবে শতাব্দির পর শতাব্দি।

 

এবারও কবির জন্মদিনটি উদযাপনে বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

Ads small one

আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই: খুলনায় আইন মন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ২:৪০ অপরাহ্ণ
আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই: খুলনায় আইন মন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান বলেছেন, আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে ব্রিটিশ একটি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় অতি শীঘ্রই দেশের সব জেলা বারে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, বিজ্ঞ বিচারক গড়ে তুলতে হলে আগে বিজ্ঞ ও দক্ষ আইনজীবী তৈরি করতে হবে।

মন্ত্রী আজ (শুক্রবার) সকালে খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে নবীন আইনজীবীদের সংবর্ধনা ও নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, প্রভাবমুক্ত বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা গেলে দেশে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। বাংলাদেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকারকে আরও সুসংহত করতে বিচারালয়কে তীর্থস্থানের মতো মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। এ জন্য আইনজীবীদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাগত যোগ্যতার মান আরও উন্নত করতে হবে এবং সব ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ড থেকে নিজেদের দূরে রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান, এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ চাঁদ মোহাম্মদ আব্দুল আলীম আল রাজী ও জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট মোল্লা মোহাম্মদ মাসুম রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক এড. মোল্লা মশিয়ুর রহমান নান্নু।

এর আগে তিনি খুলনা জেলা জজ আদালতের কনফারেন্স রুমে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সাথে পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। তথ্যবিবরণী

 

 

 

 

 

দুর্যোগ ঝুঁকিতে আশাশুনির লাখো মানুষ, নেই আধুনিক ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
দুর্যোগ ঝুঁকিতে আশাশুনির লাখো মানুষ, নেই আধুনিক ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র

ফাইল ফটো

সচ্চিদানন্দ দে সদয়, আশাশুনি: উপকূলীয় জনপদ আশাশুনিতে বৈশাখ এলেই বাড়তে থাকে উৎকণ্ঠা। কালো মেঘ, উত্তাল নদী আর ঝোড়ো বাতাসের আভাস পেলেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে মানুষের মধ্যে। কারণ স্বাধীনতার এত বছর পরও দুর্যোগপ্রবণ এই এলাকায় গড়ে ওঠেনি কোনো আধুনিক ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র। ফলে দুর্যোগের আগাম বার্তা দ্রুত পৌঁছানো না গেলে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থেকেই যায়।

 

আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, “আইলার সময় আমরা বুঝতেই পারিনি কত বড় বিপদ আসছে। যখন খবর পেলাম, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। এখনো যদি আগাম সতর্কতার ভালো ব্যবস্থা না হয়, তাহলে আবারও বড় বিপদ হতে পারে।” একই এলাকার গৃহবধূ নাছিমা খাতুন বলেন, “আকাশ একটু খারাপ হলেই ভয় লাগে। ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে কোথায় যাব, কী করবÑএ নিয়েই চিন্তায় থাকি। আগে যদি খবর পাওয়া যেত, তাহলে প্রস্তুতি নিতে সুবিধা হতো।”

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছর বর্ষা ও কালবৈশাখী মৌসুমে নদীভাঙন, বেড়িবাঁধ ধস ও জলোচ্ছ্বাসের আতঙ্কে থাকতে হয় তাদের। বিশেষ করে বেতনা, খোলপেটুয়া ও কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আশাশুনি ও শ্যামনগর অঞ্চলের প্রায় ৫০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ২৩ কিলোমিটার এলাকা চরম ঝুঁকিতে। তিনি বলেন, “জলোচ্ছ্বাস বা বড় ধরনের নিম্নচাপ হলে এসব বাঁধ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।”

 

বুধহাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক মাহাবুবুল হক ডাবলু বলেন, “নদীর পানি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি উত্তাল। উপকূলের মানুষ সব সময় আতঙ্কে থাকে। কিন্তু এখানে কোনো আধুনিক ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র না থাকায় আগাম বার্তা দ্রুত পৌঁছানো যায় না।” আশাশুনি উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এড. সহিদুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, “আইলার ভয়াবহতা আমরা নিজের চোখে দেখেছি। তখন অনেক মানুষ সময়মতো আশ্রয় নিতে পারেনি। এখনো সেই অভিজ্ঞতা মানুষকে তাড়া করে বেড়ায়।”

 

আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই উপকূলে একটি পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র স্থাপন অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে স্থানীয় আবহাওয়া অফিসগুলো মূলত বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা ও বাতাসের গতি রেকর্ড করে ঢাকায় পাঠায়। পরে কেন্দ্রীয় অফিস থেকে তথ্য বিশ্লেষণ করে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। এতে অনেক সময় বিলম্ব ঘটে।

 

পরিবেশবিদ আশাশুনি সরকারী কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রধান সজল কুমার বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক একটি আধুনিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।” উপকূলবাসীর দাবি, শুধু আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করলেই হবে না; দুর্যোগের আগাম তথ্য দ্রুত পৌঁছে দিতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সতর্কীকরণ ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে যেকোনো বড় দুর্যোগে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে আশাশুনিসহ পুরো উপকূল অঞ্চল।

 

 

 

 

পরিত্যাক্ত অ্যালুমিনিয়াম নিয়ে যাওয়ার পথে ফকিরহাটে ট্রাকসহ ডাকাতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
পরিত্যাক্ত অ্যালুমিনিয়াম নিয়ে যাওয়ার পথে ফকিরহাটে ট্রাকসহ ডাকাতি

ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বাগেরহাটের রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ক্রয় করা সাড়ে ১৩ লাখ টাকার পরিত্যাক্ত অ্যালুমিনিয়াম ট্রাকযোগে চটগ্র্রাম নিয়ে যাওয়ার পথে ফকিরহাট উপজেলার সুকদাড়া এলাকায় ডাকাতির ঘটনাটি ঘটে। শুক্রবার (৮ মে) ভোররাতে পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূলঘর একটি পরিত্যাক্ত ইটভাটা থেকে ট্রাকসহ মালামাল উদ্ধার করে। এসময় পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার পাগলা উত্তরপাড়া এলাকার মো: জয়নাল আবেদিন (৩৮) এবং নলধা গ্রামের মো: জুয়েল শিকদার (৩২)।

পুলিশ জানান, রামপাল এলাকার মনিরুল ইসলাম, কামরুল শেখ ও শামিম হাসান তিন পার্টনার মিলে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে সাড়ে ১৩ লাখ টাকার পরিত্যাক্ত অ্যালুমিনিয়াম ক্রয় করেন।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় ক্রয় করা মালামাল বিআরটিসির একটি ভাড়ায় চালিত ট্রাকে তুলে চটগ্র্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এরপর রামপাল জিরো পয়েন্ট ও সোনাতোনিয়া বাসন্ট্যান্ডে স্থানীয় জনতা তাদের ট্রাকের গতিরোধ করেন। এসময় ট্রাকে থাকা মালামাল যাচাই-বাছাই করে দেখেন সেখানে তামা বা অবৈধ্য কোন মালামাল আছে কিনা। অবৈধ্য মালামাল না থাকায় ট্রাকটি ছেড়ে দেয়।

যাচাই-বাছাই শেষে এদিন রাত ১ টার দিকে ট্রাকটি পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে ফকিরহাট উপজেলার সুকদাড়া এলাকায় এসে পৌছালে সেখানে ১৫/১৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল ওই ট্রাকের গতিরোধ করে। এসময় ট্রাক চালক ও ট্রাকে থাকা লোকজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মালামালসহ ট্রাকটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে ফকিরহাট মডেল থানা পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাত সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলা মূলঘর একটি পরিত্যাক্ত ইটভাটা থেকে মালামালসহ ট্রাকটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। এসময় ঘটনার সাথে জড়িত দুইজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

এ ব্যাপারে রামপালের গৌরম্ভা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে মনিরুল ইসলাম বাদি হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরো অজ্ঞাতনামা ১৬ জনকে আসামী করে ফকিরহাট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ডাকাতির ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ট্রাক ও মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামীদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধিন। গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের বাগেরহাট বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলা হাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।