রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

আর্থিক অপরাধ প্রতিরোধ যোদ্ধা দিবস: প্রেক্ষাপট ও বাংলাদেশের বাস্তবতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১০ অপরাহ্ণ
আর্থিক অপরাধ প্রতিরোধ যোদ্ধা দিবস: প্রেক্ষাপট ও বাংলাদেশের বাস্তবতা

সাকিবুর রহমান বাবলা

২৬ অক্টোবর পালিত হয় জাতীয় আর্থিক অপরাধ প্রতিরোধ যোদ্ধা দিবস। আর্থিক অপরাধ, অর্থপাচার ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন প্রতিরোধে নিয়োজিত পেশাজীবীদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়াই এ দিবসের মূল উদ্দেশ্য। ব্যাংক কর্মকর্তা, আর্থিক গোয়েন্দা, কমপ্লায়েন্স বিশেষজ্ঞ, প্রযুক্তিবিদ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এসব অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

আর্থিক অপরাধ প্রতিরোধে ১৯৭০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংক গোপনীয়তা আইন (ব্যাংকিং সিক্রেসি অ্যাক্ট) প্রণয়ন করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর অবৈধ অর্থপ্রবাহ ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন বন্ধে উদ্যোগ জোরদার হয়। একই বছরের ২৬ অক্টোবর ইউএসএ প্যাট্রিয়ট অ্যাক্ট স্বাক্ষরিত হয়। এই তারিখকে কেন্দ্র করে দিবসটি পালিত হয়। আর্থিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান আব্রিগের উদ্যোগে দিবসটির সূচনা হয়।

আর্থিক অপরাধ প্রতিরোধে নিয়োজিত পেশাজীবীরা সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত, অবৈধ অর্থের উৎস অনুসন্ধান, কর ফাঁকি, সাইবার জালিয়াতি, পরিচয় চুরি এবং মাদক ও মানব পাচার থেকে অর্জিত অর্থের প্রবাহ চিহ্নিত করতে কাজ করেন। তাঁদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং পেশাজীবী সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের (ইউএনওডিসি) বহুল উদ্ধৃত হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৮০০ বিলিয়ন থেকে ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থপাচার হয়, যা বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ২ থেকে ৫ শতাংশ। দুর্বল আইন প্রয়োগ, দুর্নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা অর্থপাচারের ঝুঁকি বাড়ায়।

বাংলাদেশেও অর্থপাচার ও আর্থিক অপরাধ অর্থনীতি ও জনজীবনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আমদানি-রপ্তানিতে পণ্যের মূল্য কম বা বেশি দেখানো, হুন্ডি, ব্যাংকঋণ জালিয়াতি, ঘুষ-দুর্নীতি, কর ফাঁকি, পুঁজিবাজারে কারসাজি এবং প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের অর্থ আত্মসাতের মতো ঘটনা আর্থিক ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অবৈধ অর্থপ্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ সৃষ্টি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ব্যাহত এবং সরকারের রাজস্ব আয় কমিয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে বাড়ে সম্পদের বৈষম্য এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থার সংকট।

এসব অপরাধ প্রতিরোধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর কার্যকর প্রয়োগ এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। ই-কেওয়াইসি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত, আমদানি-রপ্তানির নথি যাচাই এবং উচ্চঝুঁকির গ্রাহকদের লেনদেনে বাড়তি নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, অপরাধ তদন্ত বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময়, নিয়মিত নিরীক্ষা এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ জোরদার করা প্রয়োজন।

জাতীয় আর্থিক অপরাধ প্রতিরোধ যোদ্ধা দিবসের মূল বার্তা হলো—আর্থিক অপরাধ প্রতিরোধ রাষ্ট্র, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার এবং আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ কাজে নিয়োজিত পেশাজীবীদের দক্ষতা ও কাজের স্বাধীনতা বাড়াতে হবে। এর মাধ্যমে দেশের সম্পদ সুরক্ষা, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন এবং আর্থিক ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

Ads small one

তৃণমূলের প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনতে ‘নতুন কুঁড়ি’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪২ অপরাহ্ণ
তৃণমূলের প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনতে ‘নতুন কুঁড়ি’

খুলনা প্রতিনিধি: তৃণমূলে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি জানান, আগামী ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭’-এর দ্বিতীয় আসর উদ্বোধন করবেন। এ আসরে অংশ নিতে ইতোমধ্যে প্রায় ১৬ লাখ ২৩ হাজার অনলাইন নিবন্ধন হয়েছে। প্রথম আসরে নিবন্ধনের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার। নিবন্ধিত খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে দল গঠন করা হবে। এতে প্রায় ১৪ লাখ ক্রীড়াবিদ অংশ নেবেন। আগামী বছরের মে বা জুনে প্রতিযোগিতার ফাইনাল রাউন্ড শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথম আসরে বিজয়ী অনেক খেলোয়াড় বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। তাঁদের প্রশিক্ষণ ও পড়াশোনার দায়িত্ব সরকার বহন করবে। খেলাধুলার প্রসারের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখা এবং সুস্থ সমাজ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

খুলনা জেলা স্টেডিয়ামকে পূর্ণাঙ্গ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, আগামী জানুয়ারি থেকে নির্ধারিত ক্রীড়া সূচি অনুযায়ী খুলনা জেলা স্টেডিয়াম, বিভাগীয় স্টেডিয়াম ও বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে সারা বছর খেলাধুলা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পরিদর্শনকালে জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মোল্লা খায়রুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়াম, বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। পরে বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

কপিলমুনিতে ইয়াবাসহ কিশোর আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
কপিলমুনিতে ইয়াবাসহ কিশোর আটক

কপিলমুনি (পাইকগাছা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছার কপিলমুনিতে ৯ পিস ইয়াবাসহ লিটন মীর (১৬) নামে এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. হাসানুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ নাছিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। লিটন মীর রেজাকপুর গ্রামের হাসান মীরের ছেলে। পরে তাকে পাইকগাছা থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

বল্লী ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিদারুল আলমের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ণ
বল্লী ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিদারুল আলমের

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১২ নম্বর বল্লী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক সেনাসদস্য ও ব্যবসায়ী মো. দিদারুল আলম দিদার। তিনি ইউনিয়নের শীবনগর গ্রামের বাসিন্দা।

দিদারুল আলম জানান, নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করতে চান। পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন তিনি।

দিদারুল আলমের পিতা আলহাজ রেজাউল করিম সরদার। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি জ্যেষ্ঠ। তিনি কলারোয়া সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর মৎস্য চাষ এবং গবাদিপশু ও মাছের খাদ্যের ব্যবসায় যুক্ত হন। তাঁর সরদার এন্টারপ্রাইজের শাখা রয়েছে লাবসা পলিটেকনিক মোড় ও ঝাউডাঙ্গা বাজারে। এ ছাড়া বিনেরপোতায় তাঁর একটি মৎস্য আড়ৎ রয়েছে।

দিদারুল আলমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি এলাকার বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন। তাঁর নিজস্ব অর্থায়নে ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, ঈদগাহ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সহযোগিতা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে বল্লী ইউনিয়নের ১২টি ওয়ার্ডে গণসংযোগ করছেন দিদারুল আলম। এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন এবং নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরছেন।

তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের অংশগ্রহণে ইউনিয়নের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেবেন।