শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

আমার বিশ্বাস ছিল, আমি মাসুদ রানা হবো: রাসেল রানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
আমার বিশ্বাস ছিল, আমি মাসুদ রানা হবো: রাসেল রানা

বাঙালি পাঠকের হৃদয়ে রোমাঞ্চের ঝড় তোলা সেবা প্রকাশনীর কালজয়ী স্পাই চরিত্র ‘মাসুদ রানা’ এবার আসছে রূপালী পর্দায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর নানামুখী অনিশ্চয়তা কাটিয়ে আগামী ঈদুল আজহায় দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত এই সিনেমাটি।

গতকাল (২৪ মে) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সিনেমাটির প্রথম অফিসিয়াল পোস্টার প্রকাশ ও আনুষ্ঠানিক প্রচারণার ঘোষণা দেওয়া হয়। জমকালো এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে নিজের দীর্ঘ জার্নি ও অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সিনেমার মূল চরিত্র ‘মাসুদ রানা’ অর্থাৎ অভিনেতা রাসেল রানা।

সংবাদ সম্মেলনে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রাসেল রানা বলেন, “আপনারা সবাই জানেন যে মাসুদ রানা সবাই লুকিয়ে লুকিয়ে পড়তো এবং মুরুব্বিদের সাথে এখানে কিছু ঝামেলা ছিল। তো, আমার বাবাও আমাকে পড়তে দিত না। আমার বাবা মাসুদ রানার অনেক বড় ফ্যান ছিল। উনি মাসুদ রানার বই পড়তেন এবং আমাদের বাসায়ও মাসুদ রানার বই ছিল। আমি দেখতাম ওই বইগুলো, বাট আমি ওইভাবে পড়তাম না কারণ আমি ফ্যান ছিলাম হচ্ছে ঐ কিশোর উপন্যাস বা টিন উপন্যাসের।”

 

জেমস বন্ডের প্রতি নিজের ভালোলাগার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “জেমস বন্ডের আমি অনেক বড় ফ্যান ছিলাম এবং জেমস বন্ডের মুভিগুলো দেখেই আমি বড় হয়েছি—পিয়ার্স ব্রসনান থেকে শুরু করে ড্যানিয়েল ক্রেইগ পর্যন্ত। ওনাদের মুভিগুলো দেখার পর আমি যখন জানতে পারলাম যে আমাদের বাংলাদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স, বিসিআই-এর একজন এজেন্ট হচ্ছে এই মাসুদ রানা ক্যারেক্টার এবং সে হচ্ছে বাংলাদেশের বলতে গেলে জেমস বন্ড, তো তখন আমার আগ্রহটা তিন থেকে চার গুণ বেড়ে যায় যে না, আমার মাসুদ রানার সবগুলো বই পড়তে হবে।”

‘কে হবে মাসুদ রানা’ রিয়েলিটি শো-র মাধ্যমে এই পথচলার শুরুটা মনে করিয়ে দিয়ে রাসেল রানা বলেন, “আমি বেশ কিছু বই পড়ি। পড়ার পর বেশ কয়েক বছর কেটে যায়। হঠাৎ একদিন দেখলাম ‘কে হবে মাসুদ রানা?’। এটা দেখার পর আমি টোটালি অ্যামেজড—ও মাই গড! মানে, আমি মাসুদ রানার এত বড় ফ্যান, আর এই রিয়েলিটি শোটা হচ্ছে মাসুদ রানাকে খোঁজার জন্য! সো, আই থিংক দিস ইজ দ্য টাইম।”

 

সব প্রতিকূলতা জয় করার গল্প শুনিয়ে তিনি বলেন, “সবকিছু শেষ করে, প্রতিকূলতা পার করে, ফাইনালি আমি সিলেক্ট হই। তো, আমার বিশ্বাস ছিল যে আমি মাসুদ রানা হব। এরপর বেশ কয়েক বছর কেটে যায়, আমরা মুভিটা শুরু করি এবং ফাইনালি আমরা মাসুদ রানা কমপ্লিট করতে পারি।”

নিজের ভেতরের আত্মবিশ্বাস আর স্বপ্নের মঞ্চে দাঁড়ানোর অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি সবসময় আয়নার সামনে দাঁড়াই এবং নিজেকে বলি যে তোমাকে করতে হবে, তুমি পারবে। এই জিনিসটা আমি সবসময় নিজেকে বলি। তো, আজকেও আমি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে এই কথাটাই বলেছি যে এই মঞ্চে, এই পোডিয়ামের সামনে দাঁড়াতে পারাটা অনেক দিনের একটা স্বপ্ন ছিল। আজকে আমি এখানে দাঁড়াতে পারছি, এজন্য আসলে আমি অনেক ইমোশনালি ওভারহোয়েল্মড এবং ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না যে কী বলবো। যা মুখে আসছে, যতটুকু কথা বলতে পারছি, আমি বলছি। আর যেহেতু এটা আমার ফার্স্ট মুভি, সো আমার মনে হয় যে কথাগুলো গুছিয়ে বলতে পারছি না।”

 

পোস্টারের সামনে দাঁড়িয়ে দর্শকদের উদ্দেশ্যে রাসেল রানা বলেন, “আপনারা দেখতে পাচ্ছেন যে আমার যেটা স্বপ্ন ছিল, এই পোস্টারের মাধ্যমে আমার স্বপ্নটা আমার সামনে দেখতে পাচ্ছি। এবং ইনশাল্লাহ আগামী ঈদে এই মুভিটা রিলিজ হতে যাচ্ছে। আশা করি মুভিটা আপনাদের সবার ভালো লাগবে।”

প্রসঙ্গত, ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও জাজ মাল্টিমিডিয়ার যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন সৈকত নাসির। সিনেমাটিতে নামভূমিকায় রাসেল রানা ছাড়াও ‘সোহানা’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন পূজা চেরি এবং ‘অবনিতা’ চরিত্রে দেখা যাবে সৈয়দা তিথি অমনিকে।

উল্লেখ্য, সিনেমাটির প্রথম অফিশিয়াল পোস্টারটি তৈরি করা হয়েছে সেবা প্রকাশনীর সেই চেনা ক্লাসিক বইয়ের প্রচ্ছদের আদলে, যা পাঠকদের মাঝে নতুন করে নস্টালজিয়া তৈরি করেছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ছবিটি আগামী ঈদুল আজহায় দেশের বড় বড় প্রেক্ষাগৃহ ও মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে একযোগে মুক্তি পাবে।

Ads small one

তালায় জেলে ও কৃষকদের মুখোমুখি ড. হোসেন জিল্লুর রহমান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
তালায় জেলে ও কৃষকদের মুখোমুখি ড. হোসেন জিল্লুর রহমান

তালা প্রতিনিধি: জলদস্যুদের হুমকি ও হামলা, খাসজমি বন্দোবস্ত, পানি সংকট এবং নদী-খালের নাব্যতাসহ নানা সমস্যার কথা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের কাছে তুলে ধরেছেন সাতক্ষীরার তালার জেলে, কৃষক, ভূমিহীন, আমচাষি ও মৎস্যচাষিরা।

৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেলে উপজেলার গোনালী নলতা, হরিচন্দ্রকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মিলনায়তনে আলাদা মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ‘পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার’ (পিপিআরসি)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ও ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান প্রান্তিক মানুষের জীবন-জীবিকার কথা শুনতেই এই আয়োজনে অংশ নেন। মতবিনিময়কালে জেলে ও মৎস্যজীবীরা নদী-জলাশয়ে মাছ ধরতে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতা এবং জলদস্যুদের অত্যাচার-হুমকির কথা তুলে ধরেন। কৃষক ও আমচাষিরা সেচ সংকটসহ কৃষিকাজের নানান প্রতিবন্ধকতা জানান। পাশাপাশি ভূমিহীন পরিবারগুলো খাসজমি বন্দোবস্ত পাওয়ার জটিলতা তুলে ধরে।

মতবিনিময় সভায় ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো জবাবদিহিতা। এটি কার্যকর করতে হলে মাঠপর্যায়ের মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা শুনে তথ্যনির্ভর সুপারিশ তৈরি করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে জেলে, ভূমিহীন, কৃষক, মৎস্যচাষি ও আমচাষিদের দুঃখ-কষ্টের কথা সরাসরি শুনলাম। এখানকার বড় সমস্যার একটি হলো জলদস্যুদের আক্রমণ ও হুমকি। খাসজমি বন্দোবস্ত নিয়েও জটিলতা রয়েছে। সরাসরি না এলে স্থানীয় মানুষের এই বাস্তব সমস্যাগুলো এত কাছ থেকে বোঝা সম্ভব হতো না।’

খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রণব ঘোষ বাবলুর পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ এম হাশেমী, পিপিআরসির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী নমিরা শামীম, জেন্ডার বিশেষজ্ঞ মাহবুবা হক ও যোগাযোগ ব্যবস্থাপক জয়ন্ত কুমার পাল উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া তালা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়, নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম হায়দার, সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তালা প্রেসক্লাবে অভ্যর্থনা: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান সাতক্ষীরার তালায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় ও প্রেসক্লাব পরিদর্শন করেছেন।

৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেলে উপজেলার বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি তালা প্রেসক্লাবে যান। সেখানে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

শুভেচ্ছা জানান তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম হায়দার, সাধারণ সম্পাদক জোয়ার্দার ফারুক হোসেন, সহসভাপতি আসাদুজ্জামান রাজু, অর্থ সম্পাদক মোতাহিরুল শাহীন, প্রচার সম্পাদক সেকেন্দার আবু জাফর বাবু, নির্বাহী সদস্য প্রণব ঘোষ বাবলু, জয়দেব চক্রবর্তী, ইমরান হোসেন, এস এম নাহিদ হাসান, তাপস সরকার, কামাল হোসেন, সেলিম হোসেন, রফিকুল ইসলাম, খলিলুর রহমান, সুমন রায় গণেশ ও সাংবাদিক মীর মিল্টন।

 

এ সময় ড. হোসেন জিল্লুর রহমান তালা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে স্থানীয় নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।

দৈনিক দৃষ্টিপাত পত্রিকার সম্পাদক জি এম নুরইসলামের স্মরণসভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৪ অপরাহ্ণ
দৈনিক দৃষ্টিপাত পত্রিকার সম্পাদক জি এম নুরইসলামের স্মরণসভা

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার সংবাদপত্র জগতের প্রবীণ ব্যক্তিত্ব এবং জনপ্রিয় পত্রিকা দৈনিক দৃষ্টিপাত-এর সম্পাদক ও প্রকাশক জি এম নুরইসলামের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দেবহাটা প্রেসক্লাবের আয়োজনে শুক্রবার বিকেল চারটায় পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন দেবহাটা পাবলিক লাইব্রেরি হলরুমে এই স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
স্মরণসভায় দেবহাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর খায়রুল আলমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ বোস্তামী উজ্জ্বলের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন দৈনিক দৃষ্টিপাত-এর নির্বাহী সম্পাদক আবু তালেব মোল্ল্যা।

 

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অব. বারী, দেবহাটা উপজেলা জামায়াতের সম্পাদক মাওলানা এমদাদুল হক, পারুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম সানা, সাধারণ সম্পাদক হাসান সরাফী, অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আইনজীবী জাহাঙ্গীর কবির বাবু, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি চন্দ্রকান্ত মল্লিক, অধ্যাপক রাজু আহমেদ, অধ্যাপক আবদুল্লাহ সিদ্দিকী, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি চিকিৎসা কর্মকর্তা অহিদুজ্জামান, ফেয়ার মিশনের পরিচালক কাদের মহিউদ্দিন ও সাংবাদিক উত্তম কুমার।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লিটন ঘোষ বাপ্পী, কোষাধ্যক্ষ এস কে অভি, সহসভাপতি সুমন পারভেজ, সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেন, উপজেলা তাঁতী দলের আহ্বায়ক হিরন কুমার মন্ডল, সদস্যসচিব আবীর হোসেন লিয়ন, বিএনপি নেতা গোলাম রসুল খোকনসহ অনেকে।

গত ২৭ আগস্ট দুপুর ১টার পর ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন প্রবীণ সাংবাদিক জি এম নুরইসলাম।

নব্বইয়ের দশকে খুলনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক জন্মভূমি পত্রিকার মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিকতার হাতেখড়ি হয়। পরে ২০০১ সালে তিনি দৈনিক দৃষ্টিপাত প্রকাশ করেন এবং দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশকের দায়িত্ব পালন করেন।

স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, জি এম নুরইসলাম একজন সৎ, আলাপচারী ও ভালো মনের মানুষ ছিলেন। তিনি কখনো প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে তাঁর পত্রিকায় কারও বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেননি। অনুষ্ঠান শেষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

সরকারি সম্পদ দখলদারের-নাকি জনগণের ?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫১ অপরাহ্ণ
সরকারি সম্পদ দখলদারের-নাকি জনগণের ?

মুক্তমত

এম. এম হায়দার আলী

সরকারি সম্পদ কার? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে কোনো অভিধান ঘাঁটতে হয় না। সরকারি জমি, পুকুর কিংবা স্থাপনা, সবই জনগণের। রাষ্ট্রের সম্পদ মানে জনগণের সম্পদ। অথচ সেই জনগণের সম্পদ যখন বছরের পর বছর কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা প্রভাবশালী মহলের দখলে পড়ে থাকে, তখন প্রশ্ন শুধু দখলদারের বিরুদ্ধে ওঠে না, প্রশ্ন ওঠে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিয়েও।

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনিতে সম্প্রতি যা ঘটছে, তা তাই নিছক একটি পুকুর বা কয়েক শতক জমি উদ্ধারের ঘটনা নয়। এর ভেতরে লুকিয়ে আছে দীর্ঘদিনের একটি বাস্তবতা এবং একটি কঠিন প্রশ্ন। যে সম্পদ এতদিন বেদখলে ছিল, তা উদ্ধারের জন্য এতদিন কী করা হয়েছিল? থানার পাশে জেলা পরিষদের প্রায় ৫৫ শতক পুকুর ও জমি দীর্ঘদিন দখলে থাকার পর এখন তা দখলমুক্ত করে জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের প্রশাসক, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের উপস্থিতিতে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের দৃশ্য সাধারণ মানুষের চোখে তাই আলাদা তাৎপর্য বহন করছে। কারণ, সরকারি সম্পদ বেদখল হওয়া নতুন কোনো গল্প নয়। গল্পটা বরং পুরোনো, দখল হয়, মানুষ দেখে, কর্তৃপক্ষ জানে, আলোচনা হয়; তারপর সময় চলে যায়।

 

অনেক সময় দখলদারিত্ব এতটাই পুরোনো হয়ে যায় যে মানুষ সেটিকে অস্বাভাবিক বলেই মনে করতে ভুলে যায়। সেখানেই বর্তমান উদ্যোগের গুরুত্ব। হাবিবুল ইসলাম হাবিবের এই কর্মতৎপরতাকে স্থানীয় সাধারণ মানুষের অনেকে ইতিবাচক ভাবে দেখছেন। তাদের মুখে প্রশংসা, আলোচনায় বাহবা। কারণ দীর্ঘদিন পর তারা দেখছেন, সরকারি সম্পদকে আবার সরকারি সম্পদ হিসেবে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। আর যেখানে জনগণ বাহবা দিচ্ছে, সেখানে দখলদারদের অস্বস্তি হওয়াটাই স্বাভাবিক।

 

স্থানীয় ভাবে আলোচনা রয়েছে, দখলমুক্তির উদ্যোগ শুরু হওয়ার পর দীর্ঘদিনের অবৈধ দখলকারীদের অনেকেই নড়েচড়ে বসতে শুরু করেছেন। এটি যদি সত্য হয়, তাহলে আরও বড় প্রশ্ন সামনে আসে, কারা এতদিন সরকারি সম্পদ দখলে রেখেছিল? কীভাবে রেখেছিল? কার ছত্রচ্ছায়ায় রেখেছিল? যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য প্রয়োজন সরকারি নথি, ভূমি রেকর্ড, দখলের ইতিহাস এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ববর্তী কার্যক্রম খতিয়ে দেখা। তাহলেই বেরিয়ে আসতে পারে আসল চিত্র। প্রশ্ন হলো,একটি সরকারি সম্পত্তি বছরের পর বছর বেদখলে থাকার পরও যদি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না হয়, তাহলে শুধু দখলদারকে দায়ী করলেই কি দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়? না। দখলদার যেমন প্রশ্নের মুখোমুখি হবে, তেমনি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে সেই ব্যবস্থাকেও, যে ব্যবস্থা জনগণের সম্পদ পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব পেয়েছিল। এ কারণেই হাবিবুল ইসলাম হাবিবের বর্তমান উদ্যোগকে শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের চোখে দেখলে ভুল হবে।

 

সরকারি সম্পদ উদ্ধার কোনো দলের সম্পদ নয়, কোনো নেতার ব্যক্তিগত কৃতিত্বের বিষয়ও নয়। এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে দীর্ঘদিনের নীরবতার মধ্যে কেউ যদি সেই নীরবতা ভেঙে উদ্যোগ নেন, তাহলে সেই উদ্যোগকে স্বাগত জানানোও নাগরিক সমাজের দায়িত্ব। তিনি ইতোমধ্যে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি অবকাঠামো, জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা দখলে থাকলে সেগুলো দখলমুক্ত করে সরকারের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সাতক্ষীরার সার্বিক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন।

এখন জনগণ দেখতে চায়, কথা কতটা কাজে রূপ নেয়। শ্যামনগর-আশাশুনির ৫৫ শতক দিয়ে কি অভিযান থেমে যাবে, নাকি সাতক্ষীরার অন্য প্রান্তে বেদখলে থাকা সরকারি সম্পত্তির দিকেও নজর যাবে? কারণ একটি ৫৫ শতকের পুকুর উদ্ধার যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো দখলমুক্তির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা। সরকারি সম্পদ উদ্ধারের পর সেটি আবার যেন কারও ব্যক্তিগত কবজায় চলে না যায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। সীমানা নির্ধারণ করতে হবে, রেকর্ড হালনাগাদ করতে হবে, প্রয়োজনীয় সাইনবোর্ড দিতে হবে, নিয়মিত নজরদারি করতে হবে। নইলে আজ উদ্ধার, কাল আবার দখল, এই পুরোনো নাটকই চলতে থাকবে।

 

সাতক্ষীরার মানুষ উন্নয়ন চায়। তারা সরকারি সম্পদের অপচয় চায় না। তারা চায় না, জনগণের সম্পদ কারও ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহৃত হোক। তারা চায় প্রশাসন জাগুক, জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব নিক, আর সরকারি সম্পদ ফিরে আসুক জনগণের কাজে। আজ তাই প্রশ্নটি আরও জোরে উচ্চারিত হওয়া দরকার, সরকারি জমি দখল করে রাখার সাহস দখলদারকে কে দেয়? বছরের পর বছর বেদখল থাকার পরও সংশ্লিষ্টরা নীরব থাকেন কেন? দখলমুক্তির উদ্যোগ নিলে যারা নড়েচড়ে বসে, তাদের ভয়টা কোথায়? আর সবচেয়ে বড় কথা, জনগণের সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব কি কেবল কোনো একজনের উদ্যোগের ওপর নির্ভর করবে, নাকি এটি হবে রাষ্ট্রের নিয়মিত দায়িত্ব?

সময় এসেছে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার।

হাবিবুল ইসলাম হাবিবের বর্তমান উদ্যোগ যদি সত্যিই ধারাবাহিক হয়, যদি সাতক্ষীরার প্রতিটি বেদখল সরকারি সম্পত্তির দিকে নজর পড়ে, যদি উদ্ধার হওয়া সম্পদ আবার দখলের হাত থেকে সুরক্ষিত থাকে, তাহলে এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিতে পারে। কারণ শেষ পর্যন্ত বিষয়টি হাবিবুল ইসলাম হাবিবের নয়, কোনো দলের নয়, কোনো ব্যক্তির নয়। এটি জনগণের সম্পদ।

আর জনগণের সম্পদ রক্ষার প্রশ্নে আপোসের কোনো জায়গা নেই। দখলদার যতই শক্তিশালী হোক, সরকারি সম্পদের ওপর তার অধিকার নেই। আর দায়িত্বশীলরা যতদিন নীরব থাকবেন, ততদিন দখলদারিত্বের শেকড় ততই গভীরে যাবে। তাই এখন সময় এসেছে নীরবতা ভাঙার। দখলমুক্ত হোক সরকারি সকল সম্পদ,ফিরে আসুক জনগণের অধিকার আমি অধমের এমনটি প্রত্যাশা। লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট