সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

ইরানে হামলা স্থগিত করলেন ট্রাম্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ
ইরানে হামলা স্থগিত করলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর অনুরোধে তিনি মঙ্গলবারের জন্য ইরানে নতুন সামরিক হামলা স্থগিত রেখেছেন, কারণ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে’।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতারা তাকে এ অনুরোধ করেছিলেন।

তিনি বলেন, তাকে জানানো হয়েছে যে এমন একটি চুক্তি হবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘খুবই গ্রহণযোগ্য’ হবে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না!’

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, গ্রহণযোগ্য কোনো চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র মুহূর্তের নোটিশে পূর্ণমাত্রার বৃহৎ হামলা চালাতে প্রস্তুত থাকবে।’

ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন, তারা যেন আবার কৌশলগত ভুল ও ভুল হিসাব’ না করে।

ট্রাম্পের এই নতুন ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন তার জনপ্রিয়তা কমছে এবং জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধটি দেশে ক্রমেই অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

সোমবার প্রকাশিত নিউ ইয়র্ক টাইমস/সিয়েনা জরিপ অনুযায়ী, ৬৪ শতাংশ ভোটার মনে করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল।

জরিপে আরও বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের কাজের অনুমোদন হার মাত্র ৩৭ শতাংশ। এই ফলাফল ইঙ্গিত করছে যে, যুদ্ধ, অর্থনীতি ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে জনগণের বাড়তে থাকা অসন্তোষের মধ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনী ইরানের ওপর ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে। এর জবাবে তেহরান উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে অবস্থিত ইসরায়েলি ও মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

এক্ষেত্রে একটি বড় উদ্বেগ হলো, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার পর ইরান কীভাবে প্রতিশোধ নিতে পারে—তা নিয়ে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর আশঙ্কা।

ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের কাছে এখনো বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা দিয়ে তারা প্রতিবেশী দেশগুলো, তাদের বিমানবন্দর, পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনা এবং এমনকি গ্রীষ্মের তীব্র তাপে পানীয় জলের প্রধান উৎস হিসেবে ব্যবহৃত লবণমুক্তকরণ কেন্দ্রগুলোতেও হামলা চালাতে পারে।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, এটি খুবই ইতিবাচক একটি অগ্রগতি, তবে দেখা যাক এর বাস্তব কোনো ফল হয় কি না।’

তিনি বলেন, আগেও এমন সময় এসেছে যখন আমরা ভেবেছিলাম চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি, কিন্তু তা সফল হয়নি। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন।’

ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতার খুব ভালো সম্ভাবনা’ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘তাদের ওপর ব্যাপক বোমাবর্ষণ না করেই যদি আমরা এটি করতে পারি, তাহলে আমি খুবই খুশি হব।’

এপ্রিল মাসে আলোচনার সুবিধার্থে যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তা মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্ন গোলাগুলি সত্ত্বেও মোটামুটি বহাল ছিল।

ইরান এখনো হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। ফলে কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ রয়েছে। বিশ্বে পরিবাহিত মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এ পথ দিয়ে যায়।

ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।

অন্যদিকে, তেহরানকে নিজেদের শর্ত মেনে নিতে চাপ দিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ কার্যকর করেছে।

সোমবার গভীর রাতে ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বক্তব্য বলে যে মন্তব্য প্রকাশ করে, তাতে সতর্ক করা হয় যে নতুন যুদ্ধক্ষেত্র খুলে দেওয়া হবে, যেখানে শত্রুর অভিজ্ঞতা খুব কম এবং তারা অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় থাকবে।

তাসনিমের প্রকাশিত মন্তব্যগুলো ১২ মার্চের বক্তব্য থেকে পুনঃপ্রচার করা হয়েছে বলে মনে হয়। ইরানের কিছু সংবাদমাধ্যম আগের লিখিত বার্তাগুলো পুনরায় প্রকাশ করছে।

এর আগে সোমবার ইরান জানায়, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে এবং পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

ইরানের গণমাধ্যম এর আগে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানকে কোনো সুস্পষ্ট ছাড় দেয়নি।

রোববার ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ‘ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। তাদের দ্রুত এগোতে হবে, নইলে তাদের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’

কয়েক দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, তেহরানের দাবিগুলোকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করার পর যুদ্ধবিরতি ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায়’ রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জোর দিয়ে বলেন, তাদের দাবিগুলো ছিল ‘দায়িত্বশীল’ এবং ‘উদার’।

ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, তেহরানের দাবির মধ্যে ছিল—সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা, যা লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান ইসরায়েলি হামলার প্রতি ইঙ্গিত করে; ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার; এবং ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা।

এ ছাড়া যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকার স্বীকারের দাবিও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানা গেছে।

ইরানের আধা-সরকারি ফারস সংবাদ সংস্থা রোববার জানায়, তেহরানের প্রস্তাবের জবাবে ওয়াশিংটন পাঁচটি শর্ত দিয়েছে।

এসব শর্তের মধ্যে ছিল—ইরান কেবল একটি পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখতে পারবে এবং তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখে, তবে তিনি তা মেনে নিতে পারেন। দুই দেশের মধ্যে এটি ছিল অন্যতম প্রধান বিরোধের বিষয়, এবং এ বক্তব্যে কর্মসূচির সম্পূর্ণ সমাপ্তির দাবি থেকে তার অবস্থানের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের ইউরোপীয় মিত্ররা দাবি করে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাধ্যমে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে তেহরান বারবার বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি।

Ads small one

বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে সাতক্ষীরা তালা কলারোয়া আশাশুনিতে জামায়াতের প্রস্তুতি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে সাতক্ষীরা তালা কলারোয়া আশাশুনিতে জামায়াতের প্রস্তুতি সভা

পত্রদূত রিপোর্ট: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আগামী ২০ জুন খুলনার সার্কিট হাউস ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উপজেলায় প্রস্তুতি সভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার এসব সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এসব সভার বক্তারা বলেন বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে এই বিভাগীয় সমাবেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সমাবেশ সফল করতে সব স্তরের নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সভায় উপজেলার কর্মপরিষদ সদস্যসহ সব ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশকে কেন্দ্র করে যাতায়াত ব্যবস্থা, লিফলেট বিতরণ ও সাংগঠনিক প্রচারণা জোরদার করার বিষয়ে চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।


সাতক্ষীরা সদর: উপজেলা জামায়াতের আমীর ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা সেক্রেটারি ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা নায়েবে আমীর শেখ নুরুল হুদা। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ এবং জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা শাহাদাত হোসাইন।
কলারোয়া: উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাঃ কামারুজ্জামান এতে সভাপতিত্ব করেন। উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মো. শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মো. ওসমান গনী ও জেলা ইউনিট সদস্য অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম। এছাড়া উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা মো. আব্দুল হামিদ, অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শাহজাহান কবীরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের আমীর, সেক্রেটারি ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রচার-প্রচারণা জোরদার ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
আশাশুনি: আশাশুনিতে লিফলেট বিতরণ করেছে জামায়াতে ইসলামী। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় আশাশুনি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় সদর ইউনিয়নের শ্রীকলস ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রচারণাকালে সড়কের যাত্রী, পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ এবং সমাবেশ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করা হয়।


লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন আশাশুনি সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ আব্দুল্লাহ, সহ-সম্পাদক এস এম শহিদুজ্জামান বাবলু, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম, ওয়ার্ড সম্পাদক হাফেজ আব্দুল করিম, শ্রমিক নেতা রুহুল আমিন এবং আবুল কাশেমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
‎তালা: ‎“খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ” সফল করার লক্ষ্যে তালায় লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামির উদ্যোগে তালা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, প্রতিষ্ঠান ও হাটবাজারে লিফলেট বিতরণ করা হয়। ‎লিফলেট বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান রেন্টু, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, তালা সদর ওয়ার্ড সেক্রেটারি অহিদুজ্জামান রিপনসহ দলীয় অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী। নেতৃবৃন্দ আগামী ২০ জুন শনিবার বেলা ২টায় খুলনার সার্কিট হাউস ময়দানের সমাবেশ সফল করার জন্য তালা উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

আশাশুনির কাঁকড়াবুনিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় হাসপাতালে ভর্তি ৫

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ণ
আশাশুনির কাঁকড়াবুনিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় হাসপাতালে ভর্তি ৫

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের কাঁকড়াবুনিয়া গ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত পাঁচজনকে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মৃত গফুর সানার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কাঁকড়াবুনিয়া গ্রামের জামাল সানা, শরিফুল ইসলাম, রেজাউল সরদার, বাবু গাজী ও হযরত আলী সানার সঙ্গে বাদীর পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। গত ১৪ জুন সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে বাদী জাহাঙ্গীর আলম বাড়ি যাওয়ার পথে জামাল সানার বাড়ির সামনে ওয়াপদা রাস্তার ওপর পৌঁছালে প্রতিপক্ষরা দেশীয় অস্ত্র, রড, পাইপ ও লাঠিসোটা নিয়ে তার পথরোধ করে।
এর প্রতিবাদ করলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। জাহাঙ্গীরকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার ছোট ভাই দ্বীন মোহাম্মদ সানা, ভাগ্নে জসিম ও সাহিদুল, এবং চাচাতো ভাগ্নে তরিকুল ইসলাম সানাকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ২২ হাজার ২০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া বাদীর স্ত্রী জ্যোৎস্না খাতুনকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা মূল্যের সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। হাসপাতালে যাওয়ার পথে আহতদের ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয় বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জানিয়েছে।

শ্যামনগরে বেড়িবাঁধ প্রকল্প: চাঁদা না পেয়ে বাধার অভিযোগ, তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত দাবি ইউপি চেয়ারম্যানের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে বেড়িবাঁধ প্রকল্প: চাঁদা না পেয়ে বাধার অভিযোগ, তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত দাবি ইউপি চেয়ারম্যানের

সংবাদদাতা: শ্যামনগরে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধ প্রকল্প নিয়ে চলা বিতর্কের অবসান ঘটেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জমি দখলের যে অভিযোগ তুলে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মো. নজরুল ইসলাম আন্দোলন করছিলেন, সরকারি তদন্তে তার কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান যে জমিটিকে নিজের লিজ নেওয়া সম্পত্তি বলে দাবি করেছিলেন, প্রকৃতপক্ষে সেটি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জায়গা।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, তদন্তের এই ফলাফলের পর প্রকল্প কর্তৃপক্ষের সেই পুরোনো অভিযোগটিই সামনে আসছেÑমোটা অঙ্কের চাঁদা না পেয়েই উন্নয়ন কাজে বারবার বাধা দেওয়া হচ্ছিল।
জানা যায়, জাইকার অর্থায়নে শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ও কাশিমারী ইউনিয়নে প্রায় আড়াই কিলোমিটার টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করছে ‘মেসার্স আর-রাদ করপোরেশন’। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে কাজে বাধা দিচ্ছেন। এ নিয়ে পাউবোর প্রকল্প পরিচালক জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগও করেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পানি সম্পদ মন্ত্রীর নির্দেশে গত ১ জুন শ্যামনগর উপজেলা পরিষদে একটি বিশেষ সভা হয়। সেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্য, পাউবো কর্মকর্তা, প্রশাসন এবং বিএনপি-জামায়াত ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় চেয়ারম্যান দাবি করেন, প্রকল্পের সিসি ব্লক তৈরির ইয়ার্ডটি তার লিজ নেওয়া জমিতে করা হয়েছে। এই দাবির সত্যতা যাচাইয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ওসিসহ সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
গত ৪ জুন সরেজমিন পরিদর্শন শেষে ৮ জুন কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে দেখা যায়, সিসি ব্লক তৈরির জায়গাটি মূলত বিআরএস ৭০০১ ও ৭০০২ দাগের অন্তর্ভুক্ত, যা যথাক্রমে সরকারি খাস জমি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম লিজের কোনো বৈধ বা হালনাগাদ দলিল দেখাতে পারেননি। নিয়ম অনুযায়ী, পাউবোর জমি কোনো ইউপি চেয়ারম্যানকে লিজ দেওয়ার এখতিয়ার উপজেলা খাস জমি বন্দোবস্ত কমিটির নেই। ওই জমিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বৈধভাবে কাজ করছে। তবে এই তদন্ত প্রতিবেদনে জামায়াতে ইসলামী ও চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি স্বাক্ষর করেননি।
শ্যামনগরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন বলেন, নির্ধারিত পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যেই তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। তদন্তে যা পাওয়া গেছে, তা-ই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তের সময় জামায়াত ও চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় তাদের স্বাক্ষর নেওয়া সম্ভব হয়নি।
পাউবো ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, মূলত চাঁদা না পেয়েই এই বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল। আর-রাদ করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সবুজ আলী খান জানান, গত ফেব্রুয়ারিতে তার কাছে ১২ লাখ টাকা কমিশন দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় শ্রমিক ও সাব-ঠিকাদারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় গত ২৫ মে শ্যামনগর থানায় চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও তার ছেলেসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ১৯ মে চেয়ারম্যান ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং ২৩ মে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে প্রকৌশলী জাহিদ হাসানকে মারধর করে স্মার্টওয়াচ ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেন। ঘটনার পর থেকে চেয়ারম্যান পলাতক রয়েছেন। তবে শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম। তার দাবি, তিনি বনায়ন রক্ষা ও পরিবেশগত কারণে আপত্তি তুলেছিলেন, কোনো চাঁদা চাননি।
পাউবো কর্মকর্তারা জানান, বর্ষার আগে এই বাঁধের কাজ শেষ না হলে খোলপেটুয়া, মালঞ্চ ও কালিন্দী নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়বে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীর অর্থায়নে চলা প্রকল্প এভাবে আটকে থাকায় সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণœ হচ্ছিল।