বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইরানে হামলা স্থগিত করলেন ট্রাম্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ
ইরানে হামলা স্থগিত করলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর অনুরোধে তিনি মঙ্গলবারের জন্য ইরানে নতুন সামরিক হামলা স্থগিত রেখেছেন, কারণ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে’।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতারা তাকে এ অনুরোধ করেছিলেন।

তিনি বলেন, তাকে জানানো হয়েছে যে এমন একটি চুক্তি হবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘খুবই গ্রহণযোগ্য’ হবে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না!’

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, গ্রহণযোগ্য কোনো চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র মুহূর্তের নোটিশে পূর্ণমাত্রার বৃহৎ হামলা চালাতে প্রস্তুত থাকবে।’

ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন, তারা যেন আবার কৌশলগত ভুল ও ভুল হিসাব’ না করে।

ট্রাম্পের এই নতুন ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন তার জনপ্রিয়তা কমছে এবং জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধটি দেশে ক্রমেই অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

সোমবার প্রকাশিত নিউ ইয়র্ক টাইমস/সিয়েনা জরিপ অনুযায়ী, ৬৪ শতাংশ ভোটার মনে করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল।

জরিপে আরও বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের কাজের অনুমোদন হার মাত্র ৩৭ শতাংশ। এই ফলাফল ইঙ্গিত করছে যে, যুদ্ধ, অর্থনীতি ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে জনগণের বাড়তে থাকা অসন্তোষের মধ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনী ইরানের ওপর ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে। এর জবাবে তেহরান উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে অবস্থিত ইসরায়েলি ও মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

এক্ষেত্রে একটি বড় উদ্বেগ হলো, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার পর ইরান কীভাবে প্রতিশোধ নিতে পারে—তা নিয়ে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর আশঙ্কা।

ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের কাছে এখনো বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা দিয়ে তারা প্রতিবেশী দেশগুলো, তাদের বিমানবন্দর, পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনা এবং এমনকি গ্রীষ্মের তীব্র তাপে পানীয় জলের প্রধান উৎস হিসেবে ব্যবহৃত লবণমুক্তকরণ কেন্দ্রগুলোতেও হামলা চালাতে পারে।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, এটি খুবই ইতিবাচক একটি অগ্রগতি, তবে দেখা যাক এর বাস্তব কোনো ফল হয় কি না।’

তিনি বলেন, আগেও এমন সময় এসেছে যখন আমরা ভেবেছিলাম চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি, কিন্তু তা সফল হয়নি। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন।’

ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতার খুব ভালো সম্ভাবনা’ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘তাদের ওপর ব্যাপক বোমাবর্ষণ না করেই যদি আমরা এটি করতে পারি, তাহলে আমি খুবই খুশি হব।’

এপ্রিল মাসে আলোচনার সুবিধার্থে যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তা মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্ন গোলাগুলি সত্ত্বেও মোটামুটি বহাল ছিল।

ইরান এখনো হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। ফলে কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ রয়েছে। বিশ্বে পরিবাহিত মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এ পথ দিয়ে যায়।

ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।

অন্যদিকে, তেহরানকে নিজেদের শর্ত মেনে নিতে চাপ দিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ কার্যকর করেছে।

সোমবার গভীর রাতে ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বক্তব্য বলে যে মন্তব্য প্রকাশ করে, তাতে সতর্ক করা হয় যে নতুন যুদ্ধক্ষেত্র খুলে দেওয়া হবে, যেখানে শত্রুর অভিজ্ঞতা খুব কম এবং তারা অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় থাকবে।

তাসনিমের প্রকাশিত মন্তব্যগুলো ১২ মার্চের বক্তব্য থেকে পুনঃপ্রচার করা হয়েছে বলে মনে হয়। ইরানের কিছু সংবাদমাধ্যম আগের লিখিত বার্তাগুলো পুনরায় প্রকাশ করছে।

এর আগে সোমবার ইরান জানায়, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে এবং পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

ইরানের গণমাধ্যম এর আগে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানকে কোনো সুস্পষ্ট ছাড় দেয়নি।

রোববার ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ‘ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। তাদের দ্রুত এগোতে হবে, নইলে তাদের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’

কয়েক দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, তেহরানের দাবিগুলোকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করার পর যুদ্ধবিরতি ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায়’ রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জোর দিয়ে বলেন, তাদের দাবিগুলো ছিল ‘দায়িত্বশীল’ এবং ‘উদার’।

ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, তেহরানের দাবির মধ্যে ছিল—সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা, যা লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান ইসরায়েলি হামলার প্রতি ইঙ্গিত করে; ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার; এবং ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা।

এ ছাড়া যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকার স্বীকারের দাবিও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানা গেছে।

ইরানের আধা-সরকারি ফারস সংবাদ সংস্থা রোববার জানায়, তেহরানের প্রস্তাবের জবাবে ওয়াশিংটন পাঁচটি শর্ত দিয়েছে।

এসব শর্তের মধ্যে ছিল—ইরান কেবল একটি পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখতে পারবে এবং তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখে, তবে তিনি তা মেনে নিতে পারেন। দুই দেশের মধ্যে এটি ছিল অন্যতম প্রধান বিরোধের বিষয়, এবং এ বক্তব্যে কর্মসূচির সম্পূর্ণ সমাপ্তির দাবি থেকে তার অবস্থানের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের ইউরোপীয় মিত্ররা দাবি করে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাধ্যমে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে তেহরান বারবার বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি।

Ads small one

সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: পণ্যের সঠিক মান ও পরিমাপ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: পণ্যের সঠিক মান ও পরিমাপ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি

পণ্যের সঠিক মান ও সঠিক ওজন বা পরিমাপ নিশ্চিত করা কোনো দয়া বা অনুকম্পা নয়, এটি ভোক্তার আইনগত ও মৌলিক অধিকার। সম্প্রতি খুলনায় বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা দেশের বর্তমান বাজার পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি যথার্থই বলেছেন, উৎপাদন থেকে বিপণনÑপ্রতিটি ধাপে পণ্যের সঠিক মান ও ওজন নিশ্চিত করে বাজারে ভোক্তার আস্থা অর্জন করতে হবে। একই সঙ্গে মানসম্মত পণ্য বুঝে পেতে ভোক্তাদেরও সচেতন হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের দেশের বাজার ব্যবস্থায় ভোক্তার এই ‘আস্থা’র জায়গাটি বারবার ধাক্কা খাচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের একাংশের কারসাজিতে ওজন ও পরিমাপে কারচুপি এখন এক নিত্যদিনের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে। ডিজিটাল স্কেল বা আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের আড়ালেও নানা কৌশলে ভোক্তাদের ঠকানোর প্রবণতা দেখা যায়। এর পাশাপাশি খাদ্যে ভেজাল ও নি¤œমানের পণ্য সরবরাহের মতো ঘটনা তো রয়েছেই। এই পরিস্থিতি শুধু সাধারণ ভোক্তার পকেটই কাটছে না, বরং পুরো বাজার ব্যবস্থার ওপর থেকে মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে।
এবারের বিশ্ব মেট্রোলজি দিবসের প্রতিপাদ্য ছিলÑ‘নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় আস্থা নির্মাণে মেট্রোলজি’। এর মূল অন্তর্নিহিত অর্থই হলো সঠিক পরিমাপ বিজ্ঞান ও তার যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রে একটি স্বচ্ছতা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করা। ব্যবসা-বাণিজ্যে সততা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা যেকোনো সভ্য সমাজের প্রধান শর্ত। একজন ব্যবসায়ী যখন ওজনে কম দেন বা নি¤œমানের পণ্য সরবরাহ করেন, তখন তিনি কেবল আইনই লঙ্ঘন করেন না, বরং ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধকেও অবমাননা করেন।
তবে এই সংকটের সমাধান শুধু আইন প্রয়োগ বা ব্যবসায়ীদের সদিচ্ছার ওপর ছেড়ে দিলে চলবে না। এখানে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মতো রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর নিয়মিত ও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও তদারকি আরও জোরদার করতে হবে, যেন অপরাধীরা পার পেয়ে না যায়।
একই সঙ্গে ভোক্তাদেরও নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। পণ্য কেনার সময় তার ওজন, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, বিএসটিআইয়ের লোগো এবং মোড়কজাতকরণের সঠিক নিয়ম দেখে নেওয়া প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। কোনো ক্ষেত্রে প্রতারিত হলে চুপ না থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানোর সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
আমরা বলতে চাই, একটি টেকসই ও আধুনিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে বাজারে সুশাসন ও ভোক্তার অধিকার রক্ষা করা জরুরি। সরকারের কঠোর তদারকি, ব্যবসায়ীদের সততা এবং সাধারণ ভোক্তার সচেতনতা—এই তিনের সমন্বয়েই কেবল একটি আদর্শ ও আস্থাশীল বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অংশীজনেরা এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

কুরিয়ার জট ও চড়া ভাড়ার দিন শেষ: সাতক্ষীরার আম মাত্র ৫টাকায় পৌঁছে দিচ্ছে ডাক বিভাগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
কুরিয়ার জট ও চড়া ভাড়ার দিন শেষ: সাতক্ষীরার আম মাত্র ৫টাকায় পৌঁছে দিচ্ছে ডাক বিভাগ

আসাদুজ্জামান সরদার: চলছে মধুমাস জ্যৈষ্ঠের আমেজ। গাছপাকা সুস্বাদু গোবিন্দভোগ, হিমসাগর আর ল্যাংড়া আমের সুবাসে আমোদিত চারপাশ। দেশের গ-ি পেরিয়ে সাতক্ষীরার এই আমের সুখ্যাতি এখন বিশ্বজুড়ে। তবে প্রতি বছরই আমের এই ভরা মৌসুমে দূর-দূরান্তে থাকা প্রিয়জন কিংবা ক্রেতাদের কাছে আম পাঠাতে গিয়ে কুরিয়ার সার্ভিসের চড়া মাশুলের ধাক্কায় হিমশিম খেতে হতো সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের। অনেক সময় আমের দামের চেয়ে কুরিয়ার ভাড়াই হয়ে যেত দ্বিগুণ।
সাধারণ মানুষ আর আম চাষিদের সেই চিরচেনা ভোগান্তি দূর করতে এবার অবিশ্বাস্য সাশ্রয়ী মূল্যে আম পরিবহনের এক দারুণ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। তাদের প্রযুক্তি-নির্ভর ‘স্পিড পোস্ট’ সার্ভিসের মাধ্যমে এখন নামমাত্র মূল্যে সাতক্ষীরার আম পৌঁছে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ডাক বিভাগের এই আধুনিক ও গতিশীল রূপান্তর এখন আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের মুখে চওড়া হাসি ফুটিয়েছে।

সাতক্ষীরা প্রধান ডাকঘর সূত্রে জানা গেছে, এই বিশেষ সার্ভিসে আম বুকিংয়ের ক্ষেত্রে প্রথম কেজি মাত্র ১০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি কেজির জন্য নেওয়া হচ্ছে মাত্র ৫ টাকা। বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসগুলো যেখানে প্রতি কেজিতে ১৩ থেকে ১৫ টাকা বা তারও বেশি চার্জ নিচ্ছে, সেখানে ডাক বিভাগের এই দর আমের বাজারে এক আমূল পরিবর্তন এনেছে। হিসেব অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক ২০ কেজি আম পাঠালে ভ্যাট ও উৎস করসহ তার মোট খরচ পড়ছে মাত্র ১১৬ টাকা।
কম খরচের পাশাপাশি ডাক বিভাগের দ্রুততম ডেলিভারির বিষয়টিও নজর কেড়েছে ব্যবসায়ীদের। সকালে বুকিং করলে ওই দিন সন্ধ্যার মধ্যেই খুলনায় এবং সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা শহরের গ্রাহকের হাতে আম পৌঁছে যাচ্ছে। আর চট্টগ্রাম, সিলেট বা বরিশালের মতো দূরবর্তী জেলাগুলোতে বুকিংয়ের এক থেকে দুই দিনের মধ্যে আম অক্ষত অবস্থায় মিলছে।
সাতক্ষীরা পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার দেবাশীষ কর্মকার বলেন, “বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে আম পাঠানোর সবচেয়ে উপযুক্ত ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম এখন ডাক বিভাগের ‘স্পিড পোস্ট’। আমাদের লক্ষ্য কম খরচে গ্রাহকের দোরগোড়ায় দ্রুত ও নিরাপদ সেবা নিশ্চিত করা।”
ঢাকা শহরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ জিপিও এবং সাব-পোস্ট অফিসের আওতায় এই আম ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে। গুলশান, বনানী, উত্তরা, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, নিউমার্কেট, তেজগাঁও, খিলগাঁও, ওয়ারী, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ও ঢাকা জিপিওসহ প্রধান প্রধান সবগুলো এলাকা রয়েছে এই সেবার আওতায়। বর্তমানে দেশের যেকোনো জেলা সদর এবং জেলা সদরের কাছাকাছি থাকা উপজেলা ডাকঘরগুলো থেকে এই সেবা মিলছে।
সাতক্ষীরা পৌরসভার আলিয়া মাদ্রাসা পাড়ার আম ব্যবসায়ী ইয়াকুব আলী বলেন, “সাতক্ষীরার আম সারদেশের মানুষের কাছে খুব প্রিয়। কিন্তু আগে ক্যারেট আর কুরিয়ার খরচ বেশি হওয়ায় ঢাকার মানুষকে অনেক বেশি দাম দিয়ে কিনে খেতে হতো। ডাক বিভাগের এই কম খরচের সেবার কথা শুনে আজ প্রথম এসেছি। আমাদের মতো ব্যবসায়ীদের জন্য এটি দারুণ এক সুযোগ।”
সাতক্ষীরা পোস্ট অফিসের হিসাবরক্ষক শ্যাম কুমার পাল জানান, আম ঠিকঠাক ও দ্রুত সময়ে পৌঁছানোর কারণে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ডাক বিভাগের এই আধুনিক ও সাশ্রয়ী রূপান্তর মিডল-ম্যান বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাবে এবং চাষি ও ভোক্তাদের সরাসরি যুক্ত করে আমের বাজারে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শ্যামনগরে একটি পরিবারকে দেশান্তর ও প্রাণনাশের হুমকি, থমথমে পরিস্থিতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে একটি পরিবারকে দেশান্তর ও প্রাণনাশের হুমকি, থমথমে পরিস্থিতি

 

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জে একটি পরিবারের সদস্য ও সংবাদকর্মীকে দেশান্তর করার হুমকি, প্রাণনাশ এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ওই যুবকের নাম পরিতোষ কুমার বৈদ্য। উপজেলার সেন্ট্রাল কালিনগর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে মাসুমের বিরুদ্ধে গত এক সপ্তাহ ধরে মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে এই অনবরত হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের আড়পাঙ্গাসিয়া গ্রামের এক প্রতিবন্ধী শিক্ষকের মেয়ের সঙ্গে ‘মাসুম কম্পিউটার অ্যান্ড ফটোস্ট্যাট’ দোকানের মালিক মাসুমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর জের ধরে কিছুদিন আগে গভীর রাতে ওই মেয়েটিকে তুলে নিয়ে আসার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী মাসুমকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। পরদিন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় মুচলেকা নিয়ে মাসুমকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পরিতোষ কুমার বৈদ্য জানান, ভুক্তভোগী পরিবারটি তার আত্মীয় হওয়ায় তিনি মানবিক কারণে তাদের আইনি ও সামাজিক সহযোগিতা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাসুম তার কাছে ৪০ হাজার টাকা ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন দাবি করে। এই অনৈতিক দাবি পূরণ করতে অস্বীকৃতি জানালে মাসুম তাকে দেশছাড়া করার হুমকি দেয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন ভাষায় বার্তা পাঠাতে শুরু করে। নিরাপত্তার স্বার্থে পরিতোষ শ্যামনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলেও মাসুমের হুমকি থামেনি।
অভিযুক্ত মাসুম জানায়Ñ“মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের যেসব স্ক্রিনশট ও রেকর্ডের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো আমার আইডি নয়। আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে অভিযুক্ত মাসুমকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ শ্যামনগর শাখার আহ্বায়ক অনাথ ম-ল। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল মাধ্যমে এভাবে হুমকি ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া সাইবার নিরাপত্তা আইন ও দ-বিধির ফৌজদারি ধারা অনুযায়ী কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদুর রহমান বলেন, “সংবাদকর্মী পরিতোষ বৈদ্যের জিডির পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এরপরও যদি তাকে নতুন করে কোনো হুমকি দেওয়া হয়ে থাকে, তবে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”