মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ইনক্লুসিভ এআই: প্রযুক্তি যখন হয়ে উঠবে প্রকৃত অর্থে সবার জন্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ
ইনক্লুসিভ এআই: প্রযুক্তি যখন হয়ে উঠবে প্রকৃত অর্থে সবার জন্য

মো. মামুন হাসান

একজন ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে আমি ক্লাসরুমে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশি শুনি, তা হলো, প্রযুক্তি কি আমাদের মতো ছোট শহরের শিক্ষার্থী বা প্রান্তিক এলাকার উদ্যোক্তার জন্যও সমান সুযোগ তৈরি করবে, নাকি এটি আরও একটি বিভাজনের দেয়াল হয়ে দাঁড়াবে। বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য “ডিজিটাল এজেন্ডা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পর্যটন পুনর্গঠন”-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপ-প্রতিপাদ্য হলো “ইনক্লুসিভ এআই”, অর্থাৎ এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যা সবার জন্য, সব জায়গার জন্য সমানভাবে কাজ করে। সাতক্ষীরার মতো একটি জেলা, যেখানে সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার হয়েও পর্যটন খাত এখনও অনেকটাই অবহেলিত, সেখান থেকে দেখলে এই ধারণাটির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

আমাদের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে যে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে, তাদের অনেকেই আসে সুন্দরবন সংলগ্ন গ্রাম বা মৎস্যজীবী পরিবার থেকে। তাদের কাছে ইনক্লুসিভ এআই শুধু একটি প্রযুক্তিগত ধারণা নয়, এটি জীবিকার প্রশ্ন। ধরা যাক, একজন শিক্ষার্থী স্নাতক শেষে সুন্দরবন এলাকায় নিজের একটি ছোট ইকো-টুরিজম উদ্যোগ শুরু করতে চায়। বড় বুকিং প্ল্যাটফর্মে তার প্রতিযোগিতা হবে কক্সবাজার বা কুয়াকাটার প্রতিষ্ঠিত রিসোর্টের সঙ্গে, যাদের হাজার হাজার রিভিউ, প্রফেশনাল ফটোগ্রাফি আর নিয়মিত ডিজিটাল মার্কেটিং টিম আছে। এখানেই ইনক্লুসিভ এআই-এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, এমন একটি প্রযুক্তি যা কেবল অতীতের জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে সুপারিশ না করে, বরং মান, স্থায়িত্ব আর স্থানীয় সত্যতার (authenticity) ভিত্তিতেও নতুন উদ্যোক্তাদের সামনে নিয়ে আসে।

 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রকৃতপক্ষে অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়ে উঠতে পারে কয়েকটি নির্দিষ্ট উপায়ে। প্রথমত, ভাষা অনুবাদ প্রযুক্তি এখন এত উন্নত যে ইংরেজি না জানা একজন স্থানীয় গাইডও বিদেশি পর্যটকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন, যা আগে কেবল শহরের প্রশিক্ষিত গাইডদেরই সুবিধা ছিল। দ্বিতীয়ত, স্বল্প খরচের ছবি ও ভিডিও তৈরির এআই টুল একজন সাধারণ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীকেও প্রফেশনাল মানের প্রচার সামগ্রী তৈরির সুযোগ দিচ্ছে, ফলে বড় প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং বাজেটের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা আগের চেয়ে অনেক সহজ। তৃতীয়ত, এআই-চালিত মাইক্রো-ফাইন্যান্স ও ক্রেডিট স্কোরিং মডেল ব্যাংকিং ইতিহাস না থাকা প্রান্তিক উদ্যোক্তাদেরও ছোট ঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে, যা একটি নতুন হোমস্টে বা নৌকা-ভ্রমণ ব্যবসা শুরুর ক্ষেত্রে বড় সহায়ক হতে পারে।

 

তবে এই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নেবে কেবল তখনই, যখন নীতিনির্ধারক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করবে। কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি, পলিটেকনিক ও কারিগরি কলেজগুলোর ট্যুরিজম বিভাগে এখন থেকেই ডিজিটাল মার্কেটিং, এআই টুল ব্যবহার আর অনলাইন উদ্যোক্তা দক্ষতা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মতো প্রতিষ্ঠান থেকে যদি প্রতি বছর এমন কিছু শিক্ষার্থী বেরিয়ে আসে যারা প্রযুক্তি ও পর্যটন দুটোই বোঝে, তাহলে সুন্দরবন ঘিরে যে বিপুল সম্ভাবনা এখনও অব্যবহৃত রয়ে গেছে, তা ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নিতে পারে।

 

শেষ কথা হলো, ইনক্লুসিভ এআই কোনো স্বয়ংক্রিয় সমাধান নয়, এটি একটি লক্ষ্য, যার দিকে সচেতনভাবে এগিয়ে যেতে হবে। প্রযুক্তি নিজে থেকে বৈষম্য দূর করে না, তবে সঠিক নীতি, প্রশিক্ষণ আর স্থানীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করলে এটি সাতক্ষীরার মতো এলাকার তরুণ উদ্যোক্তা, স্থানীয় গাইড আর ছোট পরিবার-চালিত পর্যটন ব্যবসাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে সমান সুযোগে দাঁড় করিয়ে দিতে পারে। বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ আমাদের সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাওয়ার একটি আহ্বান।

 

লেখক: মো. মামুন হাসান, ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সাতক্ষীরা।

Ads small one

তালায় দুর্গোৎসবের আমেজ, নিরাপত্তায় সজাগ প্রশাসন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
তালায় দুর্গোৎসবের আমেজ, নিরাপত্তায় সজাগ প্রশাসন

তালা প্রতিনিধি: শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে তালা উপজেলাজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রতিমায় রংতুলির শেষ আঁচড়, ম-পে সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজক ও প্রতিমাশিল্পীরা। উপজেলায় এবার ১২টি ইউনিয়নে মোট ২০২টি পূজাম-পে দুর্গোৎসব উদ্যাপনের প্রস্তুতি চলছে।

উপজেলা পূজা উদ্যাপন ফ্রন্ট সূত্রে জানা গেছে, পাটকেলঘাটা থানার আওতাধীন পাঁচটি ইউনিয়নে ৮৭টি এবং তালা থানার আওতাধীন সাতটি ইউনিয়নে ১১৫টি পূজাম-প রয়েছে। উৎসব নির্বিঘœ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রতিটি ম-পে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পুলিশি টহল এবং আনসার ও গ্রাম পুলিশ মোতায়েনের ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমাশিল্পী বিশ্বজিৎ কুমার ম-ল ও পুরোহিত তপন হালদার জানান, ম-পগুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষের পথে। তালা থানার এসআই (ওসির চার্জ) মহাসীন আলী, পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তোফাজ্জেল হোসেন এবং তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা জানান, পূজা চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরোপুরি সতর্ক অবস্থানে থাকবে।

সাতক্ষীরায় ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একব্যক্তির মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একব্যক্তির মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নুরুজ্জামান গাজী (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের মৃত শামছুদ্দিন গাজীর (নূরী) ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর দেবনগর গ্রামের রফিকুল মোল্লার বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে ট্রান্সফর্মারের ঢাকনা খোলার পর ভিতরকার জিনিসপত্র মাথায় পড়ে ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারাত্মক জখম হন নুরুজ্জামান। পরে চোর চক্রটি একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসে। সোমবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। চুরির ওই ঘটনায় রফিকুল মোল্লা থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী জানান, ঘটনার রাতে নুরুজ্জামানসহ অন্যরা ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে হাইভোল্টেজ তারের সংস্পর্শে আসেন। পুলিশের ঝামেলার ভয়ে তাঁকে কোনো সরকারি হাসপাতালে না নিয়ে বাড়িতে রেখে গোপনে চিকিৎসার চেষ্টা করা হয়। পরে সোমবার সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যুর খবর জানাজানি হলে পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঝাউডাঙা অফিসের এজিএম মোছা. মারিয়া ছিদ্দিকা জুঁই জানান, উত্তর দেবনগরের রফিকুল মোল্লার ট্রান্সফর্মার চুরির ঘটনায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। নুরুজ্জামান ওই ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়েই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

 

সম্পাদকীয়/চাল ও ডিমের বাজার: নি¤œআয়ের মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/চাল ও ডিমের বাজার: নি¤œআয়ের মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই

নিত্যপণ্যের লাগাতার ঊর্ধ্বগতিতে দেশের সাধারণ ও নি¤œআয়ের মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই অসহনীয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে চাল, ডাল, তেল, সবজির পাশাপাশি ডিম ও মাংসের মতো আমিজাতীয় খাদ্যের দাম যেভাবে নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষের সংসার চালানো এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একদিকে কর্মসংস্থানের সংকোচন এবং আয়ের স্থবিরতা, অন্যদিকে লাগামহীন ব্যয়Ñএই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে অসংখ্য মানুষ ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছেন। সামান্য সঞ্চয়ের সুযোগ তো দূরের কথা, দৈনিক প্রয়োজন মেটাতেই এখন হিমশিম খাচ্ছে বেশিরভাগ পরিবার।
সাম্প্রতিক বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের ব্যবধানে চাল ও পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। মিনিকেট ও নাজিরশাইলের মতো সরু ও মাঝারি চালের দাম কেজিতে দুই থেকে চার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। একইভাবে প্রতি ডজন ডিমের দাম বেড়ে পৌঁছেছে দেড়শ টাকার ওপরে। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের মূল্য এবং ধানের চড়া দামের কথা বলা হলেও, পাইকারি ও খুচরা বাজারের এই ফারাক ও অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। উৎপাদন থেকে শুরু করে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত বিপণন প্রক্রিয়ায় তদারকি ও জবাবদিহির অভাব না থাকলে পণ্যের এই কৃত্রিম বা অযৌক্তিক দাম বৃদ্ধি রোধ করা সম্ভব নয়।

বাজার ব্যবস্থাপনার এই অস্থিরতা জনজীবনে গভীর সংকট তৈরি করেছে। শুধু অজুহাত দিয়ে পণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হলে বাজার মনিটরিং আরও কঠোর করতে হবে। সরবরাহ চেইনে কোনো সিন্ডিকেট বা অনিয়ম কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও বেশি বিপন্ন করে তুলবে, যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।