রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

আধুনিক সাতক্ষীরা গঠনে সমন্বিত উন্নয়নের অপরিহার্যতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১:৫২ অপরাহ্ণ
আধুনিক সাতক্ষীরা গঠনে সমন্বিত উন্নয়নের অপরিহার্যতা

মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম সম্ভাবনাময় জেলা সাতক্ষীরা। বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার হিসেবে এর আন্তর্জাতিক গুরুত্ব যেমন রয়েছে, তেমনি চিংড়ি শিল্প, কৃষি, মৎস্য, সীমান্ত বাণিজ্য ও পর্যটনের সম্ভাবনাও জেলার অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার মতো শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো-এই সম্ভাবনার বড় একটি অংশ এখনো পরিকল্পনার অভাব, দুর্বল নগর ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকির কারণে অপূর্ণ রয়ে গেছে।

দ্রুত নগরায়ণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন না হওয়ায় সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা, অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ভাঙাচোরা সড়ক, নিরাপদ পানির সংকট এবং পরিবেশ দূষণ দিন দিন প্রকট হচ্ছে। অন্যদিকে জেলার উপকূলীয় ও গ্রামীণ অঞ্চলে নদীভাঙন, লবণাক্ততা, দুর্বল বেড়িবাঁধ এবং জলাবদ্ধতা মানুষের জীবন ও জীবিকাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। ফলে নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই সময়ের দাবি হলো একটি দীর্ঘমেয়াদি, বিজ্ঞানভিত্তিক ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা।

সাতক্ষীরার সবচেয়ে বড় নাগরিক সমস্যা জলাবদ্ধতা। অল্প বৃষ্টিতেই শহরের বহু এলাকা পানিতে ডুবে যায়, যার প্রভাব পড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আধুনিক ড্রেন নির্মাণ, স্টর্ম ওয়াটার ড্রেন পৃথকীকরণ, খাল ও জলাশয় দখলমুক্ত করে নিয়মিত খনন, ড্রেন পরিষ্কার এবং প্রয়োজনীয় স্থানে পাম্পিং স্টেশন স্থাপন জরুরি। পাশাপাশি অবৈধ দখল উচ্ছেদে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ নিশ্চিত করতে হবে। নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা প্রতিরোধে শহর ও গ্রাম-দুই পর্যায়েই সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।

উপকূলীয় জেলা হিসেবে সাতক্ষীরার জন্য টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততার ঝুঁকি মোকাবিলায় দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো পুনর্র্নিমাণ এবং প্রয়োজনীয় স্থানে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ, নদীশাসন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং দুর্যোগ-পরবর্তী দ্রুত পুনর্বাসনের সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। উপকূলের বাস্তবতায় দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামোকে উন্নয়ন পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত শহর গঠনে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই। ঘরে ঘরে নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ, জৈব ও অজৈব বর্জ্য পৃথকীকরণ, আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ডফিল, কম্পোস্ট সার উৎপাদন এবং প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে হাসপাতাল ও বাজারের বর্জ্য পৃথকভাবে ব্যবস্থাপনা এবং পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপনের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন নগর সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা অপরিহার্য। শহরের প্রধান ও উপ-সড়ক টেকসইভাবে সংস্কার, প্রশস্ত ফুটপাত, নিরাপদ পথচারী পারাপার, সাইকেল লেন, আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল, পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট এবং সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা একটি নিরাপদ ও আধুনিক নগর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে সাতক্ষীরার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের দ্রুত ও নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। গ্রামীণ সড়ক, সেতু ও কালভার্টের উন্নয়নও সমান গুরুত্ব পেতে হবে, যাতে কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাতকরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ ত্বরান্বিত হয়।

সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে সাতক্ষীরার অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্যের বিষয়টিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর বাস্তবায়ন করা গেলে বৈধ বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পণ্য পরিবহন, কর্মসংস্থান ও রাজস্ব আয় বৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে এর পাশাপাশি সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে।
বিশুদ্ধ পানির সহজলভ্যতা এবং উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সাতক্ষীরার উপকূলীয় বাস্তবতায় লবণাক্ততা ও নিরাপদ পানির সংকট মোকাবিলায় আর্সেনিকমুক্ত ও নিরাপদ পানির সরবরাহ বাড়াতে হবে। আধুনিক স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যসম্মত পাবলিক টয়লেট নির্মাণ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

জেলার অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি মৎস্য ও চিংড়ি শিল্প। তাই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মৎস্যচাষ, রোগনিয়ন্ত্রণ, মানসম্মত পোনা উৎপাদন, ঠান্ডা সংরক্ষণাগার, হিমাগার ও মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে স্থানীয় উৎপাদকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সাতক্ষীরার মৎস্য ও চিংড়ি শিল্প আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পের প্রসার ঘটিয়ে স্থানীয় অর্থনীতিতে মূল্য সংযোজন বাড়াতে হবে।

উপকূলীয় জেলা হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সাতক্ষীরাকে পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের পথেই এগোতে হবে। সড়কের পাশে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ, নতুন পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান সৃষ্টি, নদী-খাল ও জলাশয় সংরক্ষণ, প্লাস্টিক ব্যবহার হ্রাস এবং সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজন। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বা ‘সবুজ’ উদ্যোক্তা তৈরির জন্য প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তোলা যেতে পারে, যেখানে তরুণদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব কৃষি ও সবুজ ব্যবসা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
সাতক্ষীরা শহরের প্রাণ সায়ের খালও পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। খালটি দখল ও দূষণমুক্ত করে নিয়মিত খনন, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দুই পাড়ে হাঁটার পথ, সবুজায়ন, বসার স্থান ও সৌন্দর্যবর্ধনমূলক অবকাঠামো গড়ে তুললে এটি একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নগরবাসীর বিনোদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক সেবাও আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার অপরিহার্য অংশ। অনলাইনে হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক অভিযোগ ব্যবস্থাপনা, ই-গভর্ন্যান্স এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পৌরসেবা চালু হলে সেবার মান যেমন বাড়বে, তেমনি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও নিশ্চিত হবে।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। সাতক্ষীরায় আধুনিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি ক্যান্সার নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য একটি আধুনিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এতে জেলার মানুষকে গুরুতর রোগের চিকিৎসার জন্য বারবার রাজধানী বা অন্য বড় শহরের ওপর নির্ভর করতে হবে না।
উচ্চশিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ক্ষেত্রেও সাতক্ষীরাকে নতুনভাবে ভাবতে হবে। প্রযুক্তিনির্ভর একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা গেলে জেলার তরুণদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়বে এবং তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি, মৎস্য, জলবায়ু ও উপকূলীয় উন্নয়নসহ স্থানীয় প্রয়োজনভিত্তিক গবেষণার ক্ষেত্র তৈরি হবে। সরকারি বিদ্যালয়ে বিজ্ঞানাগার ও আইসিটি সুবিধা বৃদ্ধি এবং যুবকদের জন্য কারিগরি ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা স্থানীয় উন্নয়নকে আরও গতিশীল করবে।

তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামোও প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক মানের একটি স্টেডিয়াম ও ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার উপযোগী বিভিন্ন ক্রীড়া সুবিধা গড়ে তুলতে হবে। শিশু ও তরুণদের সাঁতার শেখার সুযোগ তৈরি করতে একটি আধুনিক সুইমিং পুল নির্মাণও সময়োপযোগী উদ্যোগ হতে পারে। এসব অবকাঠামো শুধু ক্রীড়া উন্নয়ন নয়, তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতেও ভূমিকা রাখবে।

সাতক্ষীরার পর্যটন সম্ভাবনাও যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। সুন্দরবন, নদীকেন্দ্রিক প্রকৃতি, ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং স্থানীয় সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে টেকসই ইকোট্যুরিজম গড়ে তুলতে হবে। পরিবেশবান্ধব পর্যটন অবকাঠামো, মানসম্মত আবাসন, প্রশিক্ষিত স্থানীয় গাইড, পর্যটন তথ্যকেন্দ্র এবং নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানও বাড়বে। পর্যটন উন্নয়নে অবশ্যই সুন্দরবন ও স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নও জেলার সামগ্রিক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। প্রত্যন্ত অঞ্চলের সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ, পানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাজার অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে হবে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে শহরের সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করা গেলে কৃষি, মৎস্য ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য সহজে বাজারজাত করা সম্ভব হবে।

উন্নয়ন পরিকল্পনার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও নিরাপত্তার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সাতক্ষীরায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক সহাবস্থান শক্তিশালী করার জন্য রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং তরুণ সমাজকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি তরুণদের জন্য শিক্ষা, ক্রীড়া ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, উন্নয়ন কেবল সরকারের একার দায়িত্ব নয়। ওয়ার্ডভিত্তিক নাগরিক কমিটি, নিয়মিত উন্মুক্ত নাগরিক সভা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রম এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। জনসম্পৃক্ততা ছাড়া কোনো উন্নয়নই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।

সাতক্ষীরাকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও টেকসই জেলায় রূপান্তর করতে হলে খণ্ডিত উদ্যোগ নয়, প্রয়োজন একটি সমন্বিত ও বাস্তবভিত্তিক উন্নয়ন কৌশল। কার্যকর ড্রেনেজ, টেকসই বেড়িবাঁধ, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ সড়ক ও রেল যোগাযোগ, আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর, বিশুদ্ধ পানি, আধুনিক মৎস্য অবকাঠামো, পরিবেশ সংরক্ষণ, ডিজিটাল সেবা, মানসম্মত স্বাস্থ্য ও শিক্ষা, ক্রীড়া অবকাঠামো, কর্মসংস্থান, পর্যটন উন্নয়ন এবং জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো— এসবকে একই উন্নয়ন কাঠামোর আওতায় বাস্তবায়ন করতে হবে।

দূরদর্শী পরিকল্পনা, সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে সাতক্ষীরা শুধু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নয়, বরং বাংলাদেশের অন্যতম আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে সক্ষম হবে। এখন প্রয়োজন সেই রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সম্মিলিত উদ্যোগ, যা সম্ভাবনাময় সাতক্ষীরাকে সত্যিকার অর্থেই উন্নয়নের নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে।

মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল, সাংবাদিক, উন্নয়ন ও মানবাধিকারকর্মী।

Ads small one

কপিলমুনিতে শ্রেণিকক্ষে ফ্যান খুলে পড়ে এক ছাত্রী গুরুতর আহত 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
কপিলমুনিতে শ্রেণিকক্ষে ফ্যান খুলে পড়ে এক ছাত্রী গুরুতর আহত 
কপিলমুনি (খুলনা)‌ প্রতিনিধি: রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ৪৭ নম্বর হাউলী প্রতাপকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
আহত আফিয়া ইভনাত আলভী প্রতাপকাটি গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস খানের মেয়ে। সে ওই বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী।
বিদ্যালয় ও আহত ছাত্রীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল থেকে বিদ্যালয়ে যথারীতি পাঠদান চলছিল। এ সময় শ্রেণিকক্ষে ফ্যানটি চালু ছিল। হঠাৎ ফ্যানটির নাট খুলে সেটি নিচে পড়ে যায়। প্রথমে ফ্যানটি শ্রেণিকক্ষের একটি টেবিলের ওপর পড়ে। পরে সেখান থেকে ছিটকে ফ্যানের হাতল আফিয়ার নাক ও মুখের ওপর আঘাত করে।
এতে তার নাক ও মুখ কেটে গিয়ে রক্তপাত শুরু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয়রা দ্রুত তাকে কপিলমুনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা প্রাথমিক চিকিৎসা ও সেলাই দেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পিনাকী সাধু বলেন, নতুন ভবনের শ্রেণিকক্ষে ফ্যানটি লাগানো হয়েছিল। ফ্যানের নাট খুলে যাওয়ার কারণে সেটি প্রথমে টেবিলের ওপর পড়ে। পরে সেখান থেকে ছিটকে ফ্যানের হাতল ওই ছাত্রীর নাকে লাগে। এতে সে আহত হয়েছে। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা মোটামুটি ভালো রয়েছে।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের বৈদ্যুতিক ফ্যানসহ অন্যান্য সরঞ্জামের নিরাপত্তা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ব্যবহৃত ফ্যান, বৈদ্যুতিক সংযোগ ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়মিত পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

খুলনায় সমন্বিত ইপিআই, এইচপিভি, ওপেন এসআরপি এবং স্বাস্থ্য কর্মসূচি পর্যালোচনা কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১১ অপরাহ্ণ
খুলনায় সমন্বিত ইপিআই, এইচপিভি, ওপেন এসআরপি এবং স্বাস্থ্য কর্মসূচি পর্যালোচনা কর্মশালা

খুলনা বিভাগের সমন্বিত ইপিআই, এইচপিভি, ওপেন এসআরপি এবং স্বাস্থ্য কর্মসূচি পর্যালোচনা  (Workshop on Integrated EPI, HPV, Open SRP and Health Program Review in Khulna Division)  শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা আজ (রবিবার) খুলনা হোটেল সিটি ইনে অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।

প্রধান অতিথি বলেন, জরায়ুমুখ ক্যান্সার রোধে কিশোরীদের এইচপিভি টিকা দেওয়া হচ্ছে। জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে নিয়মিত ইপিআই কার্যক্রমের আওতায় এইচপিভি টিকার শতভাগ কাভারেজ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সারাদেশে ১০ বছর বয়সী সকল কিশোরীকে এইচপিভি টিকার আওতায় আনতে হবে।

 

দেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় মাইলফলক এইচপিভি টিকা। এই টিকা দিলে কিশোরীরা জরায়ুমুখ ক্যান্সার থেকে মুক্ত থাকবে। তিনি আরও বলেন, এইচপিভি টিকার বিষয়ে মিডিয়ায় প্রচার-প্রচারণা বাড়াতে হবে। এছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সকল মসজিদের ইমামরা এবিষয়ে মুসল্লিদের অবগত করতে পারেন। স্বাস্থ্যসেবার সাথে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে তাহলে একটি সুস্থ জাতি উপহার দেওয়া সম্ভব।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক ডা. শেখ মো: মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সিফাত মেহনাজ ও ইউনিসেফের হেলথ ম্যানেজার ডা. রিয়াদ মাহমুদ। কর্মশালায় অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন খুলনা পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের পরিচালক মো: মোজাম্মেল হক, এমআইএস’র পরিচালক ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইউনিসেফ খুলনা চিফ মো: কাওসার হোসেন, ইপিআই’র সহকারী পরিচালক ডা. সাব্বির হায়দার ও খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. অপর্ণা বিশ্বাস। কর্মশালায় বিভাগ, জেলা ও উপজেলার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ১০ জেলার সিভিল সার্জন, চিকিৎসক, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা,  ইপিআই সুপার, ১০ জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, ইউনিসেফ, বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এনজিও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তথ্যবিবরণী

কলারোয়া থানার নবাগত ওসির সাথে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
কলারোয়া থানার নবাগত ওসির সাথে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়া থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান রিমু প্রেসক্লাবের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সাথে এক সৌজন্য মতবিনিময় করেছেন। শনিবার সন্ধ্যায় ওসির আহবানে কলারোয়া প্রেসক্লাবের সাংবাদিকগণ ওসির কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।

 

সৌজন্য মতবিনিময়কালে থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান রিমু কলারোয়ার সকল ভালো কাজে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন। সেই সাথে কলারোয়ার মাদক, ইভটিজিংসহ সন্ত্রাসী কর্মকা- ও বিশৃঙ্খলা রোধে থানা পুলিশের কঠোর অবস্থান থাকবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

তিনি শহরের যানজট নিরসনে ভূমিকা নেওয়ার কথাও বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন কলারোয়া প্রেসক্লাবের আহবায়ক তাওফিকুর রহমান সঞ্জু, যুগ্ম আহবায়ক এম এ সাজেদ, সাংবাদিক শেখ জুলফিকারুজ্জামান জিল্লু, আব্দুর রহমান, প্রধান শিক্ষক রাশেদুল হাসান কামরুল, সহকারী অধ্যাপক কে এম আনিছুর রহমান, প্রভাষক আরিফ মাহমুদ, সাইফুল্লাহ আজাদ, আতাউর রহমান, কাজী সিরাজুর রহমান, প্রভাষক সাইফুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম মনি, সুজাউল হক, ওহিদুজ্জামান খোকা, দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।